ফেসবুকে ‘প্রোফাইলের মালিক মৃত’ ছবি দিয়েই র‍্যাব সদস্যের আত্মহত্যা

নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট দিয়ে এক র‌্যাব সদস্যর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আত্মহত্যাকারী ওই র‌্যাব সদস্য জাকির হোসেন রংপুর নগরীর কলেজ রোড হাবিবনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রীসহ বসবাস করতেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এই ঘটনার জেরে তার মামাশ্বশুর এসে স্ত্রীকে নিয়ে তাদের বাড়িতে চলে যান। এখন ফেসবুক প্রোফাইলে চোখ বুলালেই দেখা যাচ্ছে, মাত্র ক’ঘণ্টা আগেই প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেছেন।

প্রোফাইল ছবিতে লিখেছেন, ‘এই প্রোফাইলের মালিক মৃত’ সত্যিই এই প্রোফাইলের মালিক এখন মৃত। গলায় ফাঁশ লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আইডির মালিক র‍্যাব সদস্য জাকির হোসেন।
গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হলে ঘটনার জেরে তার মামাশ্বশুর এসে স্ত্রীকে নিয়ে তাদের বাড়িতে চলে যান। সেই রাতেই স্ত্রীর মোবাইল ফোনে, ‘আজ থেকে কোন কথা হবেনা’ লিখে ম্যাসেজ পাঠান তিনি।

দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় রংপুর র‌্যাব-১৩ গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত জাকির হোসেন (২৭) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশীদ আত্মহত্যার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

সেই রাতেই স্ত্রীর মোবাইল ফোনে, “আজ থেকে কোন কথা হবেনা” লিখে ম্যাসেজ পাঠান তিনি। এছাড়াও ডায়রিতে কিছু কথা লিখে সম্ভবত রাতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বাসার মালিক হাফিজুর রহমান জানান, ছয়মাস আগে তারা বাসা ভাড়া নেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সাড়া-শব্দ না পেয়ে এবং ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশীদ পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসেন।

এরপর বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় জাকির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জাকির হোসেনের বাবার বাড়িতে খবর পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব-১৩ রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মিডিয়া ছিদ্দিক আহাম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো।”

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *