স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোলে মারমা শিশু

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোলে মারমা শিশু

আচরণে বিনয়ী অথচ কর্তব্য-কর্মে কঠোর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে আসাদুজ্জামান খান কামালের দীর্ঘ সাফল্যযাত্রায় এই কর্মনিষ্ঠার নিশ্চয় ভূমিকা আছে। তবে আপাত রাশভারি মানুষটির ভেতরেও যে এক সন্তান-বৎসল পিতার বসবাস, তা জানে কজন! এক মারমা শিশুর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খুনসুটিতে মেতে ওঠার দৃশ্য দেখে এ প্রশ্নই মনে জাগে।

ঢাকা টাইমসের হাতে আসা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায় পরম মমতায় মারমা শিশুটিকে কাছে টেনে নিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আদর করছেন কোলে নিয়ে। অবুঝ শিশুটিও যেন মন্ত্রীর আপাত্য স্নেহে গলে যাচ্ছে। পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে মারমা শিশুর সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই খুনসুটিকে পাহাড়ি-বাঙালির ভ্রাতৃত্বের এক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নৃ-জনগোষ্ঠীর মানুষ। তারা বলছেন, পাহাড়ি আর বাঙালির মধ্যে কোনো পার্থক্যের চিহ্ন ছিলো না আমাদের সঙ্গে মন্ত্রীর ব্যবহারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার থানচি থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী থানচি ভ্রমণে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১৬ সালে থানচি থানা পরিদর্শনে এসে এ থানা ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখতে পান আসাদুজ্জামান খান কামাল। এরপর এ থানাটি ১০১টি জরাজীর্ণ থানা আধুনিকরণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন মন্ত্রী। যা তারই হাত ধরে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেল।

এসব দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই মারমা শিশু ও স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সাথে সময় কাটান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের খোঁজ-খবর নেন। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্থানীয়রাও যারপরনাই খুশি। তারাও বিভিন্ন কথা জানান মন্ত্রীকে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর ও রমনার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। তিনবার এই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন। পরের বছরের ১৪ জুলাই পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আবারও তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

চলমান করোনাভাইরাসের মাহামারীর মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মানবিকতা প্রকাশ পেয়েছিল। এই সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মন্ত্রী তার নিজের নির্বাচনী এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোকে তিন হাজার করে টাকা দেন। যা তিনি ঈদ শুভেচ্ছা হিসেবে বিতরণ করেন।

এছাড়া করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাজার হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে দুস্থ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দেয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের দিয়ে এলাকাভিত্তিক তালিকাও তৈরি করে দেন।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *