Author: banglarmukh official

  • হতাশায় না থেকে এই নির্বাচনে আসুন

    হতাশায় না থেকে এই নির্বাচনে আসুন

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশে ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘হতাশায় না থেকে এই নির্বাচনে আসুন। আন্দোলন করে বা নির্বাচন করে আপনাদের নেত্রীকে মুক্ত করুন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি, আওয়ামী লীগ চিরকালই জনগণের ভালোবাসায় বন্দী আছে, চিরদিনই বন্দী থাকবে।’

    ধানমন্ডিতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আজ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ মন্তব্য করেন।

    ৯, ১০ ও ১১ অক্টোবর রাজশাহী, নাটোর ও খুলনায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশ কীভাবে সফল করা যায় এবং সমাবেশ ঘিরে নিজেদের প্রস্তুতির জন্য আজ বৈঠকে বসে ১৪ দল। এ ছাড়া বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াত আবারও যদি কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে, সেটি জোটবদ্ধভাবে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—সেসব বিষয়ও বৈঠকে আলোচনায় আসে। কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা মনে করছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত আবারও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্র ঠেকানোর জন্য তাঁরা নিজেরা প্রস্তুত এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই বার্তা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে ১৪ দল।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি একটি কথা খুব সিরিয়াসলি বলছি, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তাঁকে মুক্তি না দিলে আপনারাও মুক্ত থাকতে পারবেন না। তাঁকে মুক্তি না দিলে যে সংকট তৈরি হবে, তা আপনারা মোকাবিলা করতে পারবেন না।

    মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি দেউলিয়া হয়ে গেছে? দেউলিয়া কখন হয়? যখন কর্মী থাকে না, সংগঠন থাকে না, তখন দেউলিয়া হয়। আর বিএনপির অবস্থা কী? নেতাই এখন নেই, এখন নেতা ভাড়া করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি যখন দেউলিয়ার কথা বলে, এটি তামাশা ছাড়া কিছুই না। বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং হুমকি-ধমকি না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

    মন্ত্রী নাসিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোথায় বন্দী আছে? আওয়ামী লীগ একমাত্র জনগণের ভালোবাসার মধ্যে বন্দী আছে। এই ভালোবাসাকে আমরা ছোট করতে চাই না। কোনো দিন চিন্তাও করি না। তাঁরা একটি হতাশা থেকে এসব কথা বলেন। আপনার (মির্জা ফখরুল) নেত্রী আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাই আইনের পথ দেখেন। তাঁর ব্যারিস্টার সহকর্মীরা কী করছেন? এত দিনেও মুক্ত করতে পারলেন না?’

    এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে ইঙ্গিত করে নাসিম বলেন, ‘বিএনপির একজন ব্যারিস্টার নেতা আছেন। তিনি প্রতিনিয়ত দিন ঘোষণা করেন, মাস ঘোষণা করেন। একজন উকিল যখন মক্কেল ধরেন, তখন সব সময় বলে যান—তুমি বেঁচে যাবে। ওই ব্যারিস্টার নেতাও এখন এই কথা বলছেন। বিএনপিকে অক্সিজেন দিয়ে যাচ্ছেন। এই ধরনের ব্যারিস্টার ধরে লাভ হবে না।’

    ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র নাসিম প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপি প্রতিনিয়ত আন্দোলনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কিসের আন্দোলন? কার বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে? কার জন্য আন্দোলন হবে? আমরা এখনো বলছি, আপনারা নির্বাচনে আসুন, প্রস্তুতি নিন।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হোন। পানি ঘোলা করার চেষ্টা করবেন না। দয়া করে এটা করবেন না। এটা করে লাভও হবে না। কোনোভাবেই কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।’

    জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘দেশবাসী এখন দিন গুনছে কখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ তার ইচ্ছা অনুযায়ী মতামত ব্যক্ত করতে পারবে। প্রায় সব দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা রকম হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দেশ যখন নির্বাচনে প্রস্তুত হয়ে গেছে, যখন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, এটা মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। তখন কী কারণে বিএনপি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, আমরা বুঝতে পারি না।’

    সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • মানুষের মধ্যে সেরা হতে চান দিবালা

    মানুষের মধ্যে সেরা হতে চান দিবালা

    মৌসুম শুরু হওয়ার পর একটু শঙ্কা জেগেছিল তাঁকে ঘিরে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আবির্ভাবের পর একটু আড়ালেই পড়ে গিয়েছিলেন পাওলো দিবালা। একে তো রোনালদোর মতো মহা তারকা হাজির হয়েছেন, তার ওপর আবার মারিও মানজুকিচের সঙ্গেই বোঝাপড়াটা জমেছিল রোনালদোর। একাদশ থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল দিবালাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের মূল্য বোঝাচ্ছেন দিবালা। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বশেষ ম্যাচে পেয়েছেন হ্যাটট্রিক। নিজের লক্ষ্যটাও জানিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, মানুষদের মধ্যে সেরা ফুটবলার হতে চান।

    সেরা হওয়ার আশা করতেই পারেন দিবালা। বহুদিন ধরেই ফুটবলের ভবিষ্যৎ ভাবা হচ্ছে তাঁকে। নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের কারণে দুই মৌসুমে একটু আড়ালে চলে গেছেন। তবু মেসি-রোনালদোর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের নাম নেওয়া হয়, সে ছোট তালিকায় অনায়াসে জায়গা পান দিবালা। গঞ্জালো হিগুয়েইন কিংবা বর্তমানে রোনালদোর মতো ফরোয়ার্ডরা দলে থাকার পরও জুভেন্টাসের জার্সিতে ১৪৭ ম্যাচে ৭২ গোল করেছেন দিবালা। ২৪ বছর বয়সী দিবালা ও ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পেকেই ভবিষ্যৎ মহাতারকা বলছেন আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো।

    দিবালা অবশ্য মনে করেন যত দিন রোনালদো-মেসি খেলবেন, তত দিন কারও পক্ষে সেরা হওয়া সম্ভব না, ‘মেসি ও রোনালদো ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে যেতে হবে তেমন কিছু হওয়ার জন্য (কারও পক্ষে সেরা হওয়া)। অবশ্য তারা তো এখনো অবিশ্বাস্য জিনিস করে দেখাচ্ছেন।’ লা গেজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে জানিয়েছেন দিবালা। সে সঙ্গে আরও বলেছেন, ‘মেসি ও রোনালদো স্বাভাবিকের মধ্যে পড়েন না। আমার লক্ষ্য হলো মানুষদের মধ্যে সেরা হওয়া।’ মেসি ও রোনালদোর ভক্ত কূলের সুর শোনা যাচ্ছে দিবালার কণ্ঠে। এক দশকেরও বেশি অবিশ্বাস্য ফুটবল উপহার দেওয়ায় এ দুজনকে ভালোবেসে যে অন্য গ্রহের প্রাণী বলে সম্বোধন করা হয়।

    মেসি-রোনালদোকে না হয় টপকানোর আশা করছেন না। কিন্তু মানুষদের মধ্যে সেরা হওয়ার জন্যও দিবালাকে পরিশ্রম করতে হবে অনেক। দিবালার অবশ্য এতে আপত্তি নেই। ছোটবেলা থেকেই তো সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, ‘যখন ছোট ছিলাম, ক্যাম্প ফায়ারের সামনে বসে আমি স্বপ্নের কথা বলতাম। আমি স্বপ্ন দেখতাম একদিন ব্যালন ডি’অর জিতব। যদি ভালো হতে চান, আপনাকে লক্ষ্য বড় করতে হবে।’

    সেরা হওয়ার দৌড়ে কাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মানেন দিবালা? বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দলবদল করা নেইমার? পেলের পর দ্বিতীয় টিনএজার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা এমবাপ্পে, নাকি অন্য কেউ? দিবালার উত্তরে চমক থাকছেন, ‘অন্য মানুষদের মাঝে আমি ইসকোকে পছন্দ করি কারণ সে কখনো পা থেকে বল হারাতে দেয় না। অবশ্য নেইমার ও এমবাপ্পেও দুর্দান্ত খেলোয়াড়।

  • অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেন বুলবুল-পুত্র

    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেন বুলবুল-পুত্র

    একেই বলে, বাপকা বেটা সিপাইকা ঘোড়া। বাবা যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য গড়েছেন অনন্য কীর্তি, তেমনি ছেলেও প্রতিভার ঝলক দেখালেন এবার।

    বলছি কিংবদন্তি ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং তার ছেলে মাহাদী ইসলামের কথা। . আমিনুল ইসলাম বুলবুল অন্তত দেড় দশক বাংলাদেশ দলের প্রধান ব্যাটিং ভরসা ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটা স্বর্ণাক্ষরেই লিখিয়েছেন তিনি।

    ১৯৯৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে তার ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। অন্যদিকে বুলবুলের ছেলে মাহাদী ইসলামও কম যান না। ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছে বেশ আগেই। নিজের ক্রিকেট-প্রতিভা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৫ ইনডোর ক্রিকেট দলে। এই দলের হয়েই খেললেন নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব কিশোর অনূর্ধ্ব-১৫ ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপ।

    অবশ্য শুধু খেললেনই না, জিতে নিলেন চ্যাম্পিয়নশিপও! . শিরোপা হাতে বাবা-ছেলে। ছবি: ফেসবুক দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার গৌরব অর্জন করেছে মাহাদী ইসলাম ও তার দল। পুরো দলে মাহাদী একমাত্র এশিয়ান তথা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার।

    শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ছেলের খেলা দেখতে নিউজিল্যান্ড উপস্থিত হয়েছিলেন বুলবুলও। মাঠে বসেই দেখেন ছেলের কীর্তি। সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা জয়ের উদযাপনে মাহাদী ইসলাম। ছবি: ফেসবুক এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য দলের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন মাহাদী। শুধু ইনডোরই নয়, আউটডোর ক্রিকেটেও ট্রায়ালে রয়েছেন বুলবুল-পুত্র।

  • হাসপাতাল যেন রাজনীতির ময়দান না হয়

    হাসপাতাল যেন রাজনীতির ময়দান না হয়

    বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অঙ্গনটি যেন রাজনীতির ময়দান না হয়।

    শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর আওয়ামী লীগের গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ পূর্বে সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বলেন, হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের যেন অসুবিধা না হয়। আমরা আগেই বলেছি, এটি একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল।

    কাদের বলেন, আমরা বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য আগে বলেছিলাম, কিন্তু আসেননি। আদালতের কারণে অবশেষে বেগম জিয়া হাসপাতালে এলেন। বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন কোন হাসপাতালে? হাজার ঘাটের পানি ঘোলা করে রাজি হয়েছে। বিএনপি বেগম জিয়ার চিকিৎসাকে ইস্যু করে রাজনীতি করেছে। এটা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

    তিনি বলেন, নৌকার পক্ষের গণজোয়ার দেখেছি উত্তরবঙ্গে। লাখ লাখ মানুষের বাঁধ ভাঙা জোয়ার। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ফেনীতে গণজোয়ার। বিএনপির ঘাটি চকরিয়াতেও আওয়ামী লীগের গণজোয়ার দেখেছি। যেখানে যাচ্ছি, সেখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল। সকালে রাজধানীর চকবাজারেও নৌকা নৌকা স্লোগানে মুখরিত। আজকে মোহাম্মদপুরেও জনতার ঢল।

    নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। মানুষ ক্ষমতার দাপটকে দেখতে পারে না। বারোটার আগে ভোট শেষ এই ধরনের কথা বলবেন না। ভোট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকতে হবে। যতক্ষণ ভোট চলবে, ততক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। ৯১ কথা ভুলে যাবেন না।

    এক মাসের মধ্যে দেশের চেহারা বদলে যাবে। বিএনপির নেতা মওদুদ আহমেদের এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

    বলেন, মওদুদ সাহেব একজন বহুরূপী। কোন বাণী থেকে তিনি এটা পেয়েছেন? মওদুদ আহমেদের কি একমাস শেষ হয়নি? আপনার দেখেন একমাসে দেশের চেহারা নাকি বিএনপি চেহারা পরিবর্তন হয়।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

  • নির্বাচনের তফসিল ঠিক হয়নি, আরও পরে ঘোষণা হবে : সিইসি

    নির্বাচনের তফসিল ঠিক হয়নি, আরও পরে ঘোষণা হবে : সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল এখনও ঠিক হয়নি। এটা আরও পরে ঘোষণা হবে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে সরকরের জনৈক মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এমনটা আমরা বলি নাই। উনারা যদি বলেন এটা উনাদের  হিসাব মত বলেছেন।

    শনিবার বিকালে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় ইভিএম মেশিন প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে  তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা হবে, তবে সব কেন্দ্রে না, সীমিত আকারে শুরু করতে চাই। যেখানে নির্ভুল হবে সেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি পরীলক্ষিত হলে সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সিইসি আরও বলেন, যারা নির্বাচনে ইভিএম এর ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন তার এসে এর ব্যবহার দেখুক। আমার বিশ্বাস দেখার পর  তারা আশ্বস্ত হবেন।

    এর আগে উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলার উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশিনার। খেলায় গৌরারং ইউনিয়নেকে হারিয়ে বিজয়ী হয় সাচনাবাজার ইউনিয়ন কুস্তিদল। এ সময় প্রধান তথ্য কমিশনার মর্তুজা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজনীতি এখন গরিবের ভাবি : রাষ্ট্রপতি

    রাজনীতি এখন গরিবের ভাবি : রাষ্ট্রপতি

    কোন নিয়ম ছাড়াই যে যার ইচ্ছে মত রাজনীতিতে প্রবেশ করছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, রাজনীতি এখন গরিবের ভাউজের (ভাবি) মতো হয়ে গেছে।

    যে কেউ এখানে ঢুকে যেতে পারে। কোনো নিয়মের বালাই নাই। আমার মতে সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিত। তবে হ্যাঁ, কোনো বিষয়ে দক্ষ লোকদের উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতে প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পরীক্ষায় পাস করে চাকরিতে প্রবেশ না করে রাজনীতিতে আসেত হবে।

    শনিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ৫১তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় তিনি আরো বলেন, ছোট থেকে যারা ছাত্র রাজনীতি করে আসছে তাদেরই আসা উচিত। তবে বিশেষ বিশেষ দক্ষ লোকজন তাদের পেশাজীবন শেষ করে রাজনীতিতে আসে এজন্য রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখা গেছে। তবে যখন তফসিল ঘোষণা করা হবে তখন এ বিষয়ে আরো জটিলতা তৈরি হবে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলবো নির্বাচনের প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। ডাকসু নির্বাচন হলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পথে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসতে হবে।

  • কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেফতার

    কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেফতার

    বগুড়ায় এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণকারি যুব শ্রমিকলীগ নেতা শাহিনুর রহমানকে গ্রেফতারের করেছে ডিবি পুলিশ। জেলা ডিবি পুলিশ বলছে, বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শাহিনুরকে গ্রেফতার করার পর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃত পরিবহন ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান (৪৫) বগুড়া জেলা যুব শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর পুত্র। সে বগুড়া-ময়মনসিংহ ও বগুড়া-রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারি ঝটিকা পরিবহনের মালিক। ঝটিকা বাসের নাম-অনুসারে সে বগুড়ায় ঝটিকা শাহীন নামে পরিচিত।

    বগুড়ার শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে শাহিনের পরিচয় করিয়ে দেয় তা এক বন্ধু। এরপর শাহিন নিজের জীপ গাড়ীতে তুলে সেই ছাত্রীকে ফুলতলা এলাকার সিয়েস্তা হোটেলে নিয়ে যায়। হোটেলের ছাদে নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে একটি রুমে নিয়ে টাকে ধর্ষণ করে শাহীন। ধর্ষণ ঘটনা ফাঁস না করতে হুমকি দেয় এবং মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও ধারণ করে। কৌশলে মেয়েটি হোটেল থেকে পালিয়ে শাজাহানপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করে। এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে বগুড়া ডিবি পুলিশ শাহীনকে রাতেই বগুড়া শহরের চারমাথা থেকে গ্রেফতার করে।

    বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ৩ অক্টোবর রাতে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর সরকারী এম মনসুর আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষের এক ছাত্রী (২৪) গ্রেফতারকৃত শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই শহরের চারমাথা এলাকা থেকে শাহিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ অক্টোবর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, কলেজ ছাত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি শাহিনুর রহমান তার পূর্ব পরিচিত। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে প্রলোভন দিয়ে শহরের ফুলতলা এলাকার সিয়েস্তা নামের একটি অভিজাত হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

  • খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত রবিবার

    খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত রবিবার

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রয়েছেন।

    চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জন্য হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ছয়তলার ৬১১ ও ৬১২ নম্বর কেবিন ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবায় নতুন পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়েছে। তবে তার চিকিৎসা কোন পদ্ধতিতে হতে সে বিষয়ে রবিবার দুপুর দেড়টায় সিদ্ধান্ত নেবে ওই মেডিকেল বোর্ড।

    আজ শনিবার বিকেলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    এর আগে, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে আগের চিকিৎসা বোর্ড পরিবর্তন করে খালেদা জিয়ার জন্য ৫ সদস্যের নতুন চিকিৎসা বোর্ড প্রস্তুত করা হয়।

    বিএসএমএমইউ’র মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে এই ৫ সদস্যের বোর্ডে আরও রয়েছেন- ফিজিক্যাল মেডিসিন সহযোগী অধ্যাপক ডা.বদরুন্নেসা, ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, ডা. নকুল কুমার দত্ত।

    এদিকে, কারাবিধি অনুসারে খালেদা জিয়ার জন্য ডিলাক্স কেবিন নামে পরিচিত ৬১১ ও ৬১২ নম্বর কেবিন ইস্যু করা হয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) ৬১১ নম্বর কেবিনে থাকলে পাশের ৬১২ নম্বরে থাকবেন ডেপুটি জেলার।

    উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া এখন কারাগারে বন্দি। ৫ বছরের দণ্ড নিয়ে তিনি নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

  • বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপের মালিকানা দাবি মিয়ানমারের, রাষ্ট্রদূতকে তলব

    বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপের মালিকানা দাবি মিয়ানমারের, রাষ্ট্রদূতকে তলব

    বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপের একটি অংশকে মিয়ানমার নিজেদের বলে দাবি করেছে। এ দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও-কে তলব করা হয়েছে। শনিবার (৬ অক্টোবর) তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ ইউনিয়ন সেন্টমার্টিনের একটি অংশ মিয়ানমারের বলে তাদের সরকারের কয়েকটি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে। এমনকি দ্বীপের মানুষজনকেও দাবি করা হয়েছে মিয়ানমারের।

    বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত উ লুইনকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর তার হাতে কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র ধরিয়ে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,  সেন্টমার্টিন কখনোই মিয়ানমারের অংশ ছিল না। এমনকি ব্রিটিশ আমলেও এটা মিয়ানমারের অংশে পড়েনি। ১৯৩৭ সালে মিয়ানমার যখন ব্রিটিশ-ভারত থেকে ভাগ হয়ে যায়, তখনো এই দ্বীপ মিয়ানমারের মধ্যে ছিল না। মিয়ানমার কিসের ভিত্তিতে এই দ্বীপের অংশ তাদের বলে দাবি করছে তা রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

    বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট সম্প্রতি তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ দেখানো হয়। এ বিষয়ে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করেছি, তিনি বলেছেন, ভুলক্রমে এটা হতে পারে।

  • যে কারণে পুরোপুরি সফল হচ্ছে না ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

    যে কারণে পুরোপুরি সফল হচ্ছে না ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

    প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার্থে আগামীকাল শনিবার রাত থেকে উপকূলীয় ৭ হাজার বর্গ কিলেমিটার জলসীমায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত (২২ দিন) মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও আশ্বিনের পূর্ণিমা লক্ষ্য রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য অধিদফতর।

    এ সময় সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধসহ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্ররাচরনার পাশাপাশি মৎস্য অধিদফতর কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

    তবে জেলারা বলছেন, মৎস্য অধিদফতর ও প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে বিগত কয়েক বছর ধরে মা ইলিশ রক্ষার্থে এ নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। সরকারি সহায়তা না পেয়ে অভাবের কারণে এ সময় অনেক জেলে মাছ শিকারে বাধ্য হচ্ছেন। এরপর রয়েছে দাদন ব্যবসায়ীদের চাপ। অভাব ও দাদন ব্যবসায়ীদের চাপের কারণে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় মা-ইলিশ শিকারে বাধ্য হচ্ছেন। আর শিকার করা মাছ ক্ষমতাসীন দলের লোক ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকে রাতের আঁধারে কিনে নেন। মাঝে মধ্যে মাছ শিকারের অপরাধে জেলেদের জেল জরিমানা হলেও নেপথ্যে থাকা এসব ব্যক্তিরা আড়ালেই থেকে যায়।

    উপকূলের একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার এ সুযোগে বিগত কয়েক বছর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ভারতীয় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করে নিয়েছে । এ জন্য তারা ব্যবহার করছে শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা। মৎস্য অধিদফতর, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ তাদের নাগাল পায় না। এসব কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না।

    এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরের বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বরিশাল বিভাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তারা সব প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন। বিগত বছরগুলোতে যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে সেসব এলাকায় এবার বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। এ সময় তালিকাভুক্ত জেলে প্রত্যেকে ২০ কেজি করে চাল পাবেন।

    ভারতীয় জেলেদের অবাধে মাছ শিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবার নৌবাহিনীকে টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে। তাদের নজরদারি থাকলে ভারতীয় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করতে পারবে না।

    চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুম হচ্ছে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা। এ সময়ে ডিম ছাড়ার জন্য ৭০-৮০ ভাগ মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে চলে আসে। চলতি বছর ২৪ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্নিমা। পূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে প্রবেশের সময় এবং পূর্ণিমার পরে নদী ছেড়ে সাগরে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের জালে মা ইলিশ ধরা পড়ে। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে পূর্ণিমার আগে ১৭ দিন এবং পরে ৪ দিন অর্থাৎ মোট ২২ ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।