বরিশালে আম্ফানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা করছে প্রশাসন

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান জনমনে প্রচণ্ড ভীতির সৃষ্টি করলেও এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বরিশালের জনগণ। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় মাটিতে হেলে পড়ে কিছু পাকা বোরো ধান, ক্ষেতের পাট, পেঁপে, পান, কাঁচামরিচ ও মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাঁচা ঘর-বাড়ি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও মৎস্য সম্পদের কিছু ক্ষতি হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে তাদের সহায়তা করার কথা বলেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। ঘূর্ণিঝড়ে বরিশালের দু-একটি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে কিছু এলাকা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন থাকে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এদিকে ঝড়ে বরিশালে ব্যাপক কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কিছু কাঁচা ঘর-বাড়ি এবং গাছপালা ও ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাবুগঞ্জের কৃষক আব্দুল হক বলেন, ঝড় এবং পানিতে তার মুগডাল, পুঁইশাক, পাট ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে সামনের দিনগুলো চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। তার মতো জেলার হাজার হাজার কৃষক ফসল হারিয়ে এখন দেউলিয়া। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে জেলায় ৬ হাজার ১ শ’ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও তীল পুরোটাই ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আউশ, পেঁপে, পান, পাট ও মুগডাল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বাকেরগঞ্জের নলুয়ায় এবং ভরপাশা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করবে কৃষি বিভাগ।

এদিকে বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরিশালে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। অতীরের মতো ঝড়ে কিছু গাছপালা এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকরা আগেভাগেই ধান কেটে নেয়ায় ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। যাদের মাছের ঘের ক্ষতি হয়েছে তারাও ক্ষতিপূরণ পাবে। আম্ফান জনমনে ভীতির সৃষ্টি করলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসন থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত এক রিপোর্টে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বরিশাল জেলায় কম-বেশি ৮ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ঝড়ে জেলায় ২৪ হাজার ৪শ’ ৮৫টি কাঁচা ও আঁধা কাঁচা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হাজার ১শ’ ৬৩টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৩২০টি ঘর। অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করছে তারা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *