ইংল্যান্ডের অপেক্ষা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ‘অপমানজনক’ ছিল

ইংল্যান্ডের অপেক্ষা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ‘অপমানজনক’ ছিল

শনিবার রাতে শেষ হয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। যেখানে শেষ দিনের শেষ ওভার পর্যন্ত খেলে ড্র করেছে দুই দল। তবে শেষ ওভারের পাঁচ বল বাকি থাকতে ড্র মেনে নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট।

কেননা পাঁচ বলে ৬ উইকেট নেওয়া সম্ভব নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ৬ উইকেট নেওয়ার আশায় শেষ ওভার পর্যন্ত খেলা টেনে নিয়েছেন রুট। অথচ তার সামনে সুযোগ ছিল, ম্যাচের শেষ সেশনের শেষ ঘণ্টা শুরুর সময়েই ড্র মেনে নেওয়ার।

সেটি করেননি রুট। আর তার এই অপেক্ষার সিদ্ধান্তকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অপমানজনক ছিল বলে মনে করেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার কার্লোস ব্রাথওয়েট। তার মতে, শেষ ঘণ্টা শুরুর সময়েই ড্র মেনে নিতে পারতো ইংল্যান্ড।

অ্যান্টিগায় হওয়াই এই ম্যাচের শেষ দিন ৭১ ওভারে ২৮৬ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ৩৪ ওভারের মধ্যে মাত্র ৬৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর তারা আর জয়ের জন্য ছোটেনি। জেসন হোল্ডার ও এনক্রুমাহ বোনার মিলে দলকে এনে দেন ড্র।

টেস্ট ক্রিকেটের নিয়মের মধ্যেই আছে, ম্যাচের শেষ দিন যদি ফল আসার সম্ভাবনা না থাকে; তাহলে শেষ সেশনের শেষ ঘণ্টা শুরুর সময় দুই দলের অধিনায়ক মিলে ড্র মেনে নিতে পারবেন। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি রুট। তিনি বেছে নেন শেষ ঘণ্টার দশ ওভারে ৬ উইকেট নেওয়ার মিশন।

যেখানে স্বাভাবিকভাবেই সফল হয়নি ইংল্যান্ড। শেষ ঘণ্টার ৯ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন বোনার ও হোল্ডার। পরে শেষ ওভারের প্রথম বলেও উইকেট পড়েনি। ফলে যখন বাকি মাত্র পাঁচ বল, তখন ড্র মেনে নিতে সম্মত হন রুট। এটিই পছন্দ হয়নি ব্রাথওয়েট।

প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এ বিষয়ে তিনি লিখেন, ‘কিছুটা অপমানজনক ছিল এটি।’ পরে বিটি স্পোর্টসে বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মতে, তারা অযথাই বাড়তি সময় নিয়েছে (ড্র মেনে নেওয়ার আগে)।’

ব্রাথওয়েট আরও যোগ করেন, ‘আমি যদি ক্রেইগ ব্রাথওয়েট (ক্যারিবীয় অধিনায়ক) কিংবা ড্রেসিংরুমের কোনো সিনিয়র খেলোয়াড় হতাম, তাহলে আমার কাছে অপমানজনক মনে হতো। শেষ ঘণ্টায় দুজন সেট ব্যাটার ছিল, উইকেটেও তেমন সাহায্য ছিল না। তবু তারা শেষ ওভারের পাঁচ বল আগে পর্যন্ত খেলা নিয়েছে।’

‘আপনি যদি বড় দলের কাতারে থাকতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই বড় দলের মতো করেই ভাবতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়তো এখনও সেই কাতারে নেই। কিন্তু মানসিকতাটা থাকতে হবে যে, ইংল্যান্ড কি অ্যাশেজে কিংবা ভারত, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই কাজ করতো?’

‘আমার মতে, উত্তর হলো না। তাহলে তারা কেনো আমাদের বিপক্ষে এমন করলো? ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আমরা যতটা মূল্যায়ন করি তার চেয়ে ভালো দল। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ অংশটা তাই প্রমাণ করে। এখন আর দুই ম্যাচ আছে এটি প্রমাণের জন্য যে, আমরা ইংল্যান্ডের চেয়ে ভালো দল

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *