চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ এরশাদের

চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ এরশাদের

কারও নাম না উল্লেখ করে তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, চিকিৎসা করতে দেবে না, বাইরে যেতে দেবে না। মৃত্যুকে ভয় করি না।’ তবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কথা বলার সময় এইচ এম এরশাদ এ মন্তব্য করেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘তোমাদের কোনো ভয় নেই। জাপা তোমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। জাপা চিরদিন নির্বাচন করেছে, এবারও করবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দর-কষাকষির মধ্যেই অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা কথা আছে। পাঁচ দিন আগে তিনি বাসায় ফেরেন। জাপা সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে আবার সিএমএইচে চলে যান এরশাদ।
সোমবারই হঠাৎ করে এরশাদ দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে বাদ দেন। মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগে হাওলাদারকে বাদ দেওয়া হয় বলে দলের কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছিলেন।

আজ দলের নতুন মহাসচিবকে নিয়ে এরশাদ বলেন, ‘পুরোনো মহাসচিবকে ভালোবাসতাম। নতুন মহাসচিবকে তোমরা ভালোবাস। সে নতুন, তাঁকে সাহায্য করো।’ তিনি বলেন, ‘বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব। ২৭ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, পার্টি ছাড়ি নাই। সব নির্ভর করে তোমাদের ওপর। কেউ পার্টি ছেড়ে যেও না, আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও।’ কার্যালয় ত্যাগের আগে এরশাদ তাঁর কর্মীদের বলেন, ‘আমার ব্লাড শর্টেজ আছে, একটু বাসায় যাচ্ছি খেতে।

এরশাদের অসুস্থাতা নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এরশাদ ‘ভয়ে থাকেন’। এ কারণে তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়। ঘুমের সমস্যা হলেও তিনি সিএমএইচে যান। বাসায় একা থাকেন বলে তাঁর একলা লাগে, ভয় করে। তা ছাড়া ইনফেকশনের ভয়ও আছে।

ওই দিন মসিউর রহমান রাঙ্গা আরও বলেন, এরশাদ এখন ‘হান্ড্রেড পারসেন্ট ফিট’ থাকলেও চিকিৎসার জন্য তাঁর দেশের বাইরে যাওয়া জরুরি। কিন্তু পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শেষ না করে তিনি দেশের বাইরে যেতে চান না। মহাজোটের আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ১০ ডিসেম্বরের পর হয়তো এরশাদ বিদেশে যেতে পারেন।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *