আত্মীয়তার বন্ধন নষ্ট করার পরিণাম

আত্মীয়তার বন্ধন নষ্ট করার পরিণাম

ইসলাম ডেস্ক:

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা মারাত্মক অপরাধ। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীকে আল্লাহ তাআলা অভিশাপ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘ক্ষমতা পেলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে কলহ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতি আল্লাহ অভিশাপ দেন। এরপর তাদের বধির ও দৃষ্টি শক্তিহীন করে দেন।’ (সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত ২২-২৩)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন। আর বিস্তার করেছেন তাদের দুই জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং আত্নীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ০১)

বর্তমান সময়ে সামাজিক চিত্র এতই ভয়াবহ যে, অনেক মানুষ নিজ মা-বাবাকেই অত্যাচার নির্যাতন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিমিষেই তা ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও পত্রিকার পাতা, অনলাইনে ও ইলেক্ট্রনিক্স গণমাধ্যমেও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার ঘটনা অহরহ পাওয়া যায়। যা মহামারী আকার ধারণ করছে।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-
হজরত যুবাইর ইবনে মুতয়িম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য হাদিসে এসেছে আত্মীয়তার সম্পর্ক তার ছিন্নকারী সম্পর্কে আল্লাহর আদালতে অভিযোগ পেশ করবে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আত্মীয়তা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, আমাকে বিচ্ছিন্ন করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনার সময় এটা। আল্লাহ বলেন, হ্যাঁ, তবে তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব এবং যে তোমাকে ছিন্ন করবে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করব? তা শুনে আত্মীয়তা বলল, অবশ্যই। তখন আল্লাহ বললেন, তোমার জন্য এরূপই করা হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখতে গিয়ে অনেকে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তারপরও কেউ কেউ তা এড়িয়ে যেতে চায়। যারা এ আচরণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক বন্ধন ধরে রাখবে তাদের ব্যাপারে বিশ্বনবি সুসংবাদ দিয়েছেন। অন্য হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার কিছু আত্মীয় এমন আছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক যতই ঠিক রাখতে চাই ততই তারা ছিন্ন করে। যতই সৎ বা ভালো ব্যবহার করি তারা ততই দুর্ব্যবহার করেন। সহনশীলতা অবলম্বন করলেও তারা বুঝতে চান না।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যদি ব্যাপারটি এমনই হয়, যেমন তুমি বললে তাহলে তুমি তাদের অতি কষ্টের মধ্যে নিক্ষেপ করলে। আর তুমি তাদের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করছ, তা যদি অব্যাহত রাখতে পার তাহলে আল্লাহ সর্বদা তোমার সাহায্যকারী থাকবেন।’ (মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *