ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী দুই ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যা!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী দুই ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যা!

রোকনুজ্জামান ও মুনতা হেনা দুজনই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। মেধাবী দুই শিক্ষার্থী ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাতে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ, পরিবার ও বন্ধুর সূত্রগুলো বলছে, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্বে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন। দুজনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, তাঁরা দুজন একে অপরকে ভালোবাসতেন। বিষয়টি মুনতা হেনার পরিবার মেনে নেয়নি। এ জন্য তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মুনতার মৃত্যুর খবর পেয়ে রোকনুজ্জামান ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মুনতা হেনার বাবা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান। তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, সন্ধ্যা ছয়টায় তাঁর মেয়ে নিজ শয়নকক্ষে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান  জানান, ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুনতা হেনা ও রোকনুজ্জামান। দুজনই বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে রোকন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। মুনতা হেনার ফল ছিল সিজিপিএ (কিউমিলিটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ) ৩.৫০।
তিনি বলেন, ‘তাঁরা কেন যে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, অবাক লাগছে। দুজনের লাশই ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি পারিবারিকভাবে মেনে নেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে ঝামেলা চলছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ঝিনুক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুনতা হেনা। এ খবর শোনার পর কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলার এক মেসে থাকা রোকনুজ্জামান শহরের মতি মিয়া রেলগেট এলাকায় যান। সেখানে রাত সোয়া নয়টায় পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আবজাল হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধারের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোকনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা এলাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, মুনতা হেনার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। ঝিনাইদহ শহরে ভাড়াবাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করে রোকনুজ্জামানের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু  বলেন, ‘আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি—রোকন এমন একটা কাজ করেছে! এটা মানতেই পারছি না। রোকন খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। মুনতা হেনার সঙ্গে রোকনের কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।’

আজ শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, ‘জীবনে চলার পথে ঘাত-প্রতিঘাত এবং যেকোনো সমস্যা আসতেই পারে। কিন্তু আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের অকাল মৃত্যু কারও কাম্য নয়।’

Banglarmukh24

Banglarmukh24

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *