নারীর ক্ষমতায়নে তৃনমূলে কাজ করছে “তথ্য আপা”

Sharing is caring!

ফয়জুননেসা খানম পিয়া, বানারীপাড়া উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা। নিজের কর্মদক্ষতা ও অমায়িক ব্যবহার দিয়ে পিয়া এখন বানারীপাড়ার নারী সমাজের কাছে এক অতি “প্রিয় মুখ”। তবে ফয়জুননেসা খানম পিয়া নামে নয় এলাকায় তিনি সবার কাছে “তথ্য আপা” হিসেবে সমধিক পরিচিত ও নন্দিত। পিয়াসহ দেশের ৪৯০ টি উপজেলায় কর্মরত তথ্যসেবা কর্মকর্তাদের নিজ নামের পরিবর্তে সবাই “তথ্য আপা” নামে চেনে।

সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প ২০২১ ও সপ্তম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গ্রামের অসহায়,দরিদ্র,সুবিধা বি ত কিংবা কম সুবিধা প্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদেরকে তথ্য প্রযুক্তির সেবা প্রদান নিংসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে তরান্বিত করবে।

এ লক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক “তথ্য আপা” ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়। স্বাস্থ্য,শিক্ষা,কৃষি,যৌতুক ও নারী নির্যাতন,বাল্য বিবাহ,জেন্ডার সমতা,ইন্টারনেট ভিত্তিক যেকোন সেবা, চাকরীর খবর ও আবেদন সহ যেকোন বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পেতে উপজেলা তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ফ্রি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রত্যন্ত গ্রামা লে ইন্টারনেট,কম্পিউটার ই-মেইল কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মতো সেবা গুলোর সঙ্গে এলাকার যেসব নারীদের পরিচয় ছিলনা তারাই এখন যোগাযোগের এই ডিজিটাল সেবা গুলো গ্রহন করেছেন।

এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কৃতিত্ব ফয়জুননেসা খানম পিয়ার মতো সারা দেশে কর্মরত তথা আপাদের। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নারীদের পরিচয় করিয়ে প্রযুক্তিকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করে তাদের জীবনমান আরও সহজ, সুন্দর,উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে সরকারের এ তথ্য আপা প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জাতীয় মহিলা সংস্থা দেশের গ্রামীন দরিদ্র সুবিধা বি ত ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীদের সুবিধা দিতে ২০১১ সালের ৫ই জুলাই ৭টি বিভাগে নির্বাচিত ১৩টি জেলার ১৩টি উপজেলার ১৩টি তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালু করে সরকার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হয়।

২০১৭ সালে দেশজুড়ে শুরু হয় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় এবং ২০২২ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব কামরুন নাহার জানান, ইনফো লেডি বা তথ্য আপা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের এক কোটি নারীকে ক্ষমতায়িত করা হবে। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে “ডিজিটাল বাংলাদেশ ও নারীর ক্ষমাতায়ন” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলার ক্ষমতায়ন ‘তথা আপা’ সরকারের সফল প্রকল্পের একটি। তথ্য আপা প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মিনা পারভীন জানান তৃণমূলে নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল মুলত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও দু’জন তথ্যসেবা সহকারী কর্মরত রয়েছেন।

একজন তথ্য সেবা কর্মকর্তা তথা তথ্য আপা তথ্য কেন্দ্রে বসেন।সেখানে বসেই তিনি নারীদের বিভিন্ন তথ্য সহায়তা দেন।বাকী দু’জন তথ্যসেবা সহকারী ল্যাপটপ নিয়ে বাড়ী বাড়ী যান। তবে বানারীপাড়ায় উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা (তথ্য আপা) ফয়জুননেসা খানম নিজেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের এ ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করছেন।তথ্য আপা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, জেন্ডার ও আইন এই ছয়টি বিষয়ে সেবা দেয়া হয়।আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে প্রতিমাসে দু’টি করে উঠান বৈঠক করা হয়। এ উঠান বৈঠকে ইউএনও,উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা,আইটি বিশেষজ্ঞ,সমাজসেবী,সাংবাদিক,নারী উদ্যোক্তা,নারী আইনজ্ঞ,সমাজের নেতৃত্বদানকারী নারী,ইমাম ও চিকিৎসক সহ অনেকেই অংশ নেন।

সচেতনতামূলক এ উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে নারীরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যপারে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। এছাড়াও কোন সমস্যা কিংবা প্রশ্ন থাকলে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই তথ্যসেবা দেয়া হয়। তৃণমূলের নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই মূলত“তথ্য আপা” প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা ফয়জুননেসা খানম পিয়া জানান,ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্র থেকে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে গ্রামীণ নারীদের উদ্বুদ্ধকরণ, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা, ই-কর্মাস সহায়তা,চাকুরীর আবেদন,স্বাস্থ্য সমস্যা, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ,জমিতে উপযুক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করন,বাল্য বিবাহ, ফতোয়া, কিংবা নির্যাতিত হলে কোথায় গেলে পাওয়া যাবে সঠিক সহায়তা সে বিষয়ক তথ্যসমূহ প্রদান করা হয়।

About banglarmukh official

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*