Category: ঝালকাঠি

  • ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে ২ শিশুর মৃত্যু

    ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে ২ শিশুর মৃত্যু

    ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে লামিয়া আক্তার (৪) ও রমজান হাওলাদার (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম।

    নিহতরা হলেন-উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের আখড়পাড়া এলাকার কামাল হাওলাদারের মেয়ে ও রানা হাওলাদারের ছেলে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।

    নিহত রমজানের দাদা আমির আলী হাওলাদার বলেন, বুধবার দুপুরে দুইজন বাহিরে খেলা করছিল। এ সময় কুড়িয়ে পাওয়া ইঁদুর মারার ওষুধ দেখতে পান তারা। একপর্যায়ে ওই ওষুধ তারা খেয়ে ফেলে। পরে বিষয়টি পরিবারের লোকজন টের পেয়ে তাদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

    নলছিটি থানার ওসি আবদুস সালাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

  • আমরা একে অপরের ভাই, কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো: আদালতে আমু

    আমরা একে অপরের ভাই, কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো: আদালতে আমু

    সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু রিমান্ড শুনানি চলাকালে আদালতে বলেছেন, আমরা একে অপরের ভাই ভাই। মিলেমিশে থাকা উচিত। আমরা একসঙ্গে থাকবো। কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো? আশা করছি, এ পরিবেশ থাকবে না।

    বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে তিনি এ কথা বলেন।

    এদিন রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

    এদিকে ফারুকীর বক্তব্য রাজনৈতিক বলে মন্তব্য করায় আমুর আইনজীবী স্বপন রায় চৌধুরীকে আদালত থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় আদালতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখা যায়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পরিস্থিতি শান্ত করেন।

    এরপর আমুর পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত আমুর বক্তব্য শুনতে চান।

    তখন আমু বলেন, আমি ঢাকা বারের সদস্য, হাইকোর্ট বারের সদস্য। এখানকার পরিবেশ দেখে দুঃখিত। এই পরিবেশে কিছু বলা উচিত না। মামলা চলবে, ভবিষ্যতে আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপন করবো। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনেক কথা বলেছেন। আমি একজন রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে গেলে দুই ঘণ্টা লেগে যাবে।

    তিনি বলেন, আমরা একে অপরের ভাই। মিলেমিশে থাকা উচিত। আমরা একসঙ্গে থাকবো। কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো? আশা করছি, এ পরিবেশ থাকবে না।

    তখন বিএনপির আইনজীবীরা চিৎকার শুরু করেন। তারা বলেন, তিনি ভয় দেখাচ্ছেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাদের শান্ত করেন।

    পরে আমু বলেন, আমরা যার যার পক্ষ অবলম্বন করবো। নিজেরা নিজেরা কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো।

    এরপর ওমর ফারুক বলেন, যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন তখন কি খবর নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বারের। আইনজীবীরা তো ভালোই ছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময় সিল মেরে ভোট নিয়ে গেছে, আইনজীবীদের মারধর করেছে। তখন তিনি কি ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    তখন আমু বলেন, প্রথমবার যখন গোলমাল হয় আমি এর বিরোধিতা করি। ভোট দিতে আসিনি, বয়কট করেছি।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় পুলিশের গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।

  • ঝালকাঠিতে ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, শিক্ষার্থী নিহত

    ঝালকাঠিতে ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, শিক্ষার্থী নিহত

    ঝালকাঠির রাজাপুরে ট্রলির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের বারবাকপুর এলাকায় বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুয়েল (১৬) উপজেলার কাঠিপাড়া গ্রামের লোকমান খন্দকারের ছেলে ও শুক্তাগড় মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন জানান, রাতে নৈকাঠি এলাকা থেকে দ্রুত গতির মোটরসাইকেলটি রাজাপুরের দিকে যাচ্ছিল।

    পথে হঠাৎ বারাকপুর এলাকায় একটি ট্রলির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জুয়েল নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত নিলয় ও সোহানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।

    এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • ঝালকাঠিতে আমুর ছায়ায় কোটিপতি ডজনখানেক

    ঝালকাঠিতে আমুর ছায়ায় কোটিপতি ডজনখানেক

    আওয়ামী শাসনামলের ১৬ বছরে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) নির্বাচনি এলাকার অন্তত ডজনখানেক আওয়ামী লীগ নেতা। দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সমন্বয়ক সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ছায়ায় থেকে অনৈতিক উপায়ে তারা এ সম্পদের মালিক হয়েছেন। নেতার (আমু) ছায়ায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, দখল, সন্ত্রাসসহ অবৈধ নানা উপায়ে তারা হয়েছেন কোটিপতি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে অবশ্য এদের কেউই আর এলাকায় নেই। তবে তাদের আলিশান ভবন ঠিকই রয়ে গেছে দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাত ঝালকাঠিতে।

    নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়ের রেকর্ড খুব একটা না থাকা আমু সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে হেরে যান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মরহুম জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে। নির্বাচনে হারলেও টেকনোক্রেট কোটায় তাকে খাদ্যমন্ত্রী করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০০ সালে এমপি ভুট্টোর রহস্যজনক মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে অনেকটা জোর করে তার স্ত্রী ইলেন ভুট্টোকে হারিয়ে এমপি হন আমু। ২০০১’র নির্বাচনে অবশ্য সেই ইলেন ভুট্টোর কাছেই তিনি আবার হেরে যান। এরপর তার কথিত জয়যাত্রা শুরু হয় ২০০৮’র নির্বাচন থেকে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বর্জন ও একতরফা নির্বাচনে পরপর চারবার এমপি হন তিনি। এর মধ্যে একবার তিনি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ক্ষমতায় থাকাকালে পুরো ঝালকাঠিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মূর্তিমান আতঙ্ক হিসাবে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর মাঠে নামা তো দূর, নাম মুখে নিলেও হতে হতো হামলা, মারধর আর মামলার শিকার। আমুর এসব কর্মকাণ্ড দেখভাল করতেন ঝালকাঠিরই কিছু নেতা। আমুর শিষ্য হিসাবে তারাই নিয়ন্ত্রণ করতেন পুরো জেলার টেন্ডার, চাঁদাবাজিসহ অবৈধ আয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম। বিনিময়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের পার্সেন্টেজ পৌঁছে যেত আমুর কাছে। তার নিজস্ব লোক হিসাবে মাঠে থাকা এসব নেতাও পকেটে পুরতেন কোটি টাকা। এভাবে টানা ১৬ বছরের অবৈধ আয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া নেতাদের তালিকাটাও বেশ দীর্ঘ।

    জিএস জাকির : পুরো নাম রেজাউল করিম জাকির। ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে একবার জিএস নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সবাই তাকে চেনে জিএস জাকির নামে। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এই জাকির ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত ঝালকাঠিতে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। সাধারণ পরিবার থেকে আসা জাকিরের নেতৃত্বেই চলত বিএনপিসহ আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা ভাঙচুর মারধর। আমুকে তিনি সম্বোধন করতেন ‘আব্বা’ বলে। নিয়ন্ত্রণ করতেন ঝালকাঠির বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঠিকাদারি। ই-টেন্ডারে কাজ পেলেও মোটা অঙ্কের টাকা না দিয়ে কেউ কাজ করতে পারতেন না। আমুর নাম ব্যবহার করে বহু মানুষের জমি দখল ও ইটভাটা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জাকিরের নেতৃত্বে ছিল বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ঝালকাঠিতে বিশাল ভবন, বিকনা ও কুনিয়ারী এলাকায় কয়েকশ’ বিঘা জমি, ঢাকায় প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন জাকির।

    নূরুল আমিন খান সুরুজ : কৃষকের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুরুজের উত্থান সত্যিকার অর্থেই বিস্ময়কর। আমুর গ্রামের বাড়ি শেখেরহাটের সুরুজ ছিলেন নেতার বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার। তাকে শেখেরহাটের ইউপি চেয়ারম্যানও করেছিলেন আমু। আমুর হয়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তা বণ্টনের দায়িত্বে ছিলেন সুরুজ। ব্যয়বহুল কাজগুলো করতেন তিনি নিজেই। বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া চাঁদা এবং ঠিকাদারির পার্সেন্টেজের টাকা পৌঁছে দিতেন আমুকে। এসব করে এরই মধ্যে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন সুরুজ। তার ছেলে লেখাপড়া করে কানাডায়। সেখানে তার বাড়িও রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট। ঝালকাঠিতেও তার বিশাল আয়তনের বসত বাড়ি রয়েছে।

    কামাল শরীফ : জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল শরীফের সবচেয়ে বেশি আনাগোনা ছিল এলজিইডি অফিসে। আমুর ছায়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের শত শত কোটি টাকার কাজ করেছেন তিনি। জেলার প্রায় সব গার্ডার ব্রিজ কামাল শরীফের করা বলে এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এসব কাজ তিনি অনেকটা জোর করেই ছিনিয়ে নিতেন। কামাল শরীফের বাবা খালেক শরীফ ছিলেন একজন লবণ শ্রমিক। সৎপথের চেষ্টাতেই তিনি লবণ মিলের মালিক হয়েছিলেন। তবে বাবার পথে না গিয়ে কামাল বেছে নেন শর্টকাট। নেতার ক্ষমতার বলে বলিয়ান হয়ে হামলা মারধর কবজি কর্তনসহ হেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই যা তিনি করেনি। বিনিময়ে তিনি বনে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক। নিজের একটি জুতা কোম্পানিও রয়েছে। ঢাকার বসুন্ধরা শপিং মলসহ দেশের বহু জায়গায় তার শোরুম রয়েছে। অবৈধ আয়ের টাকায় ময়দা মিলের মালিকও হয়েছেন কামাল শরীফ।

    হাফিজ আল মাহমুদ : থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ ছিলেন ২নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর। বরগুনার ছেলে হাফিজের মামাবাড়ি ঝালকাঠি। এখানে থেকেই তিনি ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। ওস্তাদের (আমু) শিষ্য হয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সব ঠিকাদারি দপ্তর আর আয় বাণিজ্যের কেন্দে । অনৈতিক পন্থায় কামিয়েছেনও দুই হাতে। ঝালকাঠি শহরে গড়েছেন বিশাল কমিউনিটি সেন্টার। রাজধানী ঢাকার পুলিশ হাউজিংসহ বিভিন্ন লোকেশনে তার জমি ফ্ল্যাট, ঝালকাঠি শহরে ডিসি অফিসের সামনে ৭তলা একটি ভবন দখলের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া একরের পর একর জমি কেনা, দখল, বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

    তরুণ কর্মকার : বাবা নিরঞ্জন কর্মকার ছিলেন নাম করা ইংরেজি শিক্ষক। ছেলে তরুণ কর্মকার পরিচিতি পান ‘চুক্তিতে সমস্যা সমাধান’র মাস্টার হিসাবে। যখন তখন যেখানে সেখানে আমুর সঙ্গে কানে মুখে কথা বলার ক্ষমতা থাকা তরুণ ছিলেন যেকোনো সমস্যা সমাধানের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। বলাবাহুল্য সমস্যা সমাধানের বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকাও নিতেন। কথিত আছে, সেই টাকার একটি অংশ যেত আমুর পকেটে। বাড়ি দখল বা উচ্ছেদ, বদলি, পদোন্নতি, চাকরি, থানা পুলিশের তদবির, সবই করতেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে থাকা তরুণ। ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় দারুণ অর্থকষ্ট ছিল এই তরুণের। তবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা এবং আমুর স্নেহধন্য হওয়ার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। স্নেহের তরুণকে হিন্দু কমিউনিটির নেতা বানিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে দেন আমু। বর্তমানে বাড়ি জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক তরুণের কলকাতার সল্টলেকেও বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দেশে তিনি তেমন কোনো সম্পদ করেনি। তার অধিকাংশ সম্পদ বিদেশে।

    মনিরুল ইসলাম তালুকদার : ঝালকাঠির সবাই তাকে চেনেন মনির হুজুর হিসাবে। আছেন জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে। বাবা লিয়াকত আলী তালুকদার ছিলেন ব্যবসায়ী। ২০০১ সাল থেকে ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত মনির ফুলেফেঁপে ওঠেন আওয়ামী লীগ আমলে। ঠিকাদারিভিত্তিক সব দপ্তরেই ছিল তার একক আধিপত্য। নেপথ্যে আমুর প্রশ্রয় থাকায় সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও তাকে ভয় পেতেন। দক্ষিণের পরিচিত গাবখান সেতুর ইজারা বাগিয়ে নেন বেশ কয়েকবার। টেন্ডারবাজি আর দুর্নীতি সমানতালে করতেন মনির। আমুকে ম্যানেজ করে পরপর দুবার তিনি ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র বানিয়েছেন বাবা লিয়াকত তালুকদারকে। জোর করে ঝালকাঠি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হওয়া মনির দুদকের মামলায় জেলও খেটেছেন। স্ত্রী সন্তান কানাডায় থাকা মনিরের সেখানে বাড়ি সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, রাজাপুর উপজেলায় ক্লিনিক এবং বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন মনির।

    এদের পাশাপাশি আমুর প্রশ্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি টেন্ডার আর চাঁদাবাজি করে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়ার তালিকায় আরও রয়েছেন বাসন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুল ইসলাম ওরফে চাউল মনির, শেখেরহাটের রফিকুল ইসলাম নবিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাঝাভাই, খন্দকার ইয়াদ মোরশেদ প্রিন্স, থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বনি আমিন বাকলাই, শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছবির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিল ও শারমিন কেকা, জেলা মহিলা লীগের সম্পাদক ইসরাত জাহান সোনালী এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন। এরা প্রত্যেকেই আলিশান বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, অয়েল ট্যাংকারসহ বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন আমুর ১৬ বছরের আমলে। উল্লিখিতদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মোবাইলে ফোন দিলে প্রায় সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। একমাত্র নূরুল আমিন খান সুরুজের হোয়াটস্অ্যাপ খোলা থাকলেও কল দিলে তিনি ফোন ধরেননি।

  • আমুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

    আমুর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

    নিয়োগ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার ( ২৩ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আদালত বরাবর ওই আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    গত ১৫ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রকল্পে অনিয়ম করে অর্থ আত্মসাতসহ দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। এর পরপরই দুদক উপপরিচালক রেজাউল করিম, সরকারি পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠীতে নিজ নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আমু।

    তার নামে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। তিনি নিজ নামে, স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে সম্পদ অর্জন করেছেন।

    প্রসঙ্গত, গত ৬ আগস্ট আমুর ঝালকাঠির বাসভবন থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর ১৮ আগস্ট তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তার সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়।

  • ঝালকাঠির চার থানার ওসিকে বদলি

    ঝালকাঠির চার থানার ওসিকে বদলি

    ঝালকাঠি জেলার চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একযোগে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (৭ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার ঢাকা পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-২ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ ইমরান।

    অতিরিক্ত ডিআইজি (অতিরিক্ত দায়িত্বে) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ৪২ জন পুলিশ পরিদর্শককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ও রাজাপুর থানার ওসি মু. আতাউর রহমানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) এবং কাঁঠালিয়া থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন সরকার ও নলছিটি থানার ওসি মো. মুরাদ আলীকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বদলি করা হয়েছে।

  • আমু ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক, আলোচনায় তার পালিত মেয়েও

    আমু ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক, আলোচনায় তার পালিত মেয়েও

    গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের দায়ের করা প্রথম তিনটি মামলায় আসামি করা হয়নি সাবেক এমপি আমির হোসেন আমুকে। ১৪ দলের এই সমন্বয়ক ঝালকাঠিতে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক।

    অর্থবিত্তে ঠিক কতটা ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন সাবেক এমপি আমির হোসেন আমু তা জানা সম্ভব না হলেও তার সঙ্গে থাকা ছোট নেতারাও বনে গেছেন কোটিপতি। ৫ আগষ্টের আগ পর্যন্ত দোর্দণ্ড প্রতাপে ঝালকাঠি শাসন করা এই আওয়ামী লীগ নেতার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানে না কেউ। তার বিত্তের ভান্ডার দেখাশোনা করা ফখরুল মজিদ কিরনও আত্মগোপনে। সম্পর্কে ভায়রা এই কিরনের মাধ্যমেই ঠিকাদারি আর চাকরিসহ সব সেক্টর থেকে পার্সেন্টেজ আদায় করতেন আমু। যার সর্বশেষ চালানের পাঁচ কোটি টাকা ৫ আগস্ট রাতে উদ্ধার হয় ঝালকাঠি শহরের রোনালস রোডে থাকা সাবেক এই মন্ত্রীর বাসভবন থেকে। ওই ঘটনায় সেফ্র একটি সাধারণ ডায়রি করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ৩৫ দিনেও।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমুর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কখনোই পায়নি কেউ। মৃদু প্রতিবাদেও ধ্বংস হয়ে যেত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। কেবল আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি নেতারাও ভয়ে কখনো কথা বলত না তার বিরুদ্ধে। যেন সবার কাছেই জ্যান্ত আতঙ্ক ছিলেন ১৪ দলের সমন্বয়ক এই নেতা। হাসিনা সরকারের পতনের পর ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতাদের করা প্রথম তিনটি মামলায় আসামি করা হয়নি তাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলে ২ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া সর্বশেষ মামলায় অনেকটা দায়সারাভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় তার নাম। তাও সেই মামলার বাদী হননি বিএনপির দায়িত্বশীল কেউ।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে ঝালকাঠির একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘ক্ষমতার আমল কেবল নয়, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আমু প্রশ্নে নেতিবাচক কিছু বলার সাহস পেত না কেউ। অথচ ঝালকাঠিতে হেন দুর্নীতি নেই যা করেননি এই নেতা। সব দপ্তরের ঠিকাদারি কাজে নির্দিষ্ট অঙ্কের পার্সেন্টেজ দিতে হতো তাকে। টিআর কাবিখা আর সংসদ-সদস্যদের নামে বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও নিতেন টাকা।’

    নলছিটি উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে গত বছর নৈশপ্রহরী, অফিস সহকারী ও আয়া পদে তিনজন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে আমির হোসেন আমুর নির্ধারিত প্রতিনিধিকে। কেবল আমি নই, সব বিদ্যালয়সহ সব ধরনের নিয়োগেই ছিল একই নিয়ম।’

    ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যত ধরনের ঠিকাদারি টেন্ডার, সব ক্ষেত্রেই আমুকে দিতে হতো টাকা। ঠিকাদার নির্বচান প্রশ্নেও তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। ই-টেন্ডার চালু হওয়ার পরও নানা কৌশলে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। কথা না শুনলে কেবল বদলি নয়, শারীরিক মানসিকভাবেও হতে হতো হেনস্তা।’ সড়ক বিভাগের মতো এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর, গণপূর্ত, থানা প্রকৌশলী এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল একই অবস্থা।

    বেপরোয়া এই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে গত ১৬ বছর ধরে শত শত কোটি টাকা আয় করলেও দেশে আমির হোসেন আমুর তেমন কোনো সম্পদের সন্ধান মেলেনি। ঝালকাঠির রোনালস রোডে ভবন, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডে প্রাসাদসম আলীশান বাড়ি এবং রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে বেশ বড়সড় একটি বাগানবাড়ি রয়েছে তার।

    আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর তেমন একটি ভরসা ছিল না তার। অথবা এমনও হতে পারে যে ব্যাংকে গেলে ছিল ধরা পড়ার ভয়। বস্তায় বস্তায় টাকা তিনি রাখতেন বাড়িতে। যার প্রমাণ মেলে ৫ আগস্ট। বিক্ষুব্ধ জনতা ওইদিন হামলা ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয় তার রোনালস রোডের বাড়িতে। ভাঙচুর চলাকালেই বহু মানুষকে দেখা গেছে বাড়ি থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে বের হতে। তারপরও আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে কয়েক বস্তা ভর্তি টাকা। গোনার পর যার সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ কোটিরও বেশি। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। ঝালকাঠির মতো বরিশাল নগরীতে থাকা আমুর প্রাসাদেও হামলা ভাঙচুর হয় সেদিন। সেখান থেকেও বান্ডিল বান্ডিল টাকা নিয়ে বের হয় হামলাকারীরা।

    যার বাড়িতেই থাকে বস্তা বস্তা টাকা সেই মানুষটার দেশে মাত্র তিনটি বাড়ি ছাড়া আর কিছু নেই- ভাবতেই যখন খটকা লাগে ঠিক তখনই আলোচনায় আসে তার পালিত মেয়ে সুমাইয়া হোসেনের নাম। ব্যক্তি জীবনে নিঃসন্তান আমু তার শ্যালিকা মেরী আক্তারের কন্যা এই সুমাইয়াকে পালক হিসেবে নেন আরও বহু বছর আগে। বর্তমানে দুবাইতে থাকা এই সুমাইয়ার বিয়েও হয়েছে দুবাই প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে। অবৈধ পন্থায় আয় করা শতকোটি টাকা ওই মেয়ের কাছে পাঠিয়েছেন আমু, এটাই আলোচনা ঝালকাঠি শহরে।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে টাকা পেতেন না আমু। সব টাকাই নগদে পৌঁছাত তার কাছে। লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে কাজ করতেন ভায়রা ফখরুল মজিদ কিরন। এই কিরনও ছিলেন একটি রহস্যময় চরিত্র।

    শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে আমুর এপিএস ছিলেন কিরন। সর্বশেষ সরকারে আমুকে মন্ত্রী করা না হলেও তার সংস্পর্শেই থেকে যান তিনি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো আমুর পাশাপাশি সদ্য সাবেক সরকারে দায়িত্ব পালন করা শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনেরও এপিএস ছিলেন কিরন।

    ঝালকাঠির বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আলোচিত এই কিরনের বাড়ি ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলায়। সর্বশেষ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনের আপন ছোট ভাই কিরন তার নিজের এলাকা বাদ দিয়ে পড়ে থাকতেন ঝালকাঠি। কেবল সম্পদ ভান্ডারের দেখাশোনা আর পার্সেন্টেজ আদায় নয়, নির্বাচনি এলাকায় আমুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করতেন তিনি।

    পরিচয় না প্রকাশের শর্তে নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো কিরনের। উন্নয়নমূলক সব কাজের ভাগ-বাটোয়ারা করতেন তিনি। তার কথার বাইরে বলতে গেলে এক পা-ও চলতেন না আমু। পরিস্থিতি এমন ছিল কিরন যেন ছিলেন আমুর ছায়া। এই কিরনের মাধ্যমেই নির্বাচনি এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন আমু। যার প্রায় পুরোটাই এখন দুবাইতে তার মেয়ে সুমাইয়ার কাছে আছে বলে ধারণা সবার। এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য আমু ও কিরনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি কাউকে। মোবাইলে খুদে বার্তা দিয়েও মেলেনি উত্তর।

    ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম বলেন, সাবেক এমপির বাসা থেকে পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আমরা একটি সাধারণ ডায়রি করেছি। টাকা জমা আছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

  • ঝালকাঠিতে ২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    ঝালকাঠিতে ২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

    ঝালকাঠির সদর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় দুইজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট বাজারে সাঈদুর রহমান স্বপন (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

    শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে বাজারে নাস্তা করতে এলে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে।

    নিহত স্বপন ডাকাতি ও হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিনে ছিলেন। তিনি শেখেরহাট ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মরহুম মতিউর রহমানের ছেলে।

    পুলিশ স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল ১০ টার দিকে শেখেরহাট বাজারে স্বপনকে চার হাত ও পায়ের রগ কেটে উপুর্যপুরি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বিত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল করে বাজারে এসে সাঈদুর রহমান স্বপনকে উপুর্যপুরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

    ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা স্বপনকে হত্যা করেছে, স্থানীয় লোকজন দেখে থাকলেও মুখ খুলতে চাচ্ছে না। তবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: মহিতুল ইসলাম জানান, দুপুর সারে ১২টায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যা ঘটনায় জড়িত সিসিটিভি ফুটেজে দুই দুর্বৃত্তকে দেখা যায়।

    অপরদিকে ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো: সুলতান খান (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুলতান খান জাঙ্গালিয়া এলাকার মরহুম ওয়াজেদ আলি খানের ছেলে। এ ঘটনায় আফজাল হোসেন খান, হেলাল খান, হেলেনা বেগম নামের আরো তিন জন আহত হয়েছেন।

    নিহতের পুত্রবধু ফাতিমা ও রুমা বেগম বলেন, প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রতিপক্ষ বাচ্চু, জাকির, ইলিয়াস, শহিদ, মনির ও স্বপনসহ অনেকে মিলে বিরোধীয় ওই জমিতে বীজ রোপণ করতে আসে।

    এ সময় তাদেরকে বাঁধা দিলে পুত্রবধু রুমার ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। রুমাকে তার শ্বশুর সুলতান খান বাঁচাতে এলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং রুমাসহ তিনজনকে আহত করে। পরে স্থানীয়রা নিহত সুলতান খানসহ আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

    রাজাপুর উপজেলা ম্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কত্যর্বরত চিকিৎসক ডা. শাহেদ খান জানায়, সুলতান খানকে নিহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে এবং আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আতাউর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যা ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হয়ছে।

    কাঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • নববধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

    নববধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

    ঝালকাঠির রাজাপুরের কানুনিয়া গ্রামে যৌতুক দিতে না পারায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নববধূ নাজমা আক্তারকে (১৯) কে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী জাহিদ হোসেন ও তার মা পলাতক রয়েছে।

    সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নাজমার মা ফরিদা বেগম ও বোন ময়না বেগম অভিযোগ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই পরীক্ষার্থীকে বিষ খাওয়ানো হয় এবং বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে মারা যায় বলে ওই পরীক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ। নিহত নাজমা পিরোজপুরের কাউখালির গুয়াটন কলেজ এলাকার বৌলাকান্দা এলাকার আবুল বাসারের মেয়ে ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার গুয়াটন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

    অভিযুক্ত স্বামী মুদি দোকানী জাহিদ হোসেন উপজেলার কানুনিয়া গ্রামের আবু বকররের ছেলে। নাজমার মা ফরিদা বেগম ও বোন ময়না বেগম অভিযোগ করে জানান, চলছি বছরের ৮ মার্চ পারিবারিক ভাবে বিয়ে হওয়ার পর থেকে বেশি পরিমানে দামী যৌতুক দিতে না পারায় যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় মারধর ও শারিরীক মানসিক নির্যাতন করতো। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজমার স্বামীনও তার শাশুড়ী মিলে মারধরের এক পর্যায়ে তাকে বিষ খাওয়ায় বিষয় নাজমা তার বোন ময়নাকে জানালে তারা গিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    এমনকি নাজমাকে তার বাবার বাড়িতে দাফন করা হলেও জামাতা বা শ্বশুরবাড়ির কেহ যায়নি। জামাতা জাহিদ মোবাইল জুয়ায় আসক্ত ও নেশাগ্রস্থ বলেও অভিযোগ করে এঘটনার বিচার দাবি করেন নাজমার পরিবার। এ বিষয়ে রাজাপুর থানায় সোমবার সন্ধ্যায় অভিযোগ দিলে পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাজাপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বিপুল জানান, অভিযুক্ত ছেলের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালাবদ্ধ দেখা গেছে এবং ছেলে ও ছেলের মা পলাতক রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

    ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

    ঝালকাঠির নলছিটিতে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের বরইতলা এলাকার ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ আলী নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত ব্যক্তির নাম মো. রিয়াদ তালুকদার (২৪)। আহত ব্যক্তির নাম পিয়াল (২২)।

    স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার বরইতলা এলাকায় ঝালকাঠিগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বরিশালগামী মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রিয়াদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পিয়াল ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি নিহত রিয়াদের বন্ধু।

    নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ আলী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।