‘ঈদে বাড়ি এসো না’, ফোনে ছেলেকে কাশ্মীরি মা

Sharing is caring!

টানা পাঁচ দিন পর জম্মু ও কাশ্মীরে অচলাবস্থার আংশিক অবসান করা হলো। আজ শুক্রবার সকালে ফোন পরিষেবা এবং ইন্টারনেট আংশিকভাবে চালু করা হয়। জুমার নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে রাস্তাঘাটে চলাচল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অবসান ঘটানো এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতাস্বরূপ হাজার হাজার সুরক্ষাকর্মী কাশ্মীর উপত্যকায় কড়া নজর রাখছে।

তবে আপাতত শ্রীনগরের ডিসি অফিস থেকে কঠোর নজরদারির মধ্যে জরুরি ফোন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই ছেলেকে ফোন করার জন্য শ্রীনগরের লাল চক এলাকায় ডিসি অফিসে জওহার নগর থেকে হেঁটে যান এক দুর্ভাগা মা। তারপর ফোনে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ফোন শেষে নাম প্রকাশ না করে ওই মা বলেন, ‘আমার স্বামী ছেলের সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাঁকে বলেছি যে চেক পয়েন্টে পুরুষদের যেতে দিচ্ছে না, তাই আমি যাব। এজন্য আমি শ্রীনগরের লাল চক এলাকায় ডিসি অফিসে জওহার নগর থেকে পায়ে হেঁটে গিয়েছি। ছেলে আমার ফোন পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় নিজেকে সামলে আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছি আমার ছেলেকে। বলেছি কাশ্মীরের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। এ অবস্থায় ঈদ করতে কাশ্মীরে ফেরার কোনো দরকার নেই।’

নিজের পরিচয় না দিলেও তিনি বলেন, ‘মৌজা আক’। যার অর্থ দাঁড়ায়-কাশ্মীরের অনেক মায়ের একজন প্রতিনিধি।

বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সীমিত পর্যায়ে টেলিফোন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। গতকাল রাজধানী শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দপ্তরে মাত্র দুটি ফোন ব্যবহার করে কাশ্মীরের বাইরে জরুরি ফোন করার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সময়ে এক কাশ্মীরি মা পবিত্র ঈদুল আজহায় ছেলেকে কাশ্মীরে ফিরে যেতে মানা করেন।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়া এবং ওই অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই কাশ্মীরের সঙ্গে বাইরের সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

ভারতসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শ্রীনগরের ডিসি অফিসের দুটি ফোন থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাশ্মীরের বাইরে বসবাসরত সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে।

শ্রীনগরের ডিসি অফিসে জরুরি ফোন করার জন্য যারা উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগই নারী। ঘর থেকে বের হলে পুরুষরা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশির মুখে পড়েন বলে নিরুপায় কাশ্মীরি নারীরাই বের হতে বাধ্য হয়েছেন।

About banglarmukh official

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*