Author: banglarmukh official

  • নরসিংদী-৫ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে আ: রব সেরনিয়াবাত এর নাতি ব্যারিস্টার তৌফিক

    নরসিংদী-৫ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে আ: রব সেরনিয়াবাত এর নাতি ব্যারিস্টার তৌফিক

    মেঘনা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র আর আঁড়িয়াল খা- এই তিন নদী বেষ্টিত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল রায়পুরা। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নরসিংদী জেলার এ উপজেলাটি দেশের একটি অবহেলিত জনপদ। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রায়পুরা উপজেলা নিয়ে নরসিংদী-৫ সংসদীয় আসন গঠিত। দেশের অন্যসব প্রান্তের মতোই  দুর্গম এ চরাঞ্চলেও বইছে এখন ভোটের হাওয়া।

    নরসিংদী-৫ আসনে ভোটের মাঠে ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী তৎপর থাকলেও বিএনপি প্রার্থীদের এখনো মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রধান দুটি দল ছাড়া রায়পুরায় অন্য দলগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি নেই বললেই চলে। চরবাসীদের জল্পনা-কল্পনা তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়েই। এ আসনের টানা তিন মেয়াদের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর এই সদস্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে লড়তে চান।

    দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে একই সংসদ সদস্য থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি, একসময়ের গণবান্ধব সংসদ সদস্য  রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর কাছে পৌছাতে সাধারণ মানুষের এখন বেগ পেতে হয়। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতার রায়পুরার সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন মুখের দাবি তুলেছেন।  এমনকি বর্তমান এমপির বিরোধিতা করছেন তার পরিবারের সদস্যরাই।এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর বিরোধিতা করে তারই ছোটভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু নির্বাচনে আওয়মী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও এ অাসন থেকে ক্ষমতাসীন দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন- আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাউছার, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান  ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সামছুল হক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী।

     

     

    নরসিংদী-৫ আসনে নৌকা প্রতীকের হাফডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে এলাকাবাসীর মাঝে আলাদা আবেদন তৈরি করেছেন ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান। বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ছিলেন তার নানা, সেইসূত্রে তৌফিক বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র।তার আরেক পারিবারিক পরিচয় তিনি কবি শামসুর রাহমানের  ভ্রাতুষ্পুত্র। বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিক দীর্ঘদিন ধরেই রায়পুরার উন্নয়নে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এ জনপদে  প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় তাদের সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যারিস্টার তৌফিক রায়পুরার স্যাটেলাইট ক্লিনিককে মানসম্পন্ন করে তুলতে কাজ করছেন। শিক্ষায় পশ্চাদপদ চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রায়পুরার পাড়াতলি কলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তরের উদ্যোগও নিয়েছিন তিনি। পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র মানুষকে দীর্ঘদিন ধরেই বিনা পয়সায় আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    নিজের এইসব সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পূর্বপশ্চিমকে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান বলেন,  আমাদের এই রায়পুরা নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকা হওয়ায় সবদিক থেকেই পিছিয়ে আছে। এখানে উচ্চ শিক্ষার জন্য তেমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ভালো  চিকিৎসার সুযোগ নেই। যাতায়াতের অবকাঠামোও অনুন্নত। এ এলাকার সন্তান হিসেবে নিজের  ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট থেকেই উন্নয়নমূলক সামাজিক  কর্মকাণ্ড জড়িত হয়েছি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চিন্তাভাবনা করার বহু আগে থেকেই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। এইসব কাজকে আরো এগিয়ে নিতেই এলাকাবাসীর পরামর্শে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই।।

    ব্যরিস্টার তৌফিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের আত্মীয়তার সূত্রে মনোনয়ন নয়, আমার দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় দল যদি মনে করে আমাকে মনোনয়ন দেবে। দল যদি মনোনয়ন না দেয়, তবুও রায়পুরার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমার অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

     

     

    গত কয়েকমাস ধরে রায়পুরার  ২৪টি ইউনিয়নে ব্যাপক জনসংযোগ চালাচ্ছেন ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমান। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন। এসব বৈঠতে  আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি চরাঞ্চলের বহুল সমালোচিত টেটাযদ্ধে বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে ব্যরিস্টার তৌফিক বলেন, চরাঞ্চলের কুখ্যাত  টেঁটাযুদ্ধের কারণে রায়পুরা প্রায়ই পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে।  তুচ্ছ কারণে টেটা নিয়ে একপক্ষ আরেক পক্ষের ঝাপিঁয়ে পড়ছে। গত আট বছরে চরাঞ্চলে ৮৮টি লাশ পড়েছে। সন্ত্রাস কবলিত জনপদ হিসেবে রায়পুরা পরিচিতি পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। প্রশাসনের পক্ষ ধেতে টেটাযুদ্ধ বন্ধের কোনো  কাজে আসছে না। আসলে গণসচেতনা এটা বন্ধ করা অসম্ভব। আর তাই নির্বাচনী প্রচারণায় আমি যেখানেই যাচ্ছি টেটাযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছি, গণমত গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি।

    দেশের মানুষের কাছে রায়পুরার পাড়াতলি কবি শামসুর রাহমানের গ্রাম হিসেবে পরিচিত। অথচ কবির জন্মবার্ষিকী বা প্রয়াণদিবসে শামসুর রাহমানের স্মরণে দীর্ঘদিন কোনো আয়োজন ছিল না এখানে। কবি শামসুর রাহমানের ভাইয়ের ছেলে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমানই পাড়াতলীতে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে  স্মরণ-অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেন।এ উপলক্ষে শুভাকাঙ্খীদের মিলনমেলা বসে কবির বাড়িতে। প্রতিবছর ঢাকা থেকে অনেক কবি-সাহিত্যিক ও খ্যাতিমান বক্তিত্ব যোগ দেন এসব অনুষ্ঠানে। পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসব আমেজ। কবির স্মৃতিরক্ষায় এরই মধ্যে ব্যারিস্টার তৌফিক গড়ে তুলেছেন শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশন। কবির গ্রামের বাড়ি দেখতে আসা আতিথেয়তা দেওয়া হচ্ছে এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি কবি শামসুর রহমানের বাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তরের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে এসব কাজ বাস্তবায়নে ব্যারিস্টার তৌফিককেই পালন করতে হচ্ছে প্রধান ভূমিকা।

     

     

    ব্যারিস্টার তৌফিকুর রাহমানের বৈচিত্র্যময় কর্মতৎপরতায় এলাকায় গড়ে ওঠেছে তার ব্যাপক সমর্থন ও জনপ্রিয়তা। বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাবাদী একাধিক মহল।নরসিংদী-৫ রায়পুরা এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, আওয়ামী লীগ নেতা ও কবি শামসুর রাহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তৌফিকের জনসংযোগে নানাভাবে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। তবে স্থানীয়রা স্বতস্ফুতভাবে এসব হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটেনি।

  • নানা অব্যবস্থাপনা ও প্রচারের অভাবে দর্শকশূণ্য প্রায় শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর

    নানা অব্যবস্থাপনা ও প্রচারের অভাবে দর্শকশূণ্য প্রায় শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর

    কাজী সাইফুলঃ

    টিকেট কেটে জাদুঘরটির ভিতরে প্রবেশ করতেই হতাশ হলাম। কি আছে এখানে! দেখায় মনের তৃপ্তি কি পূরণ হবে? উপমহাদেশের অবিসংবাদিত মহান নেতা শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদ অলংকৃত করেছেন। তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর (১৯৫৬-১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।

    দীর্ঘ কর্মময় জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় তিনি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাখারে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে কাটান। বাংলার মূখ্য মন্ত্রী ও বাংলার বাঘ হিসেবে পরিচিত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের পরিচিতি, তার ইতিহাস ও ব্যবহারিক নিদর্শন গুলো ভবিষ্যত প্রজম্মের কাছে তুলে ধরার নিমিত্তে তাঁর স্মৃতি বিজরিত চাখারে শের-ই-বাংলা স্মৃতী জাদুঘর নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৭৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শের বাংলা’র বাসভবন পরিদর্শেনান্তে চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ (চাখার কলেজ উদ্বোধন) মাঠ প্রাঙ্গনে এক বিশাল জনসভায় শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ঘোষনা করেন।

    ১৯৮২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোট ২৭ শতক জমির উপর শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর ভবনের নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করা হয়। আয়তকার ভূমি পরিকল্পনায় ৪৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪.৬০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এ জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে জাদুঘরের এ জমিটি শের-ই-বাংলার নিজস্ব বসতভিটার একাংশ। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে জনবল নিয়োগ দিয়ে জাদুঘরটি কার্যক্রম শুরু করে। মূলত তার বিরল আলোকচিত্র, ব্যবহৃত আসবাবপত্র, চিঠিপত্র। জৈনক সৈয়দ আনিছুজ্জামান সুন্দরবন কুমির শিকার করে শেরে-ই-বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা নির্দশন স্বরুপ উপহার দেওয়া কুমির নিয়েই এ জাদুঘরটি সাজান। পাশে রয়েছে শের-ই-বাংলার স্মৃতী বিজড়িত নিজ বাংলো, ১৯২৮ সালে তার নির্মিত ঐতিহ্যবাহী চাখার জামে মসজিদ ও ১৯৪০ সালে তার নির্মিত চাখার সরকারি ফজলুল হক কলেজ। জাদুঘরে প্রবেশ ফি ২০০২ সালে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ১ টাকা চালু হয়।

    বর্তমানে প্রবেশ ফি ১০ টাকা এবং বিদেশী দর্শনার্থী ১০০ টাকা। গ্রীষ্মকালে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবার পূর্ণ দিবস এবং সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও অদ্যাবধি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়নি ‘‘শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর’’। জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন, নানা অব্যবস্থাপনা ও প্রচারের অভাবের কারণে এটি দর্শকশূণ্য হয়ে পড়েছে। দৈনিক এখানে ৪০ থেকে ৪৫ জন দর্শনার্থী আসে। কোনো কোনো দিন তাও হয় না বলে জানান দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন ও প্রচারনা না থাকায় ইতিহাসের ধারক জাদুঘরটির এ অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • ব্যার্থতার দায়ভার ও দুদক এর সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল সিটি মেয়র অাহসান হাবিব কামাল।

    ব্যার্থতার দায়ভার ও দুদক এর সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল সিটি মেয়র অাহসান হাবিব কামাল।

    ব্যার্থতার দায়ভার ও দুদক এর সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে আগামী ৪ অক্টোবর পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল সিটি মেয়র অাহসান হাবিব কামাল। আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে নিজ বাস ভবনে ডাকা সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দেন। অর্থ নৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করতে না দেয়ায় তিনি এ সিধান্ত নেন। আগামী ৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন বলে জানান।

     আগামী ২৩ অক্টোবর নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ২২ দিন আগেই তার এ পদত্যাগের ঘোষণায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।

    সোমবার দুপুরে নগরীর কালুশাহ সড়কের নিজবাসায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ ঘোষণা দেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল।

    সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অদৃশ্য চাপের কারণে আগামী ৪ অক্টোবর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্ধারিত মেয়াদের আগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ায় নগরবাসীর কাছে আমি ক্ষমা চাই।

    মেয়র কামাল জানান, তার মেয়াদ শেষ হতে এখনো ২২ দিন বাকি। তবে তাকে নগর ভবনের কোনো কাজই পরিচালনা করতে দেয়া হচ্ছে না। নগর ভবনের তহবিলে প্রায় ৬০ কোটি টাকা জমা থাকার পরও অদৃশ্য এক শক্তি নগর উন্নয়ন, রাস্তাঘাট মেরামত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, সড়ক বাতি কেনা, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, স্টেশনারি মালামাল কেনা, নগরবাসীর সেবাসহ দাফতরিক কাজকর্ম করতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

    আহসান হাবিব কামাল বলেন, ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে তিনি জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। গত কয়েক বছর ধরে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম করে আসছিলেন। কিন্তু গত জুন মাস থেকে অদৃশ্য শক্তির কারণে তার আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। তিনি নগর ভবন এবং নগরবাসীর জন্য কোনো সেবামূলক কাজ করতে পারছেন না। তাই এই পদ আকড়ে থাকা অর্থহীন। এ কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি তার মেয়াদের সব শেষ অফিস করবেন। আগামী ৪ অক্টোবর নিয়মানুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

    ওই অদৃশ্য শক্তির পরিচয় জানতে চাইলে মেয়র কামাল বলেন, এটা বরিশালের সবাই, বিশেষ করে সাংবাদিকরা জানেন। বিরোধীদলের একজন লোক হয়ে হয়রানির আশঙ্কায় ওই শক্তির নাম বলতে চাই না। ওই অদৃশ্য শক্তি সাংবাদিকদের খুঁজে বের করার অনুুরোধ জানান তিনি।

    ২০১৩ সালের ১৫ জুন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে (প্রয়াত) হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।

    ওই বছরের ২৩ অক্টোবর মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। সে হিসাবে আগামী ২৩ অক্টোবর মেয়র হিসেবে তার পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু চাপের মুখে স্বাভাবিক কাজ করতে না পেরে নির্ধারিত মেয়াদের ২২ দিন আগে সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মেয়র কামাল।

  • মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

    মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

    সরকারি চাকরিতে কোটা-সম্পর্কিত সচিব কমিটির সুপারিশ বাতিল করে সকল গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন আট সদস্যের প্রতিনিধিদল।

    ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন।

    সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে আন্তরিক। তবে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকর্তারা প্রতিটি পদক্ষেপে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের ব্যাপারে সচেষ্ট। সচিব কমিটির সুপারিশ তারই একটি নতুন সংস্করণ।’

    তারা বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র হয়। এভাবে ২৯ বছর কোটায় কোনো মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকরি হয়নি। বরং মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। কোটা সংস্কার বা বাতিলের আগে এ ২৯ বছরের হিসাব দিতে হবে।’

    জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি পালনে আহ্বান জানানো হয়।

    সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো:

    ১. জাতির পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

    ২. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন করতে হবে।

    ৩. ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন করে প্রিলিমিনারি থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ৪. মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সব নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে তা পূরণ করতে হবে।

    ৫. ১৯৭২-২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য পদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে।

    ৬. বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রথম সেনাবাহিনী। তাই তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পেনশন, বোনাস, রেশনসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

    ৭. রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ তাদের উত্তরসূরীদের চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণা এবং জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

    ৮. ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলাসহ দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী স্বঘোষিত রাজাকারদের কঠোর শাস্তি এবং

    ৯. মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ অন্য সবার চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দিতে হবে।

    সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কোষাধ্যক্ষ ও দফতর সম্পাদক আহমেদ রাসেলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কে এম আবদুল্লাহ সোহাগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অনলাইন কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক লামিয়া খানম, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রজন্ম পরিষদের সদস্য সচিব কামরুজ্জামান শিমুল প্রমুখ।

  • দেশে ফিরেই সাকিবের কাছে গেলেন মাশরাফি

    দেশে ফিরেই সাকিবের কাছে গেলেন মাশরাফি

    এশিয়া কাপ মিশন শেষে রাজধানীতে ফিরেছেন শনিবার রাত ১১টার পরে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা ও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথন শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে হয়েছে মধ্যরাত। পরিবারের সঙ্গে খানিক সময় কাটিয়ে বিছানায় যেতে গভীর রাত।

    সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরেই প্রিয় মোটরবাইকে সরাসরি চলে গেলেন রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে। উদ্দেশ্য প্রিয় ছোট ভাই ও দলের চালিকাশক্তি সাকিব আল হাসানকে একনজর দেখা ও তার বর্তমান অবস্থার খোঁজ-খবর নেয়া।

    বেলা ১১টা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটান প্রিয় ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। এ সময় সাকিবের সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু খান নয়ন নিশ্চিত করেছেন মাশরাফি-সাকিবের কথোপকথনের পুরোটাজুড়েই ছিল এশিয়া কাপ ফাইনাল। দুজনই আফসোস-অনুশোচনায় পুড়েছেন শিরোপা জিততে না পারায়।

    দুজনের আলাপে সাকিবের খেলতে না পারার কথা উঠে এসেছে বারবার। সাকিব থাকলে কখন কী করতেন, কোন সময়ে সাকিবের বোলিংটা বেশি দরকার ছিল, অমন উড়ন্ত সূচনার পরে ওয়ানডাউনে সাকিবকে পেলে ইনিংসের চালচিত্র ভিন্ন হতে পারতো- এমন আফসোসমাখা কথাবার্তাই মাশরাফির মুখে ছিল বেশি।

    সাকিবের সেই বন্ধু আরও জানিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজও আজ সকালে সাকিবকে দেখতে এসেছিলেন। মজার ঘটনা হলো আগের রাতে প্রথমবারের মতো পিতা হওয়া ডান হাতি পেসার তাসকিন আহমেদ এসেছিলেন নিজের টেনশন দূর করতে, প্রিয় বড় ভাইয়ের সঙ্গে খানিক আড্ডা দিতে।

    এদিকে মাশরাফি আসার আগে রোববার সাকিবের খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনিও আধ ঘণ্টা কাটান সাকিবের সঙ্গে। সাকিবের বাঁ-হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের সর্বশেষ অবস্থা কি তা নিয়েও কথা বলেন পাপন।

    সাকিবের বন্ধু নয়ন জানিয়েছেন, আজ সকালে ডাক্তার যখন রাউন্ডে আসেন তখন সাকিব ঘুমাচ্ছিলেন। তাই দুপুরের পরে আবার ডাক্তার আসবেন, দেখে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত দেবেন। আঙুলে জমে যাওয়া পুঁজ নিষ্কাশনের পর ঘা শুকাতে অ্যান্টিবায়োটিক চলছে। চিকিৎসকরা মনে করলে আজই সাকিবকে ছুটি দিতে পারেন।

    তারপর বাসায় চিকিৎসা চলবে। আঙুলের ইনফেকশন পুরোপুরি না সারা পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য সাকিবের দেশের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার মানে ইনফেকশন মুক্ত হওয়ার অপেক্ষা আগে। তারপর মূল চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া।

    কোথায় হবে সাকিবের আঙুলের উন্নত চিকিৎসা? প্রথমে শোনা যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কথা। তবে এখন অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের কথাও শোনা যাচ্ছে। মাশরাফিসহ বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের হাত ও পায়ের ইনজুরির চিকিৎসা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ইয়াংয়ের কাছে। সাকিবের চিকিৎসাও অস্ট্রেলিয়ায় হতে পারে।

    এদিকে নিজের কব্জির চিকিৎসা করাতে ইংল্যান্ড যাওয়া তামিম মুঠোফোনে সাকিবের সাথে কথা বলেছেন। জানা গেছে, তামিম ইংল্যান্ডে চিকিৎসা বিষয়ে সাকিবকে ধারণা দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সাকিব নিজেই ঠিক করবেন তার পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে। তবে এজন্য কদিন অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে সবাইকে।

  • ডা. সুসানে গীতি দেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল

    ডা. সুসানে গীতি দেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নারী মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ডা. সুসানে গীতি।

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক রোববার সেনা সদরদফতরে তাকে মেজর জেনারেল পদবির র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সুসানে গীতির স্বামী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুল্লাহ মো. হোসেন সাদ (অবসরপ্রাপ্ত) একজন সফল সামরিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন।

    মেজর জেনারেল সুসানে গীতি ১৯৮৫ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী ডাক্তার হিসেবে ক্যাপ্টেন পদবিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম নারী হিসেবে হেমাটোলজি’তে এফসিপিএস ডিগ্রী অর্জন করেন।

    এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন এবং বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সূত্র : আইএসপিআর।

  • মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ সুন্দরীদের ফাইনাল রাউন্ড শুরু

    মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ সুন্দরীদের ফাইনাল রাউন্ড শুরু

    কে হবেন এবারের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ? তাকে দেখার অপেক্ষায় সারাদেশ। অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। জমকালো আয়োজনে রোববার সন্ধ্যায় পর্দা উঠলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮ প্রতিযোগিতার।

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নারী জাগরণী গানে। ‘জাগো জাগো’ শিরোনামে গানটির মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের ৩ নম্বর হলের মঞ্চে এ গানের সঙ্গে নাচে অংশ নাচ পরিবেশন করেন গেল বছরের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার চার সুন্দরী মিফতা, প্রিয়াংকা, মেহবুবা অনী ও সঞ্চিতা।

    চারজনই সেরাদশের তালিকায় ছিলেন। ইভান সোহাগের কোরিওগ্রাফিতে আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সুন্দরী বাছাইয়ের মঞ্চে নাচ নিয়ে হাজির হন তারা।

    miss-world2

    এবারের আসরে মূল বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, মডেল ও অভিনেত্রী তারিন, মডেল ও অভিনেতা খালেদ সুজন, মডেল ইমি, ব্যারিস্টার ফারাবী। গ্রান্ড ফাইনালের আইকন বিচারক হিসেবে থাকছেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদস এবং আনিসুল ইসলাম হিরু। তারাই ঘোষণা করবেন বিজয়ীর নাম।

    এবারের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রেজেন্ট করছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। পাওয়ারড বাই স্পন্সর প্রেমস কালেকশন এবং কো পাওয়ার্ড বাই স্টেপ ফুটওয়্যার। ব্রডকাস্টিং পার্টনার এটিএন বাংলা, টিভি নিউজ পার্টনার একাত্তর টিভি, অনলাইন নিউজ পার্টনার,রয়্যাল প্যারাডাইস হোটেল।

    ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার রাজদর্শন হল থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সমপ্রচার করছে এটিএন বাংলা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার দায়িত্বে আছেন ডিজে সনিকা ও আরজে নীরব।

    প্রসঙ্গত, ফাইনালে চূড়ান্ত বিজয়ী ৭ ডিসেম্বর চীনে মূল পর্বে যোগদানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

  • বড় সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ২৮ শতাংশ ব্যাংক

    বড় সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ২৮ শতাংশ ব্যাংক

    বিশ্বব্যাপী দিন দিন বাড়ছে আইটি ঝুঁকি। হ্যাকাররা সব সময় সাইবার হামলার জন্য প্রস্তুত। এরপরও বড় সাইবার হামলা মোকাবেলায় দেশের ২৮ শতাংশ ব্যাংকের প্রস্তুতি নেই। ফলে যে কোনো সময় এসব ব্যাংকে হতে পারে সাইবার হামলা।

    রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ‘আইটি সিকিউরিটি অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ : থ্রেটস অ্যান্ড প্রিপেয়ার্ডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ২৮ শতাংশ ব্যাংকে বড় সাইবার হামলা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেই। আর আংশিক প্রস্তুতি রয়েছে ৩৪ শতাংশ ব্যাংকের। তবে যে কোনো ধরনের সাইবার হামলা মোকাবেলায় প্রস্তুত ৩৮ শতাংশ ব্যাংক।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান আলম। গবেষণা দলে ছিলেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. শিহাব উদ্দিন খান, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক কানিজ রাব্বী, বিআইবিএমের প্রভাষক মো. ফয়সাল হাসান, ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব টেকনোলজি শ্যামল বিদাশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফভিপি) মো. সাইফুল ইসলাম।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের মুজাফফর আহমেদ, চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব-উল- আলম, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসির কান্ট্রি ম্যানেজার ভরুনা প্রিয়াশান্ত কলামুনা, মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিউল্লাহ আজম, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঈনুদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলী প্রমুখ।

    bmm

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী।

    গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০টি জালিয়াতির ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে ঘটেছে। এর পরেই রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। প্রায় ২৫ শতাংশ ঘটনা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘটেছে। প্রায় ১৫ শতাংশ এসিপিএস ও ইএফটির মাধ্যমে জালিয়াতি ঘটছে ব্যাংকিং খাতে। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১২ শতাংশ, ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারে তিন শতাংশ, সুইফট এবং অন্যান্য মাধ্যম দিয়ে ঘটছে দুই শতাংশ জালিয়াতি ঘটছে।

    সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, বিশ্বব্যাপী দিন দিন আইটি ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতও এর বাইরে নেই। এ খাতের ওপর যেসব আক্রমণ হচ্ছে তা জটিল। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে আলাদা গাইড লাইন তৈরি করেছে। এগুলো সঠিকভাবে পালন করলে ঝুঁকি কমবে।

    অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, আইটি খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকারদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। কারণ এ খাতটি অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ইসলামী ব্যাংকের মাহবুব-উল- আলম বলেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনা চলতে থাকবে তবে আমাদের মোকাবেলার প্রস্তুতি কতটুকু তা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে আইটি জ্ঞান স্পষ্ট থাকা জরুরি।

    কমার্শিয়াল ব্যাংকের কান্ট্রি ম্যানেজার ভরুনা প্রিয়াশান্ত কলামুনা বলেন, হ্যাকাররা সব সময় সাইবার অ্যাটাকের জন্য প্রস্তুত। ব্যাংকিং খাত এ ঝুঁকির বাইরে নেই। ব্যাংকের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে নিজেদেরই উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    মধুমতি ব্যাংকের এমডি সফিউল্লাহ আজম বলেন, ব্যাংকিং খাত এখনও আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের নজরে আসেনি। তবে অর্থনীতি বড় হলে হ্যাকিং বেড়ে যাবে। এজন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

    অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল বলেন, ব্যাংক খাতে কর্মী নিয়োগের সময় আইটিতে জ্ঞান আছে কি-না তা যাচাই করতে হবে। ব্যাংক কর্মীদের আইটি খাতে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান না থকলে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়।

    পূবালী ব্যাংকের সাবেক এমডি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, আইটি খাতে ব্যাংকগুলো বাজেট বাড়াতে আগ্রহ দেখায় না। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে বুঝিয়ে আইটি খাতে বাজেট বাড়াতে হবে। এতে ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদার হবে।

  • জনসভায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে: কাদের

    জনসভায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ায়দুল কাদের বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে নেতিবাচক রাজনীতির কারণে দলটির জনপ্রিয়তা কমে গেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের সমাবেশেও এর চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি হয়।

    রবিবার আওয়ামী লীগে ধানমন্ডির কার্যালয়ের দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের তিনি একথা বলেন।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে আওয়ামী লীগ তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। কিন্তু জ্বালা-পোড়াওয়ের পথ বেছে নিয়ে প্রশাসনকে দিয়ে যা যা করা দরকার তার সব করা হবে।

  • রাহুল গান্ধীর প্রেমে হাবুডুবু খেতেন কারিনা!

    রাহুল গান্ধীর প্রেমে হাবুডুবু খেতেন কারিনা!

    শাহিদ কাপুরের সঙ্গে কারিনার প্রেম ও পরে বিচ্ছেদ, সাইফ আলি খানের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে। এসব ঘটনার কথা প্রায় কমবেশি সকলেরই জানা। তবে আরও একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন যার প্রেমে কাপুর কন্যা নাকি এক সময় হাবুডুবু খেতেন!

    উনি হলেন ভারতের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। হ্যাঁ খবরটা কিন্তু এক্কেবারে খাঁটি। এক সময় রাহুল গান্ধীকে ভীষণ পছন্দ ছিল কারিনার। তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ডেটে যাওয়ারও স্বপ্ন দেখতেন।

    সাংবাদিক রশিদ কিদওয়াই এর লেখা ‘নেতা অভিনেতা’ নামে একটি বইতে উঠে এসেছে অভিনেতা, অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে নানান তথ্য। সেখান থেকেই উঠে এসেছে যে কারিনা কাপুর নাকি রাহুল গান্ধীকে এক সময় ভীষণ পছন্দ করতেন। তবে একথা শুধু রশিদ কিদওয়াইয়ের লেখা বইতেই নয়, ২০০২ সালে সিমি গারেওয়ালের একটি শোতে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ডেটে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন কারিনা। যদিও বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনও রকম বিতর্ক তৈরি না হয় সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন কাপুর কন্যা।

    তবে অবশ্য শুধু কারিনা নন, রাহুল গান্ধীও নাকি কারিনার সব ছবির ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো দেখতে যেতেন। একথাও প্রকাশ্যে এনেছেন সাংবাদিক রশিদ কিদওয়াই। যদিও পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে যখন সাংবাদিকরা তার রাহুল গান্ধীকে পছন্দ করার প্রসঙ্গ তোলেন, তখন অবশ্য কারিনা তার বয়ান বদলে ফেলেন।

    কারিনা বলেন, ও অনেক পুরনো কথা, এই কাপুর ও গান্ধী দুই পরিবারই এদেশে ভীষণ বিখ্যাত তাই বলেছিলাম। যে উনার সঙ্গে একবার দেখা করে কথা বলতে চাই, তবে আমি উনার সঙ্গে ডেট করতে কখনওই চাইনি।

    তবে এখানেই শেষ নয় সাংবাদিক রশিদ কিদওয়াই তার বই ‘নেতা অভিনেতা: বলিউড স্টার পাওয়ার ইন পলিটিক্স’-এ লিখেছেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহেরু ও অভিনেতা পৃথ্বিরাজ কাপুরের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। ফলে ইন্দিরাও ছিলেন কাপুর পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

    দুই পরিবারের বন্ধুত্বকে আত্মীয়তার রূপ দিতে চেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সেজন্য রাজ কাপুরের মেয়ে ঋতুর সঙ্গে রাজীব গান্ধীর বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে বলিউডের প্রতি বিশেষ কোনও আকর্ষণ থেকে তিনি এই চেষ্টা করেছিলেন তেমনটা নয়। কাপুর পরিবারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই এমনটা চেয়েছিলেন তিনি।