বরিশালে ক্লিনিকের লিফটের নিচ থেকে চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার

বরিশাল নগরীতে এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। আজ সকাল ১১ টার দিকে তার নগরীর কালবাড়ি রোডের মমতা ক্লিনিকের লিফটের নিচ থেকে এম এ আজাদ সজল নামের এই চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের বার্ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন এবং মমতা ক্লিনিকে প্রাইভেট প্রাকটিস করতেন। একই সাথে তিনি ওই ক্লিনিকের ৭ তলায় একলা আবাসিক ভাবে থাকতেন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারনা এটি হত্যা কান্ড। দুপুরের দিকে লাশ উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে। নিহতের খালাতো ভাই গিয়াস উদ্দিন খোকন বলেন গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে নিখোজ ছিলেন এবং ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলো না। তার স্ত্রী ঢাকা থেকে ফোনে না পেয়ে আমাকে কর্মস্থলে গিয়ে খোজ নেয়ার জন্য বলে। যে কারনে আমি আজ সকালে স্বরুকাঠি থেকে এসে প্রথমে শেবাচিম হাসপাতালে খবর নেই এবং নিখোজের বিষয়টি জানাই। হাসপাতাল থেকে আমাকে তার থাকার স্থল মমতা ক্লিনিকে খবর নিতে বলে। পরে মমতা ক্লিনিকে এসে তার থাকার রুম তালাবদ্ধ দেখি। এরপর তালা ভাঙ্গা হলে রুম খালি পাওয়া যায়। এরই মধ্যে একজন এসে বলে লিফটের নিচে লাশ পাওয়া গেছে। বরিশাল মোট্টোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোকতার হোসেন বলেন আমরা খবর পেয়ে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছি। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে এটি হত্যাকান্ড। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগে পরিস্কার করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্লিনিকের ৬/৭ জন স্টাফ কে আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে ক্লিনিকটির সত্বাধিকারী ডাঃ জহিরুল হক মানিক এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন আজাদ একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক ছিলেন। তার মত চিকিৎসকের মৃত্যুতে আমরা খুই মর্মাহত। গতকালও তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি আরো বলেন আজাদই ছিলেন হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের একমাত্র চিকিৎসক। তার মৃত্যুতে এ ইউনিটটি চিকিৎসক শূন্য হয়ে গেল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করেন। জানা গেছে, এম এ আজাদ সজলের স্ত্রী ও এক ছেলে ও মেয়ে ঢাকায় থাকেন। চাকুরির সুবাদে তিনি বরিশালে অবস্থান করতেন। খব পেয়ে তার ছোট ভাই ডাঃ শাহরিয়ার উজ্জল দুপুরের দিকে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে পৌছেছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *