Category: প্রশাসন

  • বরিশালে রিক্সা চালকের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানবন্ধন

    বরিশালে রিক্সা চালকের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানবন্ধন

    বরিশাল নগরের আমানতগঞ্জে রিক্সা চালক সালাম হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে নগরের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে বৃষ্টির মধ্যে দাড়িয়ে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা।

    আজ মঙ্গলবার (১১ই জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় একর্মসূচী পালন করেন তারা। এসময় সালামের হত্যার ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করে বক্তব্য রাখেন সালামের স্ত্রী ও মামলার বাদী লিপি বেগম,সালামের শিশু কণ্যা নদী, শিশু আকাশ,মুন্নি বেগম,সালামের ফুফু সেলিনা বেগম ও স্থানীয় যুব সমাজ সেবক আলম।

    পরে তারা নগরের কালিবাড়ি রোডস্থ বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র কাছে রিক্সাচালক সালাম হত্যার সুষ্ট তদন্ত সহ বিচারের দাবি করেন।

    উল্লেখ্য ৭ই জুন সকালে আমানতগঞ্জ মুরুগর ফার্ম সংলগ্ন নির্মানাধীন মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশের পুকুর পাইলিংয়ের উপর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্বার করে কাউনিয়া থানা পুলিশ।

    এব্যাপারে সালামের স্ত্রীয় শনিবার রাতে এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখ করা সহ আরো ৪/৫ জন অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

    মামলা দায়েরের একদিনের মধ্যে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা এজাহারভূক্ত আসামী ও টাউনস্কুল রোডের বাসিন্দা শাহজাহান খানের ছেলে মেহেদী খান রাব্বি (২৫)কে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করে।

  • বরিশাল নৌবন্দরে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা বাদল আটক

    বরিশাল নৌবন্দরে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা বাদল আটক

    বরিশাল নদীবন্দর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা মোঃ বাদলকে আটক করেছে নদীবন্দর এলাকায় টহলরত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নিরাপত্তা শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসণের দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার-ভিডিপির ২০ সদস্যের প্লাটুন কমান্ডার শ্রী সঞ্জিব সিংহ এবং বরিশাল নদীবন্দরে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর পরবর্তীকালীন বিশেষ ডিউটিতে লঞ্চ যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্বাচ্ছন্দে যাতায়াতের সুবিধার্থে ঈদ পরবর্তীকালীন ৭ (সাত) দিনের বিশেষ ডিউটিতে মোতায়েন ৩০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা মোঃ সুমন মূলত এদের সম্মিলিত চেষ্টা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার কারণেই আটক করা সম্ভব হয়েছে এই ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা বাদলকে।

    প্লাটুন কমান্ডার সঞ্জিব জানায়- আমি এবং নদীবন্দরে কর্তব্যরত প্লাটুন কমান্ডার সুমন, বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা বাদলের গতিবিধি ও চলাফেরা সন্দেহ জনক মনে হলে আমরা বাদলকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী বাদল নিজেকে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেয়। তখন আমাদের সন্দেহ আরো ঘনিভূত হওয়ায় বাদলকে আটক করে বরিশাল নদীবন্দরের অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে নিয়ে যাই।

    তিনি বলেন- সেখানে পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা ও ডিপি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই মোঃ বাদল তিনি ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা। বাদলের নামে ছিনতাই ও চুরিসহ একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। আটক করার পরে বাদলকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সোপর্দ করা হয়।

    বাদলকে আটকের সাহসি অভিযানে বরিশাল নদীবন্দরে টহল ডিউটিরত প্লাটুন কমান্ডার সঞ্জিব সিংহ ও মোঃ সুমন কে সহায়তা করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে নিয়োজিত আনসার-ভিডিপি সদস্য উজ্বল, শ্রী নারায়ন ও নৌ-বন্দর বরিশালে কর্তব্যরত আনসার-ভিডিপি সদস্য মোঃ শামীম হাওলাদার।

    এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার- বলেন র‌্যাব, পুলিশ সহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি লঞ্চ যাত্রীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা শৃঙ্খলা রক্ষায় নদীবন্দরে পিসি মোঃ সুমনের নেত্বত্বে ৩০ জন আনসার সদস্য তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যে প্রতিদিন যাতায়াতকৃত লক্ষাধিক লঞ্চ যাত্রীদের নিরাপত্তা শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহসি ও প্রসংশনীয় ভূমিকা রাখায় সকল আনসার-ভিডিপি সদস্যদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    এছাড়াও ঐ সময় অত্র নদীবন্দর পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা  আয়শা সুলতানা, উপজেলা প্রশিক্ষক এ.কে.এম মোঃ ইদ্রিস হোসাইন। সার্বিক তদারকির দায়িত্বে আছেন উপ-পরিচালক ও বরিশাল জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার-ভিডিপি শেখ ফিরোজ আহমেদ।

  • আমার কাছে সব রেকর্ড আছে : ডিআইজি মিজান

    আমার কাছে সব রেকর্ড আছে : ডিআইজি মিজান

    দুর্নীতি দমন কমিশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট বললেও অভিযোগকারী ডিআইজি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তার কাছে সব রেকর্ড আছে। কমিশন থেকে ডাকা হলে তিনি তা উপস্থাপন করবেন। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে বেইলি রোডের বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে ডিআইজি মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন কমিটি করে অডিওটির সত্যতা যাচাই করুক, সংশ্লিষ্ট কমিশনে পাঠাক। এই ভোকালটা উনার (এনামুল বাছিরের) কিনা দেখুক। তাহলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

    অডিও ফাঁসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেকে সেভ করার জন্য এটা করেছি। আমার কাছে সব রেকর্ড আছে। আমাকে যখন ডাকবে তখন সব দেখাবো।’

    কেন তিনি ঘুষ দিয়েছেন—এই প্রশ্নের উত্তরে মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্নভাবে আমাকে প্রেশার ক্রিয়েট করে। বারবার দেখা করতে চায়। আমি দেখা করলাম। যখন দেখলাম যে এই লোকটা নিজেই দুর্নীতিবাজ, তখন সেটা তো প্রমাণ করতে হবে। আমি এই বিষয়টাই প্রমাণ করেছি। আমি ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়েছি। আমার স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তার সব তথ্য আছে। আমি যথাসময়ে অনুসন্ধান কমিটিকে প্রমাণ দেবো।’

    দুদকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি কমিশনের কাছে অন্যায় কিছু চাচ্ছি না। আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার চাচ্ছি। উনারা যদি সেটা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাকে আইনি আশ্রয় নিতে হবে। আমি আশা করবো তদন্ত কর্মকর্তা কোনও রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে নয়, স্বাধীন নিরপেক্ষ কমিশনের একজন সদস্য হিসেবে আমার ওপর জাস্টিস অ্যাপ্লাই করবেন।’

    জিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছিলেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। অনুসন্ধানকালে তিনি কয়েক দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। তিনি একটি অডিও ফাঁস করেন। যেখানে ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরের কথোপকথন রয়েছে। এ অভিযোগের পর কমিশন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশে এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে আলাদা তদন্ত হবে বলে গতকাল রবিবার (১০ জুন) সাংবাদিকদের জানান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

  • কে বেশি দায়ী দুদক পরিচালক না ডিআইজি?

    কে বেশি দায়ী দুদক পরিচালক না ডিআইজি?

    অনলাইন ডেস্ক :

    ঘুষ নিয়েছেন দুদক পরিচালক, আর ঘুষ দিয়েছেন পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি)। তাহলে কে বেশি দায়ী—এ নিয়েই কাল দিনভর আলোচনা ছিল। দিন শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ—দুই তরফেই বলা হয়েছে, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তথ্য পাচার, চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরকে গতকাল বিকেলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    এই আলোচনার সূত্রপাত মূলত রোববার থেকে। দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, মামলা থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দুদক পরিচালক তাঁর কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নারী নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ডিআইজি মিজানুরকে গত বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল।

    গতকাল বিকেলে অফিস শেষে বেরোনোর সময় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এনামুল ঘুষ নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। ঘুষ লেনদেনে অডিও রেকর্ডের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের ৮৭৪ জন কর্মীর সততার নিশ্চয়তা কমিশন দিতে পারে না। তবে এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। আর মিজানুর রহমানের বিষয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলা তদন্ত থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠল, এতে কমিশন বিব্রত কি না—এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন বিব্রত নয়। ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। খুনের দায়ে সাজা হয় খুনির, খুনির বাবার নয়। চেয়ারম্যান দায় এড়াতে চাইছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায় এড়াতে চান না বলেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুদক মামলা করবে।

    এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, মামলা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। তিনি চান, ওই ৪০ লাখ টাকা কী করে তিনি জোগাড় করেছেন, কমিশন যেন তা খতিয়ে দেখে। ঘুষ দেওয়াও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ, এ ব্যাপারে তাঁর অবস্থান কী—জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগে দুদকের যে কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত করছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই পরিচালকও টাকা নিলেন। প্রশ্ন হলো, দুদক কি দুর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে গেল। আর আমি তো দুদক পরিচালককে ট্র্যাপ করতে চেয়েছিলাম। ওটা ছিল আমার কৌশল। আমি তো ঘুষ দিতে চাইনি।’

    মিজানুর যে মুঠোফোন নম্বরে এনামুলের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটি কখন, কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ফোনের সিম তাঁর গাড়িচালকের নামে তোলা হলেও সেটি ব্যবহৃত হয়েছে দুদক কার্যালয়, রমনা পার্ক (যেখানে টাকা লেনদেন হয়েছে) এবং এনামুল বাসিরের বাসায়। খুব সহজেই মুঠোফোনের কণ্ঠস্বরটি এনামুলের কি না, তা–ও বের করা সম্ভব।

    মিজানুর রহমান প্রকাশ্যে ঘুষ দেওয়ার কথা বলছেন, বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর কীভাবে দেখছে, জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের দৃষ্টিতে এসেছে। খতিয়ে দেখে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বিষফোড়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

    বিষফোড়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

    নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা বিষফোড়া হয়ে উঠছে। ইয়াবা, মানব পাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

    আধিপত্য বিস্তারে তাদের মধ্যে বাড়ছে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। চলছে অস্ত্রের মহড়াও। চলতি বছরের ৭ জুন পর্যন্ত তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে খুন হয়েছেন ৩৮ রোহিঙ্গা। বাড়ছে অপহরণ, ধর্ষণসহ নানা অপরাধও। এছাড়া বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়া কিংবা ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ প্রতিদিন ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

    এভাবে ক্যাম্প ত্যাগ করে নানাভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বা জেলার চেকপোস্টগুলোতে আটক হয়ে গত দেড় বছরে প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন।

    তার মতে, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের আবাসন এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় তারা অনায়াসে ক্যাম্প থেকে যখন তখন বের হচ্ছে। এভাবে নানা উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। কোনোভাবে দেশের আনাচে কানাচে তারা ভীত গাড়তে পারলে জড়াতে পারে নানা অপরাধেও। তার আইডেনটিটি না থাকায় অপরাধ করে সহজে আত্মগোপনে যেতে পারার সম্ভাবনা শতভাগ। তাই দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্প এলাকায় কাঁটাতারের সীমানা বেষ্টনী তৈরির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে অভিমত পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইনের।

    আবার স্থানীয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের ভাষ্য, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে শিবিরগুলোকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে।

    কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি টিম গত শুক্রবার রাতে লিংকরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-জ-৪৬৭৪) জব্দ করে। গাড়িতে ১৮ রোহিঙ্গা তরুণকে পাওয়া যায়। গাড়িতে আটকরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে তৎপর আতাউল্লাহ গ্রুপের সদস্য।

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্র জানায়, আটক রোহিঙ্গা তরুণের দলটির সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার করে থাকে। এরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে খুন, ছিনতাই, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়ে আসছে।

    তারা নিজেদের আরসা বা আল ইয়াকিনের সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তারা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফের শিবিরে ঘাপটি মেরে প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

    আটকরা কোথায় যাচ্ছিল, কীভাবে তারা গাড়ির ব্যবস্থা করল এবং ক্যাম্প এলাকা ও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের একাধিক চেকপোস্ট কীভাবে পার হয়ে এল সেসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    তাদের সঙ্গে মাইক্রোবাসের চালক উখিয়ার পূর্ব কুতুপালং পাড়ার সুমন বড়ুয়া ও হেলপার কক্সবাজার সাহিত্যিকা পল্লীর মো. আমিনকেও আটক করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা মতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার।

    জেলা পুলিশের তথ্যমতে, টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের ডজনাধিক অপরাধী দল রয়েছে, যারা শিবিরের অভ্যন্তরে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট ও মাদক বিক্রির আখড়া তৈরি, মানবপাচার, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও মাদকের টাকায় আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহসহ নানা অপরাধকর্ম করছে।

    পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, টেকনাফ ও উখিয়ার শিবিরে সাতটি করে সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। এর মধ্যে টেকনাফের আবদুল হাকিম বাহিনী বেশি তৎপর। এই বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য যখন-তখন লোকজনকে অপহরণ করে। মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করে লাশ গুম করে। ইয়াবা, মানবপাচারে যুক্ত থাকার পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা নারীদের তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটায়। ২০১৬ সালের ১৩ মে টেকনাফের মুছনী রোহিঙ্গা শিবিরের পাশে শালবন আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায় হাকিম বাহিনী। এ সময় আনসার কমান্ডার আলী হোসেন তাদের গুলিতে নিহত হন। তারা লুট করেছিল আনসারের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭ শতাধিক গুলিও।

    মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের দক্ষিণ বড়ছড়ায় ছিল ডাকাত হাকিমের বাড়ি। ২০১৪ সালে রোহিঙ্গাদের পক্ষে ‘স্বাধিকার’ আন্দোলনের ডাক দিয়ে ‘আরাকান আল ইয়াকিন’ বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন তিনি। মাঝেমধ্যে ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় রোহিঙ্গাদের সংগঠিত করার ডাক দেন।

    হাকিমের পাঁচ ভাই জাফর আলম, রফিক, নুরুল আলম, আনোয়ার ও ফরিদের নেতৃত্বে অনেকে রোহিঙ্গা শিবিরের বিভিন্ন আস্তানা থেকে ইয়াবার টাকা, মুক্তিপণের টাকা, মানব পাচারের টাকা সংগ্রহ করে হাকিমের কাছে পৌঁছে দেন।

    শুক্রবার ভোরে টেকনাফে তিন রোহিঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। তারাও সম্প্রতি এক রোহিঙ্গা শিশুকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। তারাও রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাতের দলভুক্ত থাকতে পারে বলে অভিমত রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের।

    ওসি প্রদীপ কুমার দাশের মতে, এরা শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ করে এমন নয়। সুযোগ পেলে স্থানীয় বাসাবাড়ি ও সড়কেও আক্রমণ চালায়। কিন্তু বর্তমানে শৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে তারা এখন পাহাড়ের ভেতর অবস্থান করে অপহরণ ও অন্য অপরাধ করছে।

    হাকিমকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। হাকিমের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় খুন, অপহরণ ও ধর্ষণের আটটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশের তথ্যমতে, টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে আরও একাধিক বাহিনী তৎপর রয়েছে। ছাদেক, হাসান, নুরুল আলম, হামিদ, নুর মোহাম্মদ ও গিয়াসের নেতৃত্বে ১০-২০ জনের সদস্য নিয়ে বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাদেরও ছয়জন খুন হয়েছেন। অন্য সদস্যরা আত্মগোপন করায় বাহিনীর তৎপরতা এখন শিবিরে নেই।

    অপরদিকে উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়েরের মতে, উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরেও রোহিঙ্গাদের একাধিক বাহিনী সংগঠিত হতে চেয়েছিল। আমাদের কঠোরতার করণে তারা দাঁড়াতে পারেনি। এসব বাহিনীর সদস্যরা ইয়াবা কারবার ও মানবপাচারে সক্রিয় রয়েছে। আমরা তাদের শনাক্ত ও ধরতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

    পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৭ জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৮ জন রোহিঙ্গা। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৬, মার্চে ১০, এপ্রিলে ৪, মে মাসে ৫ জন ও সাত জুন পর্যন্ত ৫ জন। টেকনাফ পুলিশের ভাষ্য, ৩৮ রোহিঙ্গার মধ্যে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২১ জন। নিহতদের অধিকাংশ ইয়াবা কারবারি ও মানব পাচারকারী।

    মাদকের পাশাপাশি নারীদের উপরও নানা অত্যাচার করছে রোহিঙ্গা অপরাধীরা। গত ২৬ মার্চ বালুখালী শিবিরের ই-ব্লক থেকে পুলিশ আয়েশা বেগম (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। ধর্ষণের পর তাকে গলাটিপে হত্যা করা হয় বলে আলামত পাওয়া যায়। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মুখোশধারী একদল রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং শিবির থেকে খতিজা বেগম নামে এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যা করে মরদেহ জঙ্গলে ফেলে যায়। সম্প্রতি বালুখালী শিবিরের এক ঘরে মুখোশধারী তিন যুবক ঢুকে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।

    কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মানবিক আশ্রয়কে রোহিঙ্গারা অপব্যবহার করছে। বেঁচে থাকতে সরকারের সামগ্রিক সহযোগিতা পেয়েও নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। এরা আমাদের জন্য ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি জটিল হবে।

    কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে পুরোনো-নতুন মিলিয়ে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯১৩ জন। তালিকাভুক্ত প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবনধারণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের দেয়া অনেক পণ্য তারা বাজারে বিক্রিও করে দিচ্ছে। এরপরও গোপনে বা কৌশলে ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে রোহিঙ্গারা। মানবিক আশ্রয় দেয়ার কারণে সরকার তাদের সঙ্গে নম্র আচরণ করছে। এটার সুযোগ নিলে প্রশাসনকে আরও কঠোরতা দেখাতে হয়।

    অপরাধে জড়ানোর বিষয়ে প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, যেসব রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ বেড়েছে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

    কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ভিত্তিক মাদকের সঙ্গে বেশি জড়াচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। এটা নিয়ন্ত্রণেই তারা গ্রুপ সৃষ্টি করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। শৃংখলা বাহিনীর সকল শাখা এসব বিষয় মাথায় রেখেই ক্যাম্পে কাজ করছে। যেকোনো মূল্যে রোহিঙ্গাদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

  • বাচ্চার জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মরলেন মা

    বাচ্চার জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মরলেন মা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বাচ্চার জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে স্বপ্না বেগম (২৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    মৃত স্বপ্না উপজেলার কাইতলা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া মহল্লার ইউনুস মিয়ার মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

    নবীনগর থানার শিবপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এসআই মো. আবদুর রহিম বলেন, স্বপ্না তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

    রোববার দুপুরে বাচ্চার জন্য চুলায় দুধ গরম করার সময় তার ওড়নায় আগুন লেগে যায়। একপর্যায়ে সেই আগুনে তার পুরো শরীর পুড়ে যায়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসক স্বপ্নাকে ঢাকায় পাঠান। রাতে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

  • এইচএসসির ফলাফল জানা হলো না খাদিজার

    এইচএসসির ফলাফল জানা হলো না খাদিজার

    শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার বাঘবেড় গ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে খাদিজা বেগম নামে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়া এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে এক পুকুরে বান্ধবীদের সঙ্গে গোসল করতে নামলে এ ঘটনা ঘটে।

    খাদিজা বেগম (১৮) ওই গ্রামের শামছুল হকের মেয়ে। সে ঢাকার মির্জা আব্বাস কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, খাদিজা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এসেছে।

    সোমবার দুপুরে বান্ধবীদের সঙ্গে বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় সে সাঁতার কাটতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। পরে আশপাশের লোকজন মাছ ধরার জাল ফেলে তাকে মৃত অবস্থায় পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহফুজুল হক জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।

    ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম বলেন, এ ঘটনায় ওই পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া।

  • যাত্রীকে পিষে হত্যা, বাস চালকের পর কন্ডাক্টরকেও ধরল পুলিশ

    যাত্রীকে পিষে হত্যা, বাস চালকের পর কন্ডাক্টরকেও ধরল পুলিশ

    বাস ভাড়া নিয়ে বিতর্কের জেরে গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার এলাকায় বাস থেকে ফেলে এক যাত্রীকে চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর সোমবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে আলম এশিয়া বাসচালককে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বাসচালকের নাম রোকন উদ্দিন (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার লতিফপুর নয়াপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে।

    সোমবার বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে সোমবার রাত ৮টার দিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে ওই বাসের কন্ডাক্টর মো. আনোয়ার হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রহমান বলেন, রোববার সকালে আলম এশিয়া পরিবহনের এক যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর বাসচালক ও সহকারীদের আসামি করে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

    পরে চালক ও সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। ঘটনার পর বাসচালক রোকন উদ্দিন তার মাকে নিয়ে ময়মনসিংহের ধোবাউরা ও হালুয়াঘাট থানার সীমান্ত এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান নেয়।

    পরে সোমবার দুপুরে ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযানে যায়।

    এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রোকন উদ্দিন কংস নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশও তখন কংস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তার মা কৌশলে আত্মগোপন করে পালিয়ে যান। যাত্রী সালাহ উদ্দিন হত্যার ঘটনায় জড়িত বাসের অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

    নিহত বাস যাত্রী সালাহ উদ্দিন (৩৫) স্থানীয় আতাউর রহমান মেম্বার বাড়িতে ভাড়া থেকে স্কটেক্স অ্যাপারেল নামের পোশাক কারখানার গাড়ি চালাতেন। তিনি ঢাকার আলুবাজার এলাকার মৃত শাহাব উদ্দিনের ছেলে।

    এদিকে বাসচালককে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্যমতে সোমবার রাত ৮টার দিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে কন্ডাক্টর আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

    নিহতের স্ত্রী পারুল আক্তার জানান, শুক্রবার ঈদের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে ময়মনসিংহে বাবার বাড়ি যান। রোববার সকালে স্বামীকে নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজারের ভাড়া বাড়িতে ফিরতে ময়মনসিংহ থেকে ‘আলম এশিয়া’ বাসে ওঠেন।

    পথে বাসের ভাড়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে হেলপারের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাসের ভেতরেই স্বামী সালাহ উদ্দিনকে মারধর করেন বাসের হেলপার। মারধরের ঘটনাটি মুঠোফোনে বাঘের বাজার এলাকার স্বজনদের অবহিত করেন সালাহ উদ্দিন। বাসটি বাঘের বাজারে পৌঁছালে সালাহ উদ্দিন নেমে বাসের গতিরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় সালাহ উদ্দিনকে চাপা দিয়ে চালক দ্রুতগতিতে বাসটি নিয়ে ঢাকার দিতে চলতে থাকেন।

    পারুল আক্তার বলেন, সালাহ উদ্দিন যখন গাড়ি থেকে নেমে যান তখন আমি নামতে চাইলে হেলপার বাধা দেন। পরে আমাকে নিয়ে বাসটি চলতে শুরু করে। এ সময় কান্নাকাটি শুরু করলে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া ফু-ওয়াং কারখানার সামনে নিয়ে বাসের গতি কমিয়ে আমাকে ফেলে দেন হেলপার।

  • নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

    নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

    ঝালকাঠির নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে এক কিশোরের মাথার চুল কেটে দিয়ে অমানবিক আচরণ করা হয়।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক রবিবার বিকেলে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটায়। নির্যাতন ও চুল কাটার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার সজিব বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের আশ্রাফ আলীর ছেলে এবং জয় একই গ্রামের আবদুল ক্দ্দুসের ছেলে।

    জানা যায়, চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের পুলিশ বিভাগে কর্মরত (কনস্টেবল) মো. শাহ আলমের বাড়িতে শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রাতেই পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রামের মো. সজিব (১৫) ও জয় (১৪) নামে দুই কিশোরকে আটক করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক।

    রাত দুইটা থেকে তাদের ১৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলামের কাছে দুই শিশুকে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।

    ইউপি সদস্য তাদের নিয়ে বিচার বসায়। ওই কিশোরদের একটি গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। তাদের কাছ থেকে কবুতর চুরির স্বীকারোক্তি নেয় ইউপি সদস্য। দুই কিশোর কবুতর চুরির ঘটনা স্বীকার করলে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইউপি সদস্য। বয়স্ক এক ব্যক্তি ব্লেড দিয়ে জয় নামে এক শিশুর মাথার মাঝখান থেকে চুল কেটে দেয়। তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। পুরো ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন স্থানীয় লোকজন। চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের খালের ওপার হচ্ছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রাম। ওই গ্রামের দুই শিশু সজিব ও জয় বাখরকাঠি গ্রামের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে।

    কবুতর চুরির অভিযোগে তাদের আটক করে পরিবারের কাছে তুলে না দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিচার করেছেন। শিশুদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়। তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে কয়েকজন যুবক।

    নির্যাতনের শিকার জয় জানায়, আমাদের রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। কোন কিছু খেতে দেওয়া হয়নি। দফায় দফায় মারধর করেছে। যারা মেরেছে, আমরা তাদের চিনি না। বিকেলে সালিশ মীমাংসার কথা বলে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে মেরেছে। চুল কেটে দিয়েছে। আমার বাবা এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।

    জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। জরিমানার টাকা দুইদিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। আমি টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি। আমার ছেলের ছবি ফেসবুকে দিয়েছে। অনেকে ফোন করে আমার কাছে ঘটনা জানতে চায়। আমি বিষয়টি নিয়ে লজ্জায় পড়েছি। আমরা গরিব বলে আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হবে, এর কোন বিচার হবে না।

    ঝালকাঠির শিশু সংগঠক কাজী খলিলুর রহমান বলেন, শিশুদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর এবং চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও দেখেছে। এটা অমানবিক। যারাই করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরণের ঘটনা আর না ঘটে।

    সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলে দুটি আমাদের গ্রামে এসে কবুতর চুরি করেছে। আগেও কয়েকজনের বাসা থেকে কবুতর নিয়ে গেছে। সবকিছু তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে। আমি তাদের আটকও করিনি, মারধরও করিনি, চুলও কাটিনি। স্থানীয় লোকজন এ কাজগুলো করেছে। এটা ভালো হয়েছে, না খারাপ হয়েছে; সেটা তারাই ভালো জানেন। আমি কোন বিচার ব্যবস্থাও করিনি।

    সিদ্ধকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জেসমিন ওবায়েদ বলেন, আমার একমাত্র মেয়ের আকদ অনুষ্ঠান ছিল বরিশালে, আমি সেখানে ব্যস্ত ছিলাম। তবে বিষয়টি অল্প অল্প শুনেছি। মেম্বারেও আমার কাছে কিছু বলেনি। আমি সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি দেখবো।

    নলছিটি থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি ইউপি সদস্যর কাছ থেকে শুনেছি। কবুতর চুরির সময় হাতে নাতে দুই শিশুকে আটক করে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে চুল কেটেছে কিনা, এটা খবর নিয়ে জানবো। কোন অপরাধ হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সেনা কর্মকর্তাকে রাক্ষুসে মাছ পিরানহা ভর্তি পুকুরে ফেললেন কিম

    সেনা কর্মকর্তাকে রাক্ষুসে মাছ পিরানহা ভর্তি পুকুরে ফেললেন কিম

    যত দিন যাচ্ছে, তত যেন আরও নৃশংস হয়ে উঠছেন উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন। একেবারে জেমস বন্ডের ছবির আদলেই এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে রাক্ষুসে পিরানহা মাছ ভর্তি পুকুরে ফেলে নাকি হত্যা করেছেন কিম।

    সংবাদ মাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’ সূত্রে খবর, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক সেনাকর্তাকে হিংস্র পিরানহা ভরা পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে হত্যা করলেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উন।

    গত মে মাসে আমেরিকায় তার দূত হিসেবে পাঠানো কূটনীতিকের পরে কিমের অভিনব হত্যালীলায় এটিই সাম্প্রতিকতম সংযোজন।

    সূত্রের খবর, কিমের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করেছিলেন ওই কর্মকর্তা। কোনওভাবে সেই খবর পৌঁছে যায় তার কাছে। তারপরই ওই সেনাকর্তাকে হত্যার নির্দেশ দেন কমিউনিস্ট দেশটির প্রধান। তবে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি অত্যন্ত নৃশংস ছিল। প্রথমে ওই সেনাকর্তার হাত, পেট ও পা ধারাল চাকু দিয়ে চিড়ে ফেলা হয়। তারপর তাকে ফেলে দেয়া হয় পিরানহা ভরা পুকুরে।

    রক্তের গন্ধে ধেয়ে আসে হাজার হাজার রাক্ষুসে মাছ। মুহূর্তের মধ্যে অসহায় মানুষটিকে আঁচড়ে, কামড়ে জীবন্ত খেয়ে ফেলে তারা। বিদ্রোহীদের বার্তা দিতেই এই পন্থা নিয়েছেন কিম, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

    অনেকের ধারণা, ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া জেমস বন্ডের ছবি ‘ইউ ওনলি লিভ টোয়াইস’ ছবি থেকেই এই অভিনব হত্যার ছক সাজিয়েছেন কিম বলেই মনে করছেন অনেকে। ওই ছবির ভিলেন ব্লোফিল্ডের একটি পিরানহা ভর্তি পুকুর ছিল, যেখানে ছুঁড়ে ফেলে সহকারী হেলগা ব্র্যান্ডকে সে খুন করার ফন্দি এটেছিল। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও কোন দোষ পেলেই হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন কিম।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করিয়ে খুন করা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার বিশেষ দূত কিম হায়োক চোল ও তার সঙ্গী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চার কর্মকর্তাকে। তারপরই এমন কাণ্ডে আবারও কিমের নৃশংসতায় শিউড়ে উঠছে বিশ্ববাসী।