Category: বরিশাল

  • বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর রেঞ্জসহ পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার ১৬ কর্মকর্তার বদলি

    বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল রেঞ্জসহ উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার ১৬ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

    রোববার (১৬ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ।

    বদলি হওয়া কর্মকর্তারাদের মধ্যে সিআইডির ডিআইজি মো. আবু কালাম সিদ্দিককে ট্যুরিস্ট পুলিশে, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি (বর্তমানে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এ কে এম নাহিদুল ইসলামকে সিআইডিতে, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) বিপ্লব বিজয় তাললুকদারকে পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) রাজশাহী, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামানকে ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজে, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হককে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রাজশাহী মহানগরী পুলিশ কমিশনার মো. আনিসুর রহমানকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি করা হয়েছে।

    রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মো. আবদুল বাতেনকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদকে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের মো. জামিল হাসানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি (বর্তমানে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রখফার সুলতানা খানমকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. জাকির হোসেন খানকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

    এছাড়াও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি (বর্তমানে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামানকে এসবিতে, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (বর্তমানে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকীকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে, টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) মো. ময়নুল ইসলামকে ঢাকা ট্রেনিং ড্রাইভিং স্কুলে ও ঢাকা ট্রেনিং ড্রাইভিং স্কুলের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) মো. নজরুল ইসলামকে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

  • সন্ধ্যা হলেই মশার দখলে বরিশাল  মশক নিধনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই সিটি করপোরেশনের

    সন্ধ্যা হলেই মশার দখলে বরিশাল মশক নিধনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই সিটি করপোরেশনের

    বরিশালে প্রতিদিন সন্ধ্যার সাথে সাথেই উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। তবুও মশক নিধনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই সিটি করপোরেশনের। ফলে মশা নিধনে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছে নগরবাসী।

    নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, তার বাসার সড়কে গত একমাসেও কেউ মশার ওষুধ স্প্রে করতে আসেনি। মাঝে মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার লোক আসে। তাদের টাকা না দিলে কাজ করে না। তাঁরা বাসার আশেপাশের এলাকা পরিষ্কারের জন্য টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে চলে যায়। অথচ এই কাজের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।

    ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা পলাশ হোসেন বলেন, নতুনবাজার হলো মশার কারখানা। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে মশা ভনভন শব্দে যেভাবে ঘিরে ধরে, মনে হয় উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, শুধু রাতে নয়, দিনেও মশায় কামড়ায়। কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। মশার যন্ত্রণা বন্ধ করতে সিটি করপোরেশনের আন্তরিক পদক্ষেপ দরকার।

    ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সফোর্ড মিশন রোডের বাসিন্দা ইউসুফ শিকদার বলেন, আগে দেখতাম সন্ধ্যা হলে মশার উৎপাত শুরু হয়। এখন দিন-রাত সমান তালে মশার যন্ত্রণা। তবে সন্ধ্যার পর তা চরমে পৌঁছে। তখন কয়েল বা স্প্রে ছাড়া ঘরে থাকা যায় না। মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সাবেক সভাপতি শাহ সাজেদা বলেন, নগরীর সবখানেই মশার উৎপাত। মশা নির্মূলে জোড়ালো ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

    সাগরদী বিড়ি ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মনির গাজী বলেন, তার এলাকায় মাঝে মধ্যে স্প্রে করতে লোক যায়। কিন্তু স্প্রে করে আসার পর মশা আবার বেড়ে যায়। কী দিয়ে স্প্রে করে তা তো আমরা সাধারণ মানুষ জানি না। তিনি বলেন, যেসব জায়গায় মানুষের চলাচল সেখানে স্প্রে করে। অপরিচ্ছন্ন জায়গা বা মশার উৎসস্থলে স্প্রে করে না। এতে করে মশা কোনভাবেই কমচ্ছে না।

    খান সড়ক এলাকার গৃহবধূ নাসিমা আক্তারেরও একই অভিযোগ। তার বাসার পেছন থেকে সাগরদী খালের একটি অংশ রয়েছে। ওই খালের দুই পাড় ভরাট হয়ে সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেখানে ময়লা আটকে থাকে। ওই ময়লায় জন্ম নিচ্ছে মশা।

    পরিবেশ রক্ষা ও সমাজকর্মী কাজী মিজানুর রহমান বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকার ডোবা, নালা, ড্রেন, খাল, মজা পুকুর থেকে শুরু করে বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ফগার মেশিন অথবা হ্যান্ড স্প্রে দিয়ে ওষুধ ছিটানো হলে ওই সব স্থানে থাকা মশার লার্ভা ধ্বংস হবে।

    তবে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিমের দাবি, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ২২৫টি মহল্লায় ১১টি ফগার মেশিন ও ৮০টি হ্যান্ড স্প্রে নিয়ে তাদের ১০০ জন কর্মচারী কাজ করছেন।

    সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মনজুরুল ইমাম বলেন, এখন পর্যন্ত যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা সবাই ট্রাভেল পেশেন্ট। আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকায়। ছুটিতে বাড়িতে এসেছেন। সেখান থেকে অন্যরা সংক্রমিত হয়েছেন।

    প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, নগরীর খাল, ড্রেন, জলাশয়, ডোবা, নালা, নর্দমা পরিষ্কার করা হচ্ছে। মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কাজ চলমান রয়েছে।

  • বাংলার মুখ ২৪.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক মুহা: পলাশ চৌধুরীর জন্মদিন আজ

    বাংলার মুখ ২৪.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক মুহা: পলাশ চৌধুরীর জন্মদিন আজ

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টল বাংলার মুখ ২৪.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক মুহা পলাশ চৌধুরীর জন্মদিন আজ। ১৯৭৯ সালের ১৪ ই জুলাই এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন ‍তিনি।

    মুহা পলাশ চৌধুরী বাংলার মুখ ২৪.কম এবং দৈনিক বরিশাল সংবাদের এর প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক দখিনের প্রতিবেদন এর প্রধান সম্পাদক পদে নিযুক্ত আছেন এবং বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বরিশাল অনলাইন এডিটর কাউন্সিল এর সাধারন সম্পাদক। পলাশ চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সভাপতি এবং সাবেক ছাত্র সংসদ সদস্য (বাকসু)। এছাড়াও দীর্ঘদীন ধরে সুনামের সহিত ঠিকাদারি ব্যাবসা করে আসছেন।

    তার জন্মদিনে বাংলার মুখ ২৪.কম এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

  • ঝালকাঠিতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, ধরাছোয়ার বাহিরে আসামি

    ঝালকাঠিতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, ধরাছোয়ার বাহিরে আসামি

    ঝালকাঠিতে যৌতুকের জন্য সুমাইয়া খাতুন নামে এক নারীকে নির্যাতন করেছে তার স্বামী। সুমাইয়া খাতুন বলেন, বিয়ের পর থেকে তার স্বামী তাকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে নির্যাতন ও অত্যাচার করে আসছে। সর্বশেষ সুমাইয়া বেগম তার বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে বিবাদী তার বাবার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। সুমাইয়া বেগম যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং খাবার বন্ধ করে অনাহারে ও অর্ধাহারে রাখতে থাকে। ৫ আগস্ট ২০২২ বিবাদী সুমাইয়া বেগমের বাড়িতে আসে এবং যৌতুকের টাকা দাবি করে। ঐদিন বিকালে বিবাদী সাকিল কে নিয়ে এক বৈঠকে যৌতুকের টাকা দিতে পারবে না বলে অপারগতা প্রকাশ করায় এবং সংসার করার কথা বললে আসামি সুমাইয়া বেগমকে নিয়ে আর সংসার করবে না এবং যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিবাহ করবে বলে হুমকি দেয়। বর্তমানে সুমাইয়া বেগম তার বাবার বাড়িতে পুত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

    বিবাদীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২৪/২০২২ মোকাদ্দমা দায়ের করলে বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সংবাদ প্রকাশ করা পর্যন্ত আসামী সাকিল আহমেদ ইয়ামীন গ্রেফতার হয়নি।দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন বাদী সুমাইয়া খাতুন।

  • বরিশালের সেই বিতর্কিত ওসি ও তার স্ত্রীর কারাদণ্ড

    বরিশালের সেই বিতর্কিত ওসি ও তার স্ত্রীর কারাদণ্ড

    বরিশাল জেলার গৌরনদীর সাবেক ওসি ও রাজধানীর গুলশান জোনের সাবেক উপ-পরিদর্শক ফিরোজ কবিরের ছয় বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী সাবরিনা আহমেদকে চার বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    বুধবার (১২ জুলাই) সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে জামিনে থাকা দুই আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ফিরোজ কবিরকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুন অর্থাৎ এক কোটি ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৮ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ফিরোজ কবির কর্তৃক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অর্থাৎ ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ১৯৪ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    ফিরোজ কবিরকে অর্থদণ্ডের টাকা রায়ের দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ব্যর্থতায় তা দ্যা কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮ এর ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে।

    সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি সাইফুল ইসলাম মিঠু সাজার বিষয়টি জানান।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ মে র্পযন্ত ফিরোজ কবির এবি ব্যাংক গুলশান শাখার, ডাচ বাংলা ব্যাংক, গুলশান শাখার, এনআরবি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের গুলশান শাখার, ইসলামী ব্যাংক, গুলশান শাখা, ব্রাক ব্যাংক, গুলশান শাখার চলতি হিসাবের এবং তার স্ত্রী সাবরিনা আহমেদ ইভার নামে পরিচালিত ডাচ বাংলা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাবে জ্ঞাত আয় বর্হভিূত সর্বমোট ৩০৯ দশমিক ৯৭ লাখ টাকা জমা করেন। তাদের ব্যাংক হিসাবে সমূহে পেশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যর্পূণ বিপুল অংকের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। অধিকাংশ হিসাব খোলার সময় ফিরোজ কবির অর্থের উৎস চাকুরি দেখিয়েছেন।

    কিন্তু যে ধরনরে ও যে অংকের লেনদেন হয়েছে তা বেতন ভাতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অর্থের উৎস সম্পর্কে অভিযুক্তরা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে প্রাথমকিভাবে প্রমানতি হয় যে, জমাকৃত উক্ত অর্থ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুর্নীতি ও ঘুষ সংক্রান্ত সম্পৃক্ত অপরাধলব্ধ।

    ২০১৭ সালে বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে গৌরনদী মডেল থানা থেকে বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় ফিরোজ কবীরকে।একই বছরের ৩ অক্টোবর এই অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৯ সালে মামলাটি তদন্তের পর দুদক এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন।

  • বরিশালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ নাজুক হচ্ছে

    বরিশালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ নাজুক হচ্ছে

    বরিশালে ডেঙ্গু ক্রমশ আগ্রাসী আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই শত শত নতুন আক্রান্ত সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসছে। গত ৪ দিনে বরিশাল বিভাগের সরকারী হাসপাতালগুলোতে আরো ৩ শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে গত ৩ মাসে এ অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের কাছে পৌছলেও এর সিংহভাগই ভর্তি হয়েছেন গত ঈদ উল আজহার পর থেকে। বুধবার সকাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে পৌনে ৩শ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, বিগত ঈদ উল আজহার সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরে ফিরেছেন, তাদের অনেকেই ডেঙ্গুর জীবানু বহন করায় এ অঞ্চলে এসে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা শুরু করেছেন। অনেকই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ঈদের পরে এসব রোগীর ভারেই এখন বরিশাল অঞ্চলের হাসপাতালগুলো নুহ্যমান।

    বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে স্বাভাবিক সময়েই অনুমোদিত বেডের তিনগুনেরও বেশী রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের নিয়ে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। তবে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু অঅক্রান্তদের নিয়ে আলাদা ইউনিট চালু করা হলেও রোগীর ভারে সেখানেও পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়।

    বুধবার সকাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের সর্ববৃহত এ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানটিতে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন, পটুয়াখালীতে ৫৩, পিরোজপুরে ৪৮, ভেলাতে ২৮ এবং বরগুনাতে ২৫ জন ছাড়াও ঝালকাঠীতে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। চলতি বছর গত ৯ জুলাইয়ের পরেই ঝালকাঠীতে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হল।

    এ অঞ্চলের মধ্যে বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালে সাড়ে ৫শরও বেশী ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসা নিয়েছেন। এরপরের অবস্থান পটুয়াখালীর। জেলাটির বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে এপর্যন্ত ২২২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। পিরেজপুরে সংখ্যাটা ছিল ১৩৪, বরগুনাতে ১২২, ভোলাতে ১০৪ এবং ঝালকাঠীতে ১২ জন।

    তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, বরিশাল অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ৮৮২ জন ঘরে ফেরার কথা বলা হলেও বেশীরভাগ সরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুরোতে এ বাড়তি রোগী বহনের সক্ষমতা নেই। চিকিৎসক সহ সব ধরনের জনবল সংকটে এ অঞ্চলের প্রায় সব হাসপাতালেই চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হবার সাথে প্রয়োজনীয় বেড ও ওষুধ সংকটও পরিস্থিতিকে ক্রমশ নাজুক করে তুলছে।

    তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বশীল মহল পরিস্থিতি উত্তরনে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সম্ভব সব কিছু করা হচ্ছে বলেও জানান হয়েছে। শের এ বালা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যপারে বুধবার হাসপাতালটির পরিচালকের সাথে আলাপ করতে তার সেল ফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

  • তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে বিবাদ বড় ভাইয়ের কান ও পায়ের রগ কেটে দিল ছোটভাই

    তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে বিবাদ বড় ভাইয়ের কান ও পায়ের রগ কেটে দিল ছোটভাই

    ঝালকাঠির রাজাপুরে হাঁসে ধানের বীজতলা নষ্ট করায় বড় ভাইয়ের কান ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে ছোট ভাই। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মজিবুর হাওলাদারকে (৬০) বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছোট ভাই হাবিব হাওলাদার (৫৫) পলাতক রয়েছে। তাঁরা পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামের মৃত পবন আলী হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁদের বাড়ির সামনে কবরস্থানের কাছে হাবিব হাওলাদারের জমিতে মজিবুর হাওলাদারের হাঁস নেমে ধানের বীজতলা নষ্ট করে।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির হয়। একপর্যায়ে হাতে থাকা দা দিয়ে বড় ভাই মজিবুর হাওলাদারের মাথায় কোপ দেন হাবিব। এতে মজিবুর হাওলাদারের বা কান পুরোটা কেটে যায়। দায়ের একাধিক কোপে তাঁর ডান হাঁটুর নিচে রগ কেটে যায়।

    পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন মজিবুর হাওলাদারকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাহেদ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বরিশালের শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

    রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাহেদ বলেন, ধারালো অস্ত্রের কোপে মজিবুর হাওলাদারের বাঁ কান ও ডান পায়ের রগ কেটে গেছে। তঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশালের শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় বলেন, অভিযুক্ত হাবিব হাওলাদার পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

  • বরিশাল মেরিন একাডেমিতে ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটর উদ্বোধন

    বরিশাল মেরিন একাডেমিতে ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটর উদ্বোধন

    বরিশাল মেরিন একাডেমিতে ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটর উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর মেরিন একাডেমি চত্বরে ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটরের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, মেরিন একাডেমির ক্যাডেটদের জাহাজে অবস্থানকালীন অগ্নি নির্বাপনের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করার লক্ষ্যে ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটরটি স্থাপন করা হয়।

    তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বরিশাল মেরিন একাডেমির ক্যাডেট প্রশিক্ষণে একটি নতুন মাত্রা যোগ করা হলো। এর মাধ্যমে বরিশাল মেরিন একাডেমির ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের মান আরও উন্নত ও যুগোপযোগী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    উদ্বোধন শেষে ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটররটি পরিদর্শন করেন সচিব। এসময় একাডেমির ক্যাডেটদের একটি অগ্নি নির্বাপন মহড়া প্রদর্শন করা হয়।
    এসময় বরিশাল মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন এস এম আতিকুর রহমান ও সিলেট মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন আই. কে. তৈমুরসহ মেরিনসহ বরিশাল মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্যাডেটরা উপস্থিত ছিলেন।

    বরিশাল মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন এসএম আতিকুর রহমান জানান, ফায়ার ফাইটিং সিমুলেটরটির মাধ্যমে ক্যাডেটদের অগ্নি নির্বাপণের প্রশিক্ষণ আয়োজনের পাশাপাশি অন্যান্য মেরিন প্রফেশনালদের জন্য ফায়ার ফাইটিং কোর্স আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাডেটদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

  • বরিশাল শহরে ১০ বছর ধরে বন্ধ দোতলা বাস সার্ভিস

    বরিশাল শহরে ১০ বছর ধরে বন্ধ দোতলা বাস সার্ভিস

    ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের সিটি বাস সার্ভিস। ২০০৩ সালে সাতটি দোতলা বাসে এই সার্ভিস চালু হলেও ২০১৩ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাড়ে যাত্রীদের হয়রানি। গুণতে হয় বাড়তি ভাড়া।

    জানা গেছে, যাত্রীদের কম খরচে যাতায়াতের জন্য বরিশাল সিটি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল ২০০৩ সালে। কিন্তু দুই বছর চলার পর অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের হাত ধরে পুনরায় সিটি বাস সার্ভিস চালু হয়েছিল। কিন্তু চার বছরের মাথায় আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    স্থানীয়রা জানান, রুপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে বরিশাল নদীবন্দর, নদী বন্দর থেকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এবং সেখান থেকে রুপাতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে বাসগুলো চলাচল করতো। তবে সেই সার্ভিস ২০১৩ সালের পর আর চলেনি। এরপরই নগরীতে বেড়েছে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি অটোরিকশার দৌরাত্ম্য।

    এসব যানবাহনের কারণে তীব্র যানজটের সঙ্গে বাড়তি ভাড়া গুণে হয়রান নগরবাসী। তাই আবারও সিটি সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    নগরবাসী বলছেন, সিটি সার্ভিস থাকলে অন্য পরিবহনের ভাড়া কমে যায়। কিন্তু ১০ বছর ধরে সেই সার্ভিস বন্ধ থাকায় এখন গ্যাস ও ব্যাটারি চালিত থ্রি-হুইলার জাতীয় যানবাহনে নদী বন্দর থেকে রুপাতলী পর্যন্ত মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ যেতে গুনতে হয় ১৫-২০ টাকা। একইভাবে রুপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ ও বিবির পুকুর পাড় এবং বিবির পুকুর পাড় থেকে আবার নথুল্লাবাদ ও চৌমাথায় যেতেও গুণতে হয় একই রকমের ভাড়া। যে ভাড়া নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে বাকবিত-া হচ্ছে যাত্রীদের।

    স্থানীয় বাসিন্দা সরোয়ার আলম বলেন, আগে থ্রি হুইলারগুলোতে কম দূরত্বের যাত্রীদের তোলা হতো না। এখন বরিশালে এত পরিবহন হয়েছে যে, সব দূরত্বের যাত্রীদের যেমন তুলছে। ভাড়াও অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে আদায় করছে।

    তিনি বলেন, এই শহরের রাস্তা অনুপাতে থ্রি-হুইলারের সংখ্যা অনেক বেশি। যেমন বরিশাল শহরের মতো কোনো সিটিতে এত বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা কোথাও নেই। তার ওপর সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার, সিএনজি ও প্যাডেল চালিত রিকশা তো রয়েছেই।

    গণসংহতি আন্দোলন জেলার আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, নাগরিকদের কথা চিন্তা করে সিটি সার্ভিসের দাবি ইতোমধ্যে আমরা উত্থাপন করেছি। অটোরিকশা, সিএনজি, মাহিন্দ্রা যাই বলা হোক না কেন, বরিশাল শহরে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নৈরাজ্য চলছে। যার প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপর। সিটি সার্ভিস চালু হলে যাত্রা যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি ভাড়া নিয়ে ছোট পরিবহনগুলোর নৈরাজ্যও বন্ধ হবে

    ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শহরে ২৫ হাজার অবৈধ যান বাহন চলাচল করছে। এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত আড়াইহাজার সিএনজি এবং পাঁচ হাজার ইজিবাইকের রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান জনসংযোগকর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস।

    বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর ম্যানেজার জামসেদ আলী বলেন, যাত্রীদের যাতায়াতে দ্বিতল বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায়, সেগুলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে চালু রাখা হয়েছে। সরকারি ভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে যাত্রীদের জন্য দ্বিতল বাস আবার চালু করা হবে।

  • শেবাচিম হাসপাতালে ৬ মাসে প্রায় তিন হাজার প্রসূতির অস্ত্রপচার প্রসবকালে ২৪ মা ও ৩০০ শিশু মৃত্যু

    শেবাচিম হাসপাতালে ৬ মাসে প্রায় তিন হাজার প্রসূতির অস্ত্রপচার প্রসবকালে ২৪ মা ও ৩০০ শিশু মৃত্যু

    খান রুবেল: সিজারিয়ান বৃদ্ধির মূল কারণ অসচেতনতা ও অসময়ে গর্ভধারণ- অধ্যাপক খুরশিদ জাহানসন্তান জন্মদান সত্যিই একটি আনন্দের মুহূর্ত। সাধারণত সন্তান প্রসবে দুটি পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকেন চিকিৎসকরা। যার মধ্যে একটি স্বাভাবিক এবং অপরটি সিজারিয়ান প্রসব।

    তবে সিজারিয়ানে সন্তান প্রসব মা এবং সন্তানের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রয়েছে অনেক ক্ষতির দিক। তার পরেও বর্তমান সময়ে সিজারিয়ান পদ্ধতিই বেছে নিচ্ছেন বেশিরভাগ মা এবং তাদের অভিভাবক। আবার বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের ক্ষেত্রে রয়েছে বাণিজ্যিক কারণ। এসব কারণে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সিজারে সন্তান প্রসব।

    এমন বাস্তবতার প্রমাণও মিলেছে দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম)। এই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় সিজারিয়ানে সন্তান প্রসবের হার দ্বিগুনেরও বেশি। মা এবং তার স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের উৎসহ পেয়েই অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা।

    তবে চিকিৎসকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি ‘একজন গর্ভবতী মাকে একেবারেই মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে আসা হচ্ছে হাসপাতালে। তখন মা এবং সন্তানকে বাঁচাতে সিজারিয়ান পদ্ধতি বেছে নিতে হচ্ছে।

    তাছাড়া বর্তমানে মাতৃত্বকালীন যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সিজারিয়ান পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন বেশিরভাগ মায়েদের পরিবার। বিশেষ করে অর্থশালী পরিবারগুলোর মাঝে সিজারিয়ানের প্রবণতা বেশি বলে জানিয়েছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বেগম খুরশিদ জাহান।

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে এ হাসপাতালে ৪ হাজার ২৪৯ জন মা ৪ হাজার ৩৩০ জন সন্তান জন্ম দিয়েছে।

    এছাড়া কোন প্রকার কাঁটাছেড়া ছাড়াই স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ জনের। বাকি ২ হাজার ৯৯১ জন মায়ের সন্তান প্রসব করানো হয়েছে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে। সে হিসেবে স্বাভাবিকের তুলনায় সিজারিয়ান ডেলিভারির দ্বিগুনের বেশি।

    অপরদিকে সন্তান জন্মদিতে গিয়ে ছয় মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪ জন মা। এদের মধ্যে সিজারিয়ানের সময় মারা গেছেন অনেক বেশি। প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং একলামশিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়।
    প্রসূতি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেবাচিম হাসপাতালে ৮১১ জনের মধ্যে ২৪৩ জনকে স্বাভাবিক এবং ৫৬৮ জনকে সিজারিয়ান করা হয়। এর মাধ্যমে জন্মনেয় ৮২৫ জন শিশু। যাদের মধ্যে থেকে ৭৫৯ টি শিশু জিবিত এবং ৬৬ জন মৃত জন্ম হয়েছে। এ মাসে কোন মা মৃত্যুবরণ করেননি।

    ফেব্রুয়ারি মাসে ৬৮২ জনের মধ্যে ২০৫ জনকে স্বাভাবিক এবং ৪৭৭ জনকে সিজারিয়ান করা হয়। এর মাধ্যমে জন্ম হয় ৭০০ শিশুর। যার মধ্যে ৬৫১টি শিশু জিবিত এবং ৪৯ জনের মৃত জন্ম হয়েছে। এ মাসে মৃত্যুবরণ করেন ৮ জন মা।

    মার্চে ৭২১ জনের মধ্যে ২০০ জনকে স্বাভাবিক এবং ৫২১ জনকে সিজারিয়ান করা হয়। এর মাধ্যমে জন্ম হয় ৭৩৯ শিশুর। যার মধ্যে ৬৮৩টি শিশু জিবিত এবং ৫৬ জনের মৃত জন্ম হয়েছে। এ মাসে মৃত্যুবরণ করেন ২ জন মা।

    এপ্রিলে ৬৮৮ জনের মধ্যে ১৯৯ জনকে স্বাভাবিক এবং ৪৮৯ জনকে সিজারিয়ান করা হয়। এর মাধ্যমে জন্ম হয় ৭১২ শিশুর। যার মধ্যে ৬৬৮টি শিশু জিবিত এবং ৪৪ জনের মৃত জন্ম হয়েছে। এ মাসে মৃত্যুবরণ করেন ২ জন মা।

    মে মাসে ৬৯৩ জনের মধ্যে ১৯৯ জনকে স্বাভাবিক এবং ৪৯৪ জনকে সিজারিয়ান করা হয়। এর মাধ্যমে জন্ম হয় ৬৯৩ শিশুর। যার মধ্যে ৬৫১টি শিশু জিবিত এবং ৫৫ জনের মৃত জন্ম হয়েছে। এ মাসে মৃত্যুবরণ করেন ৫ জন মা।

    এছাড়া জুন মাসে ৬৩০ জনের মধ্যে ১৮৮ জনকে স্বাভাবিক এবং ৪৪২ জনকে সিজারিয়ান করা হয়। এর মাধ্যমে জন্ম হয় ৬৪৮ শিশুর। যার মধ্যে ৬১৮টি শিশু জিবিত এবং ৩০ জনের মৃত জন্ম হয়েছে। এ মাসে মৃত্যুবরণ করেন ৭ জন মা।

    হাসপাতালে স্বাভাবিকের থেকে সিজারিয়ানে সন্তন প্রসবের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বেগম খুরশিদ জাহান বলেন, ‘পরিবারের অসাবধানতার কারণে সিজারিয়ানের মাধ্যমে আমরা সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হই। কারণ হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের একেবারেই মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। যখন আর পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকে না।

    ডা. খুরশিদ জাহান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী একজন মায়ের স্বাভাবিক প্রসবের জন্য আমরা ওষুধ দিয়ে ৮-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। কোন কোন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এসময়ের মধ্যেও বাচ্চা ডেলিভারি না হলে বাধ্যতামূলক সিজারিয়ান সেকশন বেছে নিতে হয়। এটাকে চিকিৎসকদের ভাষায় বাধাগ্রস্থ প্রসব বলা হয়। ১৮ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করলে দেখা যায় বাচ্চার হাটবিট বেড়ে যায়, জন্মগতভাবে শ্বাসকষ্ট এবং মায়ের জরায়ু ছিড়ে গিয়ে বিপদ ঘটতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যার মধ্যে প্রধান কারণ বাল্য বিয়ে এবং অসময়ে গর্ভবতী হওয়া। দেখা যায় অনেক মা সন্তান জন্মদেয়ার জন্য শারীরিকভাবে ফিট নয়। তার পরেও অল্প বয়সে বিয়ের কারণে শ্বশুর-শাশুড়িদের চাপে অল্প বয়সেই বাচ্চা নিতে হচ্ছে।

    আবার গর্ভবতী হওয়া থেকে শুরু করে সন্তান প্রসব পর্যন্ত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে গর্ভবতী হওয়ার তিন মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা করাতে হবে। এরপর সাতমাস পর্যন্ত প্রতিমাসে একবার, ৭-৮ মাসে প্রতি ১৫ দিন পর পর এবং ৯ মাস থেকে সন্তান জন্মাবার আগপর্যন্ত প্রতি ৭ দিন পর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়। আর যাদের পক্ষে নিয়মিত চেকআপ সম্ভব নয়, তাদের জন্য অন্তত ৪ বার চিকিৎসকের মাধ্যমে চেকআপ করানো জরুরি। তবেই স্বাভাবিকভাবেই সন্তান প্রসব করতে পারবে। তাছাড়া ২১ বছর বয়সের আগে বাচ্চা নেয়া ঠিক নয় বলেও জানান তিনি।