পিরোজপুরে দেড় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে পিরোজপুরে দেড় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কাঁচাঘর। এছাড়া কৃষি জমি, মাছের ঘের, নার্সারি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭ উপজেলায় ২২৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ৯০ হাজার ৬১৬ জন আশ্রয় নেন। সেখানে ২০ লাখ টাকার ২ হাজার ৩৪০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২শ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নাজিরপুরে বসতঘর ভেঙে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২১৭ জন। এছাড়া জেলার ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আংশিক ক্ষতিসহ ৫৪ কি.মি. সড়ক, ১৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯৪৩টি নলকূপ, সাড়ে ১২শ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, ১০ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৫৭ লাখ টাকার গবাদি পশু, ১১ কোটি টাকার খামার, ১২৩ কোটি টাকার কৃষি ও অকৃষি জমির ধান, শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে

বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। যা অব্যাহত ছিল বিকেল পর্যন্ত। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে মঠবাড়িয়া উপজেলার কচুবাড়িয়া ও খেতাছিড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মো. জাফর জানান, জেলায় আমন ধানের ফুলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে ধানের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বর্ষাকালীন ও রবি শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ফলনে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, জেলায় দেড়লাখ মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *