৯৯৯-এ কল ॥ পুলিশ-কোস্টগার্ডের অভিযানে ৩০ জীবনরক্ষা

১০ নবেম্বর রবিবার, ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা ২টা ৫৮ মিনিট। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলেন রমজান নামে এক ব্যক্তি। ভয়ার্ত কণ্ঠে তিনি জানালেন, বরিশালের হিজলা থানার মিয়ারচরের কাছে মেঘনার শাখা নদীতে খননকাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজারের ছয়টি পল্টুন নোঙর করা ছিল। ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট ঢেউয়ের তোড়ে একটি পল্টুন নোঙর ছিঁড়ে ২৫-৩০ শ্রমিকসহ নদীতে ভেসে যায়। প্রবল ঘূর্ণি বাতাসের সঙ্গে প্রচণ্ড ঢেউয়ে শ্রমিকসহ পল্টুনটি দিগ্বিদিক ভাসতে থাকে।

রমজান বিপদগ্রস্ত শ্রমিকদের উদ্ধারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান ৯৯৯-এ। তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবার কন্ট্রোল রুম থেকে রমজানকে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ৯৯৯-এর পক্ষ থেকে বিষয়টি বরিশাল পুলিশ কন্ট্রোল রুম, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে জানানো হয় এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানোর অনুরোধ করা হয়।

এ খবর পেয়েই দুর্যোগপূর্ণ বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে হিজলা থানা পুলিশের একটি দল ও নৌ-পুলিশের একটি দল যৌথভাবে বড় ইঞ্জিনচালিত নৌযানযোগে শ্রমিকদের উদ্ধার করতে রওনা দেয়। কোস্টগার্ডের একটি দলও শ্রমিকদের উদ্ধারে রওনা দেয়।

উত্তাল নদীর বুকে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানের পর পুলিশের উদ্ধারকারী যৌথদল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে ভাসমান পল্টুন থেকে ১৮ শ্রমিককে উদ্ধার করে। এরপর কোস্টগার্ড সেখানে পৌঁছে আরও ১২ শ্রমিককে উদ্ধার করে। রক্ষা পায় ৩০ শ্রমিকের জীবন।

এই সফল উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি সোমবার (১০ নবেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তরের এক বার্তায় জানানো হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *