সন্ধ্যা ও এর শাখা নদীতে চলছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ধ্যা ও এর শাখা নদীতে ডিমওয়ালা মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে। অভিযানের শৈথিল্যতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলেরা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ নিধন যজ্ঞে মেতে উঠেছে।ঘুর্ণিঝড় তিতলীর প্রভাবে গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ার কারনে দায়সাড়া অভিযান পরিচালিত হওয়ার শতভাগ সুযোগটি কাজে লাগায় তারা। দিন-রাত শত শত মন ইলিশ নিধনের ফলে সরকারের ইলিশ উৎপাদনের টার্গেট ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধনের ফলে স্থাণীয সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিধন করা ওই ইলিশ মাছ গোপনে স্বল্প মূল্যে বাড়ি বাড়ি ফেরী করে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযানের নামে মাছ লুট,টাকার বিনিময়ের জাল ও নৌকা সহ জেলেদের ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান তার কাছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ফোন করে নদীতে ইলিশ নিধনের মহোৎসবের অভিযোগ করছেন। তিনি ওই অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষনিক ওসি ও ইউএনওকে অবহিত করেন বলেও জানান।এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন জানান একটি ট্রলার দিয়ে এতো বৃহৎ আয়তনের সন্ধ্যা ও এর শাখা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা দুঃসাধ্য। তারপরেও জাতীয় এ সম্পদ রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খলিলুর রহমান জানান রাত-দিন একাকার করে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এছাড়া কোন এলাকা থেকে অভিযোগ এলেই তাৎক্ষনিক সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে ১৫ জন জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।তিনি ইলিশ রক্ষায় অভিযান সফল করতে রাজনীতিক,জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক সহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *