ভুল না বোঝার আহ্বান সাকিবের

‘আমি এখন ফ্লোরিডায় আছি। আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমার তরুণ ফ্যানদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাই’- এভাবেই শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে সাকিব আল হাসান ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনেকগুলো কথা লেখেন। যেখানে তার লেখার শুরুটা ছিল এমন। এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, তারা যেন এবার পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। কারণ, তাদের দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এও বলেছেন, দাবি পূরণে ব্যত্যয় ঘটলে পরবর্তীতে তাকে পাশে পাবে শিক্ষার্থীরা।

সাকিবের এই আহ্বান ফেসবুক থেকে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সাকিবের আহ্বানকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি আন্দোলনকারীরা। বিশেষ করে নেটিজেনরা। তারা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখা শুরু করে সাকিবের বক্তব্যকে। সবচেয়ে বড় কথা, সাকিবের এই বক্তব্যে রাজনীতি খুঁজে পেয়েছেন সমালোচনাকারীরা। যে কারণে, তার পোস্টের নিচে বিরোধীদের সমালোচনামূলক মন্তব্য ছাড়াও ছিল অশ্রাব্য গালি-গালাজ।

তীব্র সমালোচনা এড়িয়ে যায়নি সাকিবের চোখ। যে কারণে পূনরায় ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড পেজে আরেকটি স্ট্যাটাস দিতে বাধ্য হন সাকিব আল হাসান। সেখানে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, ‘তাকে যেন ভুল বোঝা না হয়।’

Shakib-1

শুধু লেখাই নয়, ভিডিও বার্তায় কথা বলেন সাকিব নিজেই। ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে সাকিব লিখেন, ‘আমার সকল ভক্তদের জানাচ্ছি যে, আপনারা হয়তো আমার ব্যক্ত করা কথায় আমাকে ভুল বুঝছেন। দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমারও আপনাদের সবার মতো পরিবার আছে, যাদের নিরাপত্তা আমার কাছেও অনেক বেশি মূল্যবান। আমি আপনাদেরই একজন, আমি সব সময় আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতেও থাকব। আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনাদের আন্দোলনকে একটি সঠিক ফলাফলে পৌছে দেয়ার জন্যে আমাদের সরকারকে সুযোগ দেয়া উচিত। যেন সরকার খুব দ্রুত আপনাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পারে।’

শনিবার রাতে সাকিবের পোস্ট করা এই ভিডিও স্ট্যাটাসটি দেয়ার পর তাতে মন্তব্য করেছেন ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ। ১২ হাজার শেয়ার হয়েছে ইতিমধ্যে লাইক করেছেন ৭৮ হাজার মানুষ এবং ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার বারেরও বেশি।

সেখানে মাহবুব আলি খানসুর নামে লন্ডন প্রবাসী এক বাংলাদেশি ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানার উদাহরণ দিয়ে লিখেছেন, রানাকে যেদিন একটি ট্রাক পিষে হত্যা করেছিল, সেদিন রানার সঙ্গে একই মোটরবাইকে থাকার কথা ছিল মাশরাফিরও। বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো মাশরাফি সেদিন রানার সঙ্গে যেতে পারেননি বলে বেঁচে গিয়েছিলেন। সাকিব আল হাসান, সড়ক দূর্ঘটনাতে স্বজন হারানোর,বন্ধু হারানোর ব্যথা কতখানি মাশরাফির কাছে জেনে নিয়েন!’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *