Category: অর্থনীতি

  • সেপ্টেম্বরে কমেছে মূল্যস্ফীতি, বেড়েছে মজুরি

    সেপ্টেম্বরে কমেছে মূল্যস্ফীতি, বেড়েছে মজুরি

    বাজারে জিনিসপত্রের দাম না কমলেও দেশে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী। গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    এ সময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

    বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কঞ্জুমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

    এদিকে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ০১ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ২০ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে দেশের মজুরি হার। এর হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০১ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এক্ষেত্রে কৃষিতে মজুরি হার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা তার আগে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। শিল্পে সেপ্টেম্বর মাসে মজুরি হার বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সেবা খাতে মজুরি হার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

  • সেপ্টেম্বরে এলো সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

    সেপ্টেম্বরে এলো সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

    চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ হাজার ৮৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২২ কোটি ১৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৮ কোটি ২ লাখ ডলার।

    আগের বছরের (২০২৩ সাল) সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৩৩ কোটি ডলার। আর চলতি বছরের (২০২৪ সাল) সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১০৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এই সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬৫ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬২ লাখ ১০ হাজার ডলার।

    এর আগে গত জুন মাসে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল প্রায় ১৯১ কোটি মার্কিন ডলার। যা গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল।

  • বাংলাদেশকে ২ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

    বাংলাদেশকে ২ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

    অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

    মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আশ্বাস দেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক।

    আবদুলায়ে সেক বলেন, সরকারের সংস্কার, বন্যার প্রতিক্রিয়া, উন্নত বায়ুর গুণমান এবং স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্বব্যাংক এই অর্থ বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থায়ন জোগাড় করতে পারে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এবং যতটা সম্ভব আপনাকে সমর্থন করতে চাই। ব্যাংকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রয়োজনে সহায়তা করবে।

    এর আগে আর্থিক খাত সংস্কারে প্রায় একশ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রায় একশ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়ে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়েছে সরকার। দুই কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার করে এই অর্থ চেয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

    এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি হেডকে বলেন, বিশ্বব্যাংককে অবশ্যই বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমে নমনীয়তা রাখতে হবে এবং ১৫ বছরের চরম দুর্ব্যবস্থাপনার পর একটি নতুন যাত্রা শুরু করতে সহায়তা করতে হবে। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে আমাদের নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আমি প্রস্তাব করব, আমাদের সাহায্য করুন।

    বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া কোটি কোটি ডলার পুনরুদ্ধারে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের কাছে চুরি করা সম্পদ ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশকে শূন্য দুর্নীতি সমৃদ্ধ একটি দেশ গড়তে বিশ্বব্যাংকের দক্ষতা প্রয়োজন হবে।

    এ সময় পাচার অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর। তিনি বলেন, আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পেরে আনন্দিত। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে তথ্যের স্বচ্ছতা, তথ্যের সঠিকতা, কর সংগ্রহের ডিজিটালাইজেশন এবং আর্থিক খাতের সংস্কারে সহায়তা করতে চায়।

    এদিকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ১০০ কোটি ইউরো (প্রতি ইউরো ১৩৩ টাকা করে হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় ১৩ হাজার ৩০৩ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা) সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    রিজওয়ানা হাসান জানান, আগামী ১০ বছরে এই সহায়তা দেবে জার্মানি। এর মধ্যে চলতি বছরই বাংলাদেশ পাবে দেড় কোটি ইউরো। বেসরকারি খাত, গবেষণা ইনস্টিটিউট, একাডেমিয়া ও সুশীল সমাজের মতো সশ্লিষ্টদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রচারে একমত হয়েছে দুই দেশ।

  • ১৪ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৪ হাজার কোটি টাকা

    ১৪ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৪ হাজার কোটি টাকা

    রেমিট্যান্স প্রবাহে আগস্টের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে সেপ্টেম্বরেও। উপরন্তু গত মাসের চেয়েও এ মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বাড়তে পারে। চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিনে) প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১১৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২০ টাকা হিসাবে) ১৪ হাজার ৬ কোটি টাকার বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের প্রথম ১৪ দিনে ১১৬ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ১৪ হাজার ৬ কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আর প্রতিদিন আসছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার করে। রেমিট্যান্স প্রবাহের এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে আড়াই বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসতে পারে।

    সেপ্টেম্বরের ১৪ দিনে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসের (সেপ্টেম্বর) শুরু থেকেই রেমিট্যান্স আসার গতি ভালো রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাসটিতে আড়াই বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসবে। বৈধপথে রেমিট্যান্স আসার পেছনে সচেতনতা কাজ করছে। আবার বৈধপথে ডলারের দরবৃদ্ধিতে হুন্ডি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন প্রবাসীরা। এতে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি।

    দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। বছরভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২০-২১ অর্থবছরে। ওই অর্থবছর মোট রেমিট্যান্স আসে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। চলতি বছরের জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ২৫৪ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসের পুরো সময়ে দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স এসেছে ২২২ কোটি (২ দশমিক ২২ বিলিয়ন) ডলার, যা তার আগের বছরের (আগস্ট-২০২৩) একই সময়ের চেয়ে ৬২ কোটি ডলার বেশি। গত বছরের আগস্ট মাসে এসেছিল প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

    চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১৯০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৪ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে মে মাসে আসে ২২৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ, মার্চে ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ এবং জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১১ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার।

  • কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমল ১৫ টাকা

    কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমল ১৫ টাকা

    প্রতি টন পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য ৫৫০ ডলারের যে শর্ত তা প্রত্যাহার করেছে ভারত। পাশাপাশি রপ্তানির ওপর আরোপ করা ৪০ শতাংশ শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। শুক্রবার দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড শর্ত বাতিলের এই আদেশ জারি করেছে। এতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন যেকোনো দামে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন। শনিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    এদিকে এমন খবরে শনিবার দেশের খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমেছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে দাম আরও কমবে বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ভারত একসময় পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে চলতি বছরের মে মাসে রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য ৫৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়। এছাড়া দেশটির সরকার রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

    এদিকে ভারতের এমন সিদ্ধান্তের খবরে দেশে প্রত্যেকটি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর খুচরা বাজারেও। এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজেরে দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা একদিন আগেও শুক্রবার ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আগের মতো ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর সর্ব বৃহৎ পাইকারি আড়ৎ শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ী শংকর চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে রপ্তানিমূল্য ৫৫০ ডলারের যে শর্ত ছিল তা প্রত্যাহারের খবর আমরা পেয়েছি। পাশাপাশি শুল্ক কমানোর খবরও আমরা পেয়েছি। এখন দেখার বিষয় দেশটির ব্যবসায়ীরা প্রতি টন কত টাকায় আমাদের কাছে রপ্তানিমূল্য দেয়। সব বিবেচনায় আমরা সাড়া দেব। তবে ইতোমধ্যে এই খবরে দেশে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। আর কম দামের পেঁয়াজ দেশের বাজারে আসতে শুরু করলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে দাম আরও কমতে থাকবে। অন্যদিকে শনিবার হিলির স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের আমদানি করা নাসিক ও ইন্দোর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৪-৮৬ টাকা। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা। যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজ রপ্তানিকারী দেশ। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতীয় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হয় ভারতীয় পেঁয়াজ। গত বছরের ডিসেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দামে ধস নামে। তবে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ে দাম। যার প্রভার বাংলাদেশের বাজারেও পড়ে। সে সময় থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম।

  • দেউলিয়া হওয়ার পথে ১০ ব্যাংক: গভর্নর

    দেউলিয়া হওয়ার পথে ১০ ব্যাংক: গভর্নর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, কমপক্ষে ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার মতো খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। তবে সরকার এসব ব্যাংক বাঁচানোর চেষ্টা করছে।Advertisement

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন গভর্নর।

    তিনি বলেন, আমরা আশা করি না কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হবে, তবে এটাও ঠিক অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে আছে। ১০টার মতো ব্যাংকের অবস্থা এমন। সরকার এসব ব্যাংক বাঁচানোর চেষ্টা করছে। গভর্নর ১০ ব্যাংকের কথা বললেও সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি।

    ব্যাংক খাতের অবস্থা যাই হোক গ্রাহকদের কোনো ক্ষতি হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য আমানত ইন্সুরেন্স ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। ব্যাংক খাতের ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের স্বার্থ নিশ্চিত হবে। বিশ্বের কোনো দেশই ব্যাংকিং খাতের আমানতের ১০০ ভাগ গ্যারান্টি দেয় না। আমরাও ৯৫ শতাংশ গ্যারান্টি দিচ্ছি।’

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলে, ‘সেটা এস আলমের হোক বা সালমান এফ রহমানের হোক। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়নি।’

    যদি কেউ এস আলমের সম্পত্তি কিনে তবে নিজ দায়িত্ব কিনবেন, তার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক নিবে না বলেও সতর্ক করেছেন গভর্নর। 

    তিনি বলেন, ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের বাইরে চলে গিয়েছিল, ৩০ হাজারের মতো ফিরে এসেছে।

  • আগস্টে কমল মূল্যস্ফীতি

    আগস্টে কমল মূল্যস্ফীতি

    সরকার পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে দেশের নিত্য পণ্যের দামে। ফলে আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা জুলাই মাসে ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা জুলাইতে ছিল ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। রোববার এসব তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

    সংস্থাটি বলছে, আগস্ট মাসে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১০ দশমিমক ৯৫ শতাংশ, যা জুলাইতে ছিল ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ১৪ দশমুক ০৬ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা জুলাইতে ছিল ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

    এদিকে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ০১ শতাংশে, যা জুলাই মাসে ছিল ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা জুলাইতে ছিল ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও কমে হয়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ,যা জুলাইতে ছিল ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বিবিএস এর হিসাব বলছে আগস্টে মজুরি হার কিছুটা বেড়েছে।

  • ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ২০ খেলাপির হাতে ৫০০০ কোটি টাকা

    ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মে গত ১৫ বছর ব্যাপক আলোচনায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বিশেষ করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির কারণে ২০১১ সালে প্রথম আলোচনায় আসে ব্যাংকটি। শুধু হলমার্ক নয়, টি এন্ড ব্রাদার্স, রূপসী, মডার্ন স্টিলসহ ২০ গ্রাহকের ৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।

    এক কথায় নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রাহকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের অর্থে গঠিত ব্যাংকটি। চলতি বছর ব্যাংকটিকে এসব গ্রাহক থেকে আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ৫ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশই দেওয়া হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে। এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে এর উল্লেখযোগ্য অংশ। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকা পড়েছে ৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এসব খেলাপি গ্রাহক থেকে ২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ বছরের পাঁচ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১১৪ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক ৯৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর ১২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এর বড় অংশই গেছে হাতেগোনা কয়েকজনের পকেটে। প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারায় সোনালী ব্যাংক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ব্যাংকটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ মে পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ খেলাপির তালিকায় আছে টি এন্ড ব্রাদার্স গ্রুপ। সোনালী ব্যাংকের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখায় এই গ্রাহকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯০ কোটি টাকা। বর্তমানে এই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন জিনাত ফাতেমা।

    একই শাখায় গ্রাহক হলমার্ক গ্রুপের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০-১২ সালের মধ্যে জালিয়াতি করে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছিল। এসংক্রান্ত মামলায় এখন কারাগারে আছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ।

    জানতে চাইলে হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শামিম আল মামুন বলেন, ‘হলমার্কের ঘটনা তো ১২-১৩ বছর হয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ করতে হলে চেয়ারম্যান ও এমডির কারামুক্তি প্রয়োজন। তারা মুক্ত হলে সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু আদালত কোনোভাবেই তাদের মুক্তি দিচ্ছেন না।’

    তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার গ্রাহক রূপসী গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ৪৬৫ কোটি টাকা। চতুর্থ অবস্থানে চট্টগ্রামের লালদিঘী করপোরেট শাখার গ্রাহক মডার্ন স্টিল মিলসের খেলাপি ৪৪৮ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রতনপুর গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠান শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ঋণখেলাপি। ট্রাস্ট ব্যাংকের এসংক্রান্ত এক মামলায় রতনপুর গ্রুপের মালিক মাকসুদুর রহমান ও তার দুই ছেলে মিজানুর রহমান এবং মারজানুর রহমানকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

    পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে তাইপেই বাংলা ফেব্রিক্স। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণ ৩৪৮ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে নেওয়া এই ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্যাস সমস্যা আর ক্রয়াদেশ না থাকায় ঋণটি খেলাপি হয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ঋণ পুনঃতপশিল করার চিন্তা আছে।’

    ষষ্ঠ অবস্থানে ফেয়ার ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩১৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালে খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন জসিম আহমেদ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

    এছাড়া নারায়ণগঞ্জ করপোরেট শাখার রহমান গ্রুপের ৩১৪ কোটি, লোকাল অফিসের অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০০ কোটি, একই শাখার মুন্নু ফেব্রিক্সের ২৫৫ কোটি, দিলকুশা করপোরেট শাখায় লীনা গ্রুপের ২১৫ কোটি, লালদিঘী করপোরেট শাখায় রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস ২১৪ কোটি, লোকাল অফিসে মাগুরা পেপার মিলসের ২০৩ কোটি, একই শাখার এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং ১৫৬ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টসের ১৫৫ কোটি, রেজা জুট ট্রেডিংয়ের ১৫১ কোটি, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ১৩১ কোটি, সোনালী জুট মিলস ১২৭ কোটি, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ১১৪ কোটি, সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটিংয়ের ১০৪ কোটি এবং শরীফ জুট ট্রেডিংয়ের ৯৩ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে।

  • আর কালোটাকা তৈরি করতে দেওয়া হবে না: অর্থ উপদেষ্টা

    আর কালোটাকা তৈরি করতে দেওয়া হবে না: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে আর কালোটাকা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশ থেকে বিদেশেও টাকা পাচার করতে দেওয়া হবে না। টাকা পাচার রোধ করার সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রোববার দুপুরে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়।

    অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছেন, উন্নয়নে আমাদের অগ্রাধিকার কী? জবাবে বলেছি, আর্থিক খাতের সংস্কার আমাদের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার। এ ছাড়া প্রবৃদ্ধিতে সমতাভিত্তিক টেকসই উন্নয়নও আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা নারীর বৈষম্যহীন উন্নয়নও চাই।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, আমাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থ দেবে।

    তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআরকে বলেছি, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য অন্যরা খাবারদাবার দিচ্ছে। ইউএনএইচসিআর যেন তাদের সে দেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।

    বিদেশি ঋণের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখন থেকে বেছে বেছে ঋণ নেব। এক বছরের প্রকল্প পাঁচ বছরে হবে কিংবা সেতু আছে রাস্তা নেই—এমন প্রকল্প আর হবে না। কারণ ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে।

    বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বৈষম্য উপেক্ষা করতে পারি না। এত দিন তারা চেপে ছিল, আগের সরকারের ধারেকাছে তারা যেতে পারেনি। আমরা এই বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করব।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় রদবদল, ৮৫ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

    বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় রদবদল, ৮৫ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

    ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের আর্থিকখাতকে ঠেলে সাজানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। গত তিন বছরের বেশি সময় একই বিভাগে দায়িত্বে থাকা ব্যাংকটির ২২ জন অতিরিক্ত পরিচালক (সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক) পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দপ্তর পরিবর্তন করা হয়েছে আরও ৬৩ জন যুগ্ম পরিচালকের। সব মিলিয়ে ৮৫ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ আলাদা আলাদা দুটি অভ্যন্তরীণ চিঠিতে এসব কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসে বদলি করেছে
    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকটিতে এতদিন বদলি নীতিমালা মানা হয়নি। বছরের পর বছর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা একই বিভাগে বহাল ছিলেন। একই সঙ্গে দুটি বিভাগেও দায়িত্ব পালন করছেন কেউ কেউ।

    তবে নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন বছরের বেশি সময় ধরে যারা একই বিভাগে ছিলেন, তাদের বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও বদলি করা হবে।

    জানা যায়, ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের ফিরোজ মাহমুদ ইসলামকে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ বদলি করা হয়। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (ডিভিশন-২) রাশিদা খানমকে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে (ডিভিশন-১), ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের (ডিভিশন-১) কাজী শৈবাল সিদ্দিকীকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (ডিভিশন-২), অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের (ডিভিশন-১) মোহাম্মদ আবদুল হাইকে ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগ-২, ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের আনোয়ার হোসেনকে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে (ডিভিশন-১) বদলি করা হয়।

    বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সৈয়দ কামরুল ইসলাম, জোবায়দা আফরোজ এবং মো. মাসুদ রানাকে যথাক্রমে ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে বদলি করা হয়।

    এছাড়া ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-২-এর মোহাম্মদ আরফান আলীকে অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টে (ডিভিশন-১), কমন সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট-১-এর মো. তারিকুল ইসলামকে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৭, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির আমাতুর রাব ও তাহমিদা জামানকে যথাক্রমে ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট ও ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে, হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-২-এর হাসনে আরা বেগমকে সচিব বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের (ডিভিশন-১) শাহ জিয়া-উল-হককে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টে, সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের রাবেয়া খন্দকারকে পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টে (ডিভিশন-১)।

    সচিব বিভাগের মো. কামরুজ্জামান কল্লোলকে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-২, হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-২-এর শেখ আহমেদ জামীকে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১, হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-২ এর আঞ্জুমান আরা বেগমকে কমন সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট-১, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৭-এর মোহাম্মদ উল্ল্যাহকে সদরঘাট অফিস, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের (ডিভিশন-১) সৈয়দ গোলাম শাহাজারুল ও ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৭-এর মো. রায়হানুল ইসলামকে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে বদলি করা হয়।

    এ ছাড়া মতিঝিল অফিসের রেজিয়া খাতুনকে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ডিপার্টমেন্টে বদলি করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২১২তম সভায় বদলি নীতিমালা পর্যালোচনা ও অনুমোদিত হয়। সভায় আন্তঃবিভাগীয় বদলির ক্ষেত্রে পরিদর্শন বিভাগে পাঁচ বছর ও অন্যান্য বিভাগে তিন বছর বদলি রাখার নীতিমালা অনুমোদিত হয়।