Category: জাতীয়

  • বরিশালে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    বরিশালে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    “উন্নয়নের রোল মডেল, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” শ্লোগানকে সামনে রেখে সারাদেশের সাথে একযোগে বরিশালেও শুরু হয়েছে তিনদিনের উন্নয়ন মেলা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল নয়টায় সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে মেলা প্রাঙ্গন বঙ্গবন্ধু উদ্যানে গিয়ে মিলিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার শুভ উদ্বোধণ করেন।

    জেলা প্রশাসক মোঃ হাববিুর রহমানের সভাপতিত্বে উন্নয়ন মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম। মেলায় সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ১৬৪টি স্টল রয়েছে। এছাড়াও প্রতিযোগীতামূলক চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশীয় খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বরিশাল উন্নয়ন মেলার প্রধান অতিথি বাংলাদেশ  প্রেটোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আবু হেনা রাহমাতুল মুনিম বলেন আমাদের দেশে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা সহ ঘুস, দূর্নীতি বন্ধ হলে এদেশ এগিয়ে যেতে বেশী সময় লাগবেনা। আমাদের কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাবে অনেক সময় উন্নয়ন থমকে দাড়ায়।আমাদের জন সঙক্ষা আছে তা কর্ম অক্ষম। আমরা আজ যেখানে দাড়িয়ে আছি এক সময়ে চিন এ জায়গায় ছিল আজ তারা বিশ্বের কাছে মাথা ব্যাথা হয়ে দাড়িয়েছে। পরে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদশন করে দেখেন।

    মেলায় আয়কর বিভাগ,মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস,বিসিসি,কৃর্ষি অধিদপ্তর,ভ্যাট কার্যলয়ের স্টল সহ সরকারী-বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার বিবিন্ন স্টল মেলায় অংশ গ্রহন করেন। একইদিন জেলার গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্ব-স্ব উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধণ করা হয়েছে।

  • পাঁচ সিটিতে প্রার্থী কারা

    পাঁচ সিটিতে প্রার্থী কারা

    পাঁচ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সিলেটে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর খুলনা, গাজীপুর ও বরিশালে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। দলের দুজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী এই সিটিগুলোতে কাজ করছেন। তারা নিজেরাই প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

    খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেকের পাশাপাশি শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল সমান্তরালভাবে তত্পর। বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী তত্পর রয়েছেন। একইভাবে গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর আলম দুজনই সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তবে স্থানীয়ভাবে দলের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা যায়নি কেন্দ্র থেকে। এ কারণে এই এলাকাগুলোতে চূড়ান্ত প্রার্থী কে তা স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, শিগগির তারা প্রার্থিতা পরিষ্কার করে দেবেন। গ্রহণযোগ্য নেতাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন দিয়ে শুরু হবে সিটির ভোটযুদ্ধ। ১৩ মার্চে রয়েছে সংসদের দুটি আসনে উপনির্বাচন। এরপরই ধারাবাহিকভাবে পাঁচ সিটিতে ভোট আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে গাজীপুর সিটিতে ভোট হতে পারে মার্চ-এপ্রিলে। আর জুনের মধ্যে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনে ভোট করবে ইসি।

    গাজীপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। পোস্টার-বিলবোর্ড ছেয়ে গেছে সিটির অলি-গলি থেকে রাজপথ। মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল। যদিও দলের সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি করে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনকারী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুর রহমান কিরণও দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচনী তত্পরতা চালাচ্ছেন। তবে বছরের শুরুতেই সেই তত্পরতায় গতি পেয়েছে। ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। আবার বিলবোর্ডের মাধ্যমে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলে দাবি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের। তিনি দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করছেন। যদিও মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাইছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। স্থানীয়ভাবে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। গত দুই নির্বাচনে লড়াই হয়েছে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও নগর বিএনপি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মধ্যে। এবারও নৌকা-ধানের শীর্ষের লড়াই হবে এই সিটিতে। ইতিমত্যে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেয়ে মাঠে নেমেছেন। ২০০৮ সালে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের এই সভাপতি। যদিও ২০১৩ সালের নির্বাচনে মেয়র পদ যায় বিএনপির ঘরে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে খায়রুজ্জামান লিটন মাঠে নেমেছেন। তিনি ওয়ার্ড পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন, করছেন উঠান বৈঠকও। খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালীন যে উন্নয়ন করেছেন, সেই উন্নয়নের কারণেই নগরবাসী আগামীতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন এমনটাই আশা নেতা-কর্মীদের। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও এ নির্বাচনকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আগেভাগেই প্রচারণায় নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলের প্রার্থিতা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের প্রচারণায় ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টাঙানো পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে অলিগলি ছেয়ে গেছে। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, পাড়া-মহল্লার ক্লাব উন্নয়নে অনুদান, প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রে লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সরকারদলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। এবার খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া প্রচারণায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই তরুণ নেতা খুলনা সদর উপজেলা সভাপতি ও খুলনা চেম্বারের পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি যুবলীগ নেতা সরদার আনিছুর রহমান পপলু। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হকের নামও আলোচনায় আছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, বরিশাল সিটির সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। আটঘাট বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন তারা। যদিও এই সিটিতে আওয়ামী লীগ এখনো মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের একটি অংশ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির বড় ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহকে মেয়র পদে মনোনয়ন চান। তবে সাদিককে একক প্রার্থী মানতে নারাজ আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আফজালুল করিম, সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন আগামী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

  • স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ১২ পুলিশ প্রত্যাহার, ক্যাম্প ইনচার্জকে থানায় ফেরৎ

    স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ১২ পুলিশ প্রত্যাহার, ক্যাম্প ইনচার্জকে থানায় ফেরৎ

    খুলনার বটিয়াঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় বাইনতলা পুলিশ ক্যাম্পের ১২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামানকে থানায় ফেরৎ পাঠানো হয়েছে। এর আগে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীরা স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করে রাখে ও জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। এসব ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদবাইনতলা স্কুল ও বাইনতলা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে এসব ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ইভটিজিংয়ে জড়িত ৫ পুলিশ সদস্য জাহিদ (ক. নং. ৪২৪), আবির (ক.নং. ১৬৮৩), রিয়াজ (ক. নং. ৯৮৫), সুমন্ত ও নাঈম (ক. নং. ২২০৮) কে বরখাস্তের কথা জানানো হলেও পরে অভিযুক্ত ৫ জনসহ ক্যাম্পের ১২ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয় এবং তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    জানা যায়, বখাটেদের ইভটিজিং প্রতিরোধসহ এলাকার আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য উপজেলার বাইনতলা স্কুল এন্ড কলেজ ভবনের পাশেই বাইনতলা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। কিন্তু এই ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরাই স্কুলগামী মেয়েদের প্রতিনিয়ত ইভটিজিং করতো।

    স্থানীয় আমিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গোলদার জানান, গতকাল সকালে স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পুলিশ সদস্যরা ইভটিজিং করলে তার ভাই তরিকুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা এসময় ওই যুবককে নির্যাতনসহ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এতে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করে।

    নির্যাতিত যুবক তরিকুল ইসলাম জানান, ‘’আমি ক্যাম্প ইনচার্জকে বিষয়টি জানাতে গেলে তাকে পাইনি। পরে দোতলার বারান্দায় বসে থাকা পুলিশ সদস্যদের এভাবে মেয়েদেরকে ইভটিজিং না করার জন্য অনুরোধ করি। এরপর আমি ক্যাম্পের সামনে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এলে চার পুলিশ সেখানে ঢুকে কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল ভাংচুর করে। আমাকে ধরে ক্যাম্পের দোতলায় নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে।”

    স্থানীয়রা জানায়, এসময় পুলিশকে বাধা দিতে গেলে তারা গুলি করবে বলে হুমকি দেয়। বাইনতলা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাছিব গোলদার জানান, মেয়েদের সবসময়ই ক্যাম্পের পুলিশরা ইভটিজিং করতো। আগেও কয়েকদফা তাদেরকে নিষেধ করা হলেও তারা তা’ শোনেনি। বরং মেয়েদেরকে মোবাইল নম্বর দেওয়া, তাদের পেছন পেছন বাড়ি যাওয়া ও তাদের কথামতো চলার জন্য হুমকি দিতো। তিনি জানান, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় সকালে স্থানীয় যুবককে মারধরের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীরা পুলিশ ক্যাম্প ঘেরাও করে। এসময় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তরা ঘটনাস্থলে এসে কয়েকজনকে বরখাস্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

    বটিয়াঘাটার থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৫ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনার সময় ক্যাম্পে উপস্থিত না থাকায় ক্যাম্প ইনচার্জ মো. তারিকুজ্জামানসহ ওই ক্যাম্পের ১১ পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    তবে পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা জানান, আপাতত কাউকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না। ক্যাম্পের ১২ জনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেখানে নতুন পুলিশদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক জানান, এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

  • বরিশালে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    বরিশালে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে বরিশালে প্রেস ব্রিফিং করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ১১ জানুয়ারী বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারী নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৫০টি স্টল থাকবে মেলা প্রাঙ্গনে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে সকলের জন্য। মেলায় লাঠি খেলা, বৌচি ও হারিভাঙ্গা, ভলিবলসহ নৃত্য পরিবেশনা, উন্নয়নমূলক জারি গান, বরিশাল-ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক নাটিকা, একক সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশনা ও প্যাকেজ পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক জানান, সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বরিশাল জেলা প্রশাসন তিনদিন ব্যাপী এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে। প্রেস ব্রিফিং এ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ, আবুল কালাম তালুকদার, মনির হোসেন হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার আহসান মাহামুদ রাসেল ও মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রমূখ।

  • ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির মিডিয়া সেন্টারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা তফসিল ঘোলণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও সিটির সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি, যাচাই বাছাই ২১ ও ২২ জানুয়ারি, প্রত্যাহার ২৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ জানুয়ারি ও ভোটগ্রহণ করা হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি। এ সময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ করপোরেশনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন সদ্য প্রয়াত আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১ ডিসেম্বর থেকে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে। আইন অনুযায়ী ৯০ দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ উপ-নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। এ ছাড়া দুই সিটির আশপাশের ইউনিয়নযুক্ত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ড গঠন করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর গত ৮ আগস্ট এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট করতে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়। ইসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিএনসিসিতে সাধারণ ওয়ার্ড ( আগের ৩৬+ সংযুক্ত নতুন ১৮) ৫৪টি; সংরক্ষিত ওয়ার্ড (আগের ১২+ নতুন ৬) ১৮টি; ভোটকেন্দ্র ( আগের ১০৯৩+ নতুন ২৫৬) ১৩৪৯টি (সম্ভাব্য); ভোটকক্ষ (আগের ৫৮৯২+ নতুন ১৬০৮) ৭৫০০টি (সম্ভাব্য); অস্থায়ী ভোটকক্ষ (আগের ২৭৭+ নতুন ৬৮) ৩৪৫টি (সম্ভাব্য)। এ ছাড়া ডিএনসিসিতে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ২ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২ হাজার ৪৭২ জন এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪২ জন। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে এই সিটিতে মোট ভোটার ছিল ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল ১২ লাখ ২৪ হাজার ৭০১ জন এবং নারী ভোটার ছিল ১১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ জন। ডিএসসিসির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৩১টি; ভোটকক্ষ ১২৩১টি, অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৫৬টি। এসব ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫১ হাজার ২৯০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৮ জন।

  • ডিআইজি মিজানের বিয়ে নিয়ে তোলপাড়

    ডিআইজি মিজানের বিয়ে নিয়ে তোলপাড়

    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ের কথা শোনা যায়। আর এমন কাজ করে বখাটে যুবক কিংবা সন্ত্রাসীরা। আর সেই নারীকে উদ্ধারে নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন পুলিশ। এমন ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু সেই পুলিশই এবার মরিয়ম আক্তার ইকো নামের এক নারীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করলেন। আর সেই নারী যখন পুলিশ স্বামীর স্ত্রী পরিচয় দিতে চাইলেন তখনই তাকে ফাঁসানো হলো মামলার জালে। যা রীতিমতো ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। যদিও নিজের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মিজানুর রহমান।

    দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় দৈনিককে মরিয়ম আক্তার ইকো জানিয়েছেন, চাকরির জন্য বান্ধবীর পরিচয় সূত্রে এক নারীর মাধ্যমে মিজানুর রহমানের সঙ্গে প্রথমে মুঠোফোনে পরিচয় হয় তার। এরপর তিনি তাকে ফোনে কথা বলার সময় বিয়ে করার ইঙ্গিত দিতেন। এরই মধ্যে গত বছরের ১৪ জুলাই ইকোকে তাদের পান্থপথের বাসা থেকে এক রকম কৌশলে তার গাড়িতে তুলে জোরপূর্বক ৩০০ ফুট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ইকো। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডিআইজির বেইলি রোডের বাসায়। সেখানে তাকে সুস্থ করার কথা বলে অষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। ইকো জানান, পরদিন দুপুর ১২টার দিকে তিনি ঘুম থেকে জেগে দেখতে পান তার পরনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানের স্লিপিং ড্রেস এবং তিনি তার বেডরুমে। বুঝতে পারেন, তার সর্বনাশ হয়ে গেছে। এরপর কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ডিএমপি কার্যালয় থেকে ছুটে আসেন মিজানুর রহমান। ইকোকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ৩ দিন ওই বাড়িতেই ছিলেন ইকো।

    পরবর্তীতে, খবর দেওয়া হয় ইকোর মা কুইন তালুকদারকে। বগুড়া থেকে তার মা কুইন তালুকদার ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় ডিআইজির বেইলি রোডের বাসায় এসে পৌঁছান। এরপর অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক তার সঙ্গে ইকোর বিয়ে দিতে মা-মেয়েকে রাজি করান। ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে মরিয়ম ও মিজানুর রহমানের বিয়ে পড়ানোর জন্য মগবাজার কাজী অফিসের কাজীকে ডেকে আনা হয়। বিয়ের পর ওই রাতেই মা-মেয়েকে ছেড়ে দেয়া হয়।

     

    পরে লালমাটিয়ায় ৫০ হাজার টাকার ভাড়া ফ্ল্যাটে নিয়ে গোপনে সংসার শুরু করেন ডিআইজি মিজান। ওই ফ্ল্যাটের নিচে সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক পুলিশের দু’জন সদস্যকে পাহারায় রাখা হয়। এর ফলে ইকো এক রকম গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। মাঝে মাঝে তাকে নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন ইকো। ৪ মাস এভাবে অতিবাহিত হওয়ার পর ডিআইজি মিজানকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিসে মুডে থাকা একটি ছবি ফেসবুকে আফলোড করেন। এতেই চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন মিজানুর রহমান। এ ছবির বিষয়টি পুলিশের উপর মহলে জানাজানি হয়ে যায়। ফেসবুক থেকে দ্রুত ছবিটি সরিয়ে ফেলতে তিনি লালমাটিয়ার বাসায় ছুটে আসেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী ইকো, শাশুড়ি কুইন তালুকদারের সঙ্গে তার চরম মাত্রায় বাকবিতণ্ডা হয়। একই পর্যায়ে ডিআইজি মিজান তার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন।

    পরবর্তীতে মামলাও হয়। সেই মামলায় ৫৪ ধারায় সেগুনবাগিচার একটি রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ ইকোকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তিন সপ্তাহ কারাভোগের পর সপ্তাহখানেক আগে মরিয়ম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নতুন করে তাঁকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মরিয়মের পরিবার।

    এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তার এমন বিয়ের খবর প্রকাশ হতেই চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠে। পুলিশের এমন রূপ সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। গতকাল থেকে শুরু করে আজও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।

    যদিও নিজের বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় দৈনিককে তিনি বলেন, মরিয়ম আক্তার ইকো একজন প্রতারক। তাঁর মা, নানিও একই রকম। তাঁর সঙ্গে ইকোর মাত্র দুবার দেখা হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইকোর আপলোড করা ছবির জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

  • আট জাতীয় দিবস বাধ্যতামূলক পালনের রিট খারিজ

    আট জাতীয় দিবস বাধ্যতামূলক পালনের রিট খারিজ

    সব রাজনৈতিক দল ও দেশের প্রত্যেক নাগরিককে আটটি জাতীয় দিবস পালন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

    সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খারিজের এ আদেশ দেন।

    আদালত বলেন, নাগরিকদের এসব দিবস পালনে বাধ্য করার নির্দেশনা দেওয়া আমাদের আওতায় পড়ে না। এটা দেখার দায়িত্ব জনগণের নির্বাচিত সংসদের।

    এর আগে গত ৩ জানুয়ারি বুধবার আটটি দিবসকে আলাদাভাবে পালন বাধ্যতামূলক করতে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. শহীদুল।

    দিবসগুলো হলো 
    ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ৩ নভেম্বর চার নেতার জেলহত্যা দিবস ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস।

    সব রাজনৈতিক দলসহ দেশের সব নাগরিকের জন্য এসব দিবস পালন বাধ্য করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছিল।

    সোমবার আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোজাম্মেল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

  • ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় ‘ফাইটার’ ডায়মন্ড আটক

    ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় ‘ফাইটার’ ডায়মন্ড আটক

    সিলেটের টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খাঁন খুনের ঘটনায় ফাইটার খ্যাত ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন ডায়মন্ডকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিলাগড় এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন বলেন, তানিম খুনের ঘটনায় ডায়মন্ডসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    আটক অন্যরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা ও সিসিক কাউন্সিলার আজুদর রহমান আজাদের অনুসারি, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী গ্রুপের ছাত্রলীগকর্মী রুহেল আহমদ, জাকির আহমদ ও সৈয়দ আবিদ আহমদ। রবিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

    বিভিন্ন সূত্র জানায়, ‘ফাইটার’ ডায়মন্ড জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে আসেন ডায়মন্ড।

    অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে রবিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে টিলাগড় পয়েন্টে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তানিম আহমদ খাঁন। তিনি ওসমানীনগর উপজেলার নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের ইসরাইল খাঁনের ছেলে।

    এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। সোমবার বিকেল ৪টায় নিজ বুরুঙ্গায় তার জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তানিমকে দাফন করা হবে।

  • বাংলাদেশের ‘সবুজ প্রবৃদ্ধি’ ও ‘ন্যায্য বাণিজ্যে’র কৌশল

    বাংলাদেশের ‘সবুজ প্রবৃদ্ধি’ ও ‘ন্যায্য বাণিজ্যে’র কৌশল

    নিঃসন্দেহে গতানুগতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রয়েছে অসামান্য অর্জন। কিন্তু বিশ্বজুড়েই গতানুগতিক এই অগ্রগতির বিপরীতে বইছে নয়া ধাঁচের এক অর্থনীতি গড়ার আন্দোলন। সেই অর্থনীতি সবুজ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই নয়া অর্থনীতির মূলে রয়েছে আমাদের প্রিয় প্রকৃতি তথা পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা, সমাজ ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার এবং সব মিলিয়ে প্রান্তজনের ভালোভাবে খেয়ে-পরে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান। বছর দুই আগে জাতিসংঘে সারা বিশ্বের নেতারা টেকসই উন্নয়নের জন্যে ১৭টি লক্ষ্য পূরণের অঙ্গীকার করেন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো পূরণের মেয়াদ শেষের পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে এই ১৭টি লক্ষ্য পূরণে এক বিশ্ব সমঝোতায় নেতৃবৃন্দ পৌঁছুতে সক্ষম হয়েছিলেন। ঐ লক্ষ্যমালায় অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর গভীর আন্তঃসম্পর্কের কথা মনে রেখে ন্যূনতম কিছু টার্গেট পূরণের অঙ্গীকার করেছিলেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। বৈশ্বিক এই উন্নয়ন পরিপ্রেক্ষিত মনে রেখেই তার কয়েকদিন বাদেই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর সকল দেশের সরকারপ্রধানই পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে জলবায়ু চুক্তিতে ঐক্যমতে পৌঁছুতে পেরেছিলেন। মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক নজিরবিহীন সহমর্মিতা প্রদর্শন করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নেওয়া উভয় উদ্যোগের প্রথম সারির সক্রিয় সদস্য দেশ হিসেবে তার অবদান রাখতে পেরেছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ দুটো বিশ্বচুক্তির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ঝুঁকিপূর্ণ প্রথম ১০টি দেশের প্রথমদিককার একটি দেশ বাংলাদেশ। তাই খুব স্বাভাবিক কারণেই পরিবেশের পক্ষে নেওয়া জাতিসংঘের উভয় উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা যে বাংলাদেশই হবে সে প্রশ্নে দ্বিমতের অবকাশ নেই।
    তবে গত দু’বছরে পৃথিবী অনেকটাই বদলে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া ছিল এক ঐতিহাসিক বিশ্ব বিপর্যয়। তিনি নির্বাচিত হয়েই জাতিসংঘের ওপর চড়াও হলেন। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যে সমর্থন ছিল তা প্রত্যাহার করে নিলেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ওপর নানা চাপ সৃষ্টি করছেন। চাঁদা কমিয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছেন। তবে ফ্রান্সে ম্যাকরন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও জলবায়ু চুক্তির পক্ষেই রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট ও নাগরিক সমাজ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ সম্বন্ধে সম্যক অবহিত বলে প্যারিস চুক্তির পক্ষেই রয়েছে। তারা নিজেরাও সাধ্যমতো জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ করছেন।
    এমন টালমাটাল অস্থির পৃথিবীতে আগামী প্রজন্মের জন্যে বাসযোগ্য এক টেকসই পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে। তা সত্ত্বেও একথা বললে বোধ হয় ভুল হবে না যে বাংলাদেশ এখনও সুস্পষ্টভাবে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশলটি পুরোপুরিভাবে গ্রহণ করে উঠতে পারেনি। সুনির্দিষ্ট সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি, প্রতিষ্ঠান ও আন্তঃখাত সমন্বয় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত না করার কারণে পরিবেশ দূষণ বেড়েই চলেছে। আর এই দূষণের বাড়তি মূল্য অর্থনীতি ও সমাজকে গুনতে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি চাপের কারণে আমাদের অর্থনীতির ভঙ্গুরতা বাড়ছেই। আর্থিক বিচারে আমরা এক যুগ পরেই নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবার স্বপ্ন দেখছি। তার এক দশক পরেই (২০৪১) বাংলাদেশের উন্নত দেশ হবার কথা। এ স্বপ্ন পূরণে আমাদের প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার আট শতাংশের ওপরে নিয়ে যেতে হবে। বাড়ন্ত এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে যে পরিমাণ জ্বালানি ও অবকাঠামো লাগবে তা নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা যেন প্রকৃতি ও পরিবেশের বড় ক্ষতি না করে ফেলি সেদিকে কড়া নজর রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তাছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি চাপ মোকাবিলার জন্যে বিপন্ন মানুষের বাঁচার নয়া কৌশল ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে নয়া ধাঁচের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। নয়া ধাঁচের নিয়মনীতি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে না তোলা গেলে পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির ধারা অক্ষুণ্ন রাখা বেশ মুশকিলই হবে বলে আশঙ্কা হয়।
    বাংলাদেশসহ হাল আমলে যেসব দেশ আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে সেগুলোর মধ্যে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাম করতে হয়। এসব দেশ মূলত উদার বাণিজ্যের পূর্ণ সুযোগ নিয়ে সস্তা মূল্যে রপ্তানিনির্ভর শিল্পায়নে ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে। এসব দেশে তাই অগোছালো নগরায়নও ঘটেছে। বড় বড় শহর ও বন্দরের আশ-পাশে রপ্তানিমুখী শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। গ্রাম থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়েসী শ্রমিক (মূলত নারী) এসব শিল্পে কাজ খুঁজে পেয়েছেন। এতো দ্রুত সুষ্ঠুভাবে নগরায়ন সম্ভব হয়নি বলে এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান, যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে বাড়তি মানুষের চাপে এসব দেশের পরিবেশ প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগর ও আধা-নগরে বাস করাই এখন মুশকিল হয়ে গেছে। আর সে কারণেই এই রপ্তানি পণ্যের বিদেশি ভোক্তারা জোর দাবি তুলছেন পরিবেশসম্মত ন্যায্য বাণিজ্যের পক্ষে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর সারা বিশ্বেই পরিবেশসম্মত কারখানা ও শ্রমিকদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে বিশাল জনমত গড়ে ওঠে। এই চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ সরকার, রপ্তানিকারক উদ্যোক্তা, গার্মেন্টস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জোট ও শ্রমিকদের ইউনিয়নসমূহ একসঙ্গে কাজ করার এক নয়া সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ ব্যাংক সবুজ অর্থায়নের নানা উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ্বে এক নয়া নজির স্থাপন করেছে। এ জন্যে পুনঃঅর্থায়ন ছাড়াও নিজস্ব রিজার্ভ থেকে দু’শ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘সবুজ রূপান্তর তহবিল’ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। গার্মেন্টস ও চামড়া শিল্পের কারখানাগুলোকে পরিবেশসম্মত করার লক্ষ্যেই এই রূপান্তর তহবিল সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়াও জাইকার সমর্থন নিয়ে ক্ষুদে ও মাঝারি আকারের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও জ্বালানি খরচ কমানোর জন্যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্যেও বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রুডেন্সিয়াল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন ইস্যু করেছে। প্রত্যেক ব্যাংককে সবুজ জ্বালানি ও পানির উপযুক্ত ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে সোলার বিদ্যুতের বড় প্যানেল তার ছাদে স্থাপন করেছে এবং বিচক্ষণতার সাথে পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ইড্কলের অর্থায়নে প্রায় ৪৫ লক্ষ পরিবার এখন সোলার প্যানেল থেকে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে জ্বালানি সংগ্রহ করে। বড় আকারের সোলার প্যানেল থেকে গ্রিড বিদ্যুত্ সরবরাহের উদ্যোগও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুপ্রেরণায় ব্যক্তিখাতের একটি প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেছে। বিশ্বমানের সবুজ গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনেও বাংলাদেশ ব্যাংক তার পুনঃঅর্থায়নের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারও তার বাজেট থেকে পরিবেশ সহায়ক তহবিল তৈরি করেছে। বিদেশি সংস্থা থেকেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এই তহবিল সংগ্রহের গতি খুবই শ্লথ। সম্প্রতি ইড্কল ও পিকেএসএফ জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এত সব কিছু সত্ত্বেও এ কথা বলা যায়, সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগগুলো এখনো খাপছাড়াই রয়ে গেছে। এদিক থেকে ভারত ও চীন বেশ দ্রুত সবুজ প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটছে। তাদের কর্মসূচিগুলো মূল ধারার নীতিমালার সঙ্গে সমন্বিত। বিশেষ করে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদনে উভয় দেশই নিত্যনতুন উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও নানা ধরনের উদ্ভাবন করে চলেছে। ব্যক্তিখাত, এনজিও, নারী উদ্যোক্তা— সকলেই পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে নিজেদের মতো করে উদ্ভাবনীমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছে। এখন দরকার একটি সমন্বিত কৌশল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। আর সে কারণেই দরকার ভিশনারি কিছু নীতি ভাবনা ও কর্মকৌশলের। আমাদের প্রবৃদ্ধি যেহেতু মূলত রপ্তানিনির্ভর তাই বাংলাদেশকে সাজাতে হবে সবুজ পণ্য তৈরির দেশ হিসেবে। বস্ত্র ও চামড়াখাতের কারখানাগুলোকে সবুজ কারখানায় রূপান্তরের উদ্যোগের পাশাপাশি এনজিও ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে যে সব অভিনব সবুজ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সেগুলোর প্রসার ও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সমর্থনের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। গতানুগতিক শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্তমানের বিশ্বভোক্তাকে আকর্ষণ করা কঠিনই হবে। যদি সারা বিশ্বে একথাটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারি যে, আমরা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে, সমাজে কোনো বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে, প্রাকৃতিক সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বরং পরিবেশসম্মতভাবেই আমাদের রপ্তানি পণ্যগুলো তৈরি করছি এবং বাণিজ্য করছি তাহলে ‘সবুজ বাংলাদেশ’ নামে এক নয়া ব্র্যান্ড তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রচলিত বড় বড় কারখানা রূপান্তরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি এনজিও কিংবা ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের সবুজ পণ্য উত্পাদনে যদি আমরা উত্সাহিত করতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হবে। সবুজ অর্থনীতির দেশ হিসেবে নতুন প্রজন্মের বিশ্ব ভোক্তারা বাংলাদেশের পণ্য ভোগ করতে উত্সাহী হয়ে উঠবে।
  • ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প রাস্তা

    ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প রাস্তা

    গাজীপুরের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প রাস্তা ও পার্কিং নির্ধারণ করা হয়েছে।
    বিশ্ব ইজতেমা ২০১৮ আগামী ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি ও ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে।ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণের জন্য ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মুসুল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে যাতায়াত করবে বিধায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত, কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের মাজুখান ব্রিজ থেকে স্টেশনরোড ওভার ব্রিজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মুন্নু টেক্সটাইল মিলগেট পর্যন্ত সড়কপথ বন্ধ করার প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে ১৩ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১০টা থেকে নিম্নবর্নিত প্রবেশপথসমূহে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
    নিলতলী রেলক্রসিং, টঙ্গী, গাজীপুর; কামারপাড়া ব্রিজ, টঙ্গী, গাজীপুর; ভোগড়া বাইপাস, জয়দেবপুর, গাজীপুর; এছাড়া পন্টুন সেতু নির্মাণ ও মুসুল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে কামারপাড়া সেতু থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদীতে সকল প্রকার নৌযান চলাচল ও নোঙর করা ৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নৌযানসমূহ টঙ্গী সেতুর পূর্ব পার্শ্বে এবং কামারপাড়া সেতুর উত্তর পার্শ্বে নোঙর করতে পারবে।
    ইজতেমা চলাকালীন জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে আগত মুসুল্লিদের বহনকারী যানবাহন পার্কিং এর জন্য টঙ্গীস্থ কাদেরীয়া টেক্সটাইল মিল কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের পার্শ্বের রাস্তার উভয় পাশে, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠ প্রাঙ্গণ, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠের উত্তর পার্শ্বে টিআইসি মাঠ, জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, চান্দনা চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড এবং নরসিংদী কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসুল্লিগণের বহনকারী যানবাহন টঙ্গীস্থ কে-টু (নেভী) সিগারেট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন খোলা জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
    ইজতেমায় আগত মুসুল্লিগণের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ১১ জানুয়ারি বিকেল ৬ টা থেকে উল্লিখিত মহাসড়ক, সড়কগুলো পরিহার করে বৃহত্তর জেলাসমূহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন জয়দেবপুর থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে টঙ্গী হয়ে ডিএমপি এলাকায় প্রবেশের পরিবর্তে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, চন্দ্রা ত্রিমোড়, বাইপাইল, নবীনগর, আমিনবাজার হয়ে চলাচল করার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
    এছাড়া আগামী ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি এবং ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত বাস্তুহারা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়ক, স্টেশনরোড ওভারব্রিজ থেকে টঙ্গী রেলগেট ও মুন্নু টেক্সটাইল মিল থেকে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে যানজট এড়ানোর জন্য মটরযান ব্যতীত রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি চলাচল বন্ধ থাকবে।
    ভিভিআইপি, ভিআইপিসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইজতেমা সমাপ্ত হবে। বাসস