Author: banglarmukh official

  • বরিশালে ৪ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

    বরিশালে ৪ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

    মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া বন্দরে অগ্নিসংযোগ, গণহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে, তালিকাভুক্ত রাজাকার এনায়েত হোসেন খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

    আদালতের বিচারক মো. ফারুক হোসেন শুনানি শেষে রোববার অভিযোগটি আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছেন।

    বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি অভিযোগটি দাখিল করেন উজিরপুর উপজেলার মুন্ডুপাশা গ্রামের মন্নান সিকদারের ছেলে কৃষক লীগ নেতা নান্নু সিকদার। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন শিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের কলম খানের ছেলে রাজাকার এনায়েত হোসেন খান, দক্ষিণ ধামুড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে বেলায়েত বিশ্বাস, কচুয়া গ্রামের জব্বার খানেরর দুই ছেলে জলিল খান ও শাহ আলম খান । এছাড়া শান্তি কমিটির অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সদস্যসহ ২০ থেকে ২২ জন পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর এতে ধর্ষণের শিকার এক নারীসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সাক্ষী করা হয়েছে।

    অভিযোগটির বরাত দিয়ে সালাউদ্দিন শিপু জানান, ১৯৭১ সালের ৮ মে পাক বাহিনীকে নিয়ে আসামিরা স্থানীয় হিরু মিয়া এবং ডা. হরেন নামের দুই বাঙালিকে ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া একই বছরের ১৭ অক্টোবর ৩০/৩২ জন পাক সেনাকে নিয়ে পাক বাহিনীর দোসর এনায়েত খান ধামুড়া বন্দরে হানা দিয়ে প্রায় ৭০/৭২ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। বন্দরটিকে আগুন দিয়ে লুটপাট করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। এক নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, উজিরপুর মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কমান্ড কর্তৃক ২০১৬ সালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় থেকে পাঠানো ০০১.১৬-৭৮ স্মারকের চিহ্নিত তালিকাভুক্ত রাজাকারদের তালিকায় চারজনেরই নাম রয়েছে। তার মধ্যে ২২ নম্বর রাজাকার এনায়েত হোসেন খান, ২৯ নম্বর রাজাকার বেলায়েত বিশ্বাস, ৩০ নম্বর রাজাকার আব্দুল জলিল খান ও ৩১ নম্বর রাজাকার শাহ আলম খান।

    অভিযোগকারী কৃষক লীগ নেতা নান্নু সিকদার বলেন, একজন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক হিসেবে মামলাটি করেছি। রাজাকারদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হলে দেশ ও জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে।

  • অস্ত্র-গুলি ও পৌণে সাত লক্ষ ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮

    অস্ত্র-গুলি ও পৌণে সাত লক্ষ ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮

    ৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টায় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার শেখ কামাল ব্রিজের দক্ষি পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।

    র‌্যাব-৮ জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার শেখ কামাল ব্রীজের দক্ষিণ পাশে হইতে, চাঞ্চল্যকর মোঃ ইব্রাহীম (২৫) ও মোঃ আলম (৩০) কে আটক করে।

    আটক ইব্রহিম টেকনাফ থানার পশ্চিম পানখালী এলাকার মৌলভী মো ঃইউনুসের ছেলে এবং আলম উখিয়া থানার বালুখালী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ জানতে পারে যে, আমদানীকৃত নিষিদ্ধ অবৈধ মাদকদ্রব্য (ইয়াবা) চোরাইভাবে মায়ানমার হতে, সমুদ্রপথে ট্রলারযোগে আনিয়া প্রাইভেটকার যোগে ধৃত ব্যক্তি গন ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে।

    তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর বিশেষ আভিযানিক দল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার শেখ কামাল ব্রীজের নিকট হতে দক্ষিণ পাশে ৬ অক্টোবর ২০১৮ সাড়ে ৩টায় স্থানীয় জনসাধারন এর উপস্থিতিতে, ধৃত আসামীরে কাছথেকে তল্লাশী করে ৬,৭৭,০৫৬ (ছয় লক্ষ সাতাত্তর হাজার ছাপান্ন) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি বিদেশী তৈরি পিস্তল, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৪টি পিস্তলের গুলি, ৪টি মোবাইল, ৪টি মোবাইলের সিমকার্ড ও নগদ ১৯৭৫/- টাকা উদ্ধার করা হয়।

  • ঐক্য প্রক্রিয়াকেও যুক্ত করতে চায় বিএনপি

    ঐক্য প্রক্রিয়াকেও যুক্ত করতে চায় বিএনপি

    তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাত দফা দাবিতে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি শেষ হয়েছে। দলটি নতুন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে। নতুন কর্মসূচিতে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদেরও যুক্ত করতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। এ জন্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    দলের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, নতুন কর্মসূচি গত রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে আবারও বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি দেওয়া হবে। এভাবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিএনপি মাঠে কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে গতরাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হলেও তা চূড়ান্ত করা হয়নি।

    বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের দিন ১০ অক্টোবর ধার্য আছে। আলোচিত এই মামলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্যতম আসামি। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এই মামলায় নেতিবাচক রায়ের আশঙ্কা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে, যাতে সরকার ২১ আগস্ট মামলার রায়ের সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে গুলিয়ে ফেলতে না পারে।

    গতরাতের স্থায়ী কমিটির বৈঠক–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করা এবং বিএনপির সংস্কারপন্থীদের দলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত অনেক নেতা দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁদের ব্যাপারে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

    স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত অনেকে আড়ালে–আবড়ালে দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের প্রকাশ্য হতে হবে। যাঁরা আসতে চান, তাঁদের জন্য বিএনপির দরজা খোলা।’

    বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এ সময় তিনি কমনওয়েলথের মহাসচিবের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শিগগির এই চিঠির জবাব দেবেন তিনি।

    বিএনপির সূত্র আরও জানায়, গতরাতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দ্রুত একটা সিদ্ধান্তে আসার অভিমত আসে। ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরলে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এ বিষয়ে কথা বলবেন।

    ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, চিকিৎসা শেষে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ড. কামালের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

    বিএনপির নতুন কর্মসূচিতে ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নেতাদের যুক্ত করতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতরাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পক্ষে। আমাদের সবার দাবি যখন এক, তখন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হতে সমস্যা কী। ড. কামাল হোসেন দেশের বাইরে, অন্য যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, হবে।’

    দুই দিনের কর্মসূচি শেষ
    গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করাসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরে দুই দিনের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের কর্মসূচি শেষ হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার অনেক জেলায় সমাবেশ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। কোনো কোনো জেলায় পুলিশের লাঠিপেটায় কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

    গতকাল ঢাকায় বিভাগীয় কমিশনারকে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা পৃথক স্মারকলিপি দেয়। এ সময় পুলিশ ১৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

  • এবার ইসলামী আন্দোলনের ১০ দফা

    এবার ইসলামী আন্দোলনের ১০ দফা

    সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এবার ১০ দফা দাবি দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেছেন।

    আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের এক মহাসমাবেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। বর্তমান সংসদের কোনো নৈতিক বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোনো নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না।

    ‘দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে’ এই সমাবেশ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

    নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম। দাবিগুলো হলো: তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সব নিবন্ধিত দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা ​দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে গ্রেপ্তার করা শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

    এ সব দাবি আদয়ের লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ অক্টোবর সব জেলায় বিক্ষোভ, ১৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
    এর আগে পৃথক কর্মসূচিতে বিএনপি এবং ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে একই ধরনের দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া পাঁচ দফা, আর বিএনপি ৭ দফা দাবি জানিয়েছিল।

    মুফতি রেজাউল করিম বলেন, বিগত ১০ বছরে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। নির্লজ্জভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কেউই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। মানুষ আর তামাশার নির্বাচন দেখতে চায় না। আগামী নির্বাচনে অন্যায়-অবিচার, জুলুমকারীদের ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি।

    একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন নিজের অবস্থান জানান দিতে চেয়েছে। সমাবেশে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আনা হয়। তাদের অনেকের হাতে ছিল দলীয় প্রতীক হাতপাখা। জুমার নামাজের পর সমাবেশ শুরু হলেও সকালেই উদ্যান ভরে যায়। বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক বাইরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

    ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার হত্যা, টিপাইমুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণ, ব্যাংক, শেয়ারবাজারে লুটপাট, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ​ কেন্দ্র করে সুন্দরবন ধ্বংস এবং ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামকে অভিযানের মুখে বিতাড়িত করার জন্য সরকারকে দায়ী করে এর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামকে, আমাদের ভাইদের গুলি করে হত্যা করেছে। রক্তের দাগ কখনো মোছা যাবে না। কওমি শিক্ষার সনদ দিয়ে এই রক্ত ঢাকা যাবে না।’

    নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম। তারা ব্যর্থ হয়েছে। আর এখন আওয়ামী লীগ নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে, বাকস্বাধীনতা হরণ করছে, গুম, খুন চলছে। এর মধ্যে আর থাকতে চাই না। সোনার বাংলা, ডিজিটাল বাংলাদেশের খেলা শেষ। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।’

    ইসলামী আন্দোলন কেন কোনো জোটে যাচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা দেন দলের মহাসচিব ইউনূছ আহমাদ। তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন এ দেশের মানুষের শেষ সম্বল। এটা শেষ করতে চাই না। এ জন্য কোনো দুর্নীতিবাজের সঙ্গে আমরা জোট করি না।’
    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হুদা ফয়েজী, আশরাফ আলী আকন, এ টি এম হেমায়েত উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, খালেদ সাইফুল্লাহ, গাজী আতাউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, আতিকুর রহমান প্রমুখ।

  • বিএনপির দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে: মওদুদ

    বিএনপির দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে: মওদুদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, আগামী এক মাসে অনেক পরিবর্তন আসবে। এক মিনিটের ব্যবধানে সংলাপে বসতে সরকার বাধ্য হবে। সরকার যদি ভাবে জোর করে ক্ষমতায় থাকবে, এবার এটি সম্ভব হবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদ এ মন্তব্য করেন। ‘আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘চেতনা বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন।

    মওদুদ আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে অপসারণ করা হবে। জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্য নষ্ট করতে সরকার অনেক ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও জোরদার হবে। সারা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে। কারণ একটি স্বৈরাচার সরকারকে সরাতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করতে ক্ষমতাসীনেরা একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যার কারণে বিএনপির সক্রিয় কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

    সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের জন্য সুন্দর পরিবেশ আছে। কথাটি সত্য নয়। কারণ বাংলাদেশে কোনো সাধারণ নির্বাচন করার ন্যূনতম পরিবেশ এখন নেই। তিনি আরও বলেন, ভোটের জন্য ন্যূনতম পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। সরকার এটা চায় না। কেন চায় না? কারণ সরকারের উদ্দেশ্য খুব খারাপ। তারা আগের মতো আরেকটা নির্বাচন করতে চায়। একদলীয়ভাবে একটা নির্বাচন করতে চায়। বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে এটা আর কোনো দিন হতে দেওয়া হবে না।

    নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি উপযুক্ত কর্মসূচি দেবে। যে কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। পরিস্থিতি বলে দেবে, কী ধরনের কর্মসূচি দিতে হবে। আগামী এক মাসে অনেক পরিবর্তন দেখতে পারবেন।

    নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সংবিধানে কিছুই নেই। তার মানে, সরকার সংবিধান থেকে সরে আসতে চাচ্ছে। সরে এসে একটি নির্বাচনকালীন সরকার করবে। এটি হবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। প্রশাসন, পুলিশ ও র‍্যাব তাঁদের অধীনে থাকবে। তাঁদের অধীনেই নির্বাচন হবে। তবে নাম দেওয়া হবে নির্বাচনকালীন সরকার। মুখে বলবে রুটিন অনুযায়ী কাজ করার কথা, কিন্তু সংবিধান তো বলে না যে তাঁরা রুটিন অনুযায়ী কাজ করবে।

    সরকারের উদ্দেশে মওদুদ আহমদ আরও বলেন, সরকার সংবিধান থেকে যদি সরে আসতে রাজি হয়, তাহলে বিএনপির প্রস্তাব মানতে অসুবিধা কোথায়? সংবিধান তো কোনো দিন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। অতীতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে প্রধান বিচারপতি রেখে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেটা অসাংবিধানিক ছিল। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একাদশ সংশোধনী এনে তাঁকে বৈধতা দেওয়া হলো। তিনি বলেন, যতই অত্যাচার ও নির্যাতন করা হোক না কেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারবে না। আর নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই সরকার একদলীয়ভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। যত পারেন পোস্টার ও ব্যানার লাগান, কিন্তু ভোট নেই।

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম প্রমুখ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শামীমা রহিমের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

  • অনেক হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ: ফখরুল

    অনেক হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ: ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেখানে দেশের জনগণ চায় না, সেখানে বিশ্ব নেতারা চাইলে কি বেশি দিন টিকে থাকা যায়? জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাদ দিয়ে, তাদের এড়িয়ে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। অবশ্যই জনগণ যা চায়, সেভাবে কাজ করতে হবে। অনেক হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ।

    সুপ্রিম কোর্টের শহীদ এ কে এম সিদ্দিক হলে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও পেশাজীবীদের নামে ‘ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা ও গায়েবি মামলায়’ হয়রানির প্রতিবাদে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়।

    জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে অভিজ্ঞতা জানাতে গত বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বিশ্ব নেতারা তাঁকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছেন বলে তিনি জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দয়া করে মাথার মধ্যে একটু শুভবুদ্ধি নিয়ে আসুন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন এবং জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দিন। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তাঁকে মুক্তি না দিলে আপনাদেরও মুক্তি নেই। আপনারাও মুক্তি পাবেন না। তিনিই শেষ ভরসা, যাঁকে মুক্ত করলে আপনারা মুক্ত থাকতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ কথাটা আমি সিরিয়াসলি বলছি, তিনিই শেষ ভরসা। তিনিই গণতন্ত্রের একমাত্র প্রতিনিধি। তিনি পারবেন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করতে। তাঁকে বের করে নিয়ে আসুন, না হলে এই দেশে যে সংকট তৈরি হবে, সে সংকট আপনারা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হবেন।’

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে ভয় কেন? জনগণকে এত ভয় কেন? কেন আপনারা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চান না? কেন নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না? কারণ আপনি জেনে গেছেন, আপনার জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। আপনি জেনে গেছেন, সবাই এখন দেখছে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের আর কোনো রাজনীতি নেই। ভাবতেই অবাক লাগে আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘকাল রাজনৈতিক সংগ্রাম করা একটি দল, তারা আজ সম্পূর্ণভাবে জনগণ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নির্ভর করে দেশ চালাচ্ছে।’

    আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন, শওকত মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।

  • বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় : শ্রিংলা

    বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় : শ্রিংলা

    ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে তারা কি করবে। এ বিষয়ে ভারতের কোনো বক্তব্য নেই।

    শুক্রবার চাঁদপুরের ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের মহাত্মা গান্ধি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি এদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন এগিয় যাচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে।

    রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারত তিন দফায় তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। আমাদের এ মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। আমরা আগামী শীতে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করবো।

    তিনি বলেন, ভারত চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাক। সকল মৌলিক অধিকার ভোগ করুক। রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু থেকে ভারত বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। ভারত রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান।

  • ভারতীয় রুপির বিপরীতে ডলারের পাশাপাশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি টাকা

    ভারতীয় রুপির বিপরীতে ডলারের পাশাপাশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি টাকা

    গেল সপ্তাহে নিম্নমুখী ধারায় রুপির রেকর্ড মূল্যপতন হয়েছে।বৃহস্পতিবার একটা পর্যায়ে ১০০ রুপির দাম নেমে দাঁড়িয়েছিল ১১৩ টাকা। অতীতে কোনো সময় এতো কম দামে রুপি পাওয়া যায়নি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা শক্তিশালী হলে পণ্য আমদানি-রফতানিতে তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। তবে ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে যাবেন তারা লাভবান হবেন। কারণ রুপি কিনতে এখন আগের চেয়ে টাকা কম লাগবে। রুপির এ মান ধারাবাহিক কমতে থাকলে এক সময় টাকা আর রুপি সমান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ইন্টারনেট মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) এক মার্কিন ডলারে বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৬৬ রুপি। চলতি বছরের শুরুতে (১জানুয়ারি) যা ছিল ৬৩ দশমিক ৮৮ রুপি। এ হিসেবে ১০ মাসের ব্যবধানে রুপির মান কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এখন এক ডলারে পাওয়া যাবে ৭৩ দশমিক ৬৬ রুপি। যা রুপির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দর।

    ডলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রাও শক্তিশালী হচ্ছে। ৪ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি রুপিতে মান দাঁড়ায় এক টাকা ১৩ পয়সা। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ১১৩ টাকায় ১০০ রুপি পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে ১০০ রুপিতে মিলেছে ৮৯ টাকা। টাকার বিপরীতে রুপির এ দর এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।

     

    আমদানি-রফতানিকারকদের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে পণ্য বেশিরভাগ কেনাবেচা হয় ডলারে। ফলে টাকা শক্তিশালী হলে বা রুপির মান কমলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাব পড়ে না। তবে যারা ভারত ভ্রমণ করবেন কিংবা কাঁচা টাকা ভাঙান তারা লাভবান হবেন।

    অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী এনএস ভেঙ্কটেশ বলেন, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ভারতীয় মুদ্রা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে মুদ্রাটি। তবে ভারতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি রুপির মান ৬৯-এর কাছাকাছি স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    ভেঙ্কটেশ বলেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) রুপির উত্থান-পতনের বিষয়টি দেখছে। ফলে মুদ্রা বিনিময় বাজারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

    এদিকে রুপির এ দরপতন ঠেকাতে ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক-আরবিআই।

    বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ধারাবাহিক বৃদ্ধি ও মার্কিন ডলারের বাড়তি চাহিদার কারণে রুপির এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল সংস্থাগুলোকে বাজার থেকে দশ বিলয়ন মার্কিন ডলার তোলার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে মুদ্রা আহরণকারী সংস্থাগুলোকেও বিশেষ ছাড় দিয়েছে। শিগগিরই ঋণ নীতিতেও পরিবর্তন আনছে আরবিআই। গত চার বছরের মধ্যে বর্তমানে তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে রুপির মান কমায় বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য সুখবর বলছেন দেশের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানায়, ডলারের বিপরীতে রুপির মান কমায় এখন ওই দেশে ভ্রমণের খরচ কমেছে। প্রতিবছরই রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক বাংলাদেশ থেকে ভারত ঘুরতে যায়। এখন চলছে ভারত ভ্রমণের সুবর্ণ সময়। এ সুযোগ অনেকে গ্রহণ করছেন। এখন ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। ডালের মানও রুপির তুলনায় বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভারতে ভ্রমণ আরও বাড়বে।

    ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ বৈচিত্র্যময় দেশ ভারত। যার আয়তন প্রায় ৩৩ লাখ বর্গ কিলোমিটার, যেখানে বসবাস করেন ১৩২ কোটিরও বেশি মানুষ। মরুভূমি থেকে বরফ সবই আছে ভারতে। আয়তন ও বৈচিত্র্যের কারণে নিয়মিত প্রচুর পর্যটক যায় ভারতে। প্রতি বছরই এ সংখ্যা বাড়ছে।

    ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মোট ২০ লাখ বাংলাদেশি ভারত সফর করেছে। তার মানে দেশটির বিদেশি পর্যটকদের এক-পঞ্চমাংশ বাংলাদেশি। ২০১৩ সালে যেখানে সোয়া পাঁচ লাখ বাংলাদেশি ভারত সফর করেছিল, সেখানে ২০১৭ সালে তা দাাঁড়ায় ২০ লাখে।

  • চট্টগ্রামে গ্রিন এক্সপো উদ্বোধন করলেন গণপূর্ত মন্ত্রী

    চট্টগ্রামে গ্রিন এক্সপো উদ্বোধন করলেন গণপূর্ত মন্ত্রী

    পানিকে সম্পদে পরিণত করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারি সংস্থাগুলোর ভবন নির্মাণে। সব শৌচাগারে ফ্লাশের কাজে খাবারের পানি ব্যবহার করা যাবে না। ৫ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনেক হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। নতুন আবাসনগুলো গ্রিন কনসেপ্টে হচ্ছে। তাছাড়া ২০২০ সালের পর ইট তৈরির জন্য ইটভাটায় টপ সয়েল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    শুক্রবার বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) আয়োজিত গ্রিন অ্যান্ড পিপিপি কনভেনশন অ্যান্ড এক্সপো’র উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, গ্রিন কারখানা নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করছি। গ্রিন কনসেপ্ট নিয়ে না এগোলে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি হবে। বিশ্বব্যাংকের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে, কাগজ, কাচ, পলিথিন আলাদা করে কম্পোস্ট সারসহ নানা ধরনের মূল্যবান জিনিসপত্র তৈরির জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, জাম্বুরি পার্ক অল্প টাকায় করে লাখো মানুষের হৃদয় জয় করেছি। বায়েজিদে একটি পার্ক করছি। চট্টগ্রামের প্রাণস্পন্দন ডিসি হিল। এটি সুন্দর করার জন্য বড় প্রকল্প নিচ্ছি। জিইসি মোড়ে ৫০ তলা বাণিজ্যিক ভবন হবে, যেখানে সিনেপ্লেক্সসহ বিশাল কর্মযজ্ঞ হবে।

    চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বিআইএফএফএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরমানুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ও ফটিকছড়ির পরিবেশবান্ধব কারখানা ফনিক্স সিরামিক অ্যান্ড অটো ব্রিকসের উদ্যোক্তা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট একেএম আবদুল্লাহ। পরে ফিতা কেটে তিন দিনের মেলার উদ্বোধন করেন গণপূর্তমন্ত্রী।

  • আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি, আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

    আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি, আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

    ওসি সাহেব আমি আমারা স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় গিয়ে ঘাতক স্বামীর এমন স্বীকারোক্তিতে অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান থানার বড় কর্মকর্তা। দায়িত্বরতদের ডেকে তিনি বলেন, এই লোক কি পাগল নাকি সত্যি বলছে।

    পরে ওসির নির্দেশে ঘটনা যাচাইয়ে খুনীর বাড়ির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী পুলিশ পাঠিয়ে পাওয়া যায় সত্যিই সে তার স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় এসছে আত্মসমপর্ণ করতে।  চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায়।

    হত্যার শিকার স্ত্রী আফরিনর আক্তার রীনা (২৩) নাটোর জেলার বাদীপাড়া থানার সাবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের মেয়ে। আর ঘাতক স্বামী মেহেদী হাসান মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার নিজামউদ্দিনের ছেলে।

    ঘাতক স্বামী মেহেদীর বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি এস এম মঞ্জুর কাদের জানান, ঘাতক  মেহেদী হাসান(২৭) ও  নিহত স্ত্রী আফরিন আক্তার(২৩) রীনা দু’জনই পূর্বেই বিবাহিত ছিল। দু’জনের আগের সংসারে  সন্তান রয়েছে। মেহেদী ও আফরিন ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার একটি হোসিয়ারিতে একই সঙ্গে কাজ করার সময় পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর আগে তারা দুজনেই আগের সংসারে তালাক নিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

    বিয়ের পর স্বামী মেহেদী তার মা জোছনা বেগম, বাবা নিজামউদ্দিন ও স্ত্রী রীনাকে নিয়ে পঞ্চবটি চাঁদনী হাইজিং এর ওমর ফারুকের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস শুরু করেন। এরই মধ্যে দুজনের  সংসারে তৈৗহিদ নামে একটি  ছেলে শিশু জন্ম নেয়। বর্তমানে তৈৗহিদের বয়স (৫)।হত্যার শিকার রীনার পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, বিয়ের পর স্বামী মেহেদীকে  আড়াই লাখ টাকা ঋণ দেয় রীনার পরিবার।

    এই টাকা নিয়ে ৪ অক্টোবার বৃহস্পতিবার রাতে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। সেই সময় স্ত্রী রানী মেহেদীকে টাকার খোটা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেদী গাঁমছা দিয়ে রীনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ৫ অক্টোবর শুক্রবার সকালে ঘাতক মেহেদী তার মা জোসনা বেগমকে জানায়, সে রাগের বশে স্ত্রী রানীকে হত্যা করেছে।

    সেই সময় মেহেদীর মা জোসনা বেগম ছেলে মেহেদীকে সাফ জানিয়ে দেয় তুই যদি আমার ছেলে হয়ে থাকিস তাহলে থানায় গিয়ে নিজের খুনের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করবি। কথামত বেলা ১১ টার দিকে মেহেদী ফতুল্লা মডেল থানায় চলে যায় । থানায় গিয়ে সে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে থানা কমপাউন্ডে এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করতে থাকে। এতে মেহেদীর গতিবিধি থানায় কর্তব্যরতদের  সন্দেহ হয় এবং মেহেদীর কাছে থানায় আসার কারন জানতে চায় দায়িত্বরতরা।

    মেহেদী জানায়, ওসি সাহেবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে। পরে ওসির রুমে হেদেকে নিয়ে গেলে সে ওসিকে বলেন আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ পাঠিয়ে খুনের সত্যতা সঠিক হওয়ার পর আত্মসমপর্নকৃত মেহেদীকে থানায় হাজতে টাক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

    ঘটনাটি মর্মান্তিক উল্লেখ করে ওসি আরও জানান, রাগের বশে মেহেদী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে অনুশোচনা ও তার মায়ের সৎ পরামর্শে মেহেদী থানায় এসে আত্মসমপর্ণ করেছে। প্রত্যেকটি বাবা মায়ের মেহেদীর মায়ের মত হওয়া উচিত। পাশাপাশি আমাদের সকলকে রাগের সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রন করা উচিত। প্রবাদ আছে  রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে তিনি।