Author: banglarmukh official

  • হাইকোর্টে ফের খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন

    হাইকোর্টে ফের খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন

    কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে করা একটি মামলায় ফের জামিন আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

    মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে জামিন পান খালেদা জিয়া। হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে ১৬ মে রায় দেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল হাইকোর্টে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

  • বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে পারছে না সরকার

    বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে পারছে না সরকার

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, অবৈধ সরকারের কর্মকাণ্ডে বাকশাল স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তারা কোনোভাবেই বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে পারছে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম ছক তৈরি করছে সরকার। আজ দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

    আওয়ামী লীগ লুটেরাদের দল বলে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট ও দুর্নীতির কোনো মামলা হয় না। তাদের কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদ চরিত্র ফুটে উঠছে। তিনি বলেন, বিএনপির জনসভায় লোক সমাগম দেখে সরকার আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছে। একতরফা নীলনকশার নির্বাচন করতেই আগাম ফরম্যাট তৈরি করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • জামায়াত নেতাকে ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় আসামি আ.লীগ নেতাও

    জামায়াত নেতাকে ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় আসামি আ.লীগ নেতাও

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদকে পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলেও হাতকড়াসহ পলাতক জামায়াত নেতা আজাদকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

    সোমবার গভীর রাতে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার সাহা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মঙ্গলবার সকালে এসআই রিপন কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের হাত থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকাসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার কয়ড়া চরপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (২৬), সোলাইমান আলীর ছেলে আফজাল হোসেন (৩৬), মৃত বাহাদুর আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৪৬) ও একই গ্রামের গোলাম মওলার ছেলে খায়রুল ইসলাম (২৫), ও তাড়াশ উপজেলার দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে সুরুজ মিয়া (৩৫)।

    প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া চরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাশকতার ২০ মামলার আসামি ও উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় আনার পথে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

  • আর্জেন্টিনা দলে আর ফেরার দরকার নেই : মেসিকে ম্যারাডোনা

    আর্জেন্টিনা দলে আর ফেরার দরকার নেই : মেসিকে ম্যারাডোনা

    ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঠোঁটকাটা স্বভাবের কথা সবারই জানা। তিনি যখন কাউকে কিছু বলেন, কোনো রাখঢাক ভনিতা করে বলেন না। আর্জেন্টিনা দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসির বিষয়েও বেশ কঠোর অবস্থানেই দাঁড়াচ্ছেন ছিয়াশির বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। সাময়িক অবসরে থাকা বার্সা তারকাকে পুরোপুরি অবসরে চলে যেতে বলছেন তিনি।

    ক্লাবের মেসি ভীষণ সফল, ততটাই যেন অনুজ্জ্বল জাতীয় দলের জার্সিতে। বেশ কয়েকবার কাছে গিয়েও আর্জেন্টিনাকে একটি বড় শিরোপা জেতাতে পারেননি মেসি। এবারের বিশ্বকাপেও বড় স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিল তার দল, ফলাফল সেই একই। বিশ্বকাপের পর তাই স্বেচ্ছা নির্বাসনে গেছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। এখনও অবসর নেননি, তবে আর তিনি জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, নিশ্চিত নয়।

    এই ব্যর্থতার জন্য অবশ্য মেসিকে দায়ী করছেন না মারাডোনা। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব চাম্পিয়ন না হওয়ার জন্য সে দায়ী নয়। আমাদের সবার তার উপর প্রত্যাশা ছিল। যখন আপনি দৌঁড় প্রতিযোগিতায় যাবেন, তখন তো চাইবেন আপনার ঘোড়াই জিতুক, তারপর দেখবেন সে অষ্টম হয়ে ফিরছে। এখনকার জাতীয় দল আমাকে আর টানে না। একইরকম অবস্থা সমর্থকদেরও। আমরা উদ্যমটা হারিয়েছি।’

    দলের এই দুর্দশার মধ্যে মেসির আর জাতীয় দলে ফেরা উচিত নয় বলেই মনে করছেন ম্যারাডোনা। ছিয়াশির নায়ক বলেন, ‘আপনি নিকারাগুয়া আর মাল্টার সঙ্গে খেলতে পারেন না। না, ভাই। আমরা আমাদের সব সম্মান টয়লেটে ফেলে দিয়েছি। আমি চাইব, মেসি যেন আমাদের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে আর আর্জেন্টিনা দলে না ফেরে।’

    এদিকে, বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় হোর্হে সাম্পাওলি কোচের দায়িত্ব হারানোর পর ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে লিওনেল স্কালোনিকে। এই কোচকেও অপছন্দ ম্যারোডোনার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে যা হয়েছে, আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। কারণ আমরা শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারিনি। এখন তারা স্কালোনিকে নিয়ে এসেছে। স্কালোনি খুব ভালো মানুষ, কিন্তু সে এই কাজের জন্য নয়। তারা কিভাবে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলকে স্কালোনির হাতে তুলে দিল? আপনারা কি পাগল হয়েছেন? স্কালোনিও বললো, আমি প্রস্তুত। কিন্তু আমি তাকে কখনও আর্জেন্টিনার হয়ে একটি গোল করতে দেখিনি।’

  • বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার জেলেরা পাবে সরকারী চাল

    বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার জেলেরা পাবে সরকারী চাল

    ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার দুই লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল দেবে সরকার।

    সম্প্রতি এ বরাদ্দের অনুমোদন দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে চাল বরাদ্দ দিয়ে আদেশ জারি করবেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, ওই চিঠিতে বলা হয়েছে-বরাদ্দ এ ভিজিএফ চাল মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক স্থানীয়, দুঃস্থ ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে যথানিয়মে বন্টন করবেন এবং হিসাব সংরক্ষণ করবেন। জেলা প্রশাসককে এ বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যকে অবহিত করতে হবে।

    সূত্রমতে, ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে আগামী ৭ থেকে ২৮ অক্টোবরে পর্যন্ত ২২দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ইলিশ আহরণে বিরত থাকার সময় সরকারীভাবে বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার ৮৮ হাজার ১১১ জন, পটুয়াখালীর ৪৫ হাজার ৬৪২ জন, বরিশালের ৪৩ হাজার ৬৪৪ জন, বরগুনার ৩৪ হাজার ২১১ জন, পিরোজপুরের ১৪ হাজার ৮৭৫ জন ও ঝালকাঠি জেলার এক হাজার ৪৬০ জন জেলেকে চাল দেয়া হবে।

    একইসাথে ইলিশ আহরণে বিরত থাকার জন্য দেশের ২৯টি জেলার ১১২টি উপজেলায় জেলেদের এ সহায়তার জন্য সাত হাজার ৯১৪ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে চাঁদপুরের ৩৬ হাজার ৫৭৫ জন, লহ্মীপুরের ৩৭ হাজার ৩২৬ জন, ফেনীর ৫০০ জন, নোয়াখালীর আট হাজার ৫২৪ জন, কক্সবাজারের ১০ হাজার ৫০০, চট্টগ্রামের ১৭ হাজার ৫০০, শরীয়তপুরের ১৬ হাজার ৩৫৫ জন, জামালপুরের পাঁচ হাজার, নরসিংদীর ৫০০ জন, মানিকগঞ্জের সাত হাজার ৭৭৯ জন, মাদারীপুরের এক হাজার ৫০০, ঢাকার ৮৫০, সিরাজগঞ্জের এক হাজার ৫০০, রাজশাহীর এক হাজার ৮০০, নাটোরের ৫০০, পাবনার এক হাজার ২৫০, বাগেরহাটের পাঁচ হাজার ১৯৪, খুলনার দুই হাজার ১০০, কুষ্টিয়ার এক হাজার ২৬৬, কিশোরগঞ্জের ৬৯৯, রাজবাড়ীর চার হাজার ৬৪০, ফরিদপুরের দুই হাজার ২৩৭ ও মুন্সিগঞ্জের তিন হাজার ৬৭১ জন জেলে পরিবার ২০ কেজি করে চাল সহায়তা পাবেন।

  • মেডিকেল কর্মকর্তাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা

    মেডিকেল কর্মকর্তাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা

    বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন লুৎফর রহমান সড়কের ভাড়া বাসায় ইউনিয়ন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মারুফা বেগম হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

    রবিবার রাতে নিহতের বড় ভাই মো. জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর বিমান বন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীতের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন। ওই থানার উপ-পরিদর্শক ফিরোজ আলম মুন্সিকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নিহত মারুফা জামালপুর জেলার বেলুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বরিশাল নগরীর কাশীপুর গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা জহিরুল হায়দার চৌধুরীর স্ত্রী ছিলেন। তিনি নগরীর কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন।

    তার স্বামী জহিরুল হায়দার চৌধুরী ঢাকায় প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে কর্মরত। নিঃসন্তান মারুফা নগরীর নথুল্লাবাদ লুৎফর রহমান সড়কের জনৈক সুলতান আহমেদের মালিকানাধীন ‘শরীফ মঞ্জিলের’ তৃতীয় তলার একটি ফ্লাটে একা ভাড়া থাকতেন। ওই বাসায় গত শনিবার রাতে খুন হন তিনি। পরদিন রবিবার দুপুরে ওই বাসার দরজা ভেঙে মারুফার বিবস্ত্র রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে নগরীর বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    সূত্র-বিডি প্রতিদিন

  • বরিশালের বাবু কম্পিউটার শিখতে গিয়ে জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে

    বরিশালের বাবু কম্পিউটার শিখতে গিয়ে জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সহিংস কোনো ঘটনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আবার নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়াই ছিল জেএমবি সদস্যদের লক্ষ্য।

    তবে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সতর্কতা ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে জঙ্গিদের সেই চেষ্টা বাব বার লক্ষভ্রষ্ট হচ্ছে। গত একমাসে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৪ সদস্যকে। এরমধ্যে জেএমবি’র সামরিক শাখার এক সদস্যও রয়েছে। গ্রেফতারের সময় জেএমবির সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন ধরনের ইসলামী জিহাদি বই।

    বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে বরগুনা পৌরসভা এলাকার উকিল পট্টি ও বাথালি পট্টি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল ওরফে হাসান (৩৫) এবং একই জেলার কুমারখালী গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে আবু সালেহ সিকদার ওরফে আব্দুল্লাহ (৩০)। এ সময় আটক মেহেদী হাসানের কাছ থেকে বিদেশে তৈরি একটি রিভলবার, ৪ রাউন্ড গুলি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন ধরনের ইসলামী জিহাদী বই উদ্ধার করে র‌্যাব।

    এর আগে গত শনিবার রাতে বরিশাল নগরীর জিয়া সড়ক একতা সরণী থেকে জিহাদি লিফলেট এবং বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য আতিকুর রহমান বাবুকে (২৪) আটক করে র‌্যাব-৮। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বরগুনা থেকে অপর দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাবু বরগুনা সদর উপজেলার রায়ভোগ মোড়খালী গ্রামের মৃত গোলাম মাতুব্বরের ছেলে।

    বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কার্যালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বরগুনার উকিল পট্টিতে গত ১০ বছর ধরে মেহেদী হাসান একটি কম্পিউটার এবং ফটোকপির দোকান পরিচালনা করছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থি সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ স্থাপন হয়। তার দোকানটি প্রশিক্ষণ এবং সমন্বয়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সে নিজেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সে উগ্রপন্থী ভিডিও, ওয়াজ ও তথ্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষিত সদস্যদের মুঠোফোনে সরবরাহ করত। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের জন্য মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করত সে। গত রোববার রাতে উকিলপট্টি থেকে মেহেদীকে গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয় তার দলের অপর সদস্য আব্দুল্লাকে। এর আগে গত শনিবার রাতে জেএমবির সামরিক শাখার সক্রিয় সদস্য আতিকুর রহমান বাবুকে ৬ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ৩৫৫টি জিহাদি লিফলেট, নিষিদ্ধ ইসলামী জিহাদি বইসহ আটক করে র‌্যাব।

    র‌্যাব জানায়, বরগুনার উকিলপট্টি এলাকার একটি দোকানে কম্পিউটারে শিখতে গিয়ে জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বাবু। সে চাঁদা দিয়ে জেএমবি’র সদস্য হয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয় এবং তার কাজ ছিল বিভিন্ন জেলায় ঘুরে সংগঠনের জন্য সাথি সংগ্রহ করা।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা বরিশাল নগরীর দড়গাবাড়ি রোড এলাকা থেকে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আব্দুল্লাহ আল মিরাজ ওরফে খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকেও র‌্যাব সদস্যরা একটি পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, ১৬টি জিহাদি বই, একটি সিডি, দুটি পাসপোর্টসহ বিভিন্ন প্রকার ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা বেশ ভালো। সামনে নির্বাচন। হয়ত পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে জেএমবির সদস্যরা বিচ্ছিন্নভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

    চলমান অভিযানের কারণে ধারণা করা হয়েছিল, জেএমবি বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই আর সংগঠিত হতে পারবে না। কিন্তু এরা আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিস্তৃতিটা ভয়াবহ পর্যায়ে যায়নি। তারা বিচ্ছিন্নভাবে হয়তো আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই হয়তো গ্রেফতার হবে তারা।

  • ভোগান্তিতে বন্দীরা- দুর্নীতির আতুরঘর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার

    ভোগান্তিতে বন্দীরা- দুর্নীতির আতুরঘর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার

    “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ”- এই স্লোগানটি বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে। কারাগার কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতিটি বন্দীকে রাখা হয় নিবিড় পর্যবেক্ষণে। কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে দেখানো হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ। তবে বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন। কারাগারের বন্দী ও স্বজনদের প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এখানে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুরো কারাগারজুড়েই চলছে টাকার খেলা আর জমজমাট মাদক ব্যবসা। যার যত টাকা ও প্রভাবশালী, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে তার ততো দাপট। টাকাওয়ালারা ঘরের ন্যায় জেলখানাতেও বসবাস করেন আরাম-আয়েশে। আর যাদের টাকা নেই তাদের কারা কর্তৃপক্ষের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তবে কারাগারের বাইরে এসব ঘটনা সহসা প্রকাশ করেন না কেউ। কারণ বেশিরভাগ হাজতিই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মাদক সংশ্লিষ্ট অথবা অপরাধী হওয়ায় তাদের বারবার যেতে হয় কারাগারে।

    একজন হাজতি কারা গেট থেকে প্রবেশের পর থেকেই শুরু হয় কারা কর্তৃপক্ষের অর্থ আদায়ের সূচনা। এরপর জামিনে বের হওয়া পর্যন্ত হাজতিদের নিয়ে চলে তাদের অর্থ বাণিজ্য। যার ফলে কারা কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাজতিদের কারাগারে প্রবেশের আগে তাদের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেন কারা কর্তৃপক্ষ। ওই খাতার নাম হলো ‘পিসি বই’। হাজতি মুখে তার পরিচয় সঠিক বললেও লেখার সময় ইচ্ছে করেই পিসি বইতে ভুল লেখা হয়। এক জন হাজতির নাম যদি হয় ‘মিজানুর রহমান’ কারা কর্তৃপক্ষ তার নাম লিখবে ‘মিজানুর বহমান’। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হলেও ‘র’ ও ‘ব’ এর বেড়াজালে আটকে দেয়া হয় ওই হাজতিকে। গেটের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দিলেই ‘ব’ আবার ‘র’ হয়ে যায়। কিন্তু কেউ টাকা দিতে না পারলে জামিন আদেশের পরেও তাকে ১ দিন অতিরিক্ত জেল হাজতে থাকতে হয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসব কথা জানিয়েছেন হয়রানির শিকার এক হাজতি।

    অন্য এক হাজতি জানান, আমদানিতে ১ দিন রাখার পরে হাজতিদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও টাকা। অনেক অপরাধী এক জায়গায় বসবাস করায় প্রায়ই হাজতিতের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারি করার অপরাধে তাদেরকে কেস টেবিলে (কারাগারের বিশেষ বিচার ব্যবস্থা) হাজির করা হয়। তবে কারাগারের সুবেদার, জমাদার ও সিআইডিদের টাকা দিলে পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধী। এর প্রেক্ষিতে উল্টো শাস্তি পেতে হয় নিরাপরাধীকে। যার ফলে কারাগারে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ। একটু ভালোভাবে গোসল করার জন্যও টাকা গুণতে হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের। প্রতিবার গোসল করার জন্য যারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিতে পারছেন শুধুমাত্র তারাই পাম্পে বা বিভিন্ন সেলের সামনে গোসল করার সুযোগ পান।

    কারাগারের অভ্যন্তরে নগদ টাকা বহন করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই বাইরে থেকে কেউ টাকা দিতে চাইলে ব্যাংক হিসেবের ন্যায় পিসি বইতে টাকা জমা হয়। কারো টাকার প্রয়োজন হলে পিসি বইয়ের মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে লেনদেন করেন। আর এখানেই হলো আসল দুর্নীতি। কেউ ১০০ টাকা চাইলে তাকে দেয়া হয় ৯০ টাকা। বাকি ১০ টাকা কমিশন বাবদ কেটে রাখা হয়। যদিও টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জেলার বলেছেন, এ ১০ টাকা পিসি বই তৈরি করার জন্য নেয়া হয়। এমন নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার পিসি বই তৈরি করার জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ না দেয়ায় তারা এই টাকাটা নিয়ে থাকেন।

    বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। তবে টাকা থাকলে সেখানেও রয়েছে স্বস্তি। হাজতি বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসা আব্দুর রহমান জানান, ‘‘আমার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলে সেখানে সিরিয়ালের অজুহাতে প্রায় ৩ ঘণ্টা বসে থেকেও দেখা করতে পারিনি। যখন এক কারা সদস্যকে ৩শ’ টাকা দিলাম সে সাথে সাথেই দেখা করিয়ে দিল।” তিনি বলেন, এমন দৃশ্য যে কেউ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেই প্রতিনিয়ত দেখতে পারবে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এ টাকাটা সংগ্রহ করেন কারারক্ষী উজ্জ্বল। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, স্পেসালভাবে কারাগারে থাকা স্বজনের সাথে দেখা করার জন্য কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে গেলেই কারারক্ষী উজ্জ্বল ৫শ’ টাকা হাতেনাতে নিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দেন দেখা করার জন্য।

    কারাগারের সবচেয়ে বেশি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে মেডিকেলে। জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী যে রোগী আগে যাবেন তিনি মেডিকেলে সিট পাবেন। কিন্তু সেখানে চলে এর উল্টো। টাকার বিনিময়ে সুস্থদের সিট পাইয়ে দেয়া হয়। আর প্রকৃত অসুস্থরা থাকেন মেঝেতে। তবে কারা পরিদর্শকদল পরিদর্শনে গেলে অসুস্থদের বেডে রাখা হয়। কিন্তু তারা চলে গেলে পূর্বের নিয়ম চালু হয়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেলে ১৫ দিন থাকার জন্য ১৫শ’ টাকা এবং এক মাস থাকার জন্য ২৫শ’ টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক হাজতি জানিয়েছেন, যে কেউ দিব্যি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার সার্টিফিকেট নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। সেখানে বসে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা, খাওয়া-দাওয়া এবং মোবাইলে কথা বলার অপার সুযোগ থাকে। কারা চিকিৎসকের সঙ্গে আঁতাত করে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেয় দালালরা। এই সার্টিফিকেটের জন্য প্রতিজন বন্দীকে দিতে হয় ১ থেকে ২ হাজার টাকা। এ বিষয়ে জেলারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসকল বিষয়ে কারা মেডিকেলের দায়িত্বরত ডাক্তার বলতে পারবেন। পরে কারা মেডিকেলের দায়িত্বরত ডাক্তার খুরশিদ আলমের মুঠোফোনের ০১৭১৭১১২৯.. নাম্বারে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমাসে শুধুমাত্র মেডিকেল থেকে আয় হয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। চিকিৎসক নিজেও এর একটি অংশ পান। কারা মেডিকেলে দায়িত্ব পালন করছেন ডাক্তার খুরশিদ আলম।

    কারাগারের অভ্যন্তরে ফেন্সিডিল বা ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারের মত অবাধেই। কারাগারে বিক্রি হওয়া মাদকের বাইরেও রয়েছে ঘুমের ট্যাবলেটের ব্যবস্থা। কারাঅভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। তবে কারাগার থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার। বিশেষ করে সিআইডি ও মেডিকেল চিফ রাইটার এই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কারণ, সিআইডি সদস্যদের গেটে তল্লাশি করা হয়না। তাই কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই কারাঅভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করান তারা। তবে মাদকের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলার।

    কারাগারের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত মোবাইলও অবৈধভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। কারাগারে এই মোবাইলের সাংকেতিক নাম ‘ময়না পাখি’। মোবাইলের মালিক নিজেও ব্যবহার করেন এবং ভাড়াও দেন। ফলে ভিতরের সকল খবরা-খবর এক নিমেষেই বাহিরে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, যেসকল সন্ত্রাসী কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, তারা বাইরের অপরাধ জগতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে মোবাইলের মাধ্যমে। যার ফলে যে কোনো অপরাধকর্মকা-সহ মাদক ব্যবসা নির্বিঘেœ পরিচালনা করতে সক্ষম হয় তারা কারাগারে বসেই।

    জানা গেছে, কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখার জন্য ডিআইজি প্রিজনের পক্ষ থেকে একজন সিআইডি সদস্য রয়েছেন বরিশাল কারাগারে। তবে এই সিআইডি সদস্য ডিআইজির কাছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা গোপন করে থাকেন। কারণ, কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে এখান থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেট ভারী করছেন তিনি। যে সব কয়েদী কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকেন তারাই রাজত্ব করেন পুরো কারাগারজুড়ে। আর যারা কারা কর্তৃপক্ষের মন জোগাতে ব্যর্থ হন, তাদের সইতে হয় নির্যাতন। আর তাদের কাজ করতে হয় ফুলের বাগান, সুইপার চালি, তাঁত চালি বা রান্না ঘরে।

    একাধিক বন্দী জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উল্লেখ থাকে তা দেয়া হয়না। তালিকায় ইলিশ, রুই, কাতলসহ বিভিন্ন মাছ খাওয়ানোর কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই দেয়া হয় পুকুরে চাষ করা পাঙাস মাছ। আর যে মাংস খাওয়ানো হয় তাও পরিমাণে খুব কম। তবে টাকার বিনিময়ে ক্যান্টিন থেকে চড়া মূল্যে মাছ ও মাংস কিনে খেতে পারেন বন্দীরা। তাই যাদের সামর্থ্য আছে তারাই কারাগারে বসে ভালো-মন্দ কিনে খেতে পারেন। সদ্য জেল থেকে বের হওয়া এক হাজতি জানান, জেল খানার খাবারের মান খুবই নিম্নমানের। বন্দীদের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার বরাদ্দ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। পরে তা বাইরে বিক্রি করে দেয়। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের প্রধান গেট থেকেই ভিতরে প্রবেশ করে এই সব নিম্নমানের খাবার। খাবার ভিতরে প্রবেশ করানোর সময় নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তা গেটে আটকে দেন গেট ইনচার্জ। এ নিয়ে চলে খাবার সরবরাহকারী ও গেট ইনচার্জের দেনদরবার। ঘণ্টাখানেক পর ওই খাবারই ভালোমানের হিসেবে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামের ভুলসংশোধনী, আমদানি, ওয়ার্ড, গোসল, খাবার, ক্যান্টিন, হাজতিদের টাকার কমিশন, দেখার ঘর, মেডিকেল অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা উপার্জন হয় অবৈধভাবে। জেলার, ডেপুটি জেলার থেকে শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসক, সুবেদার, কারারক্ষীরা পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পান। বর্তমানে জেল সুপারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ নুরুজ্জামান। তাই তিনি বেশি খোঁজ খবর না নেয়ায় কারাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন জেলার মোঃ ইউনুস। তিনি নিজেই কারাগারের সকল অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত।

    উল্লেখ্য, ১৮২৯ সালে ২০.৩ একর জমির ওপর বরিশালে কারাগার নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই এটিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। তবে জেলা কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি একাংশও। মাত্র ৬৩৩ জন ধারণ ক্ষমতার বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে বন্দী রয়েছেন ১২৬০ জন। এদের মধ্যে ফাঁসির আসামি ৭২ জন। যার মধ্যে ২ জন নারী। সিনিয়র জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার ও চিকিৎসকসহ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এখানে পুরুষ কারারক্ষীর সংখ্যা ২৫১ জন। এর মধ্যে পদ শূন্য রয়েছে ১১টি। মহিলা কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন ১১ জন। এছাড়া এখানে ডেপুটি জেলারের পদ রয়েছে ৪টি। এর মধ্যে ২টিই শূন্য।

    কারাগারের ভিতর ও বাহিরের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার মোঃ ইউনুস জামান বলেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে যে জনবল রয়েছে তা ৬৩৩ বন্দীর জন্য। কিন্তু কারাগারে প্রায় দ্বিগুণ বন্দী রয়েছেন। তাই এখানকার নিরাপত্তা জোরদার করতে আরো কারারক্ষী প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

    এ বিষয়ে জানতে জেল সুপারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোঃ নুরুজ্জামানের ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

    এমন বাস্তবতায় কারা ডিআইজি (প্রিজন) মোঃ ছগির মিয়ার সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, কারাগারে যদি কোনো দুর্নীতি ঘটে তাহলে সকল অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • শিগগিরই শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ : চামিন্দা ভাস

    শিগগিরই শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ : চামিন্দা ভাস

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের খোজ-খবর রাখেন অথচ চামিন্দা ভাসকে চেনেন না, এমন ব্যক্তি বাংলাদেশে খুব কমই পাওয়া যাবে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ওভারেই হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম লেখানোর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের নেতিবাচক স্মৃতিতে নিজের নাম তুলে রেখেছেন ভাস।

    সে আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ছিলো নিতান্তই আন্ডারডগ। এশিয়ার শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভারতসহ বিশ্বের সব বড় দলগুলো, আবার কখনো ছোট দলগুলোও সহজেই হারিয়ে দিতো টাইগারদের। সময় বদলেছে, এখন আর বাংলাদেশকে হারানো সেই ১৫ বছর আগের মতো সহজ নয়। এর প্রমাণ সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপেই রেখেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার।

    ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জিততে ব্যর্থ হলেও মাত্র ২২২ রানের পুঁজি নিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিল রোহিত-ধাওয়ান-ধোনি সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপ। এর আগে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়েই নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।

    শুধু এ বছরেই মোট তিনটি ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। জিততে পারেনি একটিও। এশিয়া কাপের সবশেষ ৪ আসরের তিনবারই রানারআপ হয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনাল ম্যাচের বাঁধা কোনোভাবেই পার করতে পারছেন না মাশরাফিরা। লঙ্কান কিংবদন্তী চামিন্দা ভাস মনে করেন আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না টাইগারদের। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ জিতে নেবে শিরোপা।

    বর্তমানে শ্রীলঙ্কা অনুর্ধ্ব-১৯ দলের বোলিং কোচ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ভাস। যুব এশিয়া কাপে অংশ নিতে লংকান যুব দল এখন বাংলাদেশে। দলের সাথে এসেছেন ভাসও। সংবাদ মাধ্যমে ভাস বলেন, ‘অসাধারণ! বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের একটি সম্মানের জায়গা তৈরি করে ফেলেছে। আমি বিশ্বাস করি তারা খুব শীঘ্রই শিরোপা জেতা শুরু করবে। বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছি আমি।’

    এসময় টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন ভাস। তিনি বলেন, ‘আমি মাশরাফির সাথে খেলেছিলাম একবার। সে যেভাবে সব প্রতিকূলতা জয় করে খেলছে এবং বলের প্রতি তার যে নিয়ন্ত্রণ; আমি সত্যিই অভিভূত। বারবার ইনজুরিতে না পড়লে সে নিশ্চিত সেরাদের কাতারে থাকতো। গত কয়েক বছরে তো সে অধিনায়কত্ব করছে। অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক সে।’

  • ২৭৪ জন বিচারককে বদলি

    ২৭৪ জন বিচারককে বদলি

    বিচার প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজসহ সমমর্যাদার ২৭৪ জন বিচারককে বদলি করেছে সরকার। আইন ও বিচার বিভাগ থেকে গতকাল সোমবার এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এ রদবদল আনা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আদেশে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের জেলা জজ/চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/দফতর প্রধানের মনোনীত কর্মকর্তার কাছে বুধবারের (৩ অক্টোবর) মধ্যে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে অবিলম্বে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া যারা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে রয়েছেন কিংবা নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষে কিংবা নির্বাচনের দায়িত্ব শেষে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

    এর আগে গত রোববার জেলা জজ এবং সমমর্যাদার ৮ বিচারক পদে রদবদল আনা হয়েছিল।