ফেসবুকের তথ্য যাচাই করুন, গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sharing is caring!

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই করে দেখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য নিয়ে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গে তা যাচাই করে দেখুন।’ সেই সঙ্গে তিনি গুজব প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। এতে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বাদশাহ, আপনি আমার প্রজা—এই মনোভাব নিয়ে ডিএমপিতে কেউ চাকরি করতে পারবে না। এই মহানগরের প্রতিটি মানুষের যে সম্মান, শ্রদ্ধা ও সুন্দর আচরণ পাওয়ার কথা, সেই আচরণটি যদি কেউ কোনো পর্যায় থেকে না পান, তাহলে আমাদেরকে জানাবেন।’ এ সময় তিনি কমিউনিটি পুলিশকে সব ভালো কাজের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (এ অ্যান্ড ও) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিং একটি গ্লোবাল কনসেপ্ট। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম রয়েছে।’ পুলিশি সেবায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে ‘পুলিশের সঙ্গে কাজ করি, মাদক-জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ি’ স্লোগান নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে রাজারবাগে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন ডিএমপি কমিশনার, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিরা। এদিন কমিউনিটি পুলিশিংয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করা হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে রাজারবাগে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদ্যাপিত হলেও ডিএমপির আটটি ক্রাইম বিভাগে আলাদাভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে এই দিবস।

অপরাধ দমনে আসছে ‘সেভ ঢাকা সিটি’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ‘সেভ ঢাকা সিটি’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি বলেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে অপরাধী শনাক্ত এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও যানবাহনের গতিবিধি নজরদারি করা সহজতর হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মুক্ত আকাশ আয়োজিত ‘নিরাপদ ও টেকসই নগর গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, টেকসই নগরী গঠনে নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর অপরাধ দমনে সেভ ঢাকা সিটি নামে একটি প্রজেক্ট হাতে নিচ্ছি। এতে অপরাধী শনাক্ত হবে দ্রুত। গাড়ির গতিবিধিও থাকবে নজরদারিতে। তিনি আরো বলেন, ঢাকা চাই নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দিয়ে শহরের ওপরের চাপ কমাতে হবে। এ জন্য প্রকৌশলীদের চিন্তা করতে হবে।

মুক্ত আকাশের উপদেষ্টা সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা-ই-জামিল, মুক্ত আকাশের সম্পাদক মো. শামসুল আলম, প্রকৌশলী শেখ মো. আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম আবুল কালাম প্রমুখ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, টেকসই নগরের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে গণমাধ্যমে। একই সঙ্গে দেশের ভালো উদ্যোগগুলো গণমাধ্যমে উঠে আসা উচিত।

সেমিনারে সাত প্রথিতযশা প্রকৌশলী ও স্থপতিকে সম্মাননা দিয়েছে মুক্ত আকাশ।

Print Friendly, PDF & Email

About banglarmukh official

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*