খুলনার বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

খুলনার বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

খুলনা প্রতিনিধি//জান্নাতুল ফেরদৌস:

খুলনার বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন অনেকটা নাগালের বাইরে। ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানী মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ায় নিত্য এ পণ্যটির দাম বেড়েছে কয়েকগুন। সপ্তাহ না ঘুরতেই ৩০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। ক্রেতাদের দাবি, আমদানী মূল্য ঘোষণার সাথে সাথেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রনে ঢাকায় টিসিবি ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও খুলনায় কোন কার্যক্রম নেই। তবে টিসিবি কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী সপ্তাহে খুলনায় তেল ও মসুর ডালের ট্রাক সেল শুরু হচ্ছে। সেখানে পেঁয়াজ বিক্রির কোন নির্দেশনা এখনও আসেনি। নগরী বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৮০ টাকা। একই পেঁয়াজ বড় সাইজের বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা দরে। অন্যদিকে এলসির ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে। অথচ দশ দিন আগেও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা দরে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা দরে। ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, আমদানী শুল্ক বেশী হলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আমাদের দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিকটন। এরমধ্যে প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ দেশে উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে সংরক্ষনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৩০ ভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আমদানীর ওপর নির্ভর করতে হয়। বাইরের দেশ শুল্ক বাড়ালে দেশের বাজার অস্থির হয়ে পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নগরীর কদমতলা এলাকায় বাগদাদ ট্রেডার্সের ম্যানেজার হযরত আলী বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সে কারণে ভারত সরকার হঠাৎ করেই পেঁয়াজের রপ্তানী মূল্য বৃদ্ধি করেছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। একই এলাকার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গত দুই তিন সপ্তাহ ধরেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহেও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা দরে। আর এ সপ্তাহে তো সর্বোচ্চ ৯০ টাকা দর উঠেছে। হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের দাবি সরকারে উচিত মূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে টিসিবির কার্যক্রম চালু রাখা। এদিকে বাজারে নিয়ন্ত্রন খোলা বাজারে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ’র (টিসিবি) মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির ঘোষণা দিলেও সে কার্যক্রম এখনও খুলনায় শুরু হয়নি। টিসিবি খুলনার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রবিউল মোর্শেদ বলেন, পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়ে এখনও কোন নির্দেশনা ঢাকা অফিস থেকে আসেনি। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে খুলনায় খোলা বাজারে ট্রাক সেলের মাধ্যমে তেল ও মশুর ডাল বিক্রি শুরু হবে। সেসময় যদি পেঁয়াজ বিক্রির কোন নিদের্শনা আসে তাহলে পেঁয়াজ বিক্রি হবে না হলে বিক্রি হবে না।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *