আরিফুর রহমান আরিফ : পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঝালকাঠীবাসীসহ সমগ্র দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন একমাস সিয়াম সাধনার পরে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর সকলের জীবনে নিয়ে আসুক আনন্দের বার্তা।পরস্পর পরস্পরের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে উদযাপন করার প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন তিনি।বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাস্থবিধি ও সরকারী নির্দেশনা মেনে নিরাপদে থেকে এবারের ঈদ উদযাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন।তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট সর্বস্তরের জনসাধারনের জন্য দোয়া করছেন পাশাপাশি সকলের নিকট তিনিও দোয়া কামনা করছেন।
Category: জেলার সংবাদ
-

নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হওয়া অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। শনিবার (২৩ মে) সংগঠনের রানাপাশা ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নে শতাধিক দুস্থ মানুষের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। একইদিন নাচনমহল ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকায়ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মিলন কান্তি দাস, সদস্য সচিব ইঞ্জি. গোলাম মাওলা শান্ত, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. পলাশ হাওলাদার, এস.আর সোহেল, সোহেল রানা, সদস্য গাজী আরিফুর রহমান, আরিফুর রহমান আরিফ, রানাপাশা ইউনিয়ন শাখার উপদেষ্টা মো. রিয়াজুল ইসলাম, আহ্বায়ক মো. সুজন খলিফা, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আরিফুর রহমান, নাচনমহল ইউনিয়ন শাখার উপদেষ্টা আলামিন ঢালী, সদস্য সচিব মো. কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, নলছিটি সিটিজেন ফাউন্ডেশন করোনা ভাইরাসের ভয়াল আগ্রাসনে কর্মহীন হওয়া অসহায় মানুষের মাঝে শুরু থেকেই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে ঈদ সামগ্রী পেয়ে কর্মহীন অসহায় মানুষেরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাড. মো. কাওসার হোসাইন বলেন, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের পাশে সামান্য ঈদ উপহার দিয়েছি। করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মহীন অসহায়দের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে
-

নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।এক শুভেচ্ছা বার্তায় মেয়র পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে নগরবাসীর জীবন আনন্দে উদ্ভাসিত হোক এই কামনা করেছেন। একই সাথে করোনা ভাইরাসের কারণে সবাইকে বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
-

বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাড়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ৬ টি প্রতিষ্ঠান ও ২ জন ক্রেতাকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে নগরীর চকবাজার, বাজার রোড, কাঠপট্টি, ফলপট্টি, গীর্জা মহল্লা, সদর রোড, নতুন বাজার, চৌমাথা বাজার, কালিজিরা বাজার এলাকায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও দ্রব্যমূল্যের বাজার দর মনিটরিং এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা।
জানা গেছে- স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটায় আসার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করায় ২ জন ক্রেতা ও সরকারি নিদর্শনা অমান্য করে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখার অপরাধে ৬ টি দোকানকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্বরত র্যাব-৮ এর একটি টিমের সহযোগিতায় বিভিন্ন দোকান ও গলির মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে, তা ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তিতে আইনানুগ শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করে সবাইকে বাসায় চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়। ঈদের কেনাকাটায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের এই অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান কর্তব্যরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা।
-

আম্পানে বরিশাল : ক্ষতিগ্রস্থদের ঘর তুলে দিলো সেনাবাহিনী
ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ব্যাপক সহায়তা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস থেকে শুরু করে পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য দ্বার্থহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মূলত দক্ষিণাঞ্চলে নিরলস কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে শেখ হাসিনা সেনানিবাস তথা ৭ পদাতিক ডিভিশন। এই ডিভিশন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ ১৪৩টি পরিবারকে দিয়েছেন নগদ অর্থ এবং খাদ্য সহায়তা। তাছাড়া ঝড়ে বিধ্বস্ত ১০টি ঘর মেরামত করে দিয়েছেন সেনা সদস্যরা।
মূলত, ২০ মে বরিশালেও আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্পান। এই ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে প্রায় লন্ডভন্ড দক্ষিণাঞ্চল। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৬ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন ৬২ ইস্ট বেঙ্গলের নেতৃত্বে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলায় একটি করে মোট ১০টি (ডিএমটি) দুর্যোগ মোকাবেলা দল ও একটি স্পেশাল টিম গঠন করা হয়।
যারা ঘূর্ণিঝড় কবলিত এবং ক্ষতিগ্রস্থদের বিষয়ে তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তারা বরিশাল জেলার সকল বেসামরিক প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধান করে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কাজ করেছেন।
শুধু ঘূর্ণিঝড়ের সময়েই নয়, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ব্যবস্থাপনাতেও দেখা মিলেছে দুর্যোগ মোকাবেলায় গঠিত ৬ পদাতিক ব্রিগেডের আওতাধীন ৬২ ইষ্ট বেংগলের নেতৃত্বাধিন টিমের কার্যক্রম। তারা আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ বরিশাল জেলার ১৪৩টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের হাতে শুকনা খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে শুকনা খাদ্যসামগ্রী, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।
এদিকে শুধু খাদ্য সহায়তা এবং নগদ অর্থই নয়, ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ১০টি ঘর নিজ হাতে মেরামতও করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা সেনানিবাসের সদস্যরা। আর এই মেরামত কাজের আত্ত্বাবধান করেন ৬২ ইস্ট বেংগলের ক্যাপ্টেন আশ্ফান।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের শিকার হয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ জনগণ। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ঘর-বাড়ী। ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ক্ষতিকর প্রভাবের পাশাপাশি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের ঘের ও খামার।
-

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে গোসল করতে নেমে স্কুলছাত্রী নিখোঁজ
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিপু (১০) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ছাত্রী নিপু সৌদি প্রবাসী নিজাম হাওলাদারের মেয়ে।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর নিচে নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডে মোল্লা বাড়ি সড়কের নানা বাড়ি সিকদার বাড়ি সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে গোসল করতে নামে ওই শিশু। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই নিখোঁজ হয় সে।
শিশু নিপুর মামা শহিদুল সিকদার জানান, কীর্তনখোলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় নিপু। এরপর থেকে আমরা খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস পাইনি।
এদিকে ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। বিকালে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
-

বরিশালে নতুন করে নার্স-পুলিশসহ ৪ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল জেলায় নতুন করে আরো ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ মে) ঢাকা ইনস্টিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স এন্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী মুলাদী উপজেলার ১ জন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ল্যাব থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১ জন নার্স, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ১ জন সদস্য ও নগরীর রুপাতলি এলাকার ১ জনসহ মোট ৪ জন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া ৪ জনসহ এ নিয়ে জেলায় ১৪১ জনেকরোনা শনাক্ত হয়েছে। এ জেলায় আজ কেউ করোনা থেকে সুস্থ হয়নি। এছাড়া এ পর্যন্ত জেলায় ৪২ জন ব্যক্তি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রথমবারের মতো ৩ জন ব্যক্তিকে করোনা থেকে সুস্থতার ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।
গত ১২ এপ্রিল থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন, সদর উপজেলায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্রসহ ৯৮ জন, উজিরপুর উপজেলায় ৮ জন, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় ৫ জন, বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন, বানারীপাড়া, হিজলা, মুলাদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যেকটিতে ৩ জন করে, গৌরনদী উপজেলার ২ জনসহ ১৪১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
আজ শনাক্ত হওয়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১ জন নার্স সহ করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ১০ জন চিকিৎসক (ইন্টার্ন চিকিৎসক ০৪ জন), ৯ জন নার্স, ১ জন মেডিকেল টেকনলজিস্ট, ১ জন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকসহ সর্বমোট ২১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
মুলাদী উপজেলায় করোনা শনাক্ত হওয়া ১ জন ব্যক্তি ১২ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল এ জেলায় প্রথমবারের মতো মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পরিপ্রেক্ষিতে ঐদিনই জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
-

শেষ রাতে মেয়র সাদিকের ডাক, টুটুল দিলেন সাড়া
শাকিব বিপ্লব :: এবার ঈদে কাপড় নয় অন্তত খাবার প্রয়োজন, এমন বান্তবতা বিবেচনায় ঈদপূর্ব দরিদ্র মানুষের ঘরে আবারও ত্রাণ পৌঁছে দিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নগরীর বৃহৎ এলাকা কাউনিয়ায় ৯টি ট্রাকযোগে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর পর তার অনুসারী দলীয় নেতৃবৃন্দ বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে মেয়র সাদিকের পাঠানো উপহার গ্রহনের আহবান রাখেন। ঘুম ভেঙে অপ্রত্যাশিত এই ডাকে চমকে উঠা পরিবারগুলো ত্রাণের খাবার পেয়ে সন্তুষ্টির ঢেঁকুর গিলে অভিনন্দন জানান এই নেতাকে দুর্যোগে পাশে আসায়। অবশ্য সাদিক আবদুল্লাহ নিজে মাঠে না এসে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সেল ফোনের লাইভে পর্যবেক্ষন করছিলেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য প্রাপ্ত।
গত শুক্রবার রাত ২ টার পর এই ত্রাণ দেওয়ার পদক্ষেপে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটে সিটি কর্পোরেশনের সবুজ রঙের মিনি ট্রাক যেভাবে উপস্থিত হয়, সে দৃশ্য যেনো দুর্গতদের মাঝে সহায়তার প্রদীপ জ্বালানোর আদলে রূপ নেয়। এক বাড়িতে ডাকা-ডাকি শুনে আরেক বাড়ির পড়শিরাও ছুটে আসে ট্রাকের ধারে। এ সময় ওয়ার্ড আ.লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যার যার দরজায় দাঁড়ানোর অনুরোধ রেখে ত্রাণ প্রাপ্তিতে আশ্বস্ত করে শৃঙ্খলা বজায় রাখেন বলে শোনা যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে ত্রাণ থেকে বঞ্চিত এবং ঈদকে সামনে রেখে অত্র এলাকায় অন্তত ৬ হাজার পরিবারকে পুনরায় ত্রাণ সামগ্রী দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। ঈদের ৩ দিন পূর্বে অর্থাৎ শুক্রবার এই ত্রাণ দেয়া শুরু হলো। এই কার্যক্রম আজ শনিবার রাতেও চলবে। প্রথমদিনে প্রায় ৩৬’শ পরিবারের মাঝে চাল-ডাল-আলু-সাবান একাত্রিত বস্তাভর্তি এই সামগ্রী আকস্মিক দেয়ার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ঘটে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে। দ্বিতীয় দিনে আজ রাতে আরও ৫’শ পরিবারকে টার্গেট করে ত্রাণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু কখন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে, এ বিষয়টি কৌশলগত কারণ অর্থাৎ বিশৃঙ্খলতা রোধে আগে-ভাগে জানানো থেকে বিরত থাকা হচ্ছে।
কাউনিয়া এলাকার ২নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি মোঃ পান্না, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া ও ছাত্রনেতা রইজ আহমেদ মান্না ও যুবলীগ নেতা শেখ তরিকুল ইসলাম সুজা এই ত্রাণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে বঞ্চিতদের তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি উপস্থিত হন। রাত ২টার পরই হঠাৎ শুরু হয় ত্রাণ বিতরণ পর্ব। এ সময় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক সহোচর ও ব্যবসায়ীক নেতা নিরব হোসেন টুটুল গোটা বিষয়টি মনিটর্রিং করেন। এই রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব প্রতিটি জায়গায় অবস্থান নিয়ে ত্রাণ সঠিকভাবে বা আগে-পরে পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হন। বলা বাহুল্য যে, মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ করোনা দুর্যোগে এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করে অনন্য এক নজির স্থাপন করেছেন বরিশাল প্রেক্ষাপটে। সেক্ষত্রে তিনি প্রকাশ্যে না আসলেও নিরব হোসেন টুটুলকে আস্তার যায়গায় রেখে সার্বিক তত্বাবাধায়নের দায়িত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন। ইতোপূর্বে তার রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানমালাসমূহে সাফল্যের ক্ষেত্রেও টুটুলের অবদান রয়েছে বলে দলীয় নেতাদে অভিমত পাওয়া যায়। এবার ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা রোধ এবং সুষ্ট তদারকিতে সাদিক আবদুল্লাহ সমূহ অনেক বিতর্ক এড়াতে সক্ষম হয়েছেন বলে মন্তব্য রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, কাউনিয়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণের প্রথম পর্বে কিছু বিশৃঙ্খলায় এক ব্যক্তি একাধিক বার ত্রাণ পাওয়ার অভিযোগ এবং রেশন কার্ড বিতরণ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় সম্ভবত আবারো টুটুলকে ভরসার প্রতীক হিসেবে গতকাল গভীর রাতে ডাক দেন কাউনিয়ায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম স্ব-চোঁখে দেখে বঞ্চিতদের হতাশা অবসনকল্পে। কথা অনুযায়ী কাজ অর্থাৎ গভীর রাতে নেতা সাদিক আবদুল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত নিরব হোসেন টুটুল ঠিকই দক্ষতার ধারাবাহিকতা রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানায় , প্রথমে ৭টি গাড়িভর্তি ত্রাণ দেয়ার পর আরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে এবং সময় থাকায় ভোরে ফজরের আযানের পূর্ব আরও ২ ট্রাক খাবার সামগ্রী নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় আ.লীগ নেতা জিয়া উদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, এবারের ঈদের আনন্দের বদলে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকাই বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সেমাই-চিনি-দুধের বদলে চাল-ডাল দরিদ্র মানুষের কাছে বড় প্রয়োজনীয়তা আমলে নেন মেয়র ও নগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ। যার ফলস্রুতিতে নতুন করে এই ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তার এই উদ্যোগে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যাক্তিবর্গ। সাদিক আব্দুল্লাহ যে কৌশলী তারও প্রমান রাখলেন ঈদপূর্ব এমন উদ্যোগ নিয়ে। এদিকে নতুন করে ত্রাণ দেওয়ার খবরে আজ শনিবার সকালে বহু মানুষ স্থানীয় আ.লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করতে শোনা গেছে, যেনো আজ ত্রাণ প্রাপ্তির তালিকায় তাদের নাম স্থান পায়।
-

ঈদের দিন বরিশালে হাল্কা বৃষ্টির শঙ্কা
সুপার সাইক্লোন আম্পানের রেশ এখনো কাটেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশ এখনো মেঘলা। এ মেঘলা আকাশ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী দুদিনের যেকোনো একদিন ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। তাই ঈদের দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, রোবি ও সোমবার আকাশ মেঘলা থাকবে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। এ বিভাগগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা কম। ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে শনিবার সন্ধ্যায় সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। শনিবার দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর দেশের কোথাও চাঁদ দেখা না গেলে রোববার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে ঈদ উদযাপিত হবে সোমবার।
-

আম্পানে ভেসে গেছে ১৯ হাজার পুকুর-ঘেরের মাছ
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে প্রাথমিক হিসাবে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১৯ হাজার ২৪টি মাছের খামার, ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে এসব পুকুর ও ঘেরের মাছসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৫৩ দশমিক ১৪ লাখ টাকা। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয় এই হিসাব করেছে।
তবে সরকারি হিসাবের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি আরও চার-পাঁচ গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ের মৎস্যখামারিরা। তাঁরা বলেছেন, সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র আসেনি। যদিও মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটা প্রাথমিক তালিকা। পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, আম্পানে বিভাগের মৎস্য সম্পদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা সর্বশেষ সিডরের পর আর হয়নি। ঝড়ে ২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির চাষ করা মাছ, চিংড়ি ও পোনা। শুধু বরিশাল জেলার ৫৭টি ইউনিয়নের ৮৮৩টি পুকুর ও ৩৬৯টি ঘেরের মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ভোলার ৪৮টি ইউনিয়নের ২ হাজার ২৩০টি পুকুর ও ৪৪৯টি ঘের থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এর আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বরগুনায় ২০টি ইউনিয়নের ১২০টি পুকুর ১০টি মাছের ঘের মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। পিরোজপুরে ৬ হাজার ৪৩০ পুকুর ও ৩২৫টি ঘেরের ক্ষতি ৩ কোটি ৭৬ লাখ, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৯০০ পুকুর এবং ১০০ ঘেরের ৩ কোটি ৭ লাখ এবং পটুয়াখালীতে ৫ হাজার ৭৫৪টি পুকুর এবং ৬২৩টি ঘেরের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
তবে মাছ ব্যবসায়ী ও খামারিদের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা এ তালিকার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের ক্ষতির পরিমাণের মিল না থাকার দাবি করেন। বরগুনার তালতলী উপজেলার ঘেরমালিকেরা জানান, তালতলী উপজেলার কেবল নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নেই সাত শর ওপরে ছোট–বড় ঘের রয়েছে। এ ছাড়া খোট্টারচর, ছোট বগি, পচাকোড়ালিয়া, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও এক হাজার ঘের রয়েছে। এসব ঘেরের অধিকাংশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে। জলোচ্ছ্বাসে অধিকাংশ ঘেরের মাছই ভেসে গেছে।
তালতলীর নিশানবাড়িয়ার ঘেরমালিক জাকির হোসেন গতকাল শুক্রবার সকালে বলেন, তাঁর ১০ একর আয়তনের ঘেরের মাছ ভেসে গিয়ে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব হারিয়ে তাঁর এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
বরগুনা ও পটুয়াখালীর দুই মৎস্যচাষি দাবি করেন, এই দুই জেলাতেই মাছ ভেসে গিয়ে অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজিজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সহায়তা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে শুক্রবার পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
