Day: September 3, 2019

  • ফিফার বর্ষসেরার দৌড়েও মেসি-রোনালদোর সঙ্গে ফন ডিক

    ফিফার বর্ষসেরার দৌড়েও মেসি-রোনালদোর সঙ্গে ফন ডিক

    গত সপ্তাহেই ইউরোপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন গ্রহের সেরা দুই খেলোয়াড় লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলে। ফ্রান্সের মোনাকোয় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র অনুষ্ঠানেই উয়েফা বর্ষসেরার পুরস্কার উঠলো লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভিরগিল ফন ডিকের হাতে।

    এবার হয়তো বা আরও একটি পুরস্কার জিততে যাচ্ছেন নেদারল্যান্ডসের এই ডিফেন্ডার। ফুটবলারদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যে তৃতীয়জন হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় উঠে এসেছে ফন ডিকের নামও!

    ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলকে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকাই পালন করেন এই ডিফেন্ডার। ফন ডিককে ফাঁকি দিয়ে কেউ লিভারপুলের জালে বল প্রবেশ করাবে- এটা যেন স্বপ্নেও চিন্তা করা যায় না। যে কারণে, ইউরোপের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টটির শিরোপা দীর্ঘদিন পর উঠেছে লিভারপুলের হাতে।

    গত মৌসুমে বার্সার জার্সি পরে ৫০ ম্যাচে ৫১ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। বার্সার লা লিগা জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনিই। অন্যদিকে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন নতুন ক্লাব জুভেন্টাসকে সিরি ‘এ’ শিরোপা জেতাতে। শুধু তাই নয়, দেশের জার্সিতে তিনি জয় করেছেন উয়েফা নেশনস লিগও।

    এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বর্ষসেরা ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় এই দুই মহা তারকার নাম যেন অবধারিতভাবেই থাকছে। পাশাপাশি তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে আসে অন্য কারো নাম। এবার বর্ষসেরার দৌড়ে মেসি-রোনালদোর সঙ্গে জায়গা করে নিলেন ২০১৮-১৯ লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অন্যতম নায়ক ফন ডিক।

    গত বছর মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেলে ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন রিয়ালের ক্রোয়েশিয়ান তারকা লুকা মদ্রিচ। বিশ্বকাপে নিজ দেশকে তুলেছিলেন ফাইনালে। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৭-১৮ চ্যম্পিয়ন্স লিগে অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্যই তাকে বর্ষসেরার পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

    কিন্তু গত মৌসুমে খুবই বাজে খেলার কারণে এবার প্রথম দশেও জায়গা করে নিতে পারেননি মদ্রিচ। সেরা তিনজনের নাম থেকে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে বর্ষসেরার নাম। মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেলে এবারও কি তবে বাজিমাত করবেন ডাচ ডিফেন্ডার ফন ডিক? অপেক্ষা আর কয়েকদিনের। জাতীয় দলের কোচ-অধিনায়কদের ভোট, পাশাপাশি নির্বাচিত কিছু মিডিয়া ও সমর্থকদের অনলাইন ভোটিংয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে এ বছরের সেরা ফুটবলারকে।

    সেরা ফুটবলারের পাশাপাশি সেরা কোচের দৌড়ে রয়েছেন প্রিমিয়র লিগের তিনজন। তালিকায় রয়েছেন লিভারপুলকে ইউরোপ সেরা করা ইয়ুর্গেন ক্লুপ, গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটিকে ত্রিমুকুট এনে দেওয়া পেপ গার্দিওলা এবং টটেনহ্যাম কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনো।

    সেরা গোলরক্ষকের দৌড়ে লিভারপুলের অ্যালিসন বেকারের সঙ্গে রয়েছেন ম্যানসিটির এডারসন ও বার্সেলোনার টার স্টেগান। সতীর্থ অ্যালেক্স মরগ্যান, ইংলিশ ফরোয়ার্ড লুসি ব্রোঞ্জের সঙ্গে বর্ষসেরা নারী ফুটবলার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেগান র‌্যাপিনো।

  • বরিশালে মাদক বিক্রেতার যাবজ্জীবন

    বরিশালে মাদক বিক্রেতার যাবজ্জীবন

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালে মাদক মামলায় আনোয়ার নামে এক কারবারির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড দিয়েছে করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) জেলা জন নিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে শহীদ আহম্মেদ এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আনোয়ার যশোরের বেনাপোল থানার পোড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আমিন উদ্দিন মৃধার ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নগরের আমতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি প্রাইভেট কারকে থামানোর জন্য সংকেত দিলে তা অমান্য করে গাড়িটি নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডের দিকে পালিয়ে যায়।

    পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা ধাওয়া করলে জিয়া সড়ক এলাকায় প্রাইভেটকারটি থামিয়ে চালক পালিয়ে যান। পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা প্রাইভেটকার থেকে দুই হাজার ৭৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ আনোয়ারুলকে আটক করে। এ ঘটনায় ওই দিনই সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর ডিবির এসআই ইরানুল ইসলাম ঘটনার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেন।

    তবে রায়ের সময় আনোয়ারুল পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন করা হয়।

  • বৃদ্ধের ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, দেড় লাখে দফারফার চেষ্টা

    বৃদ্ধের ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, দেড় লাখে দফারফার চেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রতিবেশী বৃদ্ধের ধর্ষণে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দফারফার জন্য ওই কিশোরীর পরিবারকে দেড় লাখ টাকা উৎকোচ দেয়ার প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত ধর্ষক দুলাল মিয়া (৬৫)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    অভিযুক্ত দুলাল মিয়া উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বীর মাইজদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে বৃদ্ধ দুলাল মিয়া পানি খাওয়ার নাম করে ওই কিশোরীর বাড়ি যান। এ সময় পরিবারের লোকজন কৃষিকাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকায় একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করেন দুলাল মিয়া। এরপর বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। ভয়ে ওই কিশোরী কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু কয়েক মাস পর ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তখন এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

    এরই মধ্যে ধর্ষক দুলাল মিয়া বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হন এবং দফারফার জন্য কিশোরীর পরিবারকে দেড় লাখ টাকা উৎকোচ দেয়ার প্রস্তাব দেন। ইউপি চেয়ারম্যান তাকে পুলিশে সোপার্দ করেন।

    এ ঘটনায় নির্যাতিতা ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

    এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলার পর ধর্ষক দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • ভোলায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে পিটিয়ে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে গেল দুর্বৃত্তরা

    ভোলায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে পিটিয়ে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে গেল দুর্বৃত্তরা

    ভোলা প্রতিনিধি:

    ভোলায় হত্যার উদ্দেশ্যে মো. সাগর (৯) নামে এক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের পর তাকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে যায় হামলাকারীরা।

    ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের হরিগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মারধরের শিকার সাগর ওই এলাকার মাকসুল হায়দারের ছেলে ও স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে মো. সাগর গুরুতর আহত অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

    আহত শিশুর পিতা মাকসুল হায়দার জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনে আসে। ওই সময় একই এলাকার শফিজলের মেয়ে স্বপ্না (২৮) ও নূরে আলমের ছেলে রিকা তাকে মুখ চেপে পাশের একটি নির্জল স্থানে নিয়ে বুকে ও পেটে লাথি মারে এবং দু’জনে তার গলা চাপ দিয়ে ধরে। ওই সময় সাগর জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা মৃত ভেবে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

    তিনি জানান, ওই স্থান দিয়ে এক পথচারী যাওয়ার সময় সাগরকে পরে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাগরকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

    তিনি বলেন, স্বপ্নার পিতা শফিজল ও রিকার পিতা নূরে আলমের সঙ্গে আমাদের জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব চলছিল। তারা কয়েকবার আমার সন্তানকে হত্যার করার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শফিজলের ও নূরে আলম পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যার করার জন্য তাদের সন্তানদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এর সঙ্গে জরিতদের উপযুক্ত বিচারের দাবি জানান।

    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শফিজল ও নূরে আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

    লালমোহন থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বরিশালে মসজিদ ভেঙে জিনিসপত্র বিক্রি করলেন ওলামা লীগ নেতা

    বরিশালে মসজিদ ভেঙে জিনিসপত্র বিক্রি করলেন ওলামা লীগ নেতা

    স্টাফ রিপোর্টার:

    হজরত বেল্লাল জামে মসজিদের জেনারেটর, ফ্যান, আইপিএস, গাছ ও আধাপাকা ভবন ভেঙে বিক্রি করে দিয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ওলামা লীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে লালন ফকির।

    এ ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। লালন ফকিরের হাত থেকে মসজিদের জমি ও মালামাল রক্ষা করতে আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে।

    মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কাওছার বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার ওলামা লীগ নেতা লালন ফকির, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম (নুসা) তার সহযোগী কবির হাওলাদার, বদর মোল্লা ও খলিল হাওলাদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে উজিরপুর থানা পুলিশকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে একই ঘটনায় একটি মামলা করেছিল মসজিদ কমিটি।

    স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ২০১৩ সালে ওলামা লীগের আহ্বায়ক লালন ফকিরের বাবা উজিরপুর পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের মাদার্শী মহল্লার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ফকির মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ শতাংশ জমি দান করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা অনুদান দিয়ে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করে মসজিদের নাম দেন হজরত বেল্লাল জামে মসজিদ। ১৫ দিন আগে ওলামা লীগ নেতা লালন ফকির গোপনে মসজিদের জেনারেটর, আইপিএস, টিন, জানালা, জানালার গ্রিল ও ফ্যান স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন।

    ২১ আগস্ট সকালে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম লোকজন নিয়ে মসজিদ ভেঙে জেনারেটর, আইপিএস, মসজিদের চালের টিন, থাই জানালা, জানালার গ্রিল ও ফ্যান খুলে নিয়ে যান। সেই সঙ্গে বাইরের অংশের দেয়ালের ইট খুলে নিয়ে যান। এ সময় মুসল্লিরা বাধা দিলে নুরুল ইসলাম জানান ওলামা লীগ নেতা লালন ফকির এসব মালামাল বিক্রি করেছেন।

    মুসল্লিদের অভিযোগ, পৌর সদরের উপজেলা পরিষদসংলগ্ন জমিতে আধাপাকা মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৫ ফুট। মসজিদের মিম্বার ভেঙে দেয়া হয়েছে। শুধু মসজিদের ফ্লোর পড়ে আছে। মসজিদের ফ্যান, আইপিএস, জানালার গ্রিল, ওজু খানার ট্যাংক ও মোটর কিছুই নেই।

    মাদার্শী এলাকার বাসিন্দা মো. মাহাবুব ফকির বলেন, মসজিদের ইমামের বেতন দেয়ার জন্য আমি একটি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছিলাম। লালন আমার ওই দোকান দখল করে ওলামা লীগের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন। মসজিদ ভেঙে মালামাল বিক্রি করে দিয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, মসজিদের দুই শতাংশ জমি নিজের দাবি করে বিক্রির কথা বলে আমার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছেন লালন ফকির।

    মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কাউছার বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। আল্লাহর ঘর কেউ ইচ্ছা করলেই বিক্রি করে দিতে পারেন না, ভাঙতে পারেন না। লালন ফকিরের হাত থেকে মসজিদের জমি ও মালামাল রক্ষা করতে প্রথমে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়। আদালত নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরও মসজিদের মালামাল বিক্রি করে দিয়েছেন লালন। এ কারণে গত বৃহস্পতিবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লালন ফকিরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়। এরপরও লালন ফকির মসজিদের জমি বিক্রির চেষ্টা করছেন।

    এ বিষয়ে জানতে উজিরপুর ওলামা লীগের আহ্বায়ক লালন ফকিরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ করেননি তিনি।

    তবে লালন ফকিরের মা উজিরপুরের রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম (৬২) বলেন, আমার স্বামীর দানকৃত জমিতে ছেলের ব্যক্তিগত টাকায় মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এটা নিয়ে অন্যের মাথা ঘামানোর দরকার নেই।

    মসজিদ ভেঙে মালামাল বিক্রির বিষয়ে মমতাজ বেগম বলেন, মসজিদটি পাকা করতে আধাপাকা ভবনের কিছু অংশ রেখে বাকিটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে মসজিদের মালামাল বিক্রির বিষয়টি আমি জানি না।

    শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. কবিরুল ইসলাম বলেন, লালনের বাবার ওয়াকফ করা সম্পত্তিতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন কেউ এটির মালিকানা দাবি করতে পারেন না।

    ঘটনাস্থাল পরিদর্শনকারী উজিরপুর থানা পুলিশের এসআই মো. মিজান বলেন, মসজিদের মালামাল বিক্রি ও কিছু অংশ ভেঙে ফেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়। তখন আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মসজিদের গাছ কেটে বিক্রি করেন লালন ফকির। বিষয়টি জানতে তখন ঘটনাস্থলে গেলে লালর ফকির পুলিশ দেখে পালিয়ে যান।

    এসআই মো. মিজান বলেন, গত বৃহস্পতিবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লালন ফকিরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে মসজিদ কমিটি। পরে মসজিদের বর্তমান অবস্থা জানতে চান আদালত। গাছ কেটে নেয়ারও কথা জানতে চেয়েছেন আদালত। লালন ফকিরের এসব কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

    এসআই মিজান আরও বলেন, জমি ওয়াকফকারী আব্দুল লতিফ ফকির এখন বেঁচে আছেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন ওয়াকফকৃত জমি দাবি করার কোনো অধিকার নেই ছেলে লালন ফকিরের।

    জমি ওয়াকফকারী আব্দুল লতিফ ফকির বলেন, ওই জমি আমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেছি। মসজিদের ওই জমি আমার পরিবারের কেউ দাবি করতে পারবেন না।

  • ঝালকাঠি বিআরটিএ ও ডিপিইও অফিসে দুদকের অভিযান

    ঝালকাঠি বিআরটিএ ও ডিপিইও অফিসে দুদকের অভিযান

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::

    ঝালকাঠিতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে (ডিপিইও) ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঝালকাঠি বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালানো হয়।

    দুদকের বরিশাল অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উপসহকারী পরিচালক মো. আল আমিন ও সহকারী পরিদর্শক কমল চক্রবর্তী এ অভিযানে অংশ নেয়।

    এ সময় বিআরটিএ সহকারী পরিচালক মো. আইউব আনছারীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন দুদক টিম।

    অভিযানে বরিশাল থেকে আসা কলেজছাত্র মো. রাব্বি নামে একজনের কাগজপত্র ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তা জব্দ করা হয়। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ থাকলেও অনলাইনের সফটওয়ারে লিপিবদ্ধ না করা, তথ্য হালনাগাদ না করা, কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স না করার বিষয়টি অভিযানে প্রমাণিত হয়। পরে দুদক টিম বিআরটিএ অফিসের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়গুলো নোট করে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

    পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় বিআরটিএ অফিসের অভিযান শেষ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে (ডিপিইও) অভিযান পরিচালনা করে দুদকের ওই টিম।

  • পটুয়াখালীতে ৪ লাখ মিটার কারেন্টজাল জব্দ, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

    পটুয়াখালীতে ৪ লাখ মিটার কারেন্টজাল জব্দ, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

    পটুয়াখালীর দশমিনায় নৌ-পুলিশের অভিযানে ৪ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী রহিমকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে দশমিনা উপজেলার কেজিরহাট বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায় নৌ-পুলিশ।

    হাজিরহাট নৌ-পুলিশের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার দাস তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযানে জব্দ হওয়া সব কারেন্টজাল অবৈধ। ব্যবসায়ী আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কারেন্টজাল বিক্রি করে আসছিলেন।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কারেন্টজালসহ রহিমকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুভ্রা দাস পরিচালিত আদালতের সোপর্দ করা হয়।

    পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবসায়ী আবদুর রহিমকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও জব্দ জালগুলো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত দেন।

  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যান ববি শিক্ষক সমিতির

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যান ববি শিক্ষক সমিতির

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত  বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রস্তাবিত অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখান করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

    সোমবার ২রা সেপ্টেম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো সিরাজিস সাদিক ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া  স্বাক্ষরিত  এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

    বিবৃতিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানতে পেরেছি যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অভিন্ন নীতিমালার খসড়াটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে যা একটি অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ ও বৈষম্যপূর্ণ  নীতিমালা।

    এ নীতিমালাটি অনুমোদন দেয়া হলে উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ ও গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের মাঝে অসুস্থ ও অসম প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। তাই , এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য নীতিমালাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানাচ্ছে ববি শিক্ষক সমিতি এবং একই সাথে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন অধ্যাদেশ-১৯৭৩’ এর আলোকে পূর্ণরূপে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট জোর দাবি জানান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ।”

  • উজিরপুরে ছাত্র হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রদের বিক্ষোভ, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির রহস্যজনক ভূমিকা

    উজিরপুরে ছাত্র হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রদের বিক্ষোভ, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির রহস্যজনক ভূমিকা

    উজিরপুর প্রতিনিধি:

    বরিশালের উজিরপুরে গুঠিয়া দোসতিনা আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র মাহফুজ হাওলাদার (১৪)  হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি গ্রেফতার শাস্তির দাবিতে হেফাজতে বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে।  মামলার দায়েরের ৬দিন অতিবাহিত হলেও আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির রহস্যজনক ভূমিকায়  এলাকাবাসীর অসন্তোষ।

    উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের  তেরদ্রন গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মাহফুজকে গত ২৭ আগষ্ট রাতে মাদ্রাসা শিক্ষকের ল্যাপটপ চুরি করতে  প্রস্তাব দেয়  দোসতিনা এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে ভুলু(৩০)ও তার সহযোগীরা। এতে রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রকে মাদ্রাসা পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে নির্যাতন করে ও মৃত ভেবে কাঁদায় পুঁতে রাখে। পরে শিক্ষক সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বানাড়িপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পরে স্থানীয়রা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।

    এঘটনার প্রতিবাদে হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্ব বিচারের দাবিতে গত ২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) হেফজ বিভাগের ছাত্ররা মাদ্রাসার অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে।

    উল্লেখ্য, এঘটনায় মাহফুজের পিতা সাইদুর রহমান বাদী হয়ে ২৮আগষ্ট ১জনের নাম উল্লেখ ৫/৬ জন অজ্ঞাত নামা আসামি করে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী সুত্রে জানাগেছে গত ২৭আগষ্ট মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক খালিদুর রহমানের  নির্দেশে এশার নামাজের আযান দেয়ার উদ্দেশ্যে  আবাসিক হল থেকে বের হয়ে মসজিদে য়ায়। আযান শেষে হলরুমে ফেরার পথে মাদ্রাসার পেছনের গেটের কাছে আসলে গেট টপকে লাফিয়ে পড়ে ভুলূ পথরোধ করে মাহফুজের।  সামনে দাঁড়িয়ে জানতে চায়  হুজুর (হেফজ বিভাগের শিক্ষক খালিদুর রহমান রুমে আছে কিনা। এবং তার (শিক্ষকের) ল্যাপটপটি গোপনে  আনতে বলে। এনে দিলে টাকা দিবে বলে ভুলু প্রস্তাব দেয় মাহফুজকে। তার কথায় রাজী না হয়ে  বিষয়টি হুজুর (শিক্ষক) কে বলে দেওয়ার কথা বললে ভুলু মাহফুজের গলা মুখ চেপে ধরে ও আগে থেকে অন্ধকারে ওত পেতে থাকা আরো ৫/৬ জন সহোযোগীদের সহায়তায়  মাহফুজকে হাত পা বেঁধে পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে ছাত্র মাহফুজ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা তাকে মৃত ভেবে কাদা মাটিতে পুতে রেখে চলে যায়। তবে মুখ চোখ চেপে ধরায় বাকি ৫/৬জনের  চেহারা দেখিনি বলে জানায় মাহফুজ।

    এব্যাপারে মাহফুজের শিক্ষক খালিদুর রহমান জানান, ওই দিন এশার নামাজের আযান দেয়ার জন্য ছাত্র মাহফুজ ও আশিককে নির্দেশ দেই আযান শেষে  আশিক একা ফিরে আসলে তার কাছে মাহফুজ কোথায় জানতে চাইলে বলে ওযু করার জন্য ঘাটলায় আছে। কিন্তু নামাজ শেষে মাহফুজ না ফিরলে ডাকাডাকি করে না পেয়ে খুঁজতে যাই। পরে মাদ্রাসার পেছনের গেটে জুতা টুপি পরে থাকতে দেখে গেট খুলে বাইরে বেরিয়ে ডাক দিলে গোঙানির আওয়াজ পেয়ে বাগানে কাদায় পোতা অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। আমাদের ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

    এঘটনার একদিন পরে ছাত্রের বাবা সাইদুর রহমান বাদী হয়ে উজিরপুর থানায়  মামলা দায়ের করে কিন্তু মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে কোন আইনি পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকায়  বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি মাদ্রাসা সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভে প্রকাশ করে এলাকাবাসী।

      একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন  ইতিমধ্যে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও  কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।  মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির যোগসাজশে মাদ্রাসার জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে জটিলতার সৃষ্টি হলে প্রকাশ পায় যে মাদ্রাসার রেজূলেশন রেজিষ্টার বই চুরির ঘটনা।

    এছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কথা তুলে ধরে এলাকাবাসী এবং ওই সকল  অনিয়মের জন্য বর্তমান পরিচালনা কমিটি ও মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে দ্বায়ী করেন এলাকাবাসী। অবিলম্বে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি বাতিল করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

    স্থানীয় মকবুল হোসেন,নজির আহমেদ, নান্নু , বাচ্চু খান ,সবুজ খান সহ অনেকে জানান ছাত্র নির্যাতন করে হত্যা চেষ্টার বিষয়ে  মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরে দায়সারা ভাবে কাজ করছে । আমরা এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গেলে  মাদ্রাসার  অধ্যক্ষ বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে তাতে বাধা দেয়। রাজনৈতিক নেতাদের দোহাই দিয়ে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেয়।

    এবিষয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা সিদ্দিকুল্লা একাধিক চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানান, মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসার কতৃপক্ষ কোন মামলা করার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেন ,ছাত্রের বাবা মামলা করেছে  তাতেই হবে,সব কিছু তিনি নজরদারি করেছেন এবং এমপি(সংসদ সদস্য) এর কাছে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।

    এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ সগীর মিয়া বলেন, বাদী ৩২৩,৩০৭,১৪৩ ধারায় মামলা দায়ের করেছে আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

    সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা প্রদান করা প্রয়োজন, সেটি করা হবে। কেবলমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়, সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

    মঙ্গলবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরের সদররোডস্থ বিডিএস মিলানায়তনে টিআইবি’র সহায়তায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) আয়োজনে জলবায়ু অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তায়নকারী কর্তৃপক্ষসমূহের সাথে অধিপরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সনাক সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা’র সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সনাকের জলবায়ু অর্থায়নে বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন।

    সভায় “জলবায়ু অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ: চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা” শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবি’র অ্যাসস্ট্যিান্ট ম্যানেজার- রিসার্চ (জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন) মো: রাজু আহম্মদে মাসুম।

    সভায় সনাক এর পক্ষ থেকে ‘জলবায়ু অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সুপারিশমালা প্রদান করা হয়। সুপারিশগুলো হলো: প্রতিষ্ঠানের সেবা সংক্রান্ত নাগরিক সনদ স্থাপন করা, দাত্বিপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও তার নামের বোর্ড জনসম্মুখে স্থাপন, তথ্য প্রদানে রেজিস্টার অনুসরণ করা, সেবা বিষয়ক তথ্যপত্র প্রকাশ ও প্রচার করা, অভিযোগ ও পরামর্শ বাক্স স্থাপন, অভিযোগ নিরসন কমিটি গঠন ও গৃহীত অভিযোগ যথাসময়ে নিষ্পত্তি করণ, অভিযোগ গ্রহণ ও নিরসন রেজিস্টার চালু করা, যে কোন অভিযোগ জানানোর জন্য হট নাম্বার চালু করা, বিভিন্ন কমিটিতে নারী সদস্যে অন্তভুক্তিকরণ, সেবার ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার প্রদান, প্রকল্প এলাকায় গণশুনানী আয়োজন করা, প্রকল্পের বাজেট, কাজের বিবরণ এবং সময়কাল উল্লেখ পূর্বক বোর্ড স্থাপন, প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় জনসাধারণের মধ্য থেকে যোগ্যতা অনুসারে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান ইত্যাদি।

    অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম, সনাক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, আনোয়ার জাহিদ, সনাক সদস্য সাইফুর রহমান মিরণ, এলজিইডি’র সহকারি প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহরুখ সোহেল,সেভ দ্য চিল্ড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. ফারুক হোসেন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন এর প্রকল্প সমন্বয়কারি মো. নাসির উদ্দিন, বেলা’র সমন্বয়কারি লিংকন বায়েন প্রমূখ।