ঈদের আগে উৎসবভাতাসহ পুরো বেতন চান পোশাকশ্রমিকরা

একদিন আগেই শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এক নির্দেশনায় বলেছিলেন, ঈদুল ফিতরের আগেই তৈরি পোশাকসহ প্রতিটি কারখানার শ্রমিকদের বোনাস দিতে হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটির আগে এপ্রিল মাসের ১৫ দিনের বেতনসহ বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।

তবে পোশাক খাতের শ্রমিকদের দাবি, ১৫ দিন নয়, আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের পূর্ণ উৎসব ভাতাসহ পুরো এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট (জিএসএফ) এর সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে শ্রমিক নেতারা বলেন, শবে কদর, মে দিবস এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ছুটি শুরু হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পোশাকশ্রমিকরা এপ্রিল মাসের পূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকারী। মাস শেষ হওয়ার পরও পুরো বেতন পরিশোধ না করার চেষ্টা মজুরি বকেয়া রেখে শ্রমিকদের কর্মস্থলে আটকে রাখার অপকৌশলের অংশ।

জরুরি রপ্তানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও অর্থনীতির স্বার্থে কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, এর প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে বলা হয়, জরুরি রপ্তানি কাজের প্রয়োজনে কারখানা খোলা রাখার কথা ঘোষিত হলেও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর মুদ্রামানের মারাত্মক অবনতির মধ্যে শ্রমিকদের জীবনমান ধরে রাখতে মজুরি সমন্বয় বা মহার্ঘ্য ভাতার কী হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নেতারা আরও বলেন, করোনার সময় কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরির ৩৫ শতাংশ কেটে রেখে ৬৫ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছিল। করোনা পরবর্তীকালে তৈরি পোশাকশিল্প রপ্তানির পরিমাণ আগের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আবার শ্রমিকের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্যও অনেকক্ষেত্রে শতভাগ বেড়েছে। এতে শ্রমিকের মজুরির প্রকৃত মান নেমেছে অর্ধেকের নিচে। ফলে একদিকে কাজের চাপ অপরদিকে অভাবের চাপে পোশাকশ্রমিকরা দিশেহারা। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার যে কোনো অপচেষ্টা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে ২১ এপ্রিলের মধ্যে এপ্রিল মাসের বেতনসহ পূর্ণ উৎসব বোনাস পরিশোধ এবং শতভাগ মহার্ঘ্য ভাতা পরিশোধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের সম্মানে আগামী ২৪ এপ্রিল দিনকে গার্মেন্টস শিল্পে শোক দিবস ঘোষণা করাসহ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *