Category: আইটি টেক

  • বাবা দিবসে গুগলের ডুডল

    বাবা দিবসে গুগলের ডুডল

    বিশেষ দিন কিংবা বিশেষ মুহূর্তে ডুডলের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চইঞ্জিন গুগল। বিশ্ব বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানাতেও বরাবরের মতো শৈল্পিক ডুডল করেছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।

    রোববার (১৬ জুন) বিশ্ব বাবা দিবস। এ উপলক্ষে গুগলের ওয়েবসাইটে করা ডুডলের তিনটি আলাদা স্লাইডে দেখা যায়, একটি বাবা হাঁস তার ছয়টি বাচ্চা হাঁসকে নিয়ে খেলছে। এ সময় বাচ্চা হাঁসগুলোকে পানিতে সাঁতার কেটে ও বাবা হাঁসের গায়ে উঠে খেলতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে একজন বাবা যে তার সন্তানদের ভালোবাসে, তাদের সঙ্গে খেলার ছলে সময় কাটায়, আগলে রাখে এবং বাবার সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক- তাই বোঝানো হয়েছে।

    সাধারণত কোনো বিশেষ দিন, বিশেষ ঘটনা, অর্জন বা বিখ্যাত কোনো ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ করতে নিজেদের হোম পেজে লোগো পরিবর্তন করে গুগল। শিল্পসম্মত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আরেকটি লোগো বসানো হয় সেখানে। এটিই হলো ডুডল।

    জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৮৭টি দেশে বাবা দিবস পালন করা হয়। মূলত বাবাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এ বিশেষ দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

  • সহজেই ফেসবুক থেকে আয়ের সুযোগ

    সহজেই ফেসবুক থেকে আয়ের সুযোগ

    আপনি যদি অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে চান, তা হলে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক দিচ্ছে টাকা আয়ের সুযোগ।

    জানা গেছে, ফেসবুক এমন একটি নতুন অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে যার সাহায্যে ফেসবুক নিজের ইউজারদের টাকা দেবে। টাকার বদলে ইউজারকে নিজের তথ্য শেয়ার করতে হবে। এই নতুন অ্যাপটির নাম study।

    ফেসবুক জানিয়েছে, এই নতুন স্টাডি অ্যাপ আগের দুটি অ্যাপ থেকে আলাদা আর অ্যাপটি শুধুমাত্র ডাউনলোড করা যাবে গুগল প্লে স্টোর থেকে।

    এই অ্যাপের সাহায্যে ফেসবুক নিজের ইউহজারদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারবে। এই অ্যাপের সাহায্যে ফেসবুক জানতে পারবে যে, ইউজার আর কোন কোন অ্যাপ ব্যবহার করেছে আর অ্যাপে ইউজার কি কি করেছে। এর সঙ্গে ফেসবুক এটাও জানতে পারবে যে, কোন অ্যাপে ইউজার কত সময় কাটায়।

    তবে ফেসবুকের দাবি, ব্যবহারকারীর মেসেজ, পাসওয়ার্ড জানতে পারবে না এই অ্যাপ। এই অ্যাপ কিছু সময় পর পর জানিয়ে দেবে যে আপনার ডাটা সংগৃহিত করা হচ্ছে।

    স্টাডি’ অ্যাপটি কেবল প্রাপ্তবয়স্করা ফোনে ইনস্টল করতে পারবেন। কেউ ‘স্টাডি’ অ্যাপ থেকে টাকা আয় করতে চাইলে তাঁর পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

    অ্যাপ ইনস্টল করার সময় ব্যবহারকারীর ফোনের পর্দায় ভেসে উঠবে, ঠিক কী ধরনের তথ্য অ্যাপটি সংগ্রহ করবে। এ ছাড়া সংগ্রহ করা তথ্য কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সেটিও জানাবে ‘স্টাডি’ অ্যাপ।

    তবে এসব তথ্য জানতে ব্যবহারকারীকে কী পরিমাণ অর্থ দেবে কিংবা কী কাজে সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি ফেসবুক। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে অ্যাপটি চালু করছে ফেসবুক।

  • মুঠোফোনে ৫ টাকার বেশি ধার নয়

    মুঠোফোনে ৫ টাকার বেশি ধার নয়

    মুঠোফোনে কথা বলার জন্য এখন থেকে ৫ টাকার বেশি ধার বা ঋণ দিতে পারবে না মোবাইল ফোন অপারেটরেরা। এখন কোনো কোনো অপারেটর ২০০ টাকা পর্যন্ত ধার দেয়। এতে একটি লাগাম টানল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

    টেলিযোগাযোগ সেবার ওপর বিটিআরসি আয়োজিত এক গণশুনানিতে এক গ্রাহকের অভিযোগের পর বিটিআরসি এ তথ্য জানায়। আজ বুধবার রাজধানী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রাহকের অজান্তে টাকা কেটে নেওয়া, বাণিজ্যিক খুদেবার্তা ও কল করে বিরক্ত করা, নেটওয়ার্কের নিম্নমান, দ্রুতগতির ইন্টারনেট না থাকা, গ্রামে নিম্নমানের সেবা, কলরেট ও ইন্টারনেটের দাম নিয়ে নানা অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা।

    এতে একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, অপারেটরেরা ২০০ টাকা পর্যন্ত ধার দিচ্ছে। ধার নিয়ে টাকা খরচের পর যতবার ছোট অঙ্কের অর্থ রিচার্জ করা হচ্ছে, ততবার টাকা কেটে নেওয়া হয়। মানুষ ধার নেয় সাধারণত জরুরি প্রয়োজনে। তাই পরিমাণ ৫-১০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়।

    এ সময় বিটিআরসির মহাপরিচালক এ বি এম হুমায়ুন কবির বলেন, ইতিমধ্যে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৫ টাকার বেশি ধার না দিতে বলা হয়েছে।

    গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য ২৪ মে আবেদন আহ্বান করা হয়। ২০২ জন নিবন্ধন করেন। তাদের মোট প্রশ্ন ছিল ১ হাজার ৩১৯টি।

    গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে গ্রাহকেরা মোট ১৭টি প্রশ্ন করেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫টি প্রশ্ন আসে। বিটিআরসি জানায়, সকল প্রশ্ন ও অভিযোগের সুরাহা করে আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

  • ২ সহস্রাধীক এটিএম বুথের তথ্য চুরির শঙ্কা

    ২ সহস্রাধীক এটিএম বুথের তথ্য চুরির শঙ্কা

    চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য এসেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। ৩ বছর আগে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার এটিএম বুথের যন্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন চুক্তির পরিকল্পনা করেছিল একটি হ্যাকার গ্রুপ। তবে সেই চুক্তি বাস্তবায়নে তারা কতটুকু সফল হয়েছে তা বের করার চেষ্টা করছে ডিবি।

    তিন বছর আগে ডিবির হাতে গ্রেফতার হওয়া এক বিদেশি অপরাধী রিমান্ডে তাদের এই তথ্য দিয়েছিল। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া বিদেশিদের কাছেও এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

    দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সেসময় আসামি রিমান্ডে ডিবিকে জানায়, তখন এমন একটি চুক্তির পরিকল্পনা করেছিল আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপের সদস্যরা। চুক্তি অনুযায়ী এটিএম বুথগুলোতে অবৈধ চিপ বসিয়ে দিবে ওই প্রতিষ্ঠানটি। চিপ থাকার ফলে সেসব বুথে যেই কার্ড ঢুকানো হবে, সেই কার্ডের তথ্য সরাসরি চলে যাবে হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের হাতে।

    গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেই একের পর এক হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ। আর এতে ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা। তবে সংখ্যাটা দুই হাজার বুথের তথ্য সত্যিই তারা নিতে পেরেছিল কি-না এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

    ২০১৬ সালে এটিএম ও পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিন জালিয়াতির প্রথম ঘটনায় গ্রেফতার হয় আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা বিদেশি নাগরিক পিওটর সিজোফেন মুজারেক। ঢাকার বিভিন্ন থানায় কয়েকটি মামলা হয়। ঘটনার তিন বছর পার হলেও সেই মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পুলিশ বলছে, তদন্ত প্রায় শেষ। দ্রুত চার্জশিট দেয়া হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক সপ্তাহের মিশনে আসা হ্যাকার গ্রুপের সদস্যরা আরও তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো অর্থ চুরির বিষয়টি মুখে স্বীকার করছে না!

    এদিকে সিআইডি জানায়, বুথে ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বাড্ডা থানায় মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলা করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    ভয়াবহ এই ঝুঁকি ও বাংলাদেশে হ্যাকার গ্রুপের অপতৎপরতা বন্ধে সোমবার ডিবি পুলিশের মিন্টো রোডের কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম এবং কম্পিউটার কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পুরো রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তির জ্ঞানে দক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বুথে ডিজিটাল জালিয়াতির আগাম তথ্য পেয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো এসব তথ্য গুরুত্বসহকারে নিয়ে বুথের প্রযুক্তিগত আপডেট করে জালিয়াতি বন্ধে কার্যকরি ভূমিকা নিলে ভয়াবহ চুরি এড়ানো যেত।

    কর্মকর্তারা আরও বলেন, হ্যাকার গ্রুপকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পারায় তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল সেবার এসব ফাঁক-ফোঁকর বন্ধ করা না গেলে চরম ঝুঁকিতে পড়বে এ খাত।

    এই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহিদুর রহমান রিপন জাগো নিউজকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। গ্রেফতারকৃতদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    এদিকে এটিএম ও পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিন জালিয়াতির প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল ৩ বছর আগে গুলশানে। সেই মামলার অগ্রগতির বিষয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট উপ-কমিশনার (ডিসি) আলিমুজ্জামান বলেন, সেই মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। তদন্তে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পিওটার ও সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ এর বাইরেও চক্রের একাধিক সদস্যের নাম পাওয়া গেছে। মামলায় তাদের আসামি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।

    এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে তিন দিনের বিশেষ মিশন নিয়ে আসে তিন চীনা নাগরিক। তাদের মধ্যে জ্যু জিয়ানহুই রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের প্রাইম ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় ধরা পড়ে। নিরাপত্তাকর্মীর সন্দেহ করে তাকে পাকড়াও করেছিলেন।

    একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পিওটার নামে জার্মানির এক নাগরিককে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তার পেশাই ছিল এটিএম কার্ড ও পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিন জালিয়াতি। তার সঙ্গে সিটি ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জড়িত ছিল। ওই সময় সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকেও গ্রেফতার করেছিল ডিবি। সর্বশেষ ৩১ মে ফের ঢাকায় সাত দিনের মিশন নিয়ে আসে হ্যাকার গ্রুপের সদস্য ইউক্রেনের সাত নাগরিক। চক্রের ছয় সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এখনও আত্মগোপনে রয়েছে চক্রের আরও কয়েক সদস্য।

  • সাইবার নিরাপত্তায় অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ

    সাইবার নিরাপত্তায় অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ

    সাইবার নিরাপত্তার শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় আবারও উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। সাইবার নিরাপত্তা সেবাদাতা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারেস্কির চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে (ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ) ভাইরাস আক্রমণে বাংলাদেশ তালিকার এক নম্বরে রয়েছে। আর স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার আক্রমণে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনে এ দেশকে সাইবার নিরাপত্তায় অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। আগের বছরে কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণে শীর্ষে এবং স্মার্টফোনে আক্রমণের ক্ষেত্রে ঢাকা ছিল চতুর্থ। এ বছরে এসে দেখা যাচ্ছে, স্মার্টফোনে আক্রমণ আগের চেয়ে বেড়েছে।

    ক্যাসপারেস্কি ল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইরেটেড বা অনুমোদিত সফটওয়্যারের বিপুল ব্যবহার এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতনতা না থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি থেকে বের হতে পারছে না। ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিদিন কী পরিমাণ তথ্য কম্পিউটার এবং স্মার্টফোন থেকে ‘কপি’ হয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে অধিকাংশ ব্যবহারকারীই সচেতন নন। এর ফলে বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইনে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি দ্রুত প্রকট হচ্ছে।

    দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত নাজুক বলে জানিয়েছেন। প্রযুক্তিবিদ সুমন সাবির সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা বলতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে কী মন্তব্য করল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বোঝানো হচ্ছে। তবে ঝুঁকি বাড়ছে অনলাইন ব্যাংকিং, কেনাকাটাসহ অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদান ঘিরে। এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ব্যাপারে নজর দেওয়া উচিত।

    এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগের চেয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ প্রতিষ্ঠানগত সার্ভারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ব্যবহারকারীরা এখনও পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণে এক্ষেত্রে ঝুঁকিটা কমছে না। তিনি বলেন, পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে যাবে।

    ক্যাসপারেস্কি ল্যাবের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান :ক্যাসপারেস্কি প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনটি তারা প্রকাশ করেছে গত মে মাসের শুরুতে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যবহূত ৬০ শতাংশ কম্পিউটার প্রায় ২০ ধরনের বিপজ্জনক ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে চিত্র ছিল ৬০ দশমিক ২০ শতাংশ। বিশেষ করে র‌্যানসামওয়্যারের আক্রমণ আগের চেয়ে বাড়ছে। আগে যেখানে ৪ থেকে ৫ শতাংশ র‌্যানসামওয়্যারের আক্রমণ ছিল সেখানে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ আক্রমণের চিত্রও পাওয়া গেছে। তালিকায় দ্বিতীয় উজবেকিস্তান এবং তৃতীয় স্থানে আছে ভিয়েতনাম। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণে শীর্ষে ছিল। গত বছর বাংলাদেশ ভাইরাস আক্রমণে শীর্ষে চলে আসে।

    এ ছাড়া স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যারের আক্রমণের পরিসংখ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে পাকিস্তান, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। এর আগে ফোনে ম্যালওয়্যার আক্রমণের দিক থেকে শীর্ষে ছিল চীন। তবে এ বছরে চীন মোবাইল ফোন আক্রমণের শিকার শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গত দু’বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটির ব্যবহারকারীরা এখন নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হালনাগাদ সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ২৮ জনই ম্যালওয়্যারের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এর আগে ২০১৫ সালে এই আক্রমণের শিকার ছিল ১০ জন, ২০১৬ সালে ১৩ জন, ২০১৭ সালে ১৯ জন এবং গত বছর ২৪ জন। অর্থাৎ, বাংলাদেশে স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার আক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে ব্যবহূত প্রায় সব ধরনের সফটওয়্যারই পাইরেটেড। এসব সফটওয়্যারের বেশিরভাগেই থাকছে নানা ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার কিংবা বটনেট। এর ফলে পুরো কম্পিউটারটাই আক্রান্ত থাকছে। এসব কম্পিউটার অনলাইনে যুক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারী অজান্তেই ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে পাচার হয়ে যাচ্ছে তথ্য। শুধু কম্পিউটারে নয়, দেশগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটগুলোতেও পাইরেটেড প্লাগ ইনসহ অন্যান্য টুলস ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে স্প্যাম, স্ক্যামে পরিপূর্ণ থাকছে ওয়েবসাইটগুলো। অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটটি আক্রান্ত কি-না তাও বুঝতে পারছেন না ব্যবহারকারী। ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্বল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দ্রুত স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারে কী ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে, অধিকাংশ গ্রাহকই সে ব্যাপারে সচেতন নন। এর ফলে স্মার্টফোন ব্যবহার করে অর্থনৈতিক লেনদেন এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে যাওয়াসহ তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি প্রবলতর হচ্ছে।

    আর্থিক লেনদেনে ঝুঁকিই বেশি :সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইনে আর্থিক লেনদেনে ঝুঁকির বিষয়টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন মাসে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

    বিশ্বব্যাপী সব ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যাংক এখন অনলাইন ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাইবার ভেনচারসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মুহূর্তে বিশ্বে ১২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হচ্ছে আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য। ২০২০ সালের মধ্যে এই বাজার ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।

    ক্যাসপারেস্কি ল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে অনলাইন ব্যাংকিং বা মোবাইল ভিত্তিক লেনদেন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। বেশিরভাগই সশরীরে আর্থিক বা ব্যাংকিং লেনদেনের পরিবর্তে অনলাইনকেই পছন্দ করছেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ঝুঁকির মধ্যেই থেকে গেছে।

    পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, উন্নত দেশগুলো মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইনে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন, স্বল্পোন্নত কিংবা উন্নয়নশীল দেশগুলো ততটা চিন্তিত বলে মনে হয় না। এর ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই ওই সব দেশে দ্রুত বিকাশমান মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বড় বিপদের মধ্যে পড়তে পারে।

    প্রযুক্তিবিদ সুমন সাবির বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত অনলাইন ব্যাংকিং বাড়ছে। মোবাইল ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বাড়ছে। এ কার্যক্রমে প্রতারণার অভিযোগও দিন দিন বাড়ছে। তবে এক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হচ্ছে, যে কোনো সময় বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হবে এবং তখন বিষয়টি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি থাকবে না। অনেক দেশেই খুব কম সময়ের মধ্যে সংকট গভীর হয়েছে এবং অনেক মূল্যও দিতে হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশে প্রস্তুতিটা জোরালো হওয়া দরকার। তিনি বলেন, কঠোর আইনের প্রয়োজন আছে, তবে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগে অর্থনৈতিক লেনদেনে প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ব্যাপক প্রচার এবং কোনো ঘটনা ঘটলে প্রতিকারের জন্য দক্ষ রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা, যেটা বাংলাদেশে অনুপস্থিত।

    সুমন সাবির আরও বলেন, বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলোকেই সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় সাইবার ঝুঁকি অর্থনৈতিক লেনদেনে নিরাপত্তার বিষয়। সেটিকে সামনে রেখে বাকি সব বিষয়ে চিন্তা করা দরকার।

  • স্মার্টফোন থেকে ভাইরাস তাড়ানোর পদ্ধতি

    স্মার্টফোন থেকে ভাইরাস তাড়ানোর পদ্ধতি

    বিভিন্ন কারণেই স্মার্টফোনে ভাইরাস ঢুকতে পারে। ভাইরাসের কারণে নানাবিধ অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার মুখোমুখি হই আমরা। আসুন জেনে নেই স্মার্টফোন সহজেই কীভাবে ভাইরাসমুক্ত করা যায়।

    বেশ কিছু সহজ উপায়ে স্মার্টফোন ভাইরাস মুক্ত করা যায়।

    ১.আপনার স্মার্টফোনটি সুইচ অফ করুন এবং সাউন্ড বাটন এবং অফ বাটন এক সঙ্গে প্রেস করে ফোন রিবুট করুন।

    ২. রিবুট অপশন খুললে সেইখানে রিস্টার্ট বাটন প্রেস করুন, যাতে এই সময় ফোনে কোনও রকম ক্ষতি না হয়।

    ৩. রিস্টার্ট হয়ে গেলে সেটিংস অপশনে যান এবং অ্যাপ অপশনে যান।

    ৪. আপনি যা অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন, সেইগুলো একবার দেখে নিন। কোনও রকম অযাচিত অ্যাপ দেখলে সেইটাতে ক্লিক করুন।

    ৫. এরপর এই অযাচিত অ্যাপটি আন ইনস্টল করুন।

    ৬. যদি আন ইনস্টল বাটনটি না থাকে, তা হলে প্রথমে অ্যাপটি থেকে ‘অ্যাডমিন অ্যাক্সেস’ প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর আবার সেটিংস থেকে সিকিউরিটি অপশনে গিয়ে ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটরঅপশনে গিয়ে যে অ্যাপগুলি অযাচিত, সেইগুলো সিলেক্ট করে আন ইনস্টল করুন।

    ৭. এইবার ফোনটি আবার রিস্টার্ট করুন। কিন্তু মাথায় রাখবেন এইবার কিন্তু নরমাল মোডে রিস্টার্ট করতে হবে।

    ৮. যদি উপরের পদ্ধতিতে কোনও কাজ না হয়, সে ক্ষেত্রে সেটিংস অপশনে গিয়ে- সিস্টেম – রিসেট অপশন – ইরেস অল ডেটা অপশন সিলেক্ট করতে হবে।

  • এবার গুগল নিজেই হুয়াওয়ের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করেছে।

    এবার গুগল নিজেই হুয়াওয়ের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করেছে।

    অনলাইন ডেস্কঃ

    এবার গুগল নিজেই হুয়াওয়ের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করেছে। মার্কিন প্রশাসন দেশটিতে হুয়াওয়েকে যে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের ব্যবসাকে অনেকটা গুটিয়ে নিতে বাধ্য করেছে সেটাও খুব সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মনে করছে সার্চ জায়ান্ট গুগল। বিষয়গুলো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে গুগল। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে, হুয়াওয়েকে যেন নিষিদ্ধ করা না হয়। যদি তাই হয় তবে গুগলের প্রযুক্তি ব্যবসাতেও তার বড় ধরনের আঁচ লাগতে পারে। এমনকি সেটিই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকী হতে পারে। শুক্রবার এআরএস টেকনিকা নামের মাধ্যম এমন খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সস্থা আইএএনএস। গুগল মার্কিন সরকারকে এটা বোঝাতে চায় যে, যদি হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করা হয় তবে তারা যে অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করবে তাতে করে বরং মার্কিন একটি কোম্পানির অপারেটিং সিস্টেমের একচেটিয়াত্বের ইতি ঘটতে পারে। যা মার্কিন প্রসাশনের জন্যও খুব একটা ভালো হবে না বলে বলছে গুগল। খবরে বলা হচ্ছে, গুগল চাইছে হুয়াওয়ে যেন তাদের অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডের ওপরেই নির্ভরশীল থাকে। সেটাই মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো হবে। যেহেতু এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন তৈরির দেশ হিসেবে পরিচিত চীন, তাই তারা তাদের ব্র্যান্ডগুলোতে আন্তর্জাতিক এবং চীনা অ্যাপ ব্যবহারের সংস্করণ রাখে। যেটাতে এক সংস্করণে শুধু আন্তর্জাতিক অ্যাপ, অন্যটায় বেইজিং কেন্দ্রিক অ্যাপ থাকে। সার্চ জায়ান্টটি যুক্তরাষ্ট্র প্রসাশনকে বলেছে, অ্যান্ড্রয়েড এমন কিছু লেবেলে ডিভাইসের জন্য সিকিউরিটি আপডেট দেয় সেখানে যদি এমন অবস্থা চলতে থাকে তবে ব্যবসায়ীক চুক্তি ভেঙে যাবে। ফলে অনেক ডিভাইস সেই আপডেট থেকে বঞ্চিত হবে। এর আগে গত ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করার আদেশ দেয়। পরে গুগলের সঙ্গে ব্যবসায়ীক চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। ফলে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারের উপর কিছুটা কড়াকড়ি আসে। সেই সময়ের মধ্যেই অবশ্য হুয়াওয়ে নিজেদের নতুন অপারেটিং সিস্টেম আনার ঘোষণা দেয়।

  • ফেসবুকের মতো বাংলাদেশে তৈরি হলো ‘এইমবুক’

    ফেসবুকের মতো বাংলাদেশে তৈরি হলো ‘এইমবুক’

    বর্তমান প্রজন্মের ৯৫ শতাংশ মানুষ আজ প্রযুক্তিমুখী যার বিশাল অংশ যুক্ত রয়েছে সোস্যাল মিডিয়া অর্থ্যাৎ ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদিতে। এগুলোর সবগুলোই বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে এই প্রথম তৈরি হল ফেসবুকের মতো সোস্যাল মিডিয়া ‘এইমবুক ডট নেট।’ বড় পরিসরে প্রথম বাংলাদেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এটি।

    সম্প্রতি গুগল প্লে-স্টোরে এসেছে যার আলফা ভার্সন। শুরু থেকেই এর ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন নতুন নতুন সব ফিচার। আর তথ্য নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে যোগাযোগের সব চাহিদাই মেটাতে চান এর উদ্যোক্তারা। তবে, এ ধরনের বড় উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে এখনও প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ, প্রযুক্তিবিদরা এমনটা মনে করলেও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী।

    এই সোস্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু দেড় বছর আগে। আর গেল ১৮মে এটি প্রথমবারের মতো আসে গুগল প্লে-স্টোরে। যেখানে নেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বাটন, আছে ফলোয়ার সিস্টেম।

    বাংলা ভাষার এই প্লাটফর্মটিতে যেমন যোগ হবে বেশ কয়েকটি ভাষা, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের চাহিদা মেটাতে থাকবে ডিজিটাল মার্কেটিংসহ সব স্মার্ট আইডিয়া।

    প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, শুরুটা ঠিক পথেই রয়েছে। তবে, এ ধরনের বড় কাজ করার জন্য এখনও প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ।

    আগামী ৩ মাসের মধ্যে এইমবুকের বিটা ভার্সন রিলিজের কথা রয়েছে।

  • ফেইসবুক কি ভাঙছে?

    ফেইসবুক কি ভাঙছে?

    হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম—তিনটি প্রতিষ্ঠানই ফেইসবুকের মালিকানাধীন। এই কম্পানির সিইও মার্ক জাকারবার্গ সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠান তিনটি আলাদা হওয়া উচিত। শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারও চাইছে ফেইসবুক ভেঙে তিনটি আলাদা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে। জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দুনিয়ায় একাই রাজত্ব করতে চায় ফেইসবুক। সম্প্রতি ফেইসবুকের মনোপলির বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেইসবুকসহ ছয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে। এতগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকার পরেও ফেইসবুকের মনোপলির কথা ওঠার কথা নয়। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে ফেইসবুকের প্রতিযোগিতানীতি। ফেইসবুকের প্রতিযোগিতার নীতি হচ্ছে প্রতিযোগীকে কিনে নাও বা প্রতিযোগীর ফিচারকে নকল করো। ফেইসবুকের বাইরে যে পাঁচটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম বলা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি—অর্থাৎ ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপকে এরই মধ্যে কিনে নিয়েছে ফেইসবুক। টুইটার থেকে হ্যাশট্যাগের ফিচারটি ধার করা হয়েছে। স্ন্যাপচ্যাট থেকে স্টোরিজ ফিচারটি চুরি করা হয়েছে এবং ইউটিউবকে টেক্কা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে ফেইসবুক ওয়াচ। এই পুরো বিষয়টি ফেইসবুকের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের একটি চেষ্টা। ফেইসবুকের আধিপত্য এতটাই ব্যাপক যে ২০১১ সালের পর থেকে আর কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্টার্টআপ গড়ে ওঠেনি। এমনকি ব্যর্থতা মেনে নিয়ে ‘গুগল প্লাস’-এর মতো সেবাও বন্ধ করে দিতে হয়েছে খোদ গুগলকে।

    ফেইসবুকের একচ্ছত্র আধিপত্যের সমস্যা
    এ রকম মনোপলি বা একচ্ছত্র আধিপত্যের একটি সমস্যা আছে। কোনো ব্যবসা মনোপলিতে রূপ নিলে সেখানে স্বেচ্ছাচার তৈরি হয়। নিয়ম-নীতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঢিলেমি দেখা যায়। গোপনীয়তার বিষয়টি তারা আর গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। মার্ক জাকারবার্গ তো কয়েক দিন আগে প্রাইভেসির বিষয়টি নিয়ে বেশ ঠাট্টা-মসকরাও করার চেষ্টা করলেন। করবেন নাই বা কেন। ৩০০ কোটি মানুষের তথ্য যে তাঁর হাতে। ফেইসবুকের সর্বেসর্বা তিনি। তিনি কারো কাছে জবাব দেন না। তিনি চাইলেই যেকোনো দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। ফলাফল পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যা তিনি করছেনও। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর বিষয়টি আরো বেশি আলোচনায় এসেছে।

    কী করা যেতে পারে?
    ফেইসবুক এখন মাইক্রোসফট ও গুগলের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। মাইক্রোসফট ও গুগল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বড় হওয়ার পর বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতারা নিজেদের কর্তৃত্ব দেখানো বন্ধ করেন। ফেইসবুকও এমনটি করতে পারে। মার্ক জাকারবার্গ একা সব কয়টি কম্পানিকে সামাল দিতে পারছেন না বলে প্রমাণিত হয়েছে বহুবার। একেকটি শাখাকে একেকটি কার্যকর পরিষদের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন মার্ক। প্রতিটি বিষয়ে নিজের নাক গলানোর অভ্যাসটি পরিহার করতে পারেন। এটি যেমন ফেইসবুকের জন্য মঙ্গল, তেমনি গ্রাহকদের জন্যও।

    সরকারপ্রধানরা যা করতে পারেন
    বলাই বাহুল্য, ফেইসবুক বর্তমানে সমাজের একটি মূল উপাদানে পরিণত হয়েছে। সামাজিক আচার-আচরণ, রাজনৈতিক পরিক্রমা—সব কিছুই ফেইসবুকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই প্রতিটি দেশের সরকারের উচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা। কিভাবে এই মনোপলি ভেঙে নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া যায়, সেই দিকটির দিকেও খেয়াল রাখা।

    ফেইসবুক যেন কোনো স্পর্শকাতর তথ্য কোনো স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা।

    ফেইসবুকে কোনো অ্যালগরিদম চালু করার আগে প্রতিটি দেশের সরকারকে সেটি সম্পর্কে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

  • সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ফেসবুক ইউটিউব

    সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ফেসবুক ইউটিউব

    ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলের মতো ওয়েবসাইট থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক মূলবোধ পরিপন্থী নির্দিষ্ট কোনো কনটেন্ট অপসারণে আর বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিতে হবে না। বাংলাদেশ এ বিষয়ে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ এই সক্ষমতা অর্জন এবং তা প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থায় ফেসবুক বা ইউটিউবের কোনো আপত্তিকর মন্তব্য, পোস্ট বা ভিডিও দেশের বাইরে দেখা গেলেও বাংলাদেশে আর কেউ দেখতে পাবে না।

    ১৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স’ নামে একটি প্রকল্পে এই সক্ষমতা অর্জনের কাজ চলছে। প্রকল্পটি থেকে ইতিমধ্যে ২২ হাজার পর্ন এবং আড়াই হাজারের মতো গ্যাবলিং সাইট বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে শনাক্ত হওয়া পর্ন ও গ্যাবলিং সাইটগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর। সেখানেই স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে দেশের ২৯টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং তিনটি ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জকে (নিক্স)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর এটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার বা এনটিএমসিও এটি ব্যবহার করতে পারবে।

    জানা যায়, আগে কোনো সাইট বন্ধ করতে আইআইজি অপারেটরদের কাছে সেই সাইটের অ্যাড্রেস পাঠিয়ে তাদের মাধ্যমে বন্ধ করা হতো। কিন্তু এখন কোন কোন সাইট বন্ধ করা হচ্ছে তা আইআইজি অপারেটরদের জানার বাইরে থাকছে। কোনো সাইট বন্ধ করে দিলে বিকল্প উপায়ে তা দেখার সুযোগ নিয়ন্ত্রণেরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওয়েবসাইট বন্ধ ও তা বিকল্প পথে চালুর চেষ্টা নিয়ে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ গেম চলছে এবং চলবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথ তৈরি করতে এক দিন সময় লাগলে তা বন্ধ করতে সময় লাগবে ১০ মিনিট।’

    আলোচিত এ প্রকল্প বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘গত ১৭ মাসে আমি লক্ষ করেছি, ফেসবুক, গুগল আমাদের সঙ্গে কথা বলতেই রাজি হতো না। পরে আমরা হার্ড লাইনে যাওয়ার পর এখন তারা কথা শুনতে চায়, আলোচনায় বসে। সব শেষ ওয়াদা করেছে, তারা বাংলাদেশের আইনকেও গুরুত্ব দেবে। তবে আমরা যেটা সংকট দেখছি সেটা হচ্ছে, যেহেতু ওরা আমেরিকান কম্পানি, ওরা যে শব্দটি নিয়ে আমাদের বেশি ভোগায় সেটা হচ্ছে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড। ওদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড আর আমাদের কমিউনিটি স্টান্ডার্ড এক না। এ কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে গালাগাল করলে ওদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডে সেটা হয় ফিডম অব স্পিচ। কিন্তু এই ফিডম অব স্পিচের নামে আমাদের এখানে বেশি যেটা হয় সেটা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের পক্ষে প্রচার ও সন্ত্রাস তৈরি করার ব্যবস্থা করা। ফলে আমরা কোনো বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রিকোয়েস্ট পাঠালে তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে যায়, এমন ক্ষেত্রেই শুধু সাড়া মেলে। সব মিলিয়ে আমাদের মনে হয়েছে, ওদের ওপর নির্ভর করে আমাদের দেশে নিরাপদ ইন্টারনেট বহাল রাখা কঠিন। সে জন্য আমরা এই প্রকল্পটি গ্রহণ করি। এটি বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—অন্তত আমরা আমাদের নিজ এলাকায় যেন নিরাপদ থাকতে পারি। প্রকল্পটি এ পর্যন্ত যেটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তাতে আমরা আংশিক সফলতা পেয়েছি। ওয়েবসাইটগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। আর কমেন্ট, স্ট্যাটাস ও ভিডিও লেভেলে সুনির্দিষ্টভাবে অ্যাড্রেস করার কাজ চলছে।’

    মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা তৈরি করা। সেটা হবে। তবে প্রযুক্তিগত বিষয়ে একটা পর্যায়ে আমরা সক্ষমতা অর্জন করার পরও নতুন প্রযুক্তি এসে যেতে পারে। তখন সেই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণেরও সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।’

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।