টোল আদায়, ইজারাদারদের হয়রানির শিকার যাত্রীরা

টোল আদায়, ইজারাদারদের হয়রানির শিকার যাত্রীরা

বরিশালে নৌযান যাত্রীদের কাছ থেকে পণ্যের টোল আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে ইজারাদাররা। এক্ষেত্রে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেই উল্টা বেড়ে যায় টোলের হার। হতে হয় মানসিক কিংবা শারীরিক হেনস্থার শিকার।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিসির রকেট ঘাটে গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজের নৌযানে আসা যাত্রীরা তাদের মালামাল নিয়ে নামতে শুরু করলেই তৎপরতা বেড়ে যায় ঘাট ইজারাদারের লোকজনের। তবে এটা শুধু এই ঘাটেই না, নৌ বন্দরের লঞ্চ ঘাটেও একই ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা।

গ্রিন লাইন-৩ এর যাত্রী মো. এমদাদুল (২৫) নৌযান থেকে নেমে মাথায় উপর কম্বল মোড়ানো কিছু নিয়ে টার্মিনাল পার হচ্ছিলেন। তখন তার গতিরোধ করে সামনে দাঁড়ালেন রাসেল নামে একজন টোল আদায়কারী। চাইলেন সাড়ে তিনশ টাকা। কিন্তু এমদাদুল ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মারমুখী ভঙ্গিতে তর্ক জুড়ে দিলেন রাসেল। পরে আরেক টোল আদায়কারী হারুন এর মধ্যস্থতায় ২০০ টাকা দিয়ে পার পায় এমদাদুল।

শুধু এমদাদুলই নয়, আশিক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও অনেক যাত্রীর কাছ থেকে কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ভারী পণ্য বহন করায় যথাক্রমে একশ টাকা ও তার অধিক টাকা টোল আদায় করে হারুন ও রাসেল। তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সময় প্রায় যাত্রীর সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বাকবিতণ্ডা এবং ধাক্কা দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

এই প্রতিবেদক টোল আদায়কারী হারুন ও রাসেল এর কাছে টোলের মূল্য তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দোষ চাপিয়ে দেন ঘাটের ইজারাদার পরিমল চন্দ্র দাসের ওপর। শুধুমাত্র মজুরি ভিত্তিতে ইজারাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন তারা ।

তবে বরিশাল নৌ-বন্দরের ইজারাদার পরিমল চন্দ্র দাস বলছেন উল্টো কথা। তিনি  জানান, যাত্রীদের পরিবহনকৃত মালামালের উপর চাপ দিয়ে কোনো অর্থ আদায় করা হয় না। তবে কিছু নির্দিষ্ট মালামালের উপর টোল চাওয়ার বিপরীতে যাত্রীরা তাদের ইচ্ছে মতো টোল দিয়ে যায়। এক্ষেত্রে তার কোনো লোকজন যাত্রীদের হয়রানি করেনা।

এদিকে এই বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল নৌ বন্দরের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যাত্রীদের পরিবহনকৃত মালামালের উপর নির্ধারিত মূল্য তালিকা রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী টোল আদায়ের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে বহুবার। কিন্তু ইজারাদার কর্ণপাত করছে না।

তিনি আরও জানান, এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে আবারো চিঠি দেয়া হবে। পাশাপাশি আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে যদি তারা মূল্য তালিকা স্থাপন এবং সে অনুযায়ী টোল আদায় না করে তাহলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, বিআইডব্লিউটিএর বন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের পরিবহনকৃত ১০, ২০, ৩০, ৪০, ৬০ কেজি ওজনের ব্যাগের বিপরীতে যথাক্রমে ১২, ২৩, ৩৫, ৩৫, ৫৮ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় করতে পারবে। এছাড়াও আলমারির ক্ষেত্রে ১১৫ টাকা, কাপড়ের বড় বস্তার জন্য ৫৮ টাকা, খাট ১১৫ টাকা, টেবিল/ চেয়ার ২৩ টাকা, ফ্রিজ ও টেলিভিশন ৫৮ টাকা, সিলিং ফ্যান ২৩ টাকা এবং কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ৩৫ টাকা মূল্য চার্জ নির্ধারিত রয়েছে।

Banglarmukh24

Banglarmukh24

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *