৫ এমপির বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর অভিযোগ

Sharing is caring!

ক্যাসিনোকান্ডে জড়িত এমপিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব তলব ও বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আওয়ামী লীগ নিজের ঘর থেকেই শুরু করেছে। আইন তার নিজের গতিতে চলবে, অপরাধী যেই হোক ছাড় পাবে না।

ইতিমধ্যে সরকারদলীয় ক্যাসিনো ও নানা অপকর্মের কারণে ইতিমধ্যে সরকারদলীয় এমপি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশযাত্রায় দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তাদের অবৈধ সম্পদের খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাচনী এলাকায় বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল-৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আসন্ন সম্মেলনসহ ও সব সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিরত রাখা হয়েছে। নানা কারণে বর্তমানে সমালোচিত-আলোচিত হচ্ছেন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও।

বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। সম্রাট বলেছেন, প্রতি মাসে সম্রাটের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন। এমনকি প্রতি মাসে নিয়মিত মাসোহারা না পেলে তিনি অকথ্য ভাষায় যুবলীগের নেতাদের গালিগালাজ করতেন। জুয়ার টাকায় ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণসহ বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন বর্ষীয়ান এই বামপন্থী নেতা। ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে র‌্যাবের উদ্ধার করা চাঁদাবাজির খাতায় মেননের নাম রয়েছে ৫নং সিরিয়ালে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজিতে জড়িত যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের পর বেশ কয়েকজন এমপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। শুধু নিজ দলের এমপি-মন্ত্রী নন, অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন এমন দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এমনকি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিভিন্ন গ্রুপিং করা নেতাদের তালিকাও রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের সম্পদ ও অর্থ পাচারের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করে দুদক। মূলত গণমাধ্যমে আসা তথ্য নিয়েই তারা কাজ শুরু করে। দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছেন তারা।

Print Friendly, PDF & Email

About banglarmukh official

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*