করোনা ‘পজিটিভ হয়ে’ মৃত্যু, দ্বিতীয় পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’

রাজশাহীতে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এক ব্যক্তি মারা যান গত রোববার। প্রথম দফা নমুনা পরীক্ষায় করোনা ‌‘পজিটিভ’ ছিলেন তিনি। সে হিসেবে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রথম ব্যক্তি তিনি। তবে এক সন্দেহ থেকে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার জন্য মৃত্যুর আগের দিন তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘‌নেগেটিভ’ এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই ব্যক্তির ফুসফুসে পানি ও বাতাস জমায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি বলে জানান তিনি।

৮০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি বাঘা উপজেলার একটি গ্রামে। তাঁকেই রাজশাহীতে করোনায় মৃত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। নিশ্চিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে আর কারও মৃত্যু হয়নি।

Lifebuoy Soap
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল ওই বৃদ্ধ জ্বর ও প্রস্রাবের যন্ত্রণা নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা সন্দেহ করেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসকেরা তাঁর নমুনা পরীক্ষা করান। পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ আসে। তার পর থেকে তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়। কিন্তু এর আগেই অনেক চিকিৎসক ও নার্স ওই বৃদ্ধের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এমন ৪২ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া ওই রোগীর সঙ্গে থাকা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরও নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু পরীক্ষায় একটি প্রতিবেদনও ‘পজিটিভ’ আসেনি। ফলে চিকিৎসকেরা ওই রোগীর দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। গত শনিবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরের দিন সেই নমুনা পরীক্ষার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা কমিটির সিদ্ধান্ত, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত সবাইকে নগরের ভেতরে নির্ধারিত জায়গায় দাফন করা হবে। তাই ওই বৃদ্ধের লাশ বাঘা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিতে দেওয়া হয়নি। অবশ্য স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে নির্ধারিত কবরস্থানেও লাশ দাফন করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত নগরের হেতেমখাঁ কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, দ্বিতীয় পরীক্ষায় ওই ব্যক্তির প্রতিবেদন করোনা ‌‘নেগেটিভ’ এসেছে। তিনি আসলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তাঁর ফুসফুসে পানি ও বাতাস জমেছিল। এ কারণেই তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *