ঘুমন্ত দুই বোনের ওপর ‘অ্যাসিড’ নিক্ষেপ, বড় বোনের সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

ঘুমন্ত দুই বোনের ওপর ‘অ্যাসিড’ নিক্ষেপ, বড় বোনের সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক:

জানালা ভেঙে ঘুমন্ত দুই বোনের ওপর ‘অ্যাসিড’ ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে বড় বোন গুরুতর আহত হন। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে। এ ঘটনায় আজ শনিবার একজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

আহত দুই বোন হলেন বাঘাসুরা গ্রামের এখলাছ মিয়ার মেয়ে হাবিবা আক্তার (২২) ও আয়েশা আক্তার (১২)। তাঁদের প্রথমে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ মাধবপুর থানায় অ্যাসিড আইনে মামলাটি করেন আহত দুজনের ভাই সুমন মিয়া। তাঁর অভিযোগ, হাবিবার সাবেক স্বামী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মধ্যরাতে হঠাৎ ঘরের জানালা ভাঙার আওয়াজ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা কিছু বোঝার আগেই ঘরের বাইরে থেকে এই দুজনের ওপর ‘অ্যাসিড’ ছোড়া হয়। লোকজন আসার আগে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাঁদের হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সাইফুর রহমান বলেন, হাবিবার পুরো মুখ আক্রান্ত হয়। এতে তাঁর মুখে রক্ত জমাট বেঁধে লাল হয়ে আছে। তাঁর বোনের তেমন ক্ষতি হয়নি। তার গায়ে দুই-তিন জায়গায় কয়েক ফোঁটা পড়েছে। তবে এটি অ্যাসিড নাকি কেমিক্যাল-জাতীয় পদার্থ, তা পরীক্ষার আগে বোঝা যাচ্ছে না। তাঁদের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ ঢাকায় পাঠানো হয়।

ভাই সুমন মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগে হাবিবার বিয়ে হয় পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। বনিবনা না হওয়ায় তাঁর বোন আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দুই সপ্তাহ আগে বাবার বাড়ি চলে আসেন। এ ঘটনায় তাঁর সেই স্বামী ক্ষুব্ধ ছিলেন। সুমনের অভিযোগ, এই ‘অ্যাসিড’ ছোড়ার ঘটনায় সেই স্বামী জড়িত।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঘরের গ্রিল ভেঙে দুর্বৃত্তরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। পারিবারিক বিরোধ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তরুণীদের ভাই একজনকে আসামি করে অ্যাসিড আইনে একটি মামলা করেছেন।

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *