করোনায় যে রক্তের গ্রুপের আক্রান্তদের শ্বাসকষ্ট বেশি

করোনায় কারো কারো শ্বসকষ্ট হয় আবার কারো তেমন কোন সমস্যায় হয় না। এর কারণ জানার চেষ্টা শুরু করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিস্তর গবেষনার পর অবশেষে ফলাফল আসলো।

বিশেষজ্ঞরা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই রক্তের গ্রুপ গুলিকে দায়ী করেছেন। সমীক্ষা চালানো হয় ইতালি ও স্পেনের করোনা আক্রান্ত মানুষদের উপর। এর জন্য গবেষকেরা সেখানকার করোনা হটস্পষ্ট হিসাবে চিহ্নিত বেশ কিছু শহরকে বেছে নেন।

যাদের ব্লাড গ্রুপ ‘ও’ তাদের শ্বসকষ্টজনিত সমস্যা কম হবে। এই ফলাফল পাওয়ার জন্য সমীক্ষা চলে প্রায় ১৫০০ মানুষের উপর। পরীক্ষা শেষে দেখা যায় যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ’ তাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ তাদের তুলনামূলক ভাবে ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। জানা যায়, গবেষণাটি মেডরেক্সে- প্রিপ্রিন্ট সার্ভারে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণা করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলেই বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।

করোনায় আক্রান্ত একেক জনের উপসর্গ একেক রকম দেখা য়ায়। এটা শুধু এক এলাকা বা দেশ না গোটা বিশ্বেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ব্যক্তি বিশেষে উপসর্গের তারতম্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে এই গবেষণা করোনা আক্রান্ত রোগীদের অপ্রত্যাশিত কোনও উপশম চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কোভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই আবার জ্বর, শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা গেলেও সাধারণত অনেকের মধ্যেই শুরুতে রোগের কোনও লক্ষণই দেখা যায় না।

যাদের রক্তের গ্রুপ “এ” তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।

কিছুদিন আগেই চীনের উহান ও শেনজেনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ২ হাজার রোগীর ব্লাড গ্রুপ সংগ্রহ করে অপর একটি গবেষণা চালানো হয়। সেখানেও দেখা গেছে সংক্রমণের ক্ষেত্রে মারণ ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ‘এ’ গ্রুপধারীর। কিন্তু করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় তুলনামূলক ভাবে বেশি হয়েছে সফল যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ তারা। এই সমীক্ষা অংশগ্রহণকারী করোনা ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায় ‘এ’ গ্রুপের মানুষের সংখ্যা ৪১ শতাংশ। যেখানে ‘ও’ গ্রুপের মানুষের পরিমাণ ২৫ শতাংশ।

ইতালি ও স্পেনে ১৬১০ জন মানুষের উপর চলে গবেষণা। পাশাপাশি মৃত্যুর হারও অনেকটাই বেশি বলে জানা গেছে ‘এ’ ব্লাড গ্রুপের করোনা আক্রান্ত মানুষের। এই পরিমাণ প্রায় ৩৮ শতাংশ। পাশাপাশি ‘ও’ গ্রুপের মানুষের মৃত্যুর হার ২৬ শতাংশ বলে চীনের ওই গবেষণা থেকে জানা যায়। এদিকে ইতালি ও স্পেনের মানুষের উপর গবেষণায় করোনা সংক্রমণ ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে নতুন যোগসূত্র খুঁজে পওয়া যাচ্ছে। এর জন্য সেখানের হটস্পষ্ট শহর গুলির করোনা আক্রান্ত ১৬১০ জন মানুষকে চিহ্নিত করা হয়। একইসাথে সাধারণ মানুষের সাথে করোনা আক্রান্তদের রক্তের জেনোমিক তারতম্য বুঝতে ২,২০৫ জন ব্লাড ডোনারের রক্তের নমুনাও ব্যবহার করা হয়। যাদের কোভিড সংক্রমণের কোনও লক্ষণই ছিল না।

সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *