Author: banglarmukh official

  • বরিশালে সংবাদকর্মিকে খুনের হুমকি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

    বরিশালে সংবাদকর্মিকে খুনের হুমকি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

    স্টাপ রির্পোটার।।

    সাংবাদকর্মীকে খুন জখমের হুমকি দেয়ায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন সাংবাদিক আল আমিন গাজী।

    যাহার জিডি নং ১৫৬৪। তিনি ওই ডায়েরিতে উল্লেখ করেন- রাজ্জাক স্মৃতি কলোনীতে ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক লোক মারা গেছেন। সেই খবর পেয়ে সংবাদকর্মী আল আমিন গাজীর মামা মোশারফ সরদার সেখানে ছুটে যান। তখন পূর্বের শত্রুতার জের ধরে কাউন্সিলর জয়নালের ছেলে অলিউর ও এনাউল তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে থেকে আল আমিন গাজী ছুটে গিয়ে তার মামাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

    তখন কলোনীর গেটের সামনে কাউন্সিলর জয়নালের নেতৃত্বে তার ছেলে অলিউর, এনাউল, তার ভাই নুরুলজ্জামান, আয়নালের স্ত্রী নুরুনাহার ওরফে জিরা, রাজুসহ একাধিক সন্ত্রাসী সাংবাদকর্মীকে মারধর করার জন্য ধাওয়া করে। এমনকি ওই সময় তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করেন জয়নালসহ তার পরিবার।

    অবশ্য এই সংবাদকর্মী আল আমিন এর আগেও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলর জয়নালের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বরং থানা পুলিশের বেশ কয়েকজন এসআই মর্যদার অফিসার তার পাশে থেকে সাহস শক্তি যোগাচ্ছেন। সেই শেল্টারের কারণেই কাউন্সিলর জয়নাল কেডিসিতে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।

    পাশাপাশি শহরের বান্দরোড এলাকার তার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘আজ’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে দেহব্যবসাও চলছে।মুলত কাউন্সিলরের এই অনৈতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত কোন খবর প্রকাশ পেলেই তিনি সংবাদকর্মী হয়রানির মাত্রা বাড়িয়ে দেন।’সাধারণ ডায়েরিটি তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসঅাই) নিজাম বলেন- কাউন্সিলর জয়নালের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীর করা একটি সাধারণ ডায়েরি তিনি তদন্ত করছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নাট্যাঙ্গনের জন্য কাজ করতে চাই’

    সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নাট্যাঙ্গনের জন্য কাজ করতে চাই’

    ছোটপর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু। যার হাত ধরে ধারাবাহিক নাটকে অন্য এক মাত্রা যোগ হয়েছিল। তিনি নির্মাণ করেছেন ‘গহর গাঁছি’ ‘রঙের মানুষ’, ‘ব্যস্ত ডাক্তার’, ‘কাছের মানুষ’, ‘ভবের হাট’র মতো জনপ্রিয় সব নাটক।। গ্রামীণ সমাজের পটভূমি নিয়ে নাটক নির্মাণ করে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা এই নির্মাতার জীবনে যোগ হল নতুন পালক। ছোট পর্দার নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

    ২০১৮-২০২০ মেয়াদের এ নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হলেন এস এ হক অলিক। সভাপতি পদে লাভলু ২৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কাছের মানুষদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি।

    নির্বাচনের ফল জানার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বললেন, ‘নির্মাতা ভাইদের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে সভাপতি নির্বাচন করেছেন। আমি চাই সবসময় এভাবে পাশে থাকবেন। আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নাট্যাঙ্গনের জন্য কাজ করতে চাই। আমরা সব নির্মাতারা একসঙ্গে আমাদের যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারি খুব সহজেই। আশা করছি নতুন দিনগুলো অনেক ভালো হবে, সম্ভাবনার হবে।’

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি)-এর পরিচালক সমিতি কক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৪৯০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৫৬। কাটছেঁড়া বাদ দিয়ে ভোট গণনা করে তার ফল প্রকাশ হয়েছে আজ শনিবার বেলা ৩টায়।

  • আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে! বুঝবেন কীভাবে?

    আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে! বুঝবেন কীভাবে?

    শুক্রবার রাতে হ্যাক হয়েছে পাঁচ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য। রীতিমত প্রশ্নের মুখে পড়ে ফেসবুকের নিরাপত্তা। ফেসবুক এখন প্রায় প্রত্যেকের মোবাইলে। তাই, আপনিও হ্যাকের কবলে পড়ে থাকতেই পারেন।

    আর এটি একটি বিশাল মাপের হ্যাকিং হয়েছে, যার ফলে ফেসবুকে দেওয়া সব তথ্য কেউ হাতিয়ে নিয়ে থাকতে পারে। সে ছবি হোক, বা চ্যাটবক্সের কথোপকথন। সবটাই হ্যাকারদের হাতে চলে গেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু, কীভাবে জানবেন, আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

    ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আপনার অ্যাকাউন্ট যদি হ্যাক হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আপনাকে নোটিফিকেশন দিয়ে জানানো হবে। নিউজ ফিডের উপরের দিকেই আসবে সেই নোটিফিকেশন।

    তারা জানিয়েছে, বিষয়টি সামনে এসেছে গত মঙ্গলবার। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে ফেসবুকের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য তদন্তও শুরু করা হয়।

    ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের view as অপশন থেকেই হ্যাকাররা তথ্য চুরি করেছে। একই ভাবে ওই অপশন থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের অপব্যবহারও করা হয়েছে।

    ফেসবুকের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান গে রসন জানিয়েছেন, অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যা হয়েছে তার জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থী। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি লগ আউট করে ফের লগ ইন করা উচিত।

    এর আগেও ফেসবুকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তার পর ফের একই ঘটনা ঘটল। এবার কীভাবে এতো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেল সেই প্রশ্নই উঠছে।

    পরবর্তীকালে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কিনা, তা জানার জন্য একটি অপশন আপনি অ্যাকটিভ করে রাখতে পারেন। তাহলে সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্ট কেউ হ্যাক করার চেষ্টা করছে কিনা। তার জন্য কী করতে হবে?

    Step 1: Go to Account Settings and Enable Notifications

    ফেসবুকে লগ ইন করে ডানদিকের উপরের কোনে ‘Account’ বলে একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করে একটি মেনু খুলে যাবে। সেখানে ‘Account Settings’ অপশনে ক্লিক করুন। এরপর একটি পেজ খুলে যাবে সেখানে ‘Name,’ ‘Password,’ ‘Linked Accounts’-এর মত অপশন থাকবে। এরপর ‘change’ অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে দুটি অপশন দেখাবে। ‘Yes’ বাটনটা অ্যাকটিভ করুন।

    Step 2: Log In and Register Your Computer

    এরপর আপনাকে একবার ফেসবুক লগ আউট করে আবার লগ ইন করতে হবে। লগ ইন করলে দেখাবে ‘Register this computer.’ সেখানে এমন কিছু একটা নাম দিন যেটা আপনি মনে রাখতে পারবেন। এরপর আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে অন্য মেশিন থেকে লগ ইন করা হলে আপনি নোটিফিকেশন চান কিনা। সেখানে ‘Yes’ অপশনটি অ্যাকটিভ করুন।

    এরপর থেকে আপনি জানতে পারবেন যে আপনার অ্যাকাউন্ট কেউ হ্যাক করেছে কিনা।

  • সাকিব-তামিমহীন লড়াকু বাংলাদেশকে দেখে মুগ্ধ রোডস

    সাকিব-তামিমহীন লড়াকু বাংলাদেশকে দেখে মুগ্ধ রোডস

    ইনজুরি জর্জরিত বাংলাদেশ দল। এরপরও যেভাবে এশিয়া কাপে লড়াই করেছে তা দেখে সন্তষ্টু বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস।

    এশিয়া কাপের মিশন শেষ করে দুবাই থেকে দেশে ফেরার সময় দল নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান তিনি।

    এশিয়া কাপে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে শুরু করার পর আফগানিস্তান, পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। সেখানে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ে শেষ বলে হারতে হয় মাশরাফিদের।

    ফাইনালে ওঠার যাত্রায় তামিম ইকবাল প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়েন। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর অলিখিত সেমিফাইনালের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাকিবও ইনজুরির কারণে ছিটকে যান। ইনজুরি ছিল মুশফিক, মাশরাফিরও। তবু তারা খেলা চালিয়ে যান।

    এই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে দলের এমন পারফর্ম্যান্সে খুশি রোডস। বলেছেন, আসছে দুটি হোম সিরিজে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় তার দল।

  • পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ দেখবে?

    পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ দেখবে?

    মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, আমি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নই। কিন্তু পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে বসে বসে একটি হত্যাযজ্ঞ দেখবে এবং কিছুই করবে না?

    শুক্রবার জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির এসব কথা বলেন।

    মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, দেশগুলো স্বাধীন। কিন্তু তার মানে কি এই যে, নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে!

    মাহাথির মোহাম্মদ আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশটিতে প্রাণহানি, বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়া এবং নিজ দেশের মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দেশটির নেত্রী অং সান সু চি এসব অস্বীকার করছেন।

    তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ১০ লাখ শরণার্থী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গভীর সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। বেঁচে থাকা লোকজনের খাবার, পানি ও স্যানিটেশনের সুবিধাবিহীন অস্থায়ী শিবিরে কোনো রকম ঠাঁই হয়েছে। তারপরও সু চিসহ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এসব অস্বীকার করছে।

    ১৫ বছর পর জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে মাহাথির রোহিঙ্গা ইস্যু, ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, বিশ্বায়ন, বাণিজ্য যুদ্ধ, মালয়েশিয়ার অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় জাতিসংঘের মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জনে তার দেশের পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

  • ‘নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে’

    ‘নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে’

    চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সব দলকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে কমিশন আর কোনো উদ্যোগ নেবে না। কেননা এর আগেও সব দলের সঙ্গে সভা করে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে আমরা আশা করছি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে। সবার অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

    শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের লাভ লেনের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

    একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সব নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এসময় চট্টগ্রামের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আ ন ম মুনির হোসাইন খানসহ উপজেলার নির্বাচনী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাচনের ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর বাকি কাজ শেষ করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর সিইসিসহ সব কমিশনাররা দেশের প্রতিটি বিভাগ সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। দেবেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও। প্রতি বিভাগে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে করা হবে সমন্বয় সভাও। এখনো পর্যন্ত নির্বাচনে কোনো ধরণের ঝুঁকি কমিশন দেখছেন না। তবে ঝুঁকি মোকাবেলার সব ধরণের প্রস্তুতি কমিশনের আছে।’

    ইসি সচিবের সঙ্গে চার কমিশনারের মতবিরোধ বিষয়ক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব এবং বাকি চার নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।’ ইসি সচিব জানান, সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার ১৯৯টির সবগুলোতে ট্যাব (ট্যাবলেট পিসি) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরাসরি ফল পাঠানো যায় কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রাইমারি, এমপিওভুক্ত ও সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা কাজ করবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারাও। যাচাই-বাছাই করেই এদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আ ন ম মুনির হোসাইন খান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন খুব ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্র থেকে ফলাফল যাতে সরাসরি কমিশনে পাঠানো যায় সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।’ সভায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে মিলেমিশে পরিচালনা করার নির্দেশনা দেন হেলালুদ্দিন আহমদ।

  • ইন্দোনেশিয়া যেন মৃত্যু উপত্যকা, নিহতের সংখ্যা ৪০০

    ইন্দোনেশিয়া যেন মৃত্যু উপত্যকা, নিহতের সংখ্যা ৪০০

    ভূমিকম্প ও সুনামিতে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪শ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপে ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। সুনামির ফলে সৃষ্ট ছয় থেকে সাত ফুট উঁচু ঢেউ সুলাওয়েসির পালু শহরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

    ভূমিকম্পে একটি মসজিদসহ বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সুনামির বেশ কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত লোকজন ভয়ে চিৎকার করে কাঁদছে, কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় পালিয়ে যাচ্ছে। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকবার পরাঘাতের (আফটার শক) কারণে ক্রমাগত কাঁপছে সুলাওয়েসি শহর। কয়েকশ বাড়ি, হাসপাতাল এবং শপিং সেন্টার ধ্বংস হয়ে গেছে।

    সুনামির পর ইতোমধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার কারণে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে।

    পালুর প্রধান সড়কগুলো ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ ধসে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ৫৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

    sunami

    গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার লম্বোক দ্বীপে কয়েক দফা ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে গত ৫ অাগস্টের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লম্বোক দ্বীপেই ৪৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পে প্রায় ৪শ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    sunami

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মুখপাত্র সুতোপো পুরও নুগরোহো বলেন, আমরা সঠিক তথ্য জানতে পারছি না কারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সুনামিতে ভেসে যাওয়া অনেক মরদেহ সমুদ্রের তীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। তাছাড়া হতাহতের কারণ ভূমিকম্প নাকি সুনামি তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পালু এবং এর কাছাকাছি অবস্থিত ডংগালা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পালু শহরে তিন লাখের বেশি এবং দুই শহর মিলিয়ে ৬ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ইতোমধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, শহরের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে।

    শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২ মিনিটে পালু সুলাবেসির ৭৮ কিলোমিটার উত্তরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাতত্ত্বিক জরিপ জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সতর্কতা তুলে নেয়া হয়।

    sunami

    প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শনিবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সুনামি আঘাত হানার পর পালুর প্রধান বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানী জাকার্তা থেকে কার্গো বিমানে করে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে সেনাবাহিনী।

  • ‘বাঘ মারতে যামু, আমি আর মামু’

    ‘বাঘ মারতে যামু, আমি আর মামু’

    জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। প্রবীণ এই দুই নেতার ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘এদের কাণ্ড-কীর্তন দেইখ্যা আমার আজম খানের একটা গান মনে হইছে। ‘বাঘ মারতে যামু, বাঘ মারতে যামু-বন্দুক লইয়্যা রেডি হইলাম আমি আর মামু’ এই তিন নেতা বাঘ মারতে রেডি অইছে।’’

    শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচার ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে’ কর্মী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

    মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের জন্য তারা আবার ষড়যন্ত্রের পথে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বানচালের জন্য তারা আবার মাঠে নেমেছেন। ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচন হবে, ৫ বছর আগের নির্বাচন ঠেকাইতে পারেন নাই। এখনও পারবেন না, এই নির্বাচন হবেই। নির্বাচনে জনগণকে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাপাইয়া পড়ব। বাঘ মারার ডর দেখাইয়্যা কোনো লাভ নাই, ওইটা বাঘ না ফেউ মারছেন। ওই ফেউতে বাংলার মানুষ ডরায় না। ওই ফেউয়ের পেছনে বাংলার মানুষ নাই।’

    জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সভা হয়েছিল, সেখানে কাকে দেখলাম কামাল হোসেন। আপনাদের মনে আছে, গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের প্রার্থী ছিল জেনারেল ওসমানী। জেনারেল ওসমানীর ফাইনাল প্রজেকশন মিটিং ছিল এই পল্টনে। সেই দিন কামাল হোসেন আগের রাতে ভাগাতালি হয়ে গেছেন। টাটা-বাই-বাই উনি আর নাই। এই হলো ইলেকশনের আগে উনি ভাগা তালি হন।’

    ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে মতিয়া বলেন, ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কথা আমরা সবাই জানি। তিনি আবার মাঠে নেমেছেন, কখন নেমেছেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ওনাকে দেখা যায়নি। ১/১১-এর সময় যখন স্বৈরাচার ছিল তখন তাকে দেখা যায়নি। আজকে তিনি এসেছেন গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন।

    আপনি ইলেকশনের আগের দিন পলায়া যান, আপনারে খুইজ্জা পাওন যায় না, লোড় পাড়েন। আর আপনি আসছেন গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য? এই কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমির-উল- ইসলামের বইতে লেখা আছে। ২৫ মার্চ রাতে তাজউদ্দীনকে সাহেবকে বললেন, আমি এখানে একটু নামি পরে দেখা হবে। পরে আর জিন্দিগিতে দেখা হয় নাই। টিক্কা খানের বাড়িতে গিয়া উঠছেন।’

    সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বি. চৌধুরী সাহেব। বি. চৌধুরী সাহেব কে? আমার কথা না, জিয়াউর রহমান সাহেব মারা যাওয়ার পরে আপনারা তখনকার কাগজ খুইল্যা দেইখেন কী হেডিং ছিল। ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট বাবার বুক ঝাঁঝড়া করে দিল, তুমি কোথায় লুকিয়ে ছিলে বদু কাকা?-এটা হলো তারেক রহমানের বিলাপ। ভুলে যায় নাই বাংলার মানুষ।’

    বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তারপর আরেক সিন-সিনারি। সেইটা কি? তিনিও লোড় পাইড়্যা, দৌড় পাইড়্যা সেই রেললাইন ধইর্যা তারেকের ধাওয়া খাইয়া দৌড় পাড়ছেন।

    এখন শখ জাগছেন উনি আবার কিছু একটা হবেন। এই জন্য দুই পলায়নপর নেতা, আরেক পলাতক নেতা তারেক রহমান। টাকা পাচারের দায়ে শাস্তি হইছে-এই তিন নেতার ঐক্য হইছে। সেই ঐক্য দিয়া তারা নাকি বাংলাদেশকে উদ্ধার করবে। নির্বাচন বানচাল করবে। গণতন্ত্রের নামে এই দেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করবে।’

    ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এ কর্মী সমাবেশ সঞ্চালন করেন ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ।

    সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।

  • তিন বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা ১৪ দলের

    তিন বিভাগে সমাবেশের ঘোষণা ১৪ দলের

    রাজশাহী, নাটোর ও খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

    শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দল আয়োজিত কর্মী সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

    তিনি জানান, ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোর ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় ১৪ দল বিভাগীয় সমাবেশ করবে। তারপর নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে।

    তিনি বলেন, ওরা বলেছে অক্টোবর থেকে মাঠে থাকবে। অক্টোবর তোমাদের জীবনে আসবে না। ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠ গরম করব।

    মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওরা চেয়েছিল আজকের এই সমাবেশ ভণ্ডুল করার জন্য, বানচাল কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রান্ত করেছিল যেন মহানগর নাট্যমঞ্চে আমরা সমাবেশ করতে না পারি। আমরা হলাম বাঘের বাচ্চা। আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের কর্মীরা বাঘের বাচ্চা। যত বাধা দিবে আমরা তত বেশি অগ্রসর হবো। আজকে কর্মী সভা নয়, জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, চক্রান্ত শুরু হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে। এখন ১৪ দলের কর্মীদের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কর্মীদের ঘরে বসে থাকার সময় এখন আর নাই। ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এটা ২০১৪ সাল নয়, ১৮ সাল। তোমাদের মরণকাল এ বছরই হবে। বিএনপি-জামায়াত লোক ভাড়া করছে। পরিত্যক্ত, পলায়নকারীদের ভাড়া করছো। যাদের নীতি নাই, ঠিকানা নাই। পলায়ন করতে অভ্যস্ত, ওই নেতাদের ভাড়া করছে। খেলার মাঠে খেলোয়াড় ভাড়া করা যায়। রাজনীতি মাঠে নেতা ভাড়া করা হয় এটা প্রথম দেখলাম। ভাড়াটিয়া দিয়ে জয় করতে পারবে না। ভাড়াটিয়া দিয়ে কাজ হয় না। একজন বিদেশে বসে আর দুইজন দেশে বসে চক্রান্ত করছে।

    জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সাবধান থাকবেন। শেখ হাসিনা ও আমরা যখন ডাক দিব তখন কেউ ঘরে বসে থাকবেন না, ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন। ১৪ সালে জ্বালাও-পোড়াও করছে এবার হবে না। আমাদের ঐক্য দরকার। মাত্র কয়দিনের নোটিশে আপনারা আজকে এখানে এসেছেন। গণতন্ত্রের বিকল্প হচ্ছে গণতন্ত্র। কোনো অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় আনার চক্রান্ত করছেন, যারা চক্রান্ত করছেন তাদের কালো হাত ভেঙে দেয়া হবে। বিএনপি-জামায়াতকে কোনো ছাড় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে, নির্বাচনের ফলাফল যা হবে আমরা মেনে নিব।

    ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশ সঞ্চালন করেন ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ।

    সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।

  • “মসজিদে কুবা” দুনিয়ায় ফজিলতপূর্ণ চারটি মসজিদের একটি

    “মসজিদে কুবা” দুনিয়ায় ফজিলতপূর্ণ চারটি মসজিদের একটি

    মসজিদে কুবা বা কুবা মসজিদ (আরবি:مسجد قباء)  সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ। হিজরতের পর মুহাম্মদ (সা.) এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এখানে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। মসজিদটি মদিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর দূরত্ব মসজিদে নববী থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মতো।

    রাসুল (সঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর এটাই প্রথম মসজিদ, এমনকি ইসলামের এবং উম্মতে মোহাম্মদির প্রথম মসজিদ। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার সম্মান ও ফজিলত। এ মসজিদের আলোচনা কোরআনে করা হয়েছে এবং মসজিদ সংলগ্ন অধিবাসীদের একটি বিশেষ গুণের প্রশংসা করা হয়েছে।

    মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়ে অত্যাধিক ফজিলত রয়েছে। মসজিদে কুবায় নামাজের ফজিলতের কথা অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন- হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অশ্বারোহণ করে কিংবা হেঁটে মসজিদে কুবায় আগমন করতেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন।

    অন্য এক হাদিসে রয়েছে, প্রতি শনিবারে রাসুল সা. কুবায় আগমন করতেন। (বুখারি-মুসলিম)। আরেক হাদিসে বর্ণিত আছে, মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার সওয়াব একটি ওমরাহর সমপরিমাণ। (তিরমিজি) রাসুল সা. আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নাত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে একটি ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। (ইবনে মাজাহ) তাই তো রাসুল সা. এর যুগ থেকেই প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার জন্য গমন করা মদিনাবাসীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানেও তাদের এই আমল অব্যাহত রয়েছে।

    হজরত মোহাম্মদ (সা.) পবিত্র রবিউল আওয়াল মাসের প্রথম দিন আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে হিজরত করেন। আর এ হিজরতের মধ্য দিয়ে মদিনা শহরকে কেন্দ্র করে ইসলাম ও কোরআনের বাণী বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। রাসূলের (সা.) হিজরতের পর সাহাবীরাও পর্যায়ক্রমে মদিনা গমন করেন। হজরত মোহাম্মদ (সা.) নিজ হাতে কুবা মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মূলত তারই তত্ত্বাবধানে মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। হজরত মোহাম্মদ (সা.) বেশ কয়েকরাত এই মসজিদে অবস্থান করেন এবং কসর নামায আদায় করেন।

    ‘কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে যে বসতি গড়ে উঠেছে তাকে কুবা মহল্লা বলা হয়। এই যোগসূত্রে মসজিদটির নামকরণ হয় মসজিদে কুবা। নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ মসজিদের  ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন।

    মসজিদে কুবা শুরু থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করা হয়। নবীর আমলের পর ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ( রা.) তার খেলাফতকালে মসজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কয়েকবার এই মসজিদের পুনর্নিমাণ ও সংস্কার করা হয়। সবশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নিমাণ করা হয়। এই মসজিদ নির্মাণে পুরো মসজিদে এক ধরনের সাদাপাথর ব্যবহার করা হয়, যা অন্যকোনো মসজিদে সাধারণত দেখা যায় না।

    চারটি উঁচু মিনার, ছাদে ১টি বড় গম্বুজ এবং ৫টি অপেক্ষাকৃত ছোটো গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। মসজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজের জায়গা ও প্রবেশ পথ আলাদা। অজুর জায়গাও ভিন্ন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদের ভেতরের কারুকাজও বেশ মনোমুগ্ধকর। মূল মসজিদ ভবনের মাঝে একটি খালি জায়গা আছে, সেখানেও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। দামি কারপেট বিছানো মেঝেতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, রয়েছে জমজম পানির ব্যবস্থা।