বরিশালে কলেজ ছাত্রীকে গনধর্ষনের পর হত্যা- মরদেহ গুম, আটক ১

বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আক্তারকে (২১) গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার পর সাদিয়ার মরদেহ খালে ফেলে দেয় প্রেমিক ও তার সহযোগীরা। সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধারে রোববার মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় সিরাজুলকে নিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে বিকেল পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীর মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

সাদিয়া বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি কলেজের প্যাথলজি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং বরিশাল নগরীর ডেফুলিয়া খান বাড়ির আলমগীর হোসেন খানের মেয়ে। গ্রেফতার সিরাজুল মঠবাড়িয়ার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের ইব্রাহীম হাওলাদারের ছেলে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই আব্দুল ওহাব জানান, গত ২০ নভেম্বর সাদিয়া নগরীর বাসা থেকে কলেজের উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা ২২ নভেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির সূত্র ধরে এবং ওই ছাত্রীর মোবাইল নাম্বার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ওসি কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজ স্বীকার করেছেন ঘটনার ১৫ দিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের কথা বলে গত ২০ নভেম্বর ওই ছাত্রীকে বরিশাল থেকে মঠবাড়িয়ায় এনে সহযোগীদের নিয়ে একাধিকার ধর্ষণ করা হয়।

পরে ধর্ষণের বিষয়টি ওই ছাত্রী ফাঁস করার হুমকি দেয়ায় তাকে হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত নিহত ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে গ্রেফতার সিরাজ উল্টাপাল্টা তথ্য দিচ্ছে। একেক বার একেক কথা বলছে। আবার বলে মরদেহ কোথায় জানে না।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই আব্দুল ওহাব জানান, রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে তার মরদেহ পাওয়া যায়নি। তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে সিরাজুল পুলিশকে বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *