Author: banglarmukh official

  • ‘গায়েবি মামলা’ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হাইকোর্ট

    ‘গায়েবি মামলা’ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হাইকোর্ট

    বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা ‘গায়েবি মামলা’ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদেশে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি গায়েবি মামলাগুলোর তদন্তের জন্য পুলিশের আইজিপিকে আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলাগুলো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন। তবে অপর বিচারপতি ওই আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

    সেপ্টেম্বরে সারাদেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা চার হাজার মামলায় তিন লাখেরও বেশি লোককে আসামি করার কারণ জানতে চেয়ে করা রিটের শুনানিতে এমন আদেশ দেন হাইকোর্ট।

    বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বাদী হয়ে এই রিট করেন।

    রিটে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ ছাড়া এসব মামলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রুল জারিরও আর্জি জানানো হয়।

    রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (নর্থ জোন), রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, রমনা ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

  • লালমোহন  যুবলীগের  আহবায়ক পদ থেকে  পিকলু কে বহিষ্কার।

    লালমোহন যুবলীগের আহবায়ক পদ থেকে পিকলু কে বহিষ্কার।

    শেখ সুমন :

    ৭ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় ৭ টায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ লালমোহন উপজেলা শাখার বিশেষ বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লালমোহন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের লিখিত যৌথ সাক্ষরে,যুবলীগ লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন (উত্তর) শাখার আহবায়ক এনায়েত কবির পিকলু কে, সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমানিত হওয়াই, লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন (উত্তর) শাখার আহবায়ক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

  • সাকিবকে ঝুঁকি নিতে নিষেধ করা হয়েছিল

    সাকিবকে ঝুঁকি নিতে নিষেধ করা হয়েছিল

    ভক্ত এবং সমর্থক মহলে রাজ্যের ক্ষোভ। তারা বলছেন, ‘আরে সাকিব তো খেলতেই চাননি। বলেছিলেন এশিয়া কাপ না খেলে বাঁ-হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে সার্জারি করাতে; কিন্তু বিসিবি, বিশেষ করে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের অনুরোধ সিদ্ধান্ত পাল্টে এশিয়া কাপ খেলতে গেছেন এবং বিশ্রাম না নিয়ে এশিয়া কাপ খেলার কারণেই আঙুলে এতবড় ইনফেকশন।

    এখন সেই ইনফেকশন তার আঙুলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। অন্তত আড়াই থেকে তিন মাস খেলতে পারবেন না। তারপরও আঙুল সম্পূর্ণ ভালো হবে না। মোটকথা, ইচ্ছার বিরুদ্ধে এশিয়া কাপ খেলতে গিয়েই কঠিন ইনজুরির শিকার সাকিব। কার দোষে সাকিবের এ অবস্থা? এ দায় কি বোর্ডের, বিসিবি বিগ বস নাজমুল হাসান পাপনের? নাকি টিম ম্যানেজমেন্ট বা ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহনের?’

    কিন্তু সত্য হলো, চোটগ্রস্ত আঙুল নিয়ে এশিয়া কাপে অংশগ্রহন করতে সাকিব আল হাসানকে নিষেধ করেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। কিন্তু তারপরেও তিনি খেলেছেন। সেটা হয়তো দেশের কথা এবং দলের কথা বিবেচেনা করেই। তবে পাপনের কথায় এটা নিশ্চিত সাকিব আল হাসানকে চোটগ্রস্ত আঙুল নিয়ে কোন ঝুঁকিই তিনি নিতে বলেননি।

    মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর ২০১৮) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে পাপন সংবাদ মাধ্যমকে একথা বলেন।

    পাপন বলেন, ‘মক্কা ও মদিনায় আমার সঙ্গে দেখা করল। আমি বললাম, তুমি এরকম রিস্কনিও না, তুমি একজন বেস্ট ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করো। তারপর তুমি সিদ্ধান্ত নাও। ও আমাকে জিজ্ঞাসা করল এখন করব না পরে করব? আমি বললাম সেটা তো তোমার সিদ্ধান্ত। আবার মদিনায়ও একই কথা বললাম। শেষে আমি তাকে বললাম যে তুমি এত বড় রিস্ক নিও না। ডাক্তার দেখাও। তো ও আমাকে বলল যে, আমাকে ফিজিও বলে দিছে কোনো অসুবিধা নাই। আমি জানতে চাইলাম খেললে এটা আরও খারাপ হতে পারে কি না? ও বলছে না। তখনও আমি ওকে বলছি ভালো একজন ডাক্তার দেখাও। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে তুমি সিদ্ধান্ত নাও। এটাই ওর সঙ্গে আমার শেষ যোগাযোগ।

    ও যদি এশিয়া কাপ চলা অবস্থায় আঘাত পেতো তাহলেও কথা ছিলো। ও তো খেলতে গিয়ে কোনো ব্যথা পায়নি। তাহলে এশিয়া কাপ খেলতে গিয়ে হঠাৎ এরকম হলো কিভাবে? এটা আমার কাছে একটা বিরাট প্রশ্ন। ও আমাকে যেটা বলল যে, ডাক্তার বলেছে তিন মাস রেস্ট। তারপর আমি খেলতে পারব। আর অপারেশনের কথা জিজ্ঞাসা করলাম, আমাকে তো অনেকেই বলছে অপেরাশন করে কোনো লাভ নেই। ও বলল, হ্যাঁ, আমাকেও তাই বলছে। হয়তো অপারেশন লাগবে না। প্রথমবার থেকে যা শুনে আসছি যে অপেরাশন করে কোনো লাভ নেই। লাগবে না। এখনও কিন্তু ওই জায়গায়ই আছে। এখন ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আসছে। এসব সাকিবের কাছ থেকে শোনা।’-যোগ করেন পাপন।

    হজেই প্রথম নয়। আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দেশে ফেরার পর গেল ১৪ আগস্ট  এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাকিব ইস্যুতে বলেছিলেন, ‘হজে যাওয়ার আগে সে আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিল আমি কী করবো? আমি বলেছি তোমার যদি হাতে ব্যথা থাকে এবং তুমি যদি মনে করো এটা নিয়ে খেলা সম্ভব না তুমি এখন অপারেশন করে ফেল, কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি মনে করো খেলা সম্ভব তাহলে এশিয়া কাপ শেষে করলে দলের জন্য ভাল হয়। সিদ্ধান্ত তোমার।

    সেই মোতাবেক আঙুলের অস্ত্রোপচার না করিয়ে হয়তো দলের কথা বিবেচনাপূর্বকই এশিয়া কাপে অংশ নিতে গিয়েছিলেন টাইগাপরদের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচ খেলার পর আঙুলে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে টুর্নামেন্ট শেষ না করে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে পরদিনই রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসক জানান, তার ক্ষতে ইনফেকশন হয়ে পুঁজ জমে গিয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ প্রায় ৬০-৭০ মিলিগ্রাম পুঁজ বের করা হয়। পাশাপাশি তারা এও জানিয়ে দেন তার আঙুল কখনোই পুরোপুরি সেরে উঠবে না এবং আগামী ৩ মাস তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না।

    তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে পরদিনই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গত শুক্রবার (৫ অক্টোবর) রাতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তার আঙুল দেখে সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ‘৬ মাসের আগে তার আঙ্গুলে অপারেশন করা যাবে না। তবে ইনফেকশন শুকিয়ে গেলে, ব্যথা কমলে, যদি ফিট হয় হয়তো তিন মাসের মধ্যে তাহলে সে খেলতে পারবেন।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ঘরের মাঠে তিন জাতির  ক্রি‌কে‌ট টুর্নামেন্টের ফাইনালে ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁহাতের কনিষ্ঠ আঙুলে গুরুতর চোট পান সাকিব। সেই চোট নিয়েই গিয়েছিলেন সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তারেক মাস্টারমাইন্ড: কাদের, তারেক জড়িত না: ফখরুল

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তারেক মাস্টারমাইন্ড: কাদের, তারেক জড়িত না: ফখরুল

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড (প্রধান পরিকল্পক) হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি হলফ করে বলতে পারেন এই হামলার সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত ছিলেন না।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই নেতা এ কথা বলেন।

    আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানির বাস সার্ভিস উদ্বোধনের পর ওবায়দুল কাদের বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগ। মামলার রায়কে ঘিরে বিএনপি কোনো নাশকতা-সহিংসতা করার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সবাই জানে এটার মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে হাওয়া ভবন এবং তারেক জিয়া। এখন সত্যকে আড়াল করে লাভ নেই। তারপরও রায়ের আগে আমরা এ ব্যাপারে ও রকম মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু ন্যায়বিচার যেন আমরা পাই, আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি আদালতের কাছে।

    তিনি বলেন, বিএনপি এটাকে নিয়ে যদি কোনো সমস্যা তৈরি করতে যায়, যদি সহিংসতা বা নাশকতা করতে চায়, তাহলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর অবস্থানে আছে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ২০১৪ সালের মতো আর কিছু করা সম্ভব হবে না। জনগণ তাদের সেই অপচেষ্টা রুখে দেবে।

    আজ দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম ২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে বলেন, ‘হলফ করে বলতে পারি, তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টুসহ বিএনপির কোনো নেতাই এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কারণ যেকোনো হত্যাকাণ্ডের একটি মোটিভ থাকে। সেই ঘটনায় বেনিফিশিয়ারি কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটিকে ইস্যু করে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে, বিএনপিকে ধ্বংস করছে।

    ২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সঠিক তদন্ত যদি করা হতো, দোষীদের বের করার চেষ্টা করা হতো, তাহলে আসল সত্য বেরিয়ে আসত। রাজনৈতিকভাবে তারেক রহমানকেসহ বিএনপি নেতাদের যুক্ত করে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের জড়িয়েছে। তিনি বলেন, এই ‘চক্রান্ত’ শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে। পরে ১/১১-এর পর থেকে আবার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে নির্মূল করে দিয়ে এবং তার ধারক-বাহক খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য। এখন শুরু হয়েছে শারীরিকভাবে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া।

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ খুব খারাপ জিনিস। এটি মগজের মধ্যে ঢুকে যায়। তখন দেখা যায় সরকার যা চায়, জনগণ একটা সময় তা-ই করছে। পৃথিবীতে এমন দেশ আছে যাদের নেতা হাসলে তারা হাসে, নেতা কাঁদলে তারা কাঁদে। আমাদের দেশে প্রায় একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নেতা হাসলে আমাদের লোকজন হাসতে থাকে, ওনার চোখে পানি আসলে সবাই কাঁদতে থাকে। এটা শুরু হয়েছে।

    ২১ আগস্ট মামলার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ১/১১-এর সরকারের সময়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই গোটা পরিস্থিতি বদলে গেছে। ৬১ জন সাক্ষী হওয়ার পর আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) পরিবর্তন করে নতুন করে তদন্ত করে আইও দেওয়া হলো অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে, যিনি চাকরি হারিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নমিনেশনও চেয়েছিলেন। তিনি এত বছর পর মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে তাঁর কাছ থেকে জবানবন্দি নিয়েছেন। ওই ঘটনায় প্রকৃত আসামিকে না ধরে আওয়ামী লীগ বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

    নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবাইকে রাজপথে আসতে হবে, এর বিকল্প নেই। কেউ আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না, এই সরকারকে সরিয়ে দেবে না। একমাত্র জনগণ সরকারকে সরাতে পারে। বিএনপির কাজ জনগণকে সংগঠিত করে উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নামা। কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নেই। জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ জনগণের শক্তি ছাড়া শক্তিশালী কিছু নেই।

    আগামী নির্বাচনে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা করার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতেই এটি করা হচ্ছে। কারণ তাঁরা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় কেউ-ই সরকারের কথার বাইরে যেতে পারবেন না। তিনি বর্তমান সময়কে ‘গভীর সংকটকাল’ অভিহিত করে সবাইকে সরকারের আচরণের প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।

    বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • নির্বাচনের আগে প্রয়োজনে প্রতিদিন একনেক হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

    নির্বাচনের আগে প্রয়োজনে প্রতিদিন একনেক হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

    পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনে প্রতিদিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি তফসিল ঘোষণার পরও একনেক সভা হবে।

    আজ মঙ্গলবার একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। শেরেবাংলা নগরে এনইসির সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

    নির্বাচনের আগে কেন এত প্রকল্প পাস করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যদি প্রয়োজন হয় প্রতিদিন বৈঠক করব। আগামী বৃহস্পতিবারও আরেকটি একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় বেসরকারি খাত খুঁজে পাওয়া যাবে না, কম আসবে। তারা ভাবে, ২-৩ মাস দেখি। সেটা সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সোয়া ৮ শতাংশ হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    নির্বাচনকালীন সরকার শুধু নিয়মমাফিক কাজ করবে—এমন প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে মন্ত্রী বলেন, কোনটি রুটিন কাজ নয়। সংবিধানকে কী লেখা আছে, মঙ্গলবার ছাড়া একনেক সভা করা যাবে না। যখন বেসরকারি খাত পিছিয়ে যাবে, তখন সরকারি খাতই অর্থনীতির চালক আসনে বসে।

    এদিকে আজকের একনেক সভায় সব মিলিয়ে ২০টি প্রকল্প পাস হয়েছে। এসব প্রকল্পে খরচ হবে ৩২ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশজ উৎস থেকে দেওয়া হবে ১৫ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ১১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা এবং বিদেশি সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ১০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার; ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন; ১০৪ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা প্রকল্প-বিআরইবি অংশ (কক্সবাজারে আশ্রয় গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য বিদ্যুতায়ন); ৩ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার পল্লি যোগাযোগ উন্নয়ন; ২৯৭ কোটি টাকার বাংলাদেশ ইমারজেন্সি অ্যাসিসটেন্স; ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কিল্লা নির্মাণ; ৩০৫ কোটি টাকার কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলাধীন নির্মিতব্য মিঠামইন সেনা স্থাপনার ভূমি সমতল উঁচু করা, ঢেউ প্রতিরোধ ও তীর সংরক্ষণ; ৩৯৯ কোটি টাকার চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ অন্য খালের তীরের ভাঙন হতে রক্ষা; ১৬৯ কোটি টাকার রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া ও রংপুর সদর উপজেলায় তিস্তা নদীর ডান তীর ভাঙন থেকে রক্ষা; ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট; ৮৮৩ কোটি টাকার গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-বিরামপুর-ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মানে উন্নীত করা; ৪৫৮ কোটি টাকার কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক উন্নয়ন; ৬০৭ কোটি টাকার খুলনা সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন; ৪১৯ কোটি টাকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি উপজেলা সদরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন; ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন; ৮৮৩ কোটি টাকার সিরাজগঞ্জ জেলার শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন; ৪২৮ কোটি টাকার বিদ্যমান ১২টি ক্যাডেট কলেজের অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ; ৭৭০ কোটি টাকার পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন (কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলা); ৫৯১ কোটি টাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর গুদারাঘাটের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কদমরসুল সেতু নির্মাণ এবং ১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকার চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও বেড়িবাঁধ প্রতিরক্ষা এবং নিষ্কাশন প্রকল্প।

  • হয় রাস্তায় থাকতে হবে, নয়তো জেলখানায়: দুদু

    হয় রাস্তায় থাকতে হবে, নয়তো জেলখানায়: দুদু

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে হয় রাস্তায় থাকতে হবে নয়তো জেলখানায়। আর এই দুটির একটি ত্যাগ স্বীকার করে নিতে পারলেই আমাদের মুক্তি কেউ ঠেকাতে পারবে না।

    মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিগত দিনের ছাত্র আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাস্তায় না নেমে আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন ইতিহাস আমার জানা নাই। এদেশে যা কিছু হয়েছে এবং ভালো কিছু হয়েছে সবই ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হয়েছে।

    এখনো যদি ভালো কিছু করতে হয় ছাত্রদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সেজন্য তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে, তাদের সমস্যাগুলো দেখতে হবে, তাদেরকে যাতে ভূমিকায় আনা যায় সে চেষ্টা করতে হবে।

  • ঐশ্বরিয়াকে মারলে বেঁচে থাকতেন মনে হয় না: সালমান

    ঐশ্বরিয়াকে মারলে বেঁচে থাকতেন মনে হয় না: সালমান

    এই তো কিছুদিন আগের কথা। বর্ষীয়াণ অভিনেতা নানা পটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। এরপর পরিচালক বিকাশ বহেলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। এই দুই অভিযোগের জেরে আপাতত উত্তাল বলিউড। একটা বড় অংশ অভিনেত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রকাশ্যেই। আবার কেউ বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের একটি পুরনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।

    এক সময় সালমান খানের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সম্পর্ক থাকার কথা সবারই কমে-বেশি জানা। সেই সম্পর্ক ভাঙনের পর সালমানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরী। তা সত্যিই কি ঐশ্বরিয়ার গায়ে হাত তুলেছিলেন সালমান? পরে এক সাক্ষাৎকারে সালমান খানকে প্রশ্নটি করা হয়।

    জবাবে সালমান খান বলেছিলেন, ওই নারী তো বলছেন আমি মেরেছিলাম। এক সাংবাদিক অনেক বছর আগে এই প্রশ্নই করেছিলেন। সেটা শুনে আমি টেবিল ভেঙে ফেলেছিলাম…। আমি যদি কাউকে আঘাত করি, সেটা তো মারপিট হবে। আমি রেগে যাব। জোরে মারব। সেটা হলে ওই নারী বেঁচে থাকতেন বলে মনে হয় না।

  • বাড়তি টাকা না নিতে আইনজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

    বাড়তি টাকা না নিতে আইনজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

    বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে ওকালতনামার বাড়তি টাকা না নেওয়ার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, আইনজীবীরা একটা শক্তি,এই শক্তির অপপ্রয়োগ করলে জনগণের আস্থা হারাতে হবে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, কোন আইনজীবী বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ মামলা করলে কোন আইনজীবী তার পক্ষে মামলা লড়েন না, এখানে এমন একটি অলিখিত বিধান চালু রয়েছে। যেটা আইনের শাসনের পরিপন্থী। তিনি এমন বিধান থেকে সরে আসার জন্য আইনজীবী সমিতির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করিয়েছেন। আইনমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ জেলা বারের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। ভবনটি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নামে নামকরণ করা হবে বলে জানা গেছে।

    জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম.এ. রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব উল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল আলম শহীদ প্রমুখ।

    মো. আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • বরিশাল সিটির ৯ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট ১৩ অক্টোবর

    বরিশাল সিটির ৯ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট ১৩ অক্টোবর

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বন্ধ ঘোষিত ও ফলাফল বাতিলকৃত নয়টি কেন্দ্রে ১৩ অক্টোবর পুনরায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ সিটির মেয়র পদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

    গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক গোলযোগ হওয়ায় এইসব কেন্দ্রে ভোট নেয়া বন্ধ ও ফলাফল বাতিল করা হয়। ৩ অক্টোবর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান এই সিটি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল অনুযায়ী এই সিটির ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে ৯ কেন্দ্র বাদ দিয়ে বাকি ১১৪ কেন্দ্রের ফল অনুযায়ী, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৬ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭৬ ভোট। ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

    পুনঃভোট নেয়া সম্পর্কে ইসির যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক চিঠি সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বন্ধ ঘোষিত একটি কেন্দ্রে এবং ফলাফল বাতিলকৃত ৮টি কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১৩ অক্টোবর পুনঃভোট গ্রহণের জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

    কমিশনের এ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্যও নির্দেশ দেয়া হয় ওই চিঠিতে।

  • চবি শিক্ষক রিমান্ডে; মুখে কালো কাপড় বেঁধে জাবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ

    চবি শিক্ষক রিমান্ডে; মুখে কালো কাপড় বেঁধে জাবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামকে রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকরা। মুখে কালো কাপড় বেঁধে এই মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থী প্রায় অর্ধশত শিক্ষক। মঙ্গলবার ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    মানববন্ধন শেষে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামসুল আলম সেলিম জিডিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল করার দাবি জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুলকে যে ডিজিটাল আইনের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে এই আইন দিয়ে। আশা করি, সরকারের বোধোদয় হবে এবং মাইদুলকে নিঃশর্ত মুক্তি দেবে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি কথা বলতে না পারি, তা হলে অন্যরা কীভাবে বলবে? আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাব, অবিলম্বে ডিজিটাল আইনের এ ধারা প্রত্যাহার করে নিয়ে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার।

    নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ভিন্নমত প্রকাশ করা গণতন্ত্রের অংশ, সরকার যখন ভিন্নমতকে দমন করতে চাচ্ছে, তার মানে সরকার গণতন্ত্রের বিপরীতমুখী অবস্থানে। আমরা সেটির তীব্র নিন্দা করি। আমরা মনে করি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা সেটি আলোকচিত্রীর সঙ্গে হোক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে হোক, সেটি ভয়ানক অন্যায়।

    মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদ, অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক মানস কুমার চৌধুরী, অধ্যাপক শরিফুল হুদা রিপন, সহযোগী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম প্রান্তিক, খন্দকার হাসান মাহমুদ, মোছা. তমালিকা সুলতানা, মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক শাকিল আহম্মেদ, মোহাম্মদ রেজাউল রকিব প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটুক্তি’করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।