মন চাইত, সব ছেড়ে বিবাগী হয়ে যাই : মেসি

একটি সাক্ষাতকার- আর তাতেই বের হয়ে এল অনেক অজানা গল্প; অনেক প্রশ্নের জবাব। ইকার্দির সঙ্গে শত্রুতা, চিরশত্রু রোনালদোকে মিস করাসহ এসেছে রাশিয়া বিশ্বকাপ প্রসঙ্গও। রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। তবে তিনি অবসরের পথেও হাঁটেননি। তাহলে ওই সময়ে তার মনে কী ভাবনা কাজ করছিল? এবার মেসি নিজেই প্রকাশ করলেন অজানা সেইসব গল্প।

ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর মেসিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনা স্বপ্ন বুনেছে। ক্লাবের হয়ে সব জেতা এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলকে কোনো শিরোপা এনে দিতে পারেননি। বারবার ব্যর্থ হওয়ায় এবার হতাশ হয়ে পড়েছিলেন মেসি। একটি এফএম রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলা বেশ কঠিন আমার জন্য। প্রথম থেকেই বেশ কিছু জিনিস ভুল করেছি আমরা। প্রথম ম্যাচে জিততে না পারা, পেনাল্টি মিস করা। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা বেশ ভালোই শুরু করলাম। কিন্তু প্রথম গোল খাওয়ার পর থেকেই কী যেন হয়ে গেল। সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। পরিকল্পনাহীনভাবে খেলা শুরু করলাম আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘একেবারে শেষ ম্যাচে জিতে আমরা পরের রাউন্ডে উঠলাম। এরপর ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে ২-২ ব্যবধানের পর তারা একটা গোল দিয়ে দিল। যেখান থেকে ভালো খেলে আমরা আর ফিরতে পারলাম না। আবার আমাদের নতুন করে শুরু করতে হলো, পিছিয়ে পড়লাম আমরা। বিশ্বকাপটা একদম ভালো কাটেনি আমাদের। এমনকি বাছাইপর্বও আমাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। সবকিছুই কঠিন ছিল।

এরপর আবারও সেই স্বপ্নভঙ্গ। বিশ্বকাপ থেকে দলের বিদায়ের পর মেসির দিনগুলো খুব খারাপ কেটেছে। বিশ্বকাপ যেন তার জন্য এক দুঃসহ স্মৃতি। তার ভাষায়, ‘বিশ্বকাপের পর কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা হতো না। মনে হতো, ঘরদোর বন্ধ করে নিজের পরিবারের সঙ্গে চুপচাপ বসে থাকি। নিজের যন্ত্রণা নিজেই ভোগ করি। সবকিছু ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যেতে মন চাইত। ভালো খেলা সত্ত্বেও বছরের পর বছর আমাদের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, আমরা কোনো ট্রফি জিতিনি। তিনবার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেছি।

শিরোপা জয়ের কাছাকাছি গিয়েও হেরে বসা সেইসব ম্যাচ মেসি এখন একা একা দেখেন। অন্যের খেলা নয়, খুঁজতে থাকেন নিজের ভুল, ‘আপনি কি জানেন, আমাদের খেলা ফাইনালগুলো কতবার ঘরে বসে দেখেছি? অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম গোল করার জন্য, সেগুলো দেখেছি একাকী। ওই সুযোগগুলোর কয়েকটা কাজে লাগাতে পারলেও হয়ে যেত। আমি জানি, এরপরেও যারা আমাকে ভালোবাসে, তাদের সংখ্যাই বেশি। যারা আমাকে সমর্থন দেয় না, সারাক্ষণ দোষারোপ করে, তারা সংখ্যায় অনেক কম। আমি শুধু জানি, দলের জন্য অবদান রাখতে হবে। ১০ নম্বর জার্সি আমার জন্য বোঝা নয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *