Author: banglarmukh official

  • নওগাঁয় স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    নওগাঁয় স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    নওগাঁয় স্ত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেওয়ার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত স্বামীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ এবং অ্যাসিড দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম শহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম শহিদুল ইসলাম (৩১)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    রায়ে বলা হয়, শহিদুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর স্ত্রী শামীমার শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হলেও তাঁর শরীরের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামীকে যাবজ্জীবন অর্থাৎ আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হলো।

    জেলা ও দায়রা জজের সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল খালেক বলেন, এ মামলারর একমাত্র আসামি অ্যাসিডদগ্ধ নারী শামীমা আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম। আসামির বিরুদ্ধে অ্যাসিড সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫ (ক) ধারায় রাষ্ট্রপক্ষ অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় গ্রেফতারের পর শহিদুল পুলিশ ও আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন।

    তিনি বলেন, আইন অ্যাসিড সন্ত্রাসের অভিযোগে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু অপরাধ সংগঠনের সময় আসামির বয়স (২৫ বছর) বিবেচনায় আদালত তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এ মামলার আসামির রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন সিরাজুল ইসলাম।

    আদালত ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, আসামি শহিদুল ইসলাম অর্ধশিক্ষিত মানুষ। তিনি ছিলেন একজন হলুদ ব্যবসায়ী। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করা অবস্থায় পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার মোকসেদুল ইসলামের মেয়ে শামীমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর শামীমা আরও পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম এর বিরোধিতা করে। এ নিয়ে তাঁদের দু’জনের মধ্যে পারিবাহিক কলহ সৃষ্টি হয়।

    শহিদুল ইসলাম পারিবারিক কলহের জেরে ২০১২ সালের ২০ মে রাতে নজিপুরে শ্বশুরবাড়িতে শয়ন কক্ষে ঘুমন্ত স্ত্রীর গায়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। এতে শামীমার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ ঘটনায় শামীমার বাবা মোকসেদুল ইসলাম পর দিন পত্নীতলা থানায় মামলা করেন।

  • স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে শতকোটি টাকা বরাদ্ধ চাইলেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে শতকোটি টাকা বরাদ্ধ চাইলেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

    শেখ সুমন :

    ঐতিহ্যবাহী শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর সুবর্ন জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এর কাছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডের জন্য শতকোটি টাকা বরাদ্ধ চাইলেন বিসিসি মেয়র সাদিক আবদু্ল্লাহ।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিসি মেয়র সাদিক আবদু্ল্লাহ বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত চিকিতসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই হাসপাতালে যখন যত ডাক্তার প্রয়োজন মাননিয় প্রধানমন্ত্রী ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছেন।বিনা পয়সায় চিকিৎসা ও ঔষধ দিয়েছেন । এখন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আরো আধুনিক করা প্রয়োজন । আর এই জন্য শতকোটি টাকা প্রয়োজন । তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রী এই উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে যেন শতকোটি টাকা বরাদ্ধ দেন সেই অনুরোধ।

  • শেবাচিমহা সুবর্ন জয়ন্তী উদ্ভোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    শেবাচিমহা সুবর্ন জয়ন্তী উদ্ভোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    শেখ সুমন:

    আজ সোমবার বিকেলে শেবাচিমহা সুবর্ন জয়ন্তী উদ্ভোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে আজকের অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন ঘোষনা করেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিসিসি মেয়র সাদিক আবদু্ল্লাহ।

    অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি বেগম সাহানারা আবদুল্লাহ,  তালুকদার মো: ইউনুছ এমপি,জেবুন্নেসা আফরোজ এমপি,জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান,ডি আই জি ও বিএমপি পুলিশ কমিশনার সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে দক্ষিণাঞ্চল এক সময় অবহেলিত ছিল সেই দক্ষিণাঞ্চলকে আমরা উন্নত করেছি। এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ব্রিজ করা হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে বরিশাল হয়ে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন যাবে। বরিশালের নৌপথ, সড়কপথ, রেলপথ সবপথ থাকবে। বরিশালে কোনো মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে না। বরিশালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে একেবারে আলাদা। গবেষণা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ৬৮ সালে স্থাপন করা হয়। এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন এক হাজার বেডে উন্নীত করে দিয়েছি। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাদের এই বরিশাল। তারা দুজনই কৃষক দরদি নেতা ছিলেন। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যখন যত ডাক্তার প্রয়োজন, নিয়োগ দিচ্ছি। ডাক্তারদের জন্য সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি তারপরও ডাক্তাররা উপজেলা হাসপাতালে থাকতে চান না। যে উপজেলায় ১০ জন ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে ডাক্তার পাওয়া যায় তিন-চার জন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক উপজেলায় ডাক্তার না থাকলে সেখানকার মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে কীভাবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছিল। গ্রামের অসহায় নারী ও শিশুরা এসব ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা পেয়েছে। বিনা পয়সায় চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এসব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা আবার বন্ধ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করি। এখনো প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে। ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে বিনা পয়সায়।

  • খালেদা জিয়া গেঁটেবাতে ভুগছেন, ডায়াবেটিসও অনিয়ন্ত্রিত

    খালেদা জিয়া গেঁটেবাতে ভুগছেন, ডায়াবেটিসও অনিয়ন্ত্রিত

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গেঁটেবাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর ডায়াবেটিস-সহ বেশ কিছু রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এরপর তাঁর মূল চিকিৎসা শুরু হবে। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কত দিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলতে পারছে না মেডিকেল বোর্ড।

    আজ সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চারজন সদস্য সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানাতেই এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

    গতকাল রোববার দিবাগত রাতে বোর্ডের একজন সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সৈয়দ আতিকুল হক আজ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সমস্যাটা মূলত গেঁটেবাতজনিত।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বোর্ডের সদস্যরা পড়েছেন। বোর্ড গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেই তাঁদের ধারণা।

    আজ রাতেও মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    গত ৬ অক্টোবর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে।

    বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি কেবিন ব্লকের ছয়তলায় অবস্থান করছেন। আমরা হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে ও কুশলবিনিময় হয়েছে।’

    গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মোট পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

    ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া রিট করেন। আবেদনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করার নির্দেশনাসহ তাঁর চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত যাবতীয় নথি দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুরান ঢাকায় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে গত ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পাঁচ মাসের মাথায় ১২ জুলাই আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

  • এসপি মীজানের সম্পদের খোঁজে ৩৪ সংস্থায় দুদকের চিঠি

    এসপি মীজানের সম্পদের খোঁজে ৩৪ সংস্থায় দুদকের চিঠি

    পুলিশ সুপার (এসপি) মীজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর অঢেল সম্পদের রহস্য উদঘাটন করে মামলা করার পর আরও সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি ৩৪ প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

    সম্প্রতি দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট মীজানুর রহমান, তাঁর স্ত্রী নীপা মীজান ও পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট তথ‌্য-উপাত্তসহ সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া হয়েছে।

    সূত্র জানায়, অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির সম্পদের তথ্য জানা ও যাচাই করতে এ ধরনের চিঠি দেওয়া হয়। ব্যাংকে জমা অর্থের তথ্য, দায়-দেনা এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, রেজিস্ট্রি করা জমিসহ নানা তথ্য পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে।

    যেসব দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিস, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন, পিপলস লিজিং কোম্পানি, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), বাংলাদেশ ব‌্যাংক, বেসিক ব‌্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব‌্যাংক, সোনালী ব‌্যাংক, ইসলামী ব‌্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব‌্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড ও এসএমই ফাউন্ডেশন। এসব চিঠি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের বরাবর পাঠিয়ে দ্রুত এসব তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

    এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও মডেল থানায় মীজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নীপা মীজানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, মীজানুর রহমান ১৯৮৯ সালে সার্জেন্ট (এসআই) হিসেবে তৃতীয় শ্রেণির পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। পরে ১৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পুলিশে যোগ দিয়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় কর্মরত আছেন।

    এই সময়ে তিনি নিজ নামে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৮ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি ও এক হাজার ২৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ কৃষিজমি, ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় ১ হাজার ৭১৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের অর্ধেক অংশ, জুরাইনে একটি দোকান, ঢাকায় ১৫ শতাংশ জমি, রাজউকের উত্তরা তৃতীয় ফেজে ৩ কাঠা জমির মালিক হয়েছেন।

    এ ছাড়া দুটি মাইক্রোবাস, আসবাব, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ইলেকট্রনিকস, মেয়ের নামে শেয়ার, হাতে ও নগদে প্রায় দুই কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।

    এজাহারে আরও বলা হয়, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর/রূপান্তর করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। একজন সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়া ছাড়াই স্ত্রী, মেয়ে ও পিতার নামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রেজিস্ট্রিভুক্ত কেরানীগঞ্জে একটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাংক হিসাব আসামি মীজানুর রহমান পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নামে-বেনামে মেঘনা ফার্টিলাইজার, মেসার্স খোয়াজ ফার্টিলাইজার কোম্পানি ও ফার্ম নেস্ট অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্টস নামে আরও তিনটি কারখানার মালিক।

    মীজানুর রহমানের স্ত্রী নীপা মীজানের নামেও রয়েছে অঢেল সম্পদ । এজাহারে বলা হয়, ২০০৩ সালে মীজানুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় নীপা মীজানের। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হয়েও স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রেজিস্ট্রিভুক্ত কেরানীগঞ্জে একটি সার কারখানার মালিক হন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার মিরপুর মাজার রোডে ৫ কাঠা জমির ওপর ৩ তলা ভবন, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১০ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি, ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে ৬৬ শতাংশ জমি, মিরপুর মাজার রোডে ২ কাঠা জমিতে দোকান,গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৫৩৮ শতাংশ জমি, তেজকুনিপাড়ায় ১৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এ ছাড়া ব্যবসায়িক মূলধন, হাতে নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ।

    দুদকের অনুসন্ধান
    ২০১২ সাল থেকে মীজানের বিরুদ্ধে দুদকে অনুসন্ধান হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও তাঁকে দায়মুক্তি দিয়েছিল সংস্থাটি।

    দুদক সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল থেকে আবারও অনুসন্ধান শুরু হয় তাঁর বিরুদ্ধে। নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় পুলিশের ৬০ জন সদস্যকে রাজমিস্ত্রির সহকারী বা জোগালির কাজ করানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, সাভারের হেমায়েতপুরের আলীপুর ব্রিজ-সংলগ্ন ৮৪ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি তৈরি ও ঢাকার মিরপুরের মাজার রোডের আলমাস টাওয়ারের পাশে আরও একটি বাড়ি নির্মাণে জোগালি ও শ্রমিক হিসেবে সাব-ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশের ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্যকে দিয়ে কাজ করান মীজানুর রহমান। সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে খাটানো এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামেন দুদকের উপপরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম। এর মধ্যে মীজানের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    পরে অনুসন্ধানের ক্ষেত্র আরও বেড়ে যায়। মীজানের বিরুদ্ধে নকল সার কারখানা পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। এটিও যুক্ত হয় অভিযোগ নথিতে। এর মধ্যে নতুন করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধ মামলা করলেন।

    অদৃশ্য প্রভাবে বারবারই ধরাছোঁয়ার বাইরে মীজান
    ২০১২ সালে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক যে অনুসন্ধান করেছে, তখন সংস্থার চারজন কর্মকর্তা আলাদাভাবে অনুসন্ধান করেও তাঁর অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাননি। একাধিকবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরিবর্তন করেও মামলা করার মতো কিছু পায়নি দুদক। তাই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে মীজানকে অব্যাহতি দিয়েছিল সংস্থাটি। তবে এ বিষয়ে দুদকেও কানাঘুষা ছিল। প্রভাব খাটিয়ে দুদক থেকে দায়মুক্তির সনদ নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছিল।

    দুদক সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে অনুসন্ধান শুরু হয়। উপপরিচালক গোলাম মোরশেদ অনুসন্ধান শুরু করলেও পরে আরেক উপপরিচালক ফজলুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুজনই মীজানুর রহমানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিলেও কমিশন তা গ্রহণ করেনি। পরে আবার অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিচালক হামিদুল হাসানকে। হামিদুল হাসানও অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুপারিশ করেন। এ সুপারিশ অগ্রাহ্য করে উপপরিচালক মো. আবদুস সোবহানকে পুনরায় অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয় কমিশন।

    দুদকে আসা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৪ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ বছরে তিনি কয়েক শ বিঘা স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন। ব্যাংকে তাঁর নগদ অর্থ রয়েছে ১০ কোটি টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর নামে লাইসেন্স নেওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বৈধ করেন। এসব রেকর্ডে মীজানের স্ত্রী নীপা মীজানের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান অনুসন্ধান কর্মকর্তা হামিদুল হাসান। কিন্তু কমিশনের ওপর মহল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অদৃশ্য ইশারায় অনুসন্ধান নথিভুক্তির সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

    সর্বশেষ অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আবদুস সোবহানের অনুসন্ধান চলার সময় নোটিশ ছাড়াই বেশ কয়েকবার এসপি মীজানুর রহমানকে দুদকে আসতে দেখা যায়। এ সময় তিনি সাক্ষাৎ করেন দুদকের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও অনুসন্ধান কর্মকর্তার সঙ্গে। আর এর ফলে পুনঃ অনুসন্ধান প্রতিবেদনেও তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের পরিবর্তে নথিভুক্তির সুপারিশ আসে।

    এর আগে ২০১১ সালে এসপি মীজানের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তৎকালীন অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় স্ত্রী নীপা মীজানের নামে ব্যবসা পরিচালনা, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। তিনি মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করলেও মামলা না করে অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়ে যায়।

  • ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পৃথিবীর জঘন্যতম আইনের একটি: বিএনপি

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পৃথিবীর জঘন্যতম আইনের একটি: বিএনপি

    রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপির নেতারা বলেছেন, তাঁরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানেন না। আইনটিকে পৃথিবীর জঘন্যতম আইনের একটি বলছে দলটি।

    আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপি আয়োজিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।

    আলোচনা সভার সভাপতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানি না। এ আইন পাস করার মাধ্যমে সরকার সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আ.লীগ এই দেশের মানুষের ওপর একটার পর একটা আইন চাপিয়ে দিয়েছে। একটা পাহাড়সমান বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।

    ফখরুল বলেন, ‘হতাশার কোনো কারণ নেই। হতাশ হবেন না। আমি সব সময় আশার আলো দেখতে পাই। আমাদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমরা সে জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেছি। ঐক্যবদ্ধ করার আগেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে।

    ডিজিটাল আইন সম্পর্কে ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ আইন মানি না। আইন যেখানে পাস হয় সেই পার্লামেন্টেরই কোনো বৈধতা নেই। এই পার্লামেন্ট জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব করে না। এই আইন নিয়ে সরকার আলোচনাও করেনি। এই সরকার তো প্রতারক সরকার। কয়েক দিন আগেই সম্পাদকদের সঙ্গে বসে কথা দিলেন আলোচনা করে সংশোধন করব। তা করা হলো না।

    সরকার কথায় কথায় মামলা দিচ্ছে উল্লেখ করে ফখরুল আরও বলেন, ‘কোনো কথা নেই সাড়ে চার হাজার মামলা, পাঁচ লাখ আসামি। এই সরকার আসার পর আমাদের আসামি সংখ্যা ২৫ লাখ আর মামলার সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

    সরকারকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, ‘এখনো সময় আছে উপলব্ধি করার, আপনারা আপনাদের রক্ষাকর্তা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। তিনি পারেন দেশকে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দিতে। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াই এই অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে পারবেন। তাঁকে মুক্ত করুন। ক্ষমতা কারোরই চিরস্থায়ী নয়। কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে একটি নির্বাচন হয়, জনগণ তাদের মতামত দিতে পারবে, জনগণের সরকার গঠন করা যায়, সে বিষয়ে এগিয়ে আসুন।’ তিনি বলেন, খারাপ সময় যায় কিন্তু চিরদিনের জন্য খারাপ সময় যায় না। জনগণকে জিম্মি করে, বন্দী করে তাদের বুকে-মাথায় বন্দুক রেখে দিয়ে দেশ শাসন কিছুদিনের জন্য করা যায়, সারা সময়ের জন্য করা যায় না।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশ স্বাধীনের পর যত কালো আইন হয়েছে, ডিজিটাল আইন তার মধ্যে অন্যতম। এখন দেশে অলিখিত বাকশাল চলছে। এই বাকশাল পাকাপোক্ত করতে এই আইন করা হয়েছে। এ আইন করার মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। রাজতন্ত্রেও এমন আইন আছে বলে মনে হয় না।

    গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমান অবস্থায় কথা বলাটা বিপদ। যে ডিজিটাল আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তা পৃথিবীর জঘন্যতম আইনগুলোর একটি। সত্য কথা বলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দিনকে দিন সত্য কথা বলতে শিখতে হবে। না হলে সত্য প্রকাশ হবে না।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শুনলাম, আইনে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেছেন। সরকারের অপরাধ যাতে প্রকাশ করা না হয়, তাই এ আইন পাস করা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এটি গণতান্ত্রিক আইন হয়নি।’

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, তুরস্ক ও ভিয়েতনামের কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    আইনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষক নেতা অধ্যাপক মামুন আহমেদ, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহম্মেদ, ইনডিপেনডেন্টে টেলিভিশনের চিফ নিউজ এডিটর আশীষ ঘোষ সৈকত, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, বিএফইউজে (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, হলিডে পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ কামাল উদ্দিন আহমেদ। মতবিনিময় সভায় বিশেষ নিবন্ধ পড়েন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ।

  • আপিল বিভাগে নতুন তিন বিচারপতি

    আপিল বিভাগে নতুন তিন বিচারপতি

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তিনজন নতুন বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁরা হলেন বিচারপতি জিনাত আরা, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।

    হাইকোর্টের একজন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

    আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া এই তিন বিচারপতি হাই কোর্টের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    এই তিনজনসহ আপিল বিভাগে এখন বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াল সাতজনে।

    হাইকোর্টের কর্মকর্তা বলছেন, কাল মঙ্গলবার নতুন তিন বিচারপতিকে শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

  • বরিশালে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়াবার ঘোষনা দিয়েছে আহসান আজিম।

    বরিশালে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়াবার ঘোষনা দিয়েছে আহসান আজিম।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে স্থগিত হয়ে থাকা ২২ নং ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্রের পুনরায় নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন,প্রশাসনের অসহযোগীতা এবং ভোটার, সমর্থক ও এজেন্টদের জানমালসহ জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়াবার ঘোষনা দিয়েছে ২২ নং ওয়ার্ডের ঘুড়ি প্রতিকের কাউন্সিলর প্রার্থী সাবেক কমিশনার ও সাবেক মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আহবায়ক আ.ন.ম সাইফুল আহসান আজিম।

    সোমবার (৮ই অক্টোবর) বেলা ১২টায় শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আ.ন.ম সাইফুল আহসান আজিম এ ঘোষনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আজিম বলেন আগামী ১৩ই অক্টোবর ২২ নং ওয়ার্ডে দুটি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন হওয়াকে কেন্দ্র করে ইতি মধ্যে তার প্রতিপক্ষ ঠেলা গাড়ি প্রতিক প্রার্থীর সমর্থক-কর্মীরা পথে-ঘাটে তার কর্মীদের হাত থেকে ভোটার স্লিপ কেড়ে নেওয়াসহ বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তাই তিনি ভোটার এবং সমর্থক কর্মীদেরদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই স্থগিত হয়ে থাকা দুটি কেন্দ্রের পুনরায় নির্বাচন থেকে নিজেকে সড়িয়ে নিচ্ছেন।

    উল্লেখ্য গত ৩০ই জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নগরীর ২২ নং ওর্য়াডের ৪টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে নির্বাচন কমিশনার উক্ত কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেন।
    পরবর্তীতে তদন্ত শেষে দুটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহনের সিদ্বান্ত গ্রহন করেন নির্বাচন কমিশন।

  • আজ শুভ মহালয়া

    আজ শুভ মহালয়া

    আজ শুভ মহালয়া। দেবীপক্ষের শুরু। শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া নামে পরিচিত। মহালয়া শব্দের আক্ষরিক অর্থ আনন্দনিকেতন। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন, এই দিনই মহালয়া। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন, অর্থাৎ পূর্ণিমায়।

    মহালয়া মানে দুর্গাপূজার দিন গণনা। মহালয়ার ছয় দিন পর মহাসপ্তমী। সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী সুর বাজবে আজ থেকে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ছয়টায় মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু হবে। চণ্ডীপাঠ দিয়ে শুরু হবে দেবীর আবাহন।

    সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে মহালয়া উদ্‌যাপনের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে চণ্ডীপাঠ করবেন কলকাতা থেকে আসা পণ্ডিত সুনীল চক্রবর্তী। গীতিনৃত্য আলেখ্য পরিবেশন করবেন বেতার ও টিভির শিল্পীরা।

  • পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে যাচ্ছে বিডি ক্লিন বরিশাল।

    পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে যাচ্ছে বিডি ক্লিন বরিশাল।

    শেখ সুমন :

    রাস্তা-ঘাটে বের হলে যেখানেই চোখ যায় সেখানেই ময়লার স্তুপ। নাকে কাপড় দিয়ে অথবা যেকোনো উপায়ে নাক ঢেকে রাস্তা পাড় হতে পারলেই হয়।

    শহরের বিনোদন কেন্দ্র গুলোর যেখানে সেখানে প্রেম ফল নামে পরিচিত বাদামের খোষা ফেলা থাকে। টিস্যুর কথা তো বলতেই হয়না। আচার,চানাচুর বা জাঙ্ক ফুড খেয়ে তার প্যাকেট টাকে ও আমরা যত্ন করে ফেলে দেই রাস্তার উপরে। পাশে যে ডাস্টবিন টা যত্ন করে রাখা আছে তার দিকে কোনোও ভ্রুক্ষেপ নেই আমাদের।

    রাস্তা নোংরা হলে আমার কি ? আসলে ক্ষতি যে আমার বা আমাদের এটাই আমরা বুঝি না। আর আমরা স্বপ্নের সিঙ্গাপুর বানাতে চাই এই শহর শুধু মুখের বুলিতে , কাজে নয়। কিন্তু যখনই আমরা ময়লা ফেলছি তখনই সেই ময়লা পরিষ্কার করার জন্য এগিয়ে আসছে স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান বিডি ক্লিন। এদের কাজ হচ্ছে ঘড়ের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো। কারন এরা নিজেদের অর্থ ও শ্রম ব্যায় করছে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে। এই সংগঠের একটি অংশ বরিশাল বিভাগে কাজ করে। যারা বিডি ক্লিন বরিশাল নামে পরিচিত।

    এই সংগঠনের এচ ঝাকঁ স্বেচ্ছাসেবী পুরো বরিশালটি চষে বেড়াচ্ছেন পরিচ্ছন্ন করার উদ্দ্যেশ্যে। এরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সচেতন করছে নগরবাসীকে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই স্বেচ্ছাসেবীদের হাতের ছোয়া রয়েছে। তিন দিন ব্যাপি উন্নয়ন মেলা পরিচ্ছন্ন রাখতে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল অগ্রনী। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য বরিশাল কে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে বাংলাদেশের নিকট পরিচিত করা।