বরিশালে ৯ প্রতিষ্ঠান ও ২ ব্যক্তিকে জরিমানা

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় বরিশালে ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২ ব্যক্তিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি ২ প্রতিষ্ঠানের গোডাউন সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী বরিশাল নগরের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় এ অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা, মো. আতাউর রাব্বী ও সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল।

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরের কাঠপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপ্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক দোকান খোলা রাখায় ওবায়দুর রহমানকে ৪ হাজার ও সোহরাব হোসেনকে ৫শ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া নগরের পদ্মাবতি এলাকায় কাপড়ের দোকান খোলা রেখে লোক সমাগম করায় হারুন অর রশিদের দোকান থেকে ১৫ হাজার, মাজাহারুল ইসলামের দোকান থেকে ১০ হাজার এবং মো. আলমগীরের দোকান থেকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

পরে নগরের কাউনিয়া বিসিক শিল্প নগরীতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে উৎপাদনের নামে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে গোডাউন গড়ে তোলা ও গোডাউন খোলা রেখে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে জনসমাগম করায় মাহাদী এন্টারপ্রাইজ ও সুমা এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি গোডাউন দুটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এ সময় মুঠোফোনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করে সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে মো. জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতাউর রাব্বী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরের চাঁদমারী পুলিশ অফিসার্স মেস এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করায় একটি সেলুনকে ৫শ এবং একটি চায়ের দোকানকে ৫শ টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া সিটি করেপোরেশেনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহামুদ জুয়েল পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে পণ্য বিক্রি করায় চকবাজারের প্রগতী ট্রেডার্সের মালিক মুসা জামিলকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসাধারনকে সচেতন করেন এবং এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী নিজ নিজ ঘরে থাকার আহ্বান জানান। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহতভাবে চলবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার সুব্রত কুমার বিশ্বাস।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *