বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে আহমেদাবাদে

Sharing is caring!

আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়াম সাজছে নতুন রূপে। ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্টেডিয়ামটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে গুজরাটের ক্রিকেট সংস্থা। আর কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে মোতেরা, জানিয়েছেন গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী নিতিন প্যাটেল।

ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের বেশ কিছু স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হয়েছিল এই মোতেরাতে। এখানেই ‘লিটল মাস্টার’ সুনীল গাভাস্কার ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক গড়েছিলেন। এ মাঠেই নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার রিচার্ড হ্যাডলির ৪৩১ টেস্ট উইকেটের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছিলেন বিশ্বকাপজয়ী ভারত অধিনায়ক কপিল দেব। শচীন টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সাক্ষীও এই স্টেডিয়াম। আহমেদাবাদের এই স্টেডিয়াম এবার নিজেই ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে হটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট মাঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে আহমেদাবাদের মোতেরা। গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী নিতিন প্যাটেল জানিয়েছেন, আর কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই স্টেডিয়াম উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্যাটেল জানিয়েছেন, উদ্বোধন হতে আর বেশি দেরি নেই। অমিত শাহ (ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি) অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিগগিরই আহমেদাবাদে আসবেন নতুন রূপে গড়ে ওঠা মোতেরা স্টেডিয়াম উদ্বোধন করতে। দেশ ও দেশের মানুষকে স্টেডিয়ামটি উৎসর্গ করবেন তিনি। ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। সে উদ্দেশ্যেই মূলত এত তোড়জোড়। মোদি নিজে কয়েক বছর আগে গুজরাট ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি ছিলেন, তখন তিনিই মোতেরাকে সংস্কার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম বানানোর প্রস্তাব দেন।

কিছুদিন আগে গুজরাট ক্রিকেট সংস্থার সহসভাপতি পরিমল নাথওয়ানি নতুন করে তৈরি হওয়া মোতেরার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করে। সঙ্গে ক্যাপশন হিসেবে লেখেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হতে চলেছে মোতেরায়। মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চেয়েও যা বড় হবে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে গেলে নতুন মোতেরা হয়ে উঠবে ভারতের গর্ব।’

১৯৮২ সালে আহমেদাবাদে তৈরি হয়েছিল স্টেডিয়ামটি। তখন স্টেডিয়ামটার ধারণ ক্ষমতা ছিল ৪৯ হাজারের মতো। ১৯৮৩ সালে ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর কপিল দেবের ভারতের মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলা হয় এখানে। সে ম্যাচে উইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছিল ভারতকে। তবে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন কপিল দেব। এক ইনিংসে নয়টি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামের তকমা এখন মেলবোর্ন স্টেডিয়ামের গায়ে, ১ লাখ ২৪ জনের মতো মানুষ খেলা দেখতে পারে সেখানে। দুই-তিন মাস পর মোতেরার উদ্বোধন হলে এর ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি।

জানা গেছে, মোতেরার সংস্কারকাজে এ পর্যন্ত ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ৬৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই স্টেডিয়ামে করপোরেট বক্স থাকবে ৭৫টা। পার্কিং লটে প্রায় ১০ হাজার দুই চাকার যানবাহনের পাশাপাশি চার চাকার গাড়িও রাখা যাবে তিন হাজার। ৫৫ কক্ষবিশিষ্ট ক্লাব হাউসে খেলাধুলা, শরীরচর্চা করার সুব্যবস্থা থাকবে। থাকবে রেস্তোরাঁ ও বিশাল সুইমিং পুল। স্টেডিয়ামের প্রত্যেকটা স্ট্যান্ডে একটা করে ফুড কোর্ট থাকবে। স্টেডিয়ামের ৯০ শতাংশ কাজই শেষ, বাকিটুকু দুই-তিন মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

প্রতিটি চার, ছক্কা বা উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১ লাখ ১০ হাজার দর্শকের গর্জন শোনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!

Print Friendly, PDF & Email

About banglarmukh official

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*