ছুটি কাটিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা। বাস ভাড়া বেশি থাকায় তীব্র রোদে মালবাহী ট্রাকের যাত্রী হয়ে ফিরছেন শিশু ও বৃদ্ধ নারী-পুরুষ।

ঝুঁকির কথা স্বীকার করে ট্রাক চালকরাও বলছেন অসহায় মানুষদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন তারাও। প্রায় দেড় শতাধিক বাস চললেও দিনভর অর্ধ-শতাধিক ট্রাক যাচ্ছে যাত্রী বোঝাই করে।

পিকআপ ভ্যানসহ ট্রাকে যাত্রী তুলে দিয়ে শ্রমিকরাও পাচ্ছেন প্রতি ট্রাকে ৫০০ থেকে হাজার টাকা। নেত্রকোনার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন উপজেলার বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কথা হয় নাসিমা আক্তার দম্পতির সাথে। তারা ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তারা। কলমাকান্দার সিধলী গ্রামে রেখে যাওয়া সন্তান ও স্বজনদের সাথে ঈদ করতে এসেছিলেন। দুজনেই চাকরি করেন গার্মেন্টসে।

বাড়ি আসার সময় পিকআপ ভ্যানে ৩০০ টাকা ভাড়ায় এসে ট্রাকে যাচ্ছেন ২০০ টাকা করে। চাকরি বাঁচাতে হলেও যেতে হবে। তেমনি ৭০ বছর বয়সী জুলেখাও যাচ্ছন মেয়ের সাথে। নাতি-নাতনি দেখে রাখেন। কোনো রকমে ছেলে-মেয়েদের হাত ধরে ট্রাকে উঠলেও তীব্র রোদে কষ্ট হচ্ছিল তার।

গার্মেন্টসকর্মী ইব্রাহিম জানান, গরমে স্ট্রোক করে মারা গেলেও চাকরিতে যেতে হবে। এমনিতেই বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। যা কামাই করেছিলাম, তা শেষও হয়ে পড়েছে। কোনো রকেমে এখন কর্মে ফিরতেই ২০০ টাকা ভাড়ায় যাচ্ছি মালামাল নেওয়ার ট্রাকে চড়ে।

এদিকে বেশি দামে টিকিট নিয়ে অনেকেই চলে যেতে পারেলও বিপাকে অধিকাংশ মানুষ। কাউন্টার বন্ধ রেখে বাইরে ৫০০-৬০০ টাকা করে টিকিট বিক্রি হচ্ছে গেটলকসহ বিভিন্ন বাসের।

তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা শেষে ঠেলাঠেলি করে কেউ কেউ নিচ্ছেন টিকিট। বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই। বেশি দরে টিকিট পাওয়া যাত্রীরা মুখ না খুললেও ভোগান্তির শিকার মানুষগুলো কষ্ট নিয়ে করছেন অভিযোগ।

জেলা মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. সাদেক মিয়া জানান, এক টাকাও বেশি নেওয়া হচ্ছে না।

যে করেই হোক শনিবার অফিস করাতে মানুষজনকে ঢাকা পৌঁছানের কথা জানালেন তিনি। ঈদ উপলেক্ষে ১০০ যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে নেত্রকোনা-ঢাকা সড়কে। এছাড়াও ৭০টি লোকাল বাস চালানো হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *