বরিশালে চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আমানের তালাকের হুংকার অন্তসত্ত্বা নারীর আর্থনাথ

বরিশালে চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আমানের তালাকের হুংকার অন্তসত্ত্বা নারীর আর্থনাথ

কাবিন ছাড়াই দীর্ঘদিন ঘর সংসার, অতপর চাপে পরে বিয়ে । পরবর্তীতে সেই অন্তঃসত্তা স্ত্রীর কাছেই যৌতুক দাবী করে নির্যাতন করেন চাঁদপুরার চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আমান। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে চাঁদপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আমান। এর আগেও দরিদ্রদের চাল আত্মসাতসহ নানা বিতর্কে জড়ান এই চেয়ারম্যান। এর সাথে নতুন যুক্ত হল নারী কেলেঙ্কারী। জানা যায়, গত বছর শেষের দিকে খুলনা বাগেরহাট ষাট গম্ভুজ মসজিদে ঘুরতে নিয়ে সেখানেই মৌখিকভাবে ঐ নারীকে বিবাহ করেন চেয়ারম্যান আমান। এরপর থেকে বরিশাল নগরীর হাতেম আলী চৌমাথাস্থ কেরানী বাড়ীর জাকির হোসেন এর বাড়ী ভাড়া নিয়ে একসাথে বসবাসের পাশাপাশি অবৈধভাবে মেলামেশা করে আসছিলেন তিনি। চাঁদপুরার চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আমানের নারী কেলেস্কারী ফাঁস এমন তথ্য ফাঁস করে দিলেন আমান চেয়ারম্যান এর ২য় স্ত্রী মাসুমা ইয়াসমিন নিজেই। এমতাবস্থায় মৌখিক বিয়ে বাদ দিয়ে নিকাহ্ রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে বিয়ের চাপ প্রদান করেন ভুক্তভোগি মাসুমা ইয়াসমিন। পরে চাপে পড়ে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় গিয়ে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা কাবিন করে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী বিবাহ করেন আমান। তবে বিয়ের পরপরই যৌতুকের জন্য অনবরত চাপ প্রয়োগ করেন বিতর্কিত চেয়ারম্যান আমান। এদিকে মাসুমা ইয়াসমিনের সুখের কথা চিন্তা করে ২ লাখ টাকা যৌতুকও দেন পরিবার। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত দেননি চেয়ারম্যান আমান। কিছুদিন যাবার পর আবারো ৫ লাখ টাকা দাবী করেন তিনি। এদিকে কিছুদিন পরে ওই নারী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে সন্তান গর্ভপাত করার পাশাপাশি যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় তাকে। এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর চলে মানসিক নির্যাতন। যৌতুকের ৫ লাখ টাকা দিতে এবং সন্তান গর্ভপাত করতে অসম্মতি জানানোয় স্ত্রীকে ওই ভাড়া বাসায় রেখে পালিয়ে যায় আমান। পরবর্তীতে আমানের স্ত্রী মাসুমা ইয়াসমিন এর ভাই ও আত্মীয়স্বজন আমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের জানান, স্ত্রী মাসুমাকে ইতোপূর্বেই তালাক দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে স্ত্রী মাসুমার দাবি, তালাক দেয়ার কোন কাগজপত্র তিনি এখনো পাননি। মাসুমা আরো বলেন, তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন তার স্বামী আমান। পাশাপাশী বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। বর্তমানে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। মাসুমা ইয়াসমিনের ভাই মামুন অর রশিদ জানান, এ বিষয় চরমোনাই পীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর কোন সমাধান দিতে পারেননি । বর্তমানে তার বোনকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন তিনি। ঘটনার সত্যতা জানার জন্য চাঁদপুরা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান ও মাসুমা ইয়াসমিন এর স্বামী মাওলানা আমানুল্লাহ আমান এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, ইউনিয়ন দরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিডি’র চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বরিশাল সদর উপজেলার ৮ নং চাঁদপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমানুল্ল¬াহ আমান দীর্ঘদিন জেল হাজতেও ছিলেন। ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী বাদী হয়ে চেয়ারম্যান আমানসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারধীন আছে।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *