বরিশাল জেলায় এক মাসে ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত, সুস্থ ৩৪

বরিশাল জেলায় এক মাসে ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত, সুস্থ ৩৪

দীর্ঘ এক মাসে বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ৫৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৪ জন। শতাংশের হিসাবে সুস্থ হওয়ার হার অর্ধেকেরও বেশি।

এর বাইরে জেলায় করোনা পজিটিভ একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যদিও ১২ এপ্রিল মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা। মৃত্যুর পর তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে সেই রিপোর্টে করোনা পজিটিভ দেখা যায়।

গতকাল মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দিনগত রাতে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, সর্বশেষ বরিশাল জেলায় মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষা করে দুইজনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজন বরিশাল নগরের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা, নারী বয়স (২০)। অন্যজন উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স, বয়স (২৭)।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই করোনায় আক্রান্তদের অবস্থান অনুযায়ী তাদের লকডাউন করা হয়েছে। তাদের আশপাশের বসবাসের অবস্থান নিশ্চিত করে লকডাউন করার প্রক্রিয়া চলচ্ছে। পাশাপাশি তাদের অবস্থান এবং কোন কোন স্থানে যাতায়াত ও কাদের সংস্পর্শে ছিলেন তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এখন পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৫৮ জনের। যার মধ্যে ২৪ জন নারী ও ৩৪ জন পুরুষ রয়েছেন। পাশাপাশি তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ২০ বছর বয়সী ৬ জন, ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৪০ জন এবং ৫০ থেকে তার ঊর্ধ্বে রয়েছেন ১২ জন।

জেলার মধ্যে বরিশাল নগরে ২৩, বাবুগঞ্জে ১২, মেহেন্দীগঞ্জে পাঁচ, উজিরপুরে পাঁচ, হিজলায় তিন, গৌরনদীতে তিন, বানারীপাড়ায় দুই, বাকেরগঞ্জে দুই, সদর উপজেলা এক, মুলাদী এক এবং আগৈলঝাড়া একজন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

মোট আক্রান্তের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত আটজন ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ ছয়জন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স ও একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকসহ মোট ১৬ জন। এছাড়া সোমবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সদস্যর নমুনা পরীক্ষা করা হলে তার রিপোর্টে পজিটিভ আসে। যার ফলে জেলায় প্রথম কোনো পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেন।

জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-কমিশনার উত্তর জোনের কার্যালয়ে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ওই পুলিশ সদস্য। জ্বর গলাব্যাথাসহ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সোমবার নমুনা সংগ্রহ করে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় তার সংস্পর্শে আসা উপ-কমিশনার উত্তর জোনের কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা, কর্মচারীকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।

পাশাপাশি তার সংস্পর্শে আসাদের মধ্যে বেশকিছু পুলিশ সদস্যর নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওই গাড়ি চালকের সংস্পর্শে কারা কারা ছিলো তাদের চিহ্নত করে নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে নগর স্বাস্থ্য বিভাগ।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *