মজুরি-বোনাস পেয়ে কাঁদলেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

মজুরি-বোনাস পেয়ে কাঁদলেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর কাঙ্ক্ষিত মজুরি পেয়েছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। মজুরি-বোনাস পাওয়ার আনন্দে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আসা শুরু করে। মিলগুলোতে সর্বনিম্ন ৭ সপ্তাহ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি ও একটি ঈদ বোনাস দেওয়া হচ্ছে।

বিজেএমসির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের জন্য ৩৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার মজুরি এবং ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার বোনাস দেওয়া হয়েছে। বিজেএমসি থেকে সরাসরি এই টাকা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে।

খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর ও কার্পেটিং জুট মিলে ৭ সপ্তাহের মজুরি এবং ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, জেজেআই, ইস্টার্ন, আলিমে ১০ সপ্তাহের মজুরি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সব মিলেই শ্রমিকদের এক সপ্তাহের ঈদ বোনাস দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয় প্লাটিনাম জুট মিলের স্থায়ী শ্রমিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, ১০ সপ্তাহের মজুরি ও একটি ঈদ বোনাসসহ ২৫ হাজারের কিছু বেশি টাকা তার অ্যাকাউন্টে এসেছে। এটিএম কার্ড দিয়ে তিনি ২০ হাজার টাকা তুলেছেন। টাকা নিয়ে আগে পাওনাদারদের ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। এরপর পরিবারের জন্য কেনাকাটা ও ঈদের বাজার করবেন।

দীর্ঘদিন পর বকেয়া মজুরির টাকা পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি। মিল এলাকার একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের অনুভূতি পাওয়া যায়।

ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। ৩০ হাজার শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে ঘণ্টাখানিক সময় লাগবে। এজন্য সব শ্রমিক এখনো টাকা তুলতে পারেনি। তবে সব শ্রমিকই এখন খুশি। সোমবার আরও দুই সপ্তাহের মজুরি দেওয়া হতে পারে।

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমীন বলেন, এক ঘণ্টা আগেও শ্রমিকরা মুখভার করে বসেছিলেন। এখন সবাই আনন্দিত। দ্রুত মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হলে শ্রমিকদের মধ্যে আর কোনো ক্ষোভ থাকবে না।

বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টি পাটকলের জন্য ৪৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। পুরো টাকাই শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার আগেই সবার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর বকেয়া মজুরি পেয়ে আনন্দে ভাসছে খালিশপুর শিল্পাঞ্চল।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *