দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না জুলাই আন্দোলনে আহতরা

Date:

এক দফা দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে টানা ২৮ ঘণ্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জুলাই আন্দোলনে আহতরা। শুরুতে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হলেও পরে তারা এক দফা দাবিতে অনড় রয়েছেন।

তাদের এক দফা দাবি হলো- তিনটি ক্যাটাগরির পরিবর্তে জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য দুটি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করতে হবে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন আন্দোলনরতরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রধান ফটক ঘুরে দেখা গেছে, ৩০-৩৫ জন আন্দোলনকারী শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা এসে ঘুরে গেছেন। তারা আহতদের বুঝানোর চেষ্টা করছেন।

সেখানে অবস্থান নেওয়া আহত ইয়াকুব আলী বলেন, বুধবার সকাল থেকে আমি এখানে অবস্থান করছি। এখান থেকে উঠে যাওয়ার জন্য নানা জায়গা থেকে চাপ আসছে; কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা উঠব না।

আন্দোলনকারীরা বলেন, রাতে আমরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেছি। আজও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জুলাই আহতরা রওনা হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা জুলাই আহতদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে রওনা হয়েছেন ঢাকার উদ্দেশে। আশা করছি, বিকালের মধ্যে সবাই উপস্থিত হবেন।

দাবির বিষয়ে অবস্থান কর্মসূচি থেকে একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সরকার বৈষম্য করছে। অনেক গুলিবিদ্ধ আছেন, তাদের সি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। যেটি স্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে দেখছেন তারা। তাই তারা দুটি ক্যাটাগরি চান। তাদের এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত প্রায় ১৩ হাজার ৮৪৮ জনের নাম তালিকাভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে সহায়তা, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তিনটি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ক্যাটাগরিগুলো পুনরায় সংশোধন করা হয়। সংশোধিত ক্যাটাগরির ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্যাটাগরি-এ: অতি গুরুতর আহত, যাদের আজীবন সাহায্যের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তারা হলেন- নূন্যতম এক চোখ/হাত/পা ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অনুপযোগী, সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন, সম্পূর্ণভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং কাজ করতে অক্ষম বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি।

ক্যাটাগরি-বি: গুরুতর আহত, যাদের দীর্ঘদিন সাহায্য দিতে হবে। তারা হলেন আংশিক দৃষ্টিহীন, মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি।

ক্যাটাগরি-সি: আহত যারা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সক্ষম হবেন। শ্রবণশক্তি/দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত, গুলিতে আহত বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি। আহত যারা ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সক্ষম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম জানিয়েছেন, প্রত্যেক শহীদ পরিবার ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাবে। আহতরা পরিচয়পত্রের পাশাপাশি আজীবন ভাতা ও চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

গুরুতর আহতরা (এ ক্যাটাগরি) এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

যাদের একটি অঙ্গহানি (বি ক্যাটাগরি) হয়েছে, তারা এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন।

যারা সি ক্যাটাগরিতে আছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা নেই। তবে তারা পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

বরিশালে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার, বাড়ছে মাদকাসক্তি

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন দেশজুড়ে কোটি মানুষের চোখ মাঠের...

বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক উপসচিব মো. মামুন খন্দকার

বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো....

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস...

রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস, অর্থবছরে এলো রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। এই অর্থবছরে দেশের...