কানাডায় সিনহার মেয়ে আশা সিনহার একাউন্ট জব্দ

নিজের আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে বই লিখে নতুন করে আলোচনায় আসা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রভাব বিস্তার করার অন্তত এক ডজন অভিযোগ উঠেছে।

আমেরিকা-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায় অর্থপাচার, দুদকের তদন্তে বাধা, জজ নিয়োগে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সিনহাকে নিয়ে দেশ বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসা এসব খবর চোখ এড়ায়নি ক্যানাডিয়ান ইম্পেরিয়াল ব্যাংক অব কমার্সের(CIBC)। কানাডায় অবস্থিত সিনহার ছোট মেয়ে আশা সিনহার ব্যাংক একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে এবার তার একাউন্ট জব্দ করেছে সিআইবিসি।

এসকে সিনহা যেসব ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেছেন, যারা বরাবরই সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিশ্বাসভাজন বলে পরিচিত, তাদের মধ্যে আছেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রণজিৎ, কানাডা প্রবাসী অভিবাসন আইনজীবি মেজর (অব.) সুধীর সাহা।

সুধীর সাহার মাধ্যমে আশা সিনহার একাউন্টে (একাউন্ট নম্বরঃ ৫৫১৪২৩১, CIBC) বেশ কয়েক দাগে মোটা অংকের টাকা জমা হয়েছে বলে ইতমধ্য ক্যানাডিয়ান ইম্পেরিয়াল ব্যাঙ্ক অব কমার্সের তদন্তে উঠে এসেছে।

০৭ এপ্রিল ২০১৬, আশা সিনহার ব্যাংক একাউন্টে মেজর (অব.) সুধীর সাহা ৫০,০০০ ডলার জমা করেন।

০৫ জুন ২০১৬ এবং ৭ মে ২০১৬ তে যথাক্রমে ৪০,০০০ এবং ৫০,০০০ ডলার জমা করেন। ০৯ জুলাই ২০১৬ মিরন সাহা নামে এক ব্যক্তি সুধীর সাহার রেফারেন্সে ৫০,০০০ ডলার জমা দেয় আশা সিনহার ব্যাংক একাউন্টে।

ক্যানাডিয়ান ইম্পেরিয়াল ব্যাংক অব কমার্সের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্রিস্টিনা ক্যামার জানান, “বাংলাদেশের চীফ জাস্টিস সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বর অভিযোগগুলো আমাদের চোখ এড়ায়নি। অস্ট্রিলিয়ায় এবং কানাডায় তার মেয়েরা থাকে এটিও আমাদের নজরে এসেছে। আশা সিনহা আমাদের একজন ক্লায়েন্ট। এ জন্য আমরা আশা সিনহার একাউন্টের লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করি। আপাতত তার একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে”।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস,কে সিনহার বিরুদ্ধে নিজের এবং ভাইয়ের নামে প্লট বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার, প্লটের মূল্য পরিশোধ না করা, ১/১১ এর সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকারের আদায় করা অর্থ পুনরায় ফেরত দিতে উৎকোচ গ্রহণ, অর্থপাচার, দুদকের তদন্তে বাধা, জজ নিয়োগে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত তিন কোটি ১৭ লাখ ৮৫ টাকা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মেয়েদের কাছে পাচার ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করেছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতির আয়কর বিবরণী, অনিরুদ্ধ রায়ের অ্যাকাউন্টস অফিসারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিবরণী, কানাডায় পাঠানো টাকার ব্যাংক কনফারমেশন এসএমএসের স্ক্রিন শর্ট, কানাডায় অবস্থান করা প্রধান বিচারপতির মেয়ে আশা সিনহার দ্বারা অর্থপ্রাপ্তির স্বীকৃতির এসএমএস, অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো অর্থের কনফারমেশন ই-মেইল, ইন্দোনেশিয়ার পেনিন ব্যাংক হতে অস্ট্রেলিয়ায় সূচনা সিনহার অ্যাকাউন্টে পাঠানো অর্থের ডিপোজিট ফর্ম থেকে এসব অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্যও ইতিমধ্য পাওয়া গেছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *