Category: অপরাধ

  • ইরানে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প

    ইরানে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প

    মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে ইরানে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে অবশ্য মত পাল্টে ফেলেন তিনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পাই ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান। এর প্রতিশোধ নিতেই ইরানে পাল্টা হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও হামলার আগেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। ফলে দু’দেশের মধ্যে বড় ধরনের কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

    বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ট্রাম্প। ইরানে হামলা চালানো হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন সামরিক এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তারা।

    প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমদিকে ইরানের রাডার ও মিসাইল ব্যাটারি লক্ষ্য করে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। তবে পরে আবার নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

    হামলার লক্ষ্যে আকাশে বিমানের অবস্থান এবং জাহাজগুলোও নির্দিষ্ট অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী নির্দেশনার কারণে কোন মিসাইলই উৎক্ষেপণ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইরানে হামলা চালানোর পক্ষেই ছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা এ ব্যাপারে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত হামলা থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    তবে ইরানে হামলার বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুহমোবারাক জেলার কাছে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের সাথে সাথেই একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

    মনুষ্যবিহীন আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক ড্রোন ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় অনেক বেশি উচ্চতায় উড়তে পারে। এটি অনেক বড় এলাকায় যে কোন আবহাওয়াতেই সেখানকার স্পষ্ট ছবি ধারণ করতে পারে। সে কারণেই গুপ্তচরের কাজে ওই ড্রোনটিকে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এটি ইরানে প্রবেশের আগেই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তা ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

    ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান একটি মারাত্মক ভুল করেছে বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার মার্কিন গ্লোবাল হক মডেলের একটি স্পাই ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান। ইরানের হরমুজগান প্রদেশের আকাশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি ভূপাতিত করে দেশটির এলিট রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)।

  • রাতারাতি সব দুর্নীতি-অনিয়ম থামাতে পারব না : গণপূর্তমন্ত্রী

    রাতারাতি সব দুর্নীতি-অনিয়ম থামাতে পারব না : গণপূর্তমন্ত্রী

    গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, রাজউকের কোন অথরাইজ অফিসার কাজ করছে না, কোন ইন্সপেক্টর অনিয়ম করছে এটা যেমন আমার দেখার দায়িত্ব, ঠিক তেমনি যে বিল্ডিংয়ে অনিয়ম করছে, যেসব সুবিধা থাকার কথা কিন্তু নেই, নাগরিক হিসেবে সেই বিষয়ে সচেতন হওয়ার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের। রাতারাতি সব অনিয়ম দূর করতে পারব না, তবে আমরা চেষ্টা করছি।

    শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন ঢাকায় যারা যেমন ইচ্ছে বিল্ডিং করেছেন। যেসব বিল্ডিং একেবারেই নিয়ম মেনে করা হয়নি সেসব বিল্ডিং আমরা ভেঙে দেব। যেগুলো মোটামুটি অনিয়ম হয়েছে, যেগুলো আধুনিক ইমারত প্রযুক্তিতে টিকিটে রাখা যায় সে ব্যবস্থা করা হবে। আর যেগুলো একেবারেই নিয়ম মেনে করা হয়নি সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী উল্লেখ করে সিলগালা করে বেব।

    তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন লাগতো, সে কারণে সাধারণ মানুষকে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হতো। আমরা উদ্যোগ নিয়ে ১২টি বাদ দিয়েছি। আমরা আইন করে দিয়েছি ৫৩ দিনের মধ্যে প্ল্যান অনুমোদন হতে হবে, ভূমির ছাড়পত্র ৭ দিনের মধ্যে। জনগণের সেবার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

    রেজাউল করিম বলেন, একটি বাড়িকেও আমরা আইনের বাইরে রাখতে চাইনা। হয়তো রাতারাতি পারব না, কারণ রাজউকের পরিসর অনেক বড়। পুরান ঢাকায় ৫০০ বছরের পুরনো বিল্ডিং আছে। এখন যদি চাই আজকে গিয়েই ভেঙে ফেলব, তাহলে তা সম্ভব না।

    তবে এগুলোকে রিডেভলপমেন্ট করে বসবাস উপযোগী করতে চাই। সেজন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে বলেছি। কেউ দেড় কাঠা জমির ওপর ছয়তলা বিল্ডিং করেছে। আমরা বলেছি, আপনাদের সবাইকে নিয়ে প্রতিটি এলাকায় পরিবেশবান্ধব বসবাস উপযোগী বিল্ডিং করে দেব। প্রাপ্য অনুযায়ী আপনারা ফ্ল্যাট পাবেন। অনেকেই সম্মতি দিয়েছে, হয়তো একটু সময় লাগবে বলে জানান মন্ত্রী।

    গণমাধ্যেমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে যে অনিয়ম দেখবেন তা তুলে ধরবেন। তাহলে সমস্যা চিহ্নিত করতে আমাদের সুবিধা হয়। আমার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি যে, কোনো গণমাধ্যমে কোনো অনিয়মের নিউজ হলেই সেটা আমার কাছে উপস্থাপন করতে। সেটা ধরেই আমরা তদন্ত করব।

    এ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১২টি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। রাতারাতি সব দুর্নীতি-অনিয়ম থামাতে পারব না। শতভাগের মধ্যে যদি ৫০ শতাংশ দূর করতে পারি, তাহলে আমি ভাববো কিছুটা তো করতে পেরেছি।

    ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খানের সঞ্চালনায় মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠিত হয়।

  • মঠবাড়িয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত, মা-মেয়েকে মারধর

    মঠবাড়িয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত, মা-মেয়েকে মারধর

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা পরাজিত নৌকা সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা থামছেই না। নির্বাচন পরবর্তী গত তিন দিনে পৌরশহর ও উপজেলার ১১ ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় পরাজিত নৌকা প্রার্থীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপরসহ তাদের বসত বাড়িতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    আজ শুক্রবার সকালে নৌকা প্রার্থী হোসাইন মোশারফ সাকুর সমর্থক উপজেলার মিরুখালীর কাটাখালী গ্রামের কৃষক হাসান (৪৫) ঘর থেকে মাঠে কৃষি কাজে যাবার পথে বিজয়ী চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিনের সমর্থক নবী হোসেন, বাদশা ও শাজাহান দলবল নিয়ে হামলা করে আহত করে। এ সময় তার ছোট ভাই নির্মাণ শ্রমিক নুর মোহাম্মদ (৩৫) বড় ভাইকে বাচাতে এলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে। আহত দুই ভাইকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

    অপর দিকে আজ শুক্রবার সকালে নৌকার কর্মী মিরুখালী বাজারের ফল ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফার ছোটহারজী গ্রামে তার বাড়িতে না পেয়ে বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী রাজু, জসিম ও হানিফসহ দলবলসহ মোস্তফার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৫) ও কলেজ পড়–য়া মেয়ে নাদিরা (১৮) কে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে আহত করে। আহত মা-মেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত মা-মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, ওই হামলা কারীরা মিরুখালী বাজারে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট করে বন্ধ করে দেয়। তারা আরও বলেন মোস্তফা নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকে হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

    এছাড়া গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রাজারহাট গ্রামে নৌকা সমর্থক নারী ইউপি সদস্য খাদিজা ইলিয়াস এর বসত ঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ওই দিন রাতে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক দাউদখালী ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি রজলুর রহমান সরদারসহ ১৪ জনকে আসামী করে। পুলিশ এজাহার নামীয় আসামী ইদ্রিসকে গ্রেফতার করে ।

    এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ছোট শিংগা গ্রামে গভীর রাতে শংকর হালদার, চিত্তরঞ্জন গাইন, চঞ্চল গাইন, বিশ্বজিৎ গাইন, অমৃত গাইন, স্বপন মিস্ত্রি, পারুলসহ এক সাথে ৭ টি কুটারকুট (খড়ের) গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছে উপজেলা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে ব্যাক্তিগত শত্রুতা মিটানোর জন্য এ হামলা করছে।

    উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস অভিযোগ করেন, নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা অগনিত নেতা কর্মীর ওপর হামলা করছে। তিনি আরও বলেন, নৌকার কর্মীর বসত ঘরেও হামলার ঘটনা ঘটছে। এমনকি সংখ্যালঘুরা হামলার শিকার হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

    বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মা-মেয়ের ওপর হামলার ঘটনাটি আমার জানা নেই। নির্বাচন পূর্বে হামলার জের ধরে দু‘একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। যা আমি কঠোর হস্তে দমন করার চেষ্টা করছি।
    মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আব্দুল্লাহ বলেন,নির্বচনী পরবর্তী সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মা-মেয়ের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির মুক্তির দাবিতে রাব্বানীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

    জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির মুক্তির দাবিতে রাব্বানীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

    ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম চৌধুরী পাপনকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তির দাবি করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। গতকাল রাতে তার ফেসবুক হ্যান্ডেলে পাপনের মুক্তির দাবিতে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন।

    তার স্ট্যাটাসটি দি বাংলাদেশ টুডে অনলাইনের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো-

    “গতকাল রাতে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পাপন সহসা ফোন করে অঝোরে কান্না করছিলো। কি হইছে জিজ্ঞেস করতেই ধরা গলায় জানালো, মিথ্যা সাজানো অভিযোগে তাকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমি সদরের ওসিকে ফোন করে কারণ জিজ্ঞেস করলাম, ওসি বললো… ভাই বোঝেনই তো, ইন্সট্রাকশন আছে। আমার কিছু করার নেই, আপনি লিডারের সাথে কথা বলেন, পাপনকে থানায় বসিয়ে রেখেছি, সকালে ছেড়ে দেবো।

    গত রাতে, আজ সকালে অনেকবার ফোন করেও লিডারকে পেলাম না। ওসিও আর ফোন ধরলেন না। পাপনকে চাদাঁবাজি আর ছিনতাইয়ের মিথ্যা মামলা সাজিয়ে কোর্টে চালান করে দেয়া হয়েছে।

    এভাবেই লোকাল গ্রুপিং রাজনীতির নির্মম বলি হয় ছাত্রলীগের নিরীহ কর্মীরা। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! আর ‘উলুখাগড়া’ হিসেবে ছাত্রলীগের চেয়ে বেটার অপশন আর কি হতে পারে

    অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করছে, বললাম নাহ! একজন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আমি নিদারুণ ব্যথিত ও বিব্রত!!

    অনতিবিলম্বে পাপনের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আর বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা দায়ের করা অফিসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।”

    উল্লেখ্য যে, বুধবার (১৯ জুন) ভোরে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম চৌধুরী পাপনকে (২৯) ভোলার  কলেজ রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছগির মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, একটি চাঁদাবাজির মামলায় পাপনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    তবে পাপনের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। তারই জেরে গভীর রাতে পুলিশ তাকে আটক করেছে

  • নগর ভবনের কৌশলে বেকায়দায় বরিশালের ভিআইপিরা, দিনে লাখ লাখ টাকার গৃহকর আদায়

    নগর ভবনের কৌশলে বেকায়দায় বরিশালের ভিআইপিরা, দিনে লাখ লাখ টাকার গৃহকর আদায়

    বরিশাল নগরীর ১৭৯ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ২ কোটি টাকার গৃহকর বকেয়া। এদের মধ্যে আছেন জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। বকেয়া আদায়ে তাদের বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পড়ে থাকা এই বিপুল অর্থ আদায়ে শেষ পর্যন্ত ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। এসব ব্যক্তির বাড়ির সামনে বারবার মাইকিং করে বকেয়া পরিশোধের লাগাতার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন এরই মধ্যে কর পরিশোধের জন্য যোগাযোগ করেছেন।

    করপোরেশনের কর আদায় শাখার তথ্যমতে, নগরীতে মোট গৃহকরধারী ৫১ হাজার ৯৮০ জন। তাদের মধ্যে ১০৫২ জন আছেন যাদের কাছে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহকর বকেয়া পড়েছে। এদের মধ্যে ১৭৯ ব্যক্তির কাছেই বকেয়া পড়েছে ১ কোটি ৮৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৬৮ টাকা। এই ১৭৯ জনকে তালিকাভুক্ত করে তাদের বাড়ির সামনে মাইকে বকেয়া পরিশোধের লাগাতার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    বিসিসির কর কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী বাবলু জানান, গৃহকর বকেয়ার তালিকায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নগরীর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও সাবেক কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম গুলজারের কাছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন জুয়েলের কাছে ৭৯ হাজার টাকা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান শাহিনের কাছে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা, সাবেক কাউন্সিলর শহীদুল আলম নাসিরের কাছে ৬৫ হাজার টাকা, সাবেক কমিশনার মোফাজ্জেল আলী খান মন্টুর কাছে ৮৪ হাজার ২৪০ টাকা, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি জহির উদ্দিন মো. বাবরের কাছে ৮৪ হাজার ৬০০ টাকা, নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের জাগুয়ায় প্রাণ গ্রুপের সেলস ডিপোর কাছে ১৬ লাখ টাকা, এপেক্স হোমিওপ্যাথিক কলেজের কাছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বরিশাল মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে ৮৭ হাজার টাকা ও হাটখোলার ব্যবসায়ী হুমায়ূন হাওলাদার এন্টারপ্রাইজের কাছে ৫৬ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলু বলেন, অনেক বছর ধরে ১৭৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গৃহকর দিচ্ছেন না।

    এ জন্য একাধিকবার নোটিশ এমনকি মালপত্র ক্রোকের নোটিশও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের মাল ক্রোক করা হয়নি। তবে গত রোববার থেকে বাড়ির সামনে মাইকে বারবার তাদের নাম ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর পরও বকেয়া পরিশোধ না হলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাল ক্রোক করা হবে। এদিকে বাড়ির সামনে মাইকে বকেয়ার তাগাদা দেওয়ায় সামাজিক লজ্জায় পড়ে কয়েকজন ইতিমধ্যে বিসিসিতে যোগাযোগ করেছেন বলে কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    কেউ কেউ এভাবে হেনস্তা করায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। বকেয়া তালিকায় থাকাদের অন্যতম বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আমাদের ফান্ড না থাকায় কর দিতে পারছি না। চেম্বারের নিজস্ব আয়ের উৎস নেই। কর কমানোর জন্য মেয়রের কাছে আবেদন করা হবে। আবেদন মঞ্জুর না হলে চেম্বার সদস্যরা চাঁদা তুলে গৃহকর পরিশোধ করবেন।

  • পিওন সামলায় বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, চলে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ

    পিওন সামলায় বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, চলে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ

    ‘জসিম মিয়া ফাইল দাও। লগে ৪শ টাহাও দাও। আচ্ছা তোমারে না কাইল কইলাম নথিগুলা দিয়া আইতে। টাকা নিয়া চিন্তা করো ক্যা মিয়া; টাকা দিবে ভদ্দরলোকেরা।’ কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তার চেয়ারে বসা জাহাঙ্গীর হোসেন। সামনে দাঁড়ানো একলোক একটি ফাইল এগিয়ে দিলো। সাথে ৪০০ টাকা। তার পিছনে দাঁড়ানো ষাটোর্ধ জনৈক লোক ফাইলের সাথে সাথে ‘জসিম মিয়া’কে ঠেলে সামনে এসে দাঁড়ায়। জাহাঙ্গীর হোসেন হাতের তলায় রাখা রেজিস্টার খাতা খুলে সাক্ষর ও টিপসই রাখেন।

    জাহাঙ্গীর হোসেন যে চেয়ারে বসা তার ঠিক বিপরীতে এজলাসের চেয়ারে বসা বরিশাল সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টার রফিকুল ইসলাম। তিনি মন দিয়ে তার কাজ করছেন। ১৯ জুন দুপুর দুইটায় এমন দৃশ্য ছিল বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের। কথা হয়, জসিম মিয়ার সাথে। তিনি লেনদেনকৃত টাকার বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন। শেষে জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কথাছলেই বলেন, রেজিস্ট্র অফিস এখন আগের মত নাই। এখন পিওনও মেট্রিক পাস। আগে অনুমতি নেন। পরে কথা। জানতে চাওয়া হয়, সে কোন পদে চাকরী করেন-জবাবে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি এমএলএসএস।

    গল্পের মত মনে হলেও এমন দৃশ্য স্বাভাবিক বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্র অফিসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অফিসের বড় বড় কাজ অনায়াসে সমাধান করে ফেলেন এমএলএসএস জাহাঙ্গীর হোসেন। আর তাই তার চেয়ারখানাও সাব-রেজিস্ট্রারের সামনাসামনি। জংাহাঙ্গীর হোসেনের দুইপাশে দু’জন নকলনবিশ বসে খোশ-গল্পে মশগুল। শুধুমাত্র গতকালের চিত্র এটি নয়; প্রত্যেকদিনের চিত্র এমন। রেজিস্ট্রি অফিসে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সদরের ভূমি সংক্রান্ত নথিপত্রের অধিকাংশ কাজ করে থাকেন জাহাঙ্গীর হোসেন।

    তার জন্য অনেক সহজে সেবাও পেয়ে থাকেন লোকজন। বিনিময়ে দিতে হয় নগদ টাকা। বিষয়টি অস্বীকার করেননি জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, মানুষের কাজ করে দেই। খুশি হয়ে যা দেয় তাতেই আমি খুশি। কিন্তু একজন এমএলএসএস হয়ে অফিসের নথিপত্রের কাজ করার দায়িত্ব কি আপনার-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বলেন, স্যার (সদর সাব-রেজিস্ট্রার) আমারে এইখানে কাজ করতে বলছে। আমি করি। কাজের বিনিময়ে যে ঘুষ নিচ্ছেন সেটাও কি সাবরেজিস্ট্রার নিতে বলছেন?-এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর হোসেন চেয়ার ছেড়ে উঠে যান।

    পরক্ষণেই দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন এসে ঘিরে ধরেন প্রতিবেদককে। বাবুল হোসেন জানতে চান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাংবাদিকদের কোন কাজ নেই। বেড়িয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয় সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলামের সাথে।

    তিনি জানান, কাজের চাপ বেশি হওয়ায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে ওই চেয়ারে বসে কাজ করতে বলা হয়েছে। ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে কোন কথা না বললেও এই কর্মকর্তা জানান, প্রত্যেক অফিসেই ‘টুকটাক’ নিয়মের বাইরে কাজ হয়। তাই বলে আপনারা যে নেগেটিভ নিউজ করবেন-এটা ঠিক না। এদিকে বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে আসা যুবকরা এজলাস কক্ষেই উত্তেজিত হয়ে হৈচৈ শুরু করলে সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম চেয়ার ছেড়ে উঠে যান।

  • বরিশালে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাসেল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

    বরিশালে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাসেল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

     বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী অসংখ্য মামলার আসামী রাসেল হাওলাদার পুলিশী খাঁচায় বন্দী হয়েছে। দেশীয় অস্ত্রসহ বুধবার ভোর রাতে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কাউনিয়া থানা পুলিশ।

    এলাকাবাসীর অন্তহীন অভিযোগ থাকলেও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছিল না। সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষ। তবে আবার অজানা আতঙ্কেও ভুগছে। জামিনে বের হয়ে ফের স্বরূপে ফিরে আসার আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে জনমনে।

    দেশীয় অস্ত্রসহ রাসেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মধ্য চরবাড়িয়ার মো: তোফায়েল হাওলাদারের কুলাঙ্গার পুত্র মো: রাসেল হাওলাদার এলাকায় গড়ে তুলেছে এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী। এরা এলাকায় মাদক বাণিজ্য, অস্ত্র ব্যবসা, দখল সন্ত্রাস, ভাড়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপকর্মে জড়িত। অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদারের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছিল না। এর আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে এলাকার সাধারন জনগণ অভিযোগও দিয়েছেন। এরপরও দীর্ঘ সময়ে এলাকায় অব্যাহত অপকর্ম চালিয়ে আসছিলো। কোনভাবেই বন্ধ করা যায়নি মাদক ব্যবসা। মাদক বাণিজ্যের কারণে পরিবেশ ক্রমেই নষ্টের দিকে ধাবিত হয়। বেশ কয়েকবার মাদকসহ গ্রেপ্তারও হয় রাসেল হাওলাদার। কিন্তু তাকে বেশিদিন কারাগারে আটকে রাখা যায়নি। জামিনে বের হয়ে ফের শুরু করে মাদক বাণিজ্যসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এলাকায় শিশু কিশোরদেরও মাদক ব্যবসায়ে জড়িয়ে ফেলে। এরফলে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে।

    স্থানীয়রা জানান- মাদক ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদারের অপকর্মের অন্যতম সহযোগী শাহীন খান ও বুলেট খান। এই রাসেলসহ অন্যান্য অপরাধী আটক হলে পরবর্তীতে তাদের ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করে আশ্রয় প্রশয়দাতা শাহীন খান ও বুলেট খান। এরা এলাকায় জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী- এলাকার পরিবেশ রক্ষার্থে এই সকল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হোক।

  • মঠবাড়িয়ায় বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় যুবলীগ নেতা আহত, আটক ১১

    মঠবাড়িয়ায় বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় যুবলীগ নেতা আহত, আটক ১১

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের সমথর্কদের হামলায় লাবলু তালুকদার নামে এক যুবলীগ নেতা মারাত্মক আহত হয়েছে। তাকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতলে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১১ কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করেছে।

    আজ বুধবার বিকেল ৩ টার দিকে মঠবাড়িয়ার তুষখালী লঞ্চ ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় লাবলু তার স্ত্রীকে নিয়ে লঞ্চযোগে ঢাকা যাচ্ছিল। আহত লাবলু তালুকদার উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদ নিবাচনে আওয়ামী লীগ মানোনীত প্রার্থী হোমাঈন মোশারেফ সাকু’র সমর্থক।

    পিরোজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক লাবলু তালুকদার বুধবার তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য তুষখালী লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে ওঠে। একই লঞ্চে নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ওঠে ঢাকা যাওয়ার জন্য। এ সময় তারা লাবলুকে মারধর করে। এতে লাবলুর মাথা ফেটে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    মঠবাড়িয়া থানার ওসি সৈয়দ মো. আবদুল্লাহ জানান, তুষখালী লঞ্চঘাটে এক যুবলীগ নেতাকে মারধরের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদেরকে নিয়ে পুলিশ এখনও থানায় পৌঁছেনি।

  • ভান্ডারিয়ায় কলেজ ছাত্রর ছুরির আঘাতে অটোরিক্সা চালক খুন

    ভান্ডারিয়ায় কলেজ ছাত্রর ছুরির আঘাতে অটোরিক্সা চালক খুন

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এক কলেজ পড়ুয়া যুবকের ছুরিকাঘাতে ফাইজুল হাওলাদার (৪০) নামের এক অটোরিক্সা চালক নিহত হয়েছে। সে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মধ্য চড়াইল গ্রামের মৃত নূর আলম হাওলাদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী সোহান জানায়, আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পার্শবর্তী ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার বলতলা গ্রামের মোবারক সরদারের ছেলে কলেজ পড়–য়া আরিফ সরদার ও নাঈম সরদার এর সাথে স্থানীয় বশারের বিল নামক স্থানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফাইজুলের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

    এক পর্যায়ে আরিফ তার সাথে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ফাইজুলের উরুতে আঘাত করে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভা-ারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রঞ্জন কুমার বর্মন তাকে মৃত ঘোষণা করে।

    এদিকে স্বামী খুন হওয়ায় ভান্ডারিয়া হাসপাতালে স্ত্রী ফারাজানা বেগম নির্বাক প্রায়। ঘটনা স্থল পরিদর্শণ করেন পিরোজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঠবাড়িয়া সার্কেল মো. হাসান মোস্তফা স্বপন।

    এবিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার অফিসার্স ইন চার্জ (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে আরিফের চাকুর আঘাতে খুন হয় ফাইজুল। ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্র¯ু‘তি চলছে।

  • সন্ধা নদীতে বালু উত্তোলন অব্যাহত

    সন্ধা নদীতে বালু উত্তোলন অব্যাহত

    আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বাবুগঞ্জের সন্ধা নদীতে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন একটি চক্র। উচ্চ আদালতের আদেশ বহাল রেখে স্থিতাবস্থা জারী করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট। বাবুগঞ্জের লামচার ঘোষকাঠীর সন্ধা নদী সীমায় নদীর তলদেশ কেটে বালু উত্তোলনের স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে চেম্বার কোর্ট। বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর, পাঠাগার বসত বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপণা নদীগর্ভে বিলীন ঠেকাতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে গত ২৩ মে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন বাবুগঞ্জের পশ্চিম ভূতেরদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল কাদের মাল এবং আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করেন আনইজীবি অ্যাডভোকেট মোসাদ্দেক বিল্লাহ্।

    ফলে বাবুগঞ্জ উপজেলার সন্ধ্যা নদী থেকে বালু উত্তোলন অনুমোদনের কার্যকরিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। বিপরীতে সরকারপক্ষ ও সততা ট্রেডার্স রীটের স্থগিতাদেশ এর বিরুদ্ধে সি এম পি ফাইল করে উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। ১৮ জুন মঙ্গলবার ঐ বালু মহল মামলার আপীল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি হয়। আপীল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে চেম্বার কোর্ট আপীল আবেদন মঞ্জুর করেননি (হাইকোর্ট এর আদেশ স্থগিত করেনি) এবং চেম্বার কোর্ট ‘স্টাটাস কো’ (স্থিতাবস্থা) এর আদেশ দিয়েছেন।

    অর্থাৎ ওই এলাকায় কোন পক্ষ কোন রকম কার্য পরিচালনা করতে পারবেন না। এব্যপারে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পক্ষ বালু উত্তোলন করলে তা হবে আদালত অবমাননার শামিল। শুধু তাই নয়, প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আদালতের নজরে এনে আদালত অবমাননার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে দুপুর ১২টায় সরেজমিনে যান পুলিশ প্রশাসন। এসময় বালু ইত্তোলনকারিরা ওই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পুলিশ চলে আসার পর পক্ষদ্বয় পুনঃরায় বালু উত্তোলন শুরু করেন। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত হাওলাদার বলেন, আদালতের আদেশ নামা হাতে পেলে তিনি কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।