পাকিস্তানের চেয়ে ধনী হচ্ছে বাংলাদেশ

অর্থ সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার ও নিম্ন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের কারণে এ সাফল্য অর্জিন করছে বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা লাভ করে তখন দেশটি বেশিরভাগ অর্থ-সামাজিক সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে মানব উন্নয়নের সব সূচকে এগিয়ে। এর কারণ পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ ও পরমাণু অস্ত্র উৎপাদনে তার সময় ও সম্পদ বিনিয়োগ করেছে। ফলে আজ বাংলাদেশের পেছনে পড়ে আছে পাকিস্তান।

বিশ্বব্যাংকের এক হিসাব অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানিদের মাথাপিছু গড় আয় ছিল ২০৬০ ডলার, ভারতের ১১২০ ডলার এবং বাংলাদেশের মাত্র ৮৫০ ডলার।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় ৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ৪০৪০ ডলার। ভারতের আয় পৌঁছেছে ৭০৬০ ডলার এবং পাকিস্তানের ৫৮৩০ ডলার।

আশির দশকে পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ভারতের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এখন পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ আর বাংলাদেশের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভারতের ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

পাকিস্তানের জনসংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশের দ্বিগুণ গতিতে। ২০১৭ সালের হিসাবে পাকিস্তানে বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ আর বাংলাদেশে ১ দশমিক ০৫ শতাংশ।

এছাড়া বাংলাদেশিদের গড় আয়ুও এখন পাকিস্তানিদের চেয়ে গড়ে ছয় বছর বেশি। ১৯৭৫ সালে পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ছিল ৫৫ দশমিক ২ বছর আর বাংলাদেশিদের ৪৮ দশমিক ৯ বছর।

২০১৬ সালে পাকিস্তানিদের গড় আয়ু দাঁড়ায় ৬৬ দশমিক ৫ বছর আর বাংলাদেশিদের ৭২ দশমিক ৫ বছর। ১৯৭৫ সালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার ছিল ২শ জন। ২০১৬ সালে এই হার এসে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের ৭৯ এবং বাংলাদেশের ৩৪ জন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *