স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়ে স্বস্তির ঈদযাত্রা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়ে স্বস্তির ঈদযাত্রা

ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। ভোগান্তি এড়াতে নাড়ির টানে পদ্মা সেতু হয়ে গন্তব্যে ছুটছেন তারা। যুগ যুগ ধরে চলা ভোগান্তির অবসানে হাসি ফুটেছে কোটি মানুষের মুখে।

বুধবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া টোলপ্লাজা এলাকায় দেখা যায়, যাত্রী ও যানবাহন নির্বিঘ্নে পারি দিচ্ছে সেতু। যানবাহনের জট বা চাপ না থাকলেও স্বাভাবিক দিনের চেয়ে যাত্রী ও যানবাহনের উপস্থিতি বেড়েছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত যাত্রীকে পদ্মা সেতু উত্তর থানা সংলগ্ন মোড় থেকে গণপরিবহনে উঠতে দেখা গেছে। সেতু হয়ে স্বাচ্ছন্দ্য আর নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি সাধারণ যাত্রীরা।

সুরভী বেগম নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমাদের তো এটাই স্বপ্ন ছিল—সারাবছরে দু-একবার আনন্দ করতে বাসায় যাবো, কোনো কষ্ট যেন না হয়। এই যে বাসে উঠলাম। সহজেই এখন চলে যাবো, কোনো কষ্ট নাই।’

ইকবাল নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ঈদে আনন্দ করার জন্য বাড়িতে রওয়ানা হয়ে ফেরিঘাটে সীমাহীন কষ্ট পোহাইতে হতো। পরিবার নিয়া এলে ছোট বাচ্চারা খুব কষ্ট করতো। ঢাকা থেকে বাসে উঠছি, বরিশাল যাবো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নদী পারাপার এখন তো কয়েক মিনিটের ব্যাপার।’

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি যাচ্ছেন কলেজছাত্র জিহাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামে বাবার সঙ্গে গিয়ে গরু কিনবো। তাই আগে আগে যাচ্ছি। গত ঈদে তো বাড়ির সবাই চিন্তায় ছিল কীভাবে নদী পার হবো, কীভাবে কী করবো। এখন আর ওই চিন্তা নেই।’

তবে যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ায় গণপরিবহনগুলোতে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। অন্যদিকে সেতুতে শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী-পুলিশ।

নিষেধাজ্ঞার কারণে সেতুতে বন্ধ রয়েছে মোটরসাইকেল চলাচল। যেসব মোটরসাইকেল আসছে তাদের উত্তর থানা মোড় থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সকাল থেকে পিকআপে পণ্য হিসেবে সেতু পার হতে দেখা যায় শত শত মোটরসাইকেল। অনেকে আবার পাড়ি দিচ্ছেন ট্রলারযোগে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ।

পিকআপে মোটরসাইকেলসহ পদ্মা সেতু পার হচ্ছিলেন মিতা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত। চার চাকার গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। যাবো খুলনা। ঢাকায় গাড়ির টিকিট নিয়ে তো যুদ্ধ চলে। মোটরসাইকেল রেখে যাবো? চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই মোটরসাইকেলে যাচ্ছি। এখন তো যেতে দিচ্ছে না তাই পিকআপে যাচ্ছি। বেশি ভাড়া লাগছে।’

ট্রাকে করে মোটরসাইকেল নিয়ে সেতু পার হওয়া ইয়াসির হোসাইন বলেন, ‘আমাদের বাড়ি শরীয়তপুর। পদ্মা সেতু প্রকল্পে আমাদের জায়গাও গেছে। এখন ফেরি নেই, আবার সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছি।’

পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, দিনভর নির্বিঘ্নেই যাত্রী-যানবাহন পারাপার হয়েছে। অনেক মোটরসাইকেল এসেছে, তাদের বিকল্প পথে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ট্রাকে করে মোটরসাইকেল ও যাত্রী পারাপার করায় তিনটি ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *